06/05/2026
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে হেরে গেলে বা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে পদত্যাগ করা সাংবিধানিক প্রথা। যদি কোনো মুখ্যমন্ত্রী হেরে যাওয়ার পরেও পদ না ছাড়েন, তবে নিম্নলিখিত সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে:
রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ: ভারতের সংবিধানের ১৬৪ ধারা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের সন্তুষ্টি (Pleasure of the Governor) থাকা পর্যন্ত পদে থাকতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে রাজ্যপাল তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিতে পারেন।
সরকার বরখাস্ত: মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে রাজি না হলে, রাজ্যপাল তাকে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারেন এবং নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন।
ফ্লোর টেস্ট (Floor Test): রাজ্যপাল বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে মুখ্যমন্ত্রীকে আস্থাভোট বা 'ফ্লোর টেস্ট' দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন। যেহেতু নির্বাচনে হেরে গেছেন, তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রী পদ হারাতে বাধ্য হন।
রাষ্ট্রপতি শাসন (Article 356): যদি মুখ্যমন্ত্রী পদ না ছেড়ে সাংবিধানিক অচলাবস্থা তৈরি করেন, তবে রাজ্যপাল পরিস্থিতি রিপোর্ট করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করতে পারেন, যার ফলে বর্তমান সরকারের ক্ষমতা সম্পূর্ণ খর্ব হয়।
কার্যকাল সমাপ্তি: বিধানসভার স্বাভাবিক কার্যকাল শেষ হলে (যেমন ২০২৬ সালের ৫ মে-র পর পশ্চিমবঙ্গ পরিস্থিতি) মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ক্ষমতা হারান এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সংক্ষেপে, পদত্যাগ না করলেও সাংবিধানিক নিয়মে হেরে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।