27/09/2026
কেরিয়ারের সুবর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে দুলাল গুহর ‘খান দোস্ত’ ছবির অফার পেয়ে সানন্দে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন মিঠু মুখার্জি। এই দুলাল গুহই ‘দো আনজানে’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে বিখ্যাত অমিতাভ-রেখা জুটি তৈরি করেছিলেন। ‘খান দোস্ত’-এর পর হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে ‘দিল লাগি’, ‘সফেদ ঝুট’, বিনোদ মেহেরার সঙ্গে ‘ছুটির ফাঁদে’-র হিন্দি রিমেক ও ‘মায়া মালহোত্রা’-র মতো বেশ কিছু হিন্দি ছবিতে তিনি কাজ করেছিলেন।
কিন্তু মুম্বইয়ে গিয়ে দেখা গেল, প্রথম সারির নায়িকা হওয়ার বদলে তাঁকে মূলত ‘সেকেন্ড লিড’ চরিত্রে আটকে ফেলা হচ্ছে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে যখন তিনি কলকাতায় ফিরে এলেন, ততদিনে সিনারিও অনেকটাই বদলে গেছে।
কলকাতায় ফিরে মিঠু মুখার্জি দেখলেন, তাঁর জায়গা দখল করে নিয়েছেন তৎকালীন প্রতিভাবান অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। প্রযোজকদের প্রথম পছন্দ তখন মহুয়া। অন্যদিকে ‘ত্রয়ী’, ‘থার্টিসিক্স চৌরঙ্গী লেন’, দাদার কীর্তি ‘বিষবৃক্ষ’ করে টলিউডের নতুন নয়নের মণি হয়ে উঠেছেন দেবশ্রী রায়। এমত অবস্থায় অসিত সেনের ‘প্রার্থনা’ ছবিতে মিঠু মুখার্জি কাজ করলেন এক বাইজির চরিত্রে। রঞ্জিত মল্লিকের সাথে তাঁর কালজয়ী জুটি (‘স্বয়ংসিদ্ধা’) ভেঙে যাওয়ার পেছনেও মিঠু মুখার্জির মুম্বই যাওয়াকেই দায়ী করেছিলেন অনেকে। পরবর্তীকালে জয় সেনগুপ্ত বা দীপঙ্কর দে-র সঙ্গেও সেই পুরনো রসায়নও তৈরি হয়নি।
তবে মিঠু মুখার্জির প্রস্থান কোনও ফ্লপ ছবির কারণে হয়নি। নয়ের দশকের শুরুতে কনওয়ালজিৎ সিংয়ের বিপরীতে তাঁর শেষ ছবি ‘আশ্রিতা’ সুপার-ডুপার হিট হয়েছিল।
সাফল্যের চূড়ায় থাকা অবস্থাতেই সংযমের পরিচয় দিয়ে, খ্যাতির আলো মেখে সসম্মানে অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন মিঠু মুখার্জি। পরবর্তীকালে মুম্বইয়ের বাসিন্দা হয়ে যান, কলকাতায় এসে প্রিয় মানুষদের নিজে হাতে রেঁধে খাওয়ালেও মিডিয়ার জন্য চিরতরে বন্ধ করে দেন তাঁর ঘরের দরজা।নিজের জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকে সূর্যের দ্যুতি নিয়ে সরোবরের জলের মতো স্নিগ্ধ শান্তভাবে বিদায় নিয়েছিলেন এই রূপসী ম্যাটিনি আইডল🙏
কলমে : গবেষক, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক রবীন দাস Robin Das