12/09/2026
সুপ্রকাশ-এর 'স্মৃতির ইতিহাস, ইতিহাসের স্মৃতি গ্রন্থমালা'-র এখন অবধি প্রকাশিত বইপত্র। বিষয় বৈচিত্র্য ও প্রাসঙ্গিকতায় প্রতিটি বই-ই নিজস্ব পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ। ............................................................
১. অকূলের কাল
অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
১৯৬৮ থেকে ১৯৭৪— এক অস্থির অথচ স্বপ্নময় সময় জুড়ে এই পর্বের বিস্তৃতি। উল্লিখিত সময়টা ছিল ভীষণই 'বোকা'।
সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ বাঙালি শুধুমাত্র উচ্চআয়ের পেশায় স্থিত হওয়ার সংকল্পে প্রাণপাত করার কথা ভাবত না। তাদের চোখে আদর্শ ছিল; ছিল যূথসমাজের স্বপ্নকথা কিংবা প্রেমের জন্য অপরিকল্পিত মরণঝাঁপ।
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
২. উড়নচণ্ডীর পাঁচালি
সমরেন্দ্র মণ্ডল
জীবন-নৌকা, ভবঘুরের মতো উড়নচণ্ডী জীবনকে এপার-ওপার করে, ঘাটে ঘাটে ভিড়িয়ে দেয়। আসলে, জীবনটাই তো জীবন-ছুট। এ জীবন মেলে তো, ও জীবন মেলে না। জীবনে জীবন যোগ করার কত কথাই তো শুনি। কিন্তু, সত্যি হয় কি? বোধহয় না। আর, হয় না বলেই চিরকাল উড়নচণ্ডী হয়ে ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়ালাম। ভেতরে সেই উড়নচণ্ডীই রয়ে গেলাম। ওড়াটাই যেন নেশা হয়ে গেল। জীবনের পড়ন্তবেলায় যখন হোঁচট খেয়ে দম নেবার ফুরসত মিলল, তখন ভেসে উঠল ছায়ামুখের ছবি।
প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল
মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা
৩. এক যে ছিল গ্রাম
অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
এই বিশাল ভুবনের এক অন্ধকার কোণে এক অখ্যাত গ্রাম। অনেক দূরের এক নিঝুম মাঠে পড়ে থাকা তার খড়ো চালের পাঠশালা, পাঠশালার পণ্ডিত আর পড়ুয়া, পণ্ডিতের রুলবাড়ি কিংবা দিয়াশলাই, পড়ুয়াদের বইদপ্তর; গাঁয়ের ছোটখাটো সব মানুষ, চিতু ওনা লুড়কা লেউল জগা ওন্তা বুড়া মথুর বদনা সত্য পদি কালীমতি উরা, তাদের সঙ্গী ঘোড়া-কুকুর-ইঁদুর-সাপ; তার গাছ আর ফল, আম-জাম-তাল-মোল; তার দুগ্গা আর ভাদু পূজা, যাত্রাপালা, তার বকুল গাছের ছায়ায় রামমন্দিরের শীতল চাতাল; তার শিলাই নদীর দ’ আর খালের বাঁধ— এই সবকিছু নিয়েই ‘এক যে ছিল গ্রাম’।
প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা
৪. স্মৃতিভারে পড়ে আছি
সন্ধ্যা রায় সেনগুপ্ত
পূর্ব পাকিস্তানের এক তরুণী আর সেখান থেকে এপারে চলে আসা তার সহপাঠী বন্ধুর পরস্পরকে লেখা চিঠি এক সময় সারি বেঁধে সীমানার এপার ওপার করছিল। তারপর শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হলো, পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হলো আর সেই চিঠিদের ভাষা থেকে বন্ধুতার খুনসুটি উবে গিয়ে তা অনুরাগের গাঢ় ছোপে রঞ্জিত হলো। ওপার থেকে এপারে এসে তরুণী ঘর বাঁধল সেই তরুণের সঙ্গে।
