10/05/2026
মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুবার হারানো মেদিনীপুরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। আর তারপরই শোনা গেল আরও বড় খবর। সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত হতে চলেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শদাতা। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে রাজ্য চালাবেন, তার পরামর্শ দেবেন সুব্রত গুপ্ত।
আমরা জানি সুব্রত গুপ্ত পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। যার ফলস্বরূপ এই প্রথম কোনও নির্বাচনে সেভাবে রক্তপাত হয়নি। প্রায়ই হিংসামুক্ত নির্বাচন বলাই যায়। সব রাজনৈতিক দল মোটের উপর খুশি। তাই এর কৃতিত্বের সিংহভাগ সুব্রত গুপ্তের পকেটে যদি যায়, কেই হয়তো প্রশ্ন তুলবে না। তবে, 27 লক্ষ ভোটার বাদ যাওয়ায় সুব্রত গুপ্তের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল।
সুব্রত গুপ্ত নিভৃতে কাজ করতে ভালবাসেন। জানা যাচ্ছে এই মৃদুভাষী মানুষটির সঙ্গে নির্বাচনের পর খোদ শুভেন্দু অধিকারী দেখা করেন এবং তাঁকে পরামর্শ দাতা হিসাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। তাতে সুব্রত গুপ্ত রাজি হন বলে জানা যায়।
১৯৯০ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। আমলা মহলে আলোচনা—এক সময়ে এই সুব্রত গুপ্তই তাঁর সিনিয়রিটির জন্য মুখ্য সচিব পদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন।
সেটা কীভাবে? ১৯৮৫ ব্যাচের আইএএস অফিসার মলয় দে রাজ্যের মুখ্যসচিব হয়েছিলেন। তাঁর অবসরের পর মুখ্য সচিব হন ১৯৮৬ ব্যাচের আইএএস রাজীবা সিনহা। রাজীবার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করেন ১৯৮৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তখন অর্থ সচিব ছিলেন ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস অফিসার হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। আলাপনের পর তিনিও মুখ্য সচিব হন।
এর পর ১৯৮৯ ব্যাচের দুই আইএএস অফিসার অনিল বর্মা ও অত্রি ভট্টাচার্যর মধ্যে কাউকে মুখ্য সচিব করা হবে না, জোর চর্চা চলছিল। কিন্ত কাউকেই না করে ১৯৮৯ ব্যাচের আইএএস অফিসার বি পি গোপালিকাকে মুখ্যসচিব করা হয়। গোপালিকার পর ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার সুব্রত গুপ্ত মুখ্য সচিব পদে স্বাভাবিক দাবিদার ছিলেন। সুব্রতবাবু বাঙালি। বাংলার মুখ্য সচিব পদে আরও এক বাঙালি বসবেন, এমন ধারনাও অনেকের ছিল। কিন্তু তাঁকে মুখ্য সচিব না করে ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ পন্থকে মুখ্যসচিব করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুব্রতবাবু হয়তো সেটা আগাম আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই সেন্ট্রাল ক্যাডারে অর্থাৎ দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারে ডেপুটেশনে যেতে চাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও অনুমতিও চেয়েছিলেন। কিন্তু নবান্ন তাঁকে ছাড়েনি। শেষমেশ যখন পর্যন্ত ছাড়পত্র মেলে, ততদিনে চাকরির মেয়াদে অল্প কদিন বাকি ছিল। তাই দিল্লিতে গেলেও কেন্দ্রের কোনও বড় মন্ত্রকে সচিব পদে বসার সুযোগ পাননি।
এই হল গল্প। যদি আজ তাঁর মেয়াদ থাকত শুভেন্দু হয়ত সুব্রত গুপ্তকেই মুখ্যসচিব করতেন। কিন্ত ভাগ্যের পরিহাস দেখুন, সিনিয়রিটির দিক দিয়ে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরই তিনি হতেন মুখ্যসচিব। আর আজ কার্যত আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গাই তিনি মুখ্যমন্ত্রী পরামর্শদাতা। শুধু মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলে গিয়েছে। সেদিন ছিলেন মমতা। আজ শুভেন্দু।
তবে তৃণমূল কটাক্ষ করে বলছে, অবসরের পর আলাপন, হরেকৃষ্ণ,মনোজ পন্থদের উপদেষ্টা করায় শুভেন্দু সবথেকে বেশি সরব হয়েছিলেন, আজ সেই শুভেন্দু এক জন অবসরপ্রাপ্ত আমলাকে উপদেষ্টা করলেন, যিনি আবার বিতর্কিত SIR কাজ শেষ করেছেন।