26/06/2026
পবিত্র মহররম মাস ও ১০ মহররম (আশুরা)-এর গুরুত্ব
১. মহররম মাসের মর্যাদা
মহররম ইসলামী বছরের প্রথম মাস এবং এটি আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত চারটি সম্মানিত মাসের একটি।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
> "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি... এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।" — সূরা আত-তাওবা, ৯:৩৬
এই চারটি মাস হলো:
যিলকদ
যিলহজ্জ
মহররম
রজব
এই মাসগুলোতে গুনাহ থেকে বিশেষভাবে বিরত থাকতে এবং বেশি বেশি নেক আমল করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।
---
২. মহররমকে "আল্লাহর মাস" বলা হয়েছে
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:
> "রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা।"
— সহীহ মুসলিম
এখানে নবী (সা.) মহররমকে "শাহরুল্লাহ" (আল্লাহর মাস) বলে উল্লেখ করেছেন, যা এই মাসের বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ।
---
৩. ১০ মহররম (আশুরা)-এর গুরুত্ব
(ক) মুসা (আ.)-এর মুক্তি
মুহাম্মদ (সা.) যখন মদিনায় আসেন, তখন দেখেন ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখছে।
তারা বলল:
> "এটি সেই দিন, যেদিন আল্লাহ মুসা (আ.)-কে ও তাঁর জাতিকে রক্ষা করেছিলেন এবং ফিরআউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন।"
তখন নবী (সা.) বলেন:
> "মুসার ব্যাপারে আমরা তোমাদের চেয়ে বেশি হকদার।"
এরপর তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখতে নির্দেশ দেন।
— সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম
---
(খ) আশুরার রোজার ফজিলত
নবী (সা.) বলেছেন:
> "আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের (সগীরা) গুনাহের কাফফারা হবে।"
— সহীহ মুসলিম
অর্থাৎ, এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নফল ইবাদত।
---
(গ) ৯ ও ১০ মহররম রোজা রাখা
নবী (সা.) বলেছেন:
> "আমি যদি আগামী বছর জীবিত থাকি, তবে অবশ্যই ৯ তারিখও রোজা রাখব।"
— সহীহ মুসলিম
এ কারণে আলেমগণ বলেন:
সর্বোত্তম: ৯ ও ১০ মহররম।
অথবা: ১০ ও ১১ মহররম।
অন্তত: ১০ মহররম।
---
৪. কারবালার ঘটনা
৬১ হিজরির ১০ মহররমে ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা.) ও তাঁর সাথীরা কারবালার ঘটনা-তে শাহাদাত বরণ করেন।
এটি ইসলামের ইতিহাসের অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। মুসলমানরা তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পোষণ করেন এবং তাঁদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
তবে সহীহ হাদিসে আশুরার দিনকে কেন্দ্র করে:
বুক চাপড়ানো,
নিজেকে আঘাত করা,
রক্ত ঝরানো,
শোককে ধর্মীয় ইবাদত হিসেবে পালন করা
—এসবের কোনো নির্দেশ নেই। বরং নবী (সা.) ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দিয়েছেন।
---
৫. আশুরার দিনে কী আমল করবেন?
৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মহররম রোজা রাখা।
বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত।
তওবা ও ইস্তিগফার।
দোয়া করা।
দান-সদকা করা।
আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করা।
নফল ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
কুরআন ও সহীহ হাদিসে আশুরার দিনে বিশেষ কোনো খাবার রান্না করা, নির্দিষ্ট রঙের পোশাক পরা, বিশেষ শোকানুষ্ঠান বা আনন্দ-উৎসব পালনকে ধর্মীয় বিধান হিসেবে প্রমাণিত করা হয়নি। তাই এসবকে সুন্নত বা আবশ্যিক ইবাদত মনে করা উচিত নয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের মহররম মাসের মর্যাদা রক্ষা করার এবং আশুরার সুন্নত অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।