অর্ধ শতক পের হয়ে ফের যখন একলা হলেন সেই একদা-তরুণী, তখন সেই তরুণ বেলার চিঠির ঝাঁক হারিয়ে গেছে ব্যস্ত সংসারের গলিঘুঁজিতে। তিনি শেষবারের মতো চিঠি লিখতে বসলেন অন্য ভুবনে চলে যাওয়া তাঁর জীবনসঙ্গীকে। তাঁর কলমের কালিতে এখন বিগত সময়ের নির্যাস। তিনি জানেন পাশের শয্যা থেকে উঠে গেলেও তাঁর সঙ্গীর পরিত্রাণ নেই অগণিত পাঠকের বিষাদবৃক্ষ থেকে; তাদের সিদ্ধিগঞ্জের মোকামেই যে তিনি লিখে গেছেন তাঁর শেষ ঠিকানা।
এই গ্রন্থ প্রয়াত মিহির সেনগুপ্তকে লেখা, সন্ধ্যা রায় সেনগুপ্তের শেষ চিঠি যা তিনি তুলে দিতে চান মিহিরের মোকামের সব পাঠকের হাতে।
এই গ্রন্থে কেবলই দুটি হৃদয়ের কথা নেই, আছে সীমান্তপারের এক উপপ্লবের কথা, আছে এক অস্থির ও নিষ্ঠুর সময়ের বৃত্তান্ত; আর আছে এক দেশান্তরী পরিবারের কঠিন সংগ্রাম-সংকল্পের রাশিচিহ্ন। সর্বোপরি আছে পরিবারের সব মানুষকে একই ছাদের তলায় এনেও সময়ের প্রতিকূল স্রোতে ধরে না রাখতে পারার বেদনায় দীর্ণ এক মানুষের শেষের অসহায় দিনগুলির বিষাদকথা।
পুনর্বিন্যাস, সম্পাদনা : অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা
৫. চলার পথের চলনদার
মিহির সেনগুপ্ত
মিহির সেনগুপ্ত তাঁর সংস্কৃতিপথের চলনদারদের কথা শুনিয়েছেন এই বইতে। তাঁর চলনদারদের মধ্যে রয়েছেন অগ্রজ অভিজিৎ সেন, তপন রায়চৌধুরী, সমরেশ বসু, জ্যোতিভূষণ চাকী, রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত, শিবনারায়ণ রায়, অরুণ নাগ, দ্বিজেন শর্মা থেকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
পুনর্বিন্যাস, সম্পাদনা : অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৪৯০ টাকা
৬. হাফ প্যাডেলের কাল
অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
হাফ প্যাডেলে পা দিয়ে আকাশে ডানা মেলার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠছে চিত্তাকাশ, মননের গতি; বয়ঃসন্ধির অনুভব, হৃদয়ের আবেগ, যৌনতার স্ফুরণ। বালক থেকে কিশোর হওয়ার পথে জীবন যখন সমগ্রতায় ভরে উঠতে চায়, তখন তার সমান্তরালে উড়ে চলা এক কালো পাখির ভ্রুকুটি-করাল ছায়া। খণ্ড খণ্ড জীবনকে সমগ্রতায় জোড়ার বিভক্তি অনুসর্গগুলি প্রহেলিকা হয়ে থেকে যায় বালকের মনে।
ষাট বছর পিছিয়ে গিয়ে তাঁর বালক থেকে কিশোরবেলার ছয় বছরের স্মৃতিকে তুলে এনেছেন লেখক। ধরেছেন তার মন, তার চিন্তা, তার আবেগ, তার সরল সংস্কার। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে সেই সময়কে আলোড়িত করা দেশবিদেশের ঘটনা, সেইসব মানুষ, যাদেরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছিল বালকের জীবন। সব মিলিয়ে এক টুকরো সামাজিক ইতিহাস।
বাংলা সাহিত্যে অকপট স্মৃতিকথা সংখ্যায় নগণ্য। সেখানে নিজের স্খলন-পতনের এমন অর্গলহীন, দুঃসাহসিক বিবরণ প্রকৃতই দুর্লভ।
প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা
৭. আহাম্মকের খুদকুড়ো
দুর্লভ সূত্রধর
জীবন তুচ্ছ? সাধারণ? তাহলে এই এত আয়োজন চারপাশের? মেঘের পরে মেঘ, রোদ আর জলজ এই বাতাস? নাম না জানা পাখির ডাক? রূপেশ্বরী নদীর বয়ে চলা? কোথায় নিয়ে যায় আদতে সেই সব আমাদের?
