14/09/2026
অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রবর্তিত এক ঐতিহ্যবাহী বাংলা গাণিতিক পদ্ধতি শুভঙ্করী। বিখ্যাত গণিতবিদ শুভঙ্কর দাস (বা রায়) ছড়া ও পয়ারের মাধ্যমে জটিল পাটিগণিত ও জ্যামিতিক হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত সহজ করে তুলেছিলেন।
এই পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্য এবং ব্যবহারগুলো নিচে দেওয়া হল — ছন্দে গণনা: পাটিগণিতের কঠিন হিসাব, যেমন— যোগ, গুণ, ভাগ বা জমির মাপ, সুললিত ছড়ার (আর্যা) মাধ্যমে শেখানো হত।
সেকালের পাঠশালাগুলোতে জমির পরিমাপ, ক্ষেত্রফল, সরল সুদকষা এবং নিত্যদিনের কেনাকাটার হিসাবের জন্য এটি বহুল ব্যবহৃত হত।
আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আগে, বিশেষ করে গ্রাম বাংলায় গণিতকে সহজভাবে বুঝতে এই 'শুভঙ্করী' রীতি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিল। পাঠশালার শিশুরা 'শুভঙ্করী' থেকে 'শতকিয়া', 'কড়াকিয়া', 'গণ্ডাকিয়া', 'বুড়িকিয়া', 'পণকিয়া', 'চৌকিয়া', 'কাঠাকিয়া', 'সেরকিয়া', 'দশকিয়া', 'পশুরিয়া' প্রভৃতি আবৃত্তি করতো সমস্বরে-সুরে-সুরে!
ভাগের প্রতিশব্দ হরণ। হরণে আছে 'হাৰ্য্যা', 'হারক' ও 'হরণফল'। হরণকে সহজসাধ্য করতে 'শুভঙ্কর'-এর সৃষ্টি 'হরণের আর্য্যা':
'হার্য্যের যতেক অঙ্ক যতনে রাখিবে।
ইলেক দিয়ে বাম দিকে হারক লিখিবে।
হার্য্য মধ্যে হারক যতেক বার রয়।
তাহাই হরণফল শুভঙ্কর কয়।'
'হার্য্য' আর 'হারক' যথাক্রমে 'ভাজ্য' আর 'ভাজক' হিসেবেও পরিচিত।
হারিয়ে যাওয়া সেই সব শুভঙ্করীয় বিদ্যার নির্বাচিত এই বই সুভাষ কাজল দাসের 'শুভঙ্করী'।
শুভঙ্করী
(তিনশ বছরের প্রাচীন 'পাটিগণিত')
সুভাষ কাজল দাস
মূল্য - ২৫০ টাকা
প্রাপ্তিস্থান - লালমাটি প্রকাশন
৩,শ্যামাচরণ দে স্ট্রিট, কলেজস্ট্রিট
কলকাতা- ৭০০০৭৩
হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর- ৯১৪৩২২৯৫৮৫