31/08/2026
ভালোবাসার মানুষটাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তখন স্বামীর হাতে ছিল না ভালো চাকরি, ছিল না নিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কিন্তু স্ত্রীর বিশ্বাস ছিল একটাই “আজ হয়তো সময়টা খারাপ, কিন্তু একদিন ও ঠিক সফল হবে।
বিয়ের পর সংসারের দায়িত্বও এসেছে। কাজের প্রয়োজন ছিল, তাই শক্তিনগর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর কাজ শুরু করেন নদীয়ার গাংনাপুরের বাসিন্দা দেবজিৎ ভাদ্র।
কিন্তু চাকরি করেই থেমে যাননি তিনি। প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা ডিউটি করার পরও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। শরীর ক্লান্ত হয়েছে, সময় কম ছিল, তবুও স্বপ্নটা ছাড়েননি।
আর এই কঠিন সময়ে দেবজিতের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তাঁর স্ত্রী।
স্বামীর ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে বারবার সাহস দিয়েছেন। বলেছেন, চেষ্টা চালিয়ে যেতে।
দেবজিতও বারবার চেষ্টা করেছেন। একবার নয়, পাঁচ-ছয়বার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। অনেকেই হয়তো সেখানেই হাল ছেড়ে দিতেন। কিন্তু তিনি প্রতিবার ব্যর্থতাকে নতুন করে শুরু করার কারণ বানিয়েছেন।
ইউটিউবের শিক্ষামূলক ভিডিও, কোচিং এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করেছেন। তাঁর কাছে ব্যর্থতা মানে শেষ নয়, আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার একটা সুযোগ।
মহাকাশ গবেষণা এবং বিশেষ করে চন্দ্রযান অভিযান তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করেছিল। দেশের মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন তখন আরও শক্ত হয়ে ওঠে।
অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এল সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোতে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন দেবজিৎ। শ্রীহরিকোটার স্পেস সেন্টারে Technician-B পদে যোগ দিতে চলেছেন তিনি।
যে মানুষটা একদিন ১২ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে বাড়ি ফিরে বই খুলতেন, যে মানুষটা বারবার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েও থামেননি, আজ তিনিই দেশের মহাকাশ গবেষণার অংশ হতে চলেছেন।
আর এই গল্পে শুধু দেবজিতের সাফল্য নেই।
আছে একজন স্ত্রীর বিশ্বাস।
আছে সংসারের দায়িত্বের মাঝেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।
আছে বারবার পড়ে গিয়েও উঠে দাঁড়ানোর সাহস।
কখনও কখনও একজন মানুষের সাফল্যের পেছনে শুধু তার নিজের পরিশ্রম থাকে না, থাকে এমন একজন মানুষ, যে তার ব্যর্থতার দিনেও বিশ্বাস করে, “তুমি পারবে।”
দেবজিৎ ভাদ্রের গল্প তাই শুধু চাকরি পাওয়ার গল্প নয়।
এটা ভালোবাসা, বিশ্বাস, ধৈর্য আর না-হারার গল্প।
আজ নদীয়ার গাংনাপুরের এই মানুষটি শুধু নিজের পরিবারের নয়, গোটা দেশের জন্যও অনুপ্রেরণা।