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
অলংকরণ : দুর্লভ সূত্রধর
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা
৮. সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম
মিহির সেনগুপ্ত
বাংলা ভাষায় এ চিরকালীন আখ্যান একক ও অদ্বিতীয়। লেখকের স্মৃতিগদ্যে ধরা পড়েছে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পনেরো-বিশ বছর পরের বরিশাল। বর্ধিষ্ণু হিন্দুরা অনেক আগেই সীমান্ত পেরিয়ে 'হিন্দুস্তানে' চলে গেছেন। সমশ্রেণীর মুসলমানেরা নতুন সুযোগের সন্ধানে গেছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং আরও দূর দেশে-- দুবাই, সৌদি, মার্কিন মুলুকে। দুঃস্থ ব্রাত্যজন পড়ে আছেন। পরস্পরকে 'শ্যাখ' বা 'মালাউন' বলে সহর্ষ বিদ্রূপ করতে তাঁদের বাধে না, আবার তারাই চাঁদা তুলে দুর্গাপুজো করেন, পূজা প্যান্ডেলের চাল তৈরির জন্য টিন আসে মসজিদ থেকে। মালাউন দেওর 'হিন্দুস্তানে' চলে গেলে তার শ্যাখ বড়ভাই বাঁচবে না বলে মুসলমান ভাবী চোখের জল ফেলেন। খলিল ঠাহুর ভোগ রাঁধেন। সঙ্গে বলতে পারেন, "খাইতে হয় খাও, না খাও তো খালপাড়ে গিয়া সোগা মারাও।" উজাগর রাত্রে আসর বসে ছোমেদ মেঞার জারি গানের। এ স্মৃতিগদ্যে মিহির রেখে যান চিরকাল খেদানি খেয়ে ভাতের গ্রাস তোলা বাঙালির সত্য পরিচয়।
প্রচ্ছদ : তিস্তান
মুদ্রিত মূল্য : ৫০০ টাকা
৯. অভিমানভূম
শুভদীপ চক্রবর্তী
ঋতু বদলালে, বদলায় প্রকৃতিও। আর এক ঋতু থেকে অন্য ঋতুতে বয়ে যেতে যেতে, মরশুমি আরো কত মন ছুঁয়ে যায় আমাদের ভিতর। এই যাত্রাপথ নেহাৎই গন্তব্য ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া নয়। বরং তার উল্টোপিঠে দাঁড়িয়ে এই চলমানতা যেন একটা বসবাস। ‘অভিমানভূম পুরুলিয়ার মানুষদের গল্প।— সেই সব গল্পে নিজেদের মিশে যাওয়ার কথা। যাপন জুড়ে থাকা ধুলো, নদী, ফুল আর পাথরদের কথা। আর খুঁজে চলা তার ভিতরে ভিতরে অচেনা অজানা মিথ, ইতিহাস, ঐতিহ্য। নিজস্ব বলতে যেখানে শুধু বিস্ময় আর সবশেষে অনেকদিন পরে প্রিয় কাউকে ছেড়ে চলে আসার মতো, মনখারাপ একরাশ।
প্রচ্ছদ : সন্দীপ রায়
অলংকরণ : সুলিপ্ত মণ্ডল
মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা
১০. টাঁড় পাহাড়ের পদাবলি
মিহির সেনগুপ্ত
টাঁড় সেই স্থান, যেখানে শুধু ঝাঁটি, ঝাড়, জঙ্গল, খাঁ খাঁ ভূমি, পাথর এবং অসম্ভব গরিব মানুষজন। তারা ওই মালভূমির খাঁজে-খাঁজে টিলার গোড়ালিতে কিছু চাষ-আবাদ করে, অথবা আশপাশ অঞ্চলের খনিতে কয়লা, অভ্র, ম্যাঙ্গানিজ এইসব আকর তোলে। যারা এসব কাজে দড় নয়, অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া এবং গভীর অরণ্যবাসী গোষ্ঠী, তারা জংলি লতা, গাছের আঁশ— এইসব দিয়ে দড়ি বোনে, বনের কাঠ চুরি করে হাইরোডের ধারে সাজিয়ে বসে বিক্রি করার জন্য। এইসব রকমারি কাজ করে তারা।
সাতঘাটের জল খেয়ে, সাতসতেরো হ্যাপা সেরে এরকম এক স্থানে আমার স্থিতি। এখানে ভূমির চরিত্র বড়ো বিশৃঙ্খলার। এ-ভূমি টাঁড়, তো ও-ভূমি বহিয়ার। টাঁড়ে ভূমি বড়ো রুক্ষ, তথাপি বৃক্ষ সব বনস্পতি। নাবালের ভূমিতে জন্মকর্ম, ডাঙর হওয়া। সেখানে শস্য-শাববক, গাছপালা, বৃক্ষ লক্-লহমায় বাড়ে। তারা শ্যামলিমায় শ্যামল, কান্তিতে কান্ত। টাঁড়ে তা নয়। এখানে বৃক্ষ-বনস্পতির চরিত্র ভিন্ন। তাদের শরীরে কান্তভাব কম। কিন্তু তারাও কি ছায়া দেয় না? দেয়, তবে তফাৎ আছে। এই তফাৎটি প্রকৃতি এবং মানুষের এক নতুন অধ্যায় খুলে দেয় চোখের সামনে। রুক্ষ কঠোর আদিম এই সৌন্দর্য।
