06/07/2026
⚠️ এই পোস্টটা পড়তে মাত্র ২ মিনিট লাগবে... কিন্তু শেষ লাইন পর্যন্ত পড়ে যদি আপনার বুকটা একবারও ভারী না হয়, তাহলে হয়তো আপনার মনটা আমার চেয়ে অনেক বেশি শক্ত। 😢💔
কলেজ থেকে ফিরছিলাম...
হঠাৎ দেখি, পাশের সিটে একজন মহিলা একটা ঘুমন্ত বাচ্চাকে ডাকছেন— "বাবা, স্টেশন চলে এসেছে।"
প্রথমে ভাবলাম, বাচ্চাটা নিশ্চয়ই তাঁরই। কিন্তু একটু পরেই আরেকজন বললেন— "বাবা, কোথায় নামবে?" তখনই বুঝলাম, বাচ্চাটা একা।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই আমার মাথায় হাজারটা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করল। এত ছোট একটা ছেলে... একা ট্রেনে?
ট্রেনটা বেশ ফাঁকা ছিল। তাই ওর উল্টো সিটে গিয়ে বসলাম।
আস্তে করে জিজ্ঞেস করলাম— "তুই একা একা কোথায় গেছিলিস?"
ঘুমে ওর চোখই খুলছিল না। মাথাটা দুলছিল। আধো ঘুমের মধ্যেই খুব আস্তে বলল— "গজা... বিক্রি..." 😢
আমি যেন কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলাম। আবার জিজ্ঞেস করলাম— "তোর সঙ্গে কেউ নেই? এত ছোট বয়সে ‘গজা বিক্রি’ করতে গেছিলিস কেন? কোথায় নামবি?" ও শুধু বলল— "রানাঘাট..."
আবার জিজ্ঞেস করলাম— "বাড়িতে কে কে আছে?" ঘুমের মধ্যেই উত্তর এল— "মা আছে... এই কাজ করে... আর আমিও..."
আমি আবার বললাম— "বয়স কত?" ও বলল "সাড়ে আট..."
বাড়ি থেকে কখন বেরোস?" বলল "ছটার দিক..."
এই পর্যন্ত শুনেই আমার গলাটা যেন আটকে গেল।
ভাবছিলাম... এই বয়সে তো একটা শিশুর স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার কথা, মায়ের কোলে মাথা রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর কথা।
কিন্তু ও?.... ওর শৈশবটা যেন ট্রেনের কামরায় কামরায় হাঁটতে হাঁটতেই বড় হয়ে যাচ্ছে। ওর চোখে তখন ঘুমের নেশা নয়... ছিল সারাদিনের ক্লান্তি।
তবুও নিজেকে সামলে জিজ্ঞেস করলাম— "সারাদিন কিছু খেয়েছিস?" কোনো উত্তর এল না... 😢
হয়তো ঘুম এতটাই গভীর ছিল... অথবা ক্ষুধা আর ক্লান্তি—দুটো মিলে ওর ছোট্ট শরীরটাকে সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে দিয়েছিল। আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে দামি মোবাইল তুলে দিই।
তারা একটু কেঁদে উঠলেই দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করি— "কী হয়েছে?"
আর ঠিক সেই সময়, সাড়ে আট বছরের একটা শিশু ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে 'গজা বিক্রি' করে নিজের সংসারের জন্য কয়েকটা টাকা রোজগার করছে।
কত বড় বৈপরীত্য, তাই না? আমার গলা ভারী হয়ে গেল বললাম— "আমার সঙ্গে নামবি? কিছু খাইয়ে তোকে বাড়ি পৌঁছে দেব।"
ও আর কোনো উত্তর দিল না। মনে হলো...
ওর শরীরটা আর খাবার চাইছে না। ও শুধু একটু শান্তি চাইছে, একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চাইছে। হয়তো মায়ের কোলটাও অনেক দিন ধরে ঠিকমতো পায়নি।
ট্রেন থেকে নেমে আর কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করেনি। শুধু মনে হচ্ছিল— আজ আমি বাড়ি ফিরছি।
কিন্তু ওই ছোট্ট ছেলেটা কোনোদিন সত্যিকারের শৈশবে ফিরতে পারবে তো?
বাড়ি ফিরে আর চোখের জল আটকে রাখতে পারিনি।
আজও চোখ বন্ধ করলেই ওর ঘুমে ঢুলে পড়া মুখটা ভেসে ওঠে। জানি না, ওর সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হবে কি না। কিন্তু ভগবানের কাছে আজও একটাই প্রার্থনা— ওকে ভালো রেখো।
ওর ছোট্ট কাঁধ থেকে দায়িত্বের বোঝাটা একটু হালকা করে দিও। আর যদি কোনোদিন দেখা হয়... সেদিন যেন ও গজা বিক্রি না করে, একটা স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফেরে। ❤️
শেষে শুধু একটা কথাই বলব, সব শিশুর ভাগ্যে শৈশব লেখা থাকে না। কেউ খেলনা হাতে বড় হয়.. আর কেউ পেটের দায়ে শৈশবটাকেই বিক্রি করে বড় হয়ে যায়। 💔
🙏 শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকলে, ছোট্ট এই শিশুটির জন্য অন্তত একটি ❤️ রেখে যাবেন।
হয়তো আপনার একটি প্রার্থনাই কোনো এক অচেনা শিশুর জন্য পৃথিবীটাকে একটু সুন্দর করে তুলতে পারে।