প্রচ্ছদ : শুভশ্রী দাস
অলংকরণ : পার্থপ্রতিম সরকার, আত্রেয়ী সাহা
মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা
১১. ছায়াবৃতা
সুনীল সেনশর্মা
ষাটের দশকের অরুণাচল, সেদিনের অবগুণ্ঠনবতী নেফায় ভূতাত্ত্বিক হিসেবে লেখকের যাওয়া। হাতে দূরবীন, গলায় কম্পাস আর কাঁধের ঝুলিতে নানা কেজো জিনিস নিয়ে প্রতিদিনের অভিযানে শিলাস্তরের রহস্যমোচন যেমন হয়, তেমনি মনের গভীরে দাগ দিয়ে যায় গম্ভীর ধ্যানমগ্ন পাহাড়, প্রাচীন অরণ্য আর সানুদেশে পুঞ্জীভূত মেঘ। এ বই নিছক এক নবীন ভূতাত্ত্বিকের দিনপঞ্জী নয়, 'ছায়াবৃতা' নেফার ঘুম ভাঙার গল্প। রূপকথার রাজকন্যার মতো ঘুম ভেঙে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে নেফা। এ এক প্রেমের কাহিনী। এ প্রেমে মনের আনন্দে গান শুনিয়েছে জিয়া ভরেলী নদী, সাক্ষী হয়েছে শ্যামল পাহাড়ের সারি, আকাশছোঁয়া প্রাচীন গাছ।
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা
১২. সময় ভ্রমণ
(দার্জিলিং : পাহাড়-সমতলের গল্পগাছা)
সৌমিত্র ঘোষ
দার্জিলিং পাহাড় এবং পাহাড়ের নিচের তরাই অঞ্চলের নিসর্গের খোঁজ করা হচ্ছে এই বইতে। খোঁজ বলতে অসংখ্য পুরোনো-নতুন বইপত্র ও দলিল-দস্তাবেজ, সেই সঙ্গে নানান রকমের ও নানান জনের স্মৃতিভান্ডার খুঁড়ে দেখা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া। জায়গা বলতে নিছক স্থান নয়, সময়ও। ঔপনিবেশিক ও প্রাক-ঔপনিবেশিক সময়পর্ব থেকে দার্জিলিং পাহাড়ের ও সংলগ্ন সমতলের ইতিহাস ভূগোল সমাজ কীভাবে বদলেছে, এখনো বদলাচ্ছে, তার বিশদ সন্ধান নেওয়া, সে উদ্দেশ্যে এই সময়ে ওই সময়ে পাড়ি দেওয়া। পাড়ি দিতে দিতে যা এখন আছে, এবং যা নেই, থাকা না থাকার এই দ্বিবিধ জ্যামিতিকে প্ৰশ্ন করা। প্রশ্ন আমাদের দেখার, মুগ্ধতার, ভালো খারাপ লাগার ধরন নিয়েও। প্রকৃতি, নিসর্গ, নিসর্গ প্রকৃতি ইতিহাস ভূগোল সমাজ নিয়ে বিভিন্ন পাঠ ও দেখা, সময়ভ্রমণ বলতে আসলে এই সবের মধ্যে বেড়ানো, বেড়াতে বেড়াতে বেড়ানোর গল্প বলা এবং শোনা। দার্জিলিং নিয়ে প্রত্যেক আগ্রহীজনের অবশ্যপাঠ্য, অবশ্যশ্রাব্য। দার্জিলিংয়ের মানুষ, চা বাগান ও শ্রমের ইতিহাস এর আগে এত যত্ন করে কোথাও লেখা হয়নি।
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত, শুভশ্রী দাস
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৫৬০ টাকা
১৩. এপার বড়ো মাঘমাস ওপার বড়ো কুয়া
মিহির সেনগুপ্ত
সর্বশেষ এখন যেখানে আছি সেটাকে বাড়ি বলি বটে, তবে তারও সেই মান্যতা নেই। আগেরগুলো সব ‘বাসা’। এখনকারটাকে বাড়ি বলি, একটা আকাঙ্ক্ষা পুনর্নির্মাণ করার জন্য। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। বাল্যকালীন, বহুল প্রচলিত একটা গল্পের কথা মনে পড়ে। বাঙালেরা বাসা এবং বাড়ি দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে। বাসাতে, তাদের মতে পাখিরা থাকে। মানুষ থাকে বাড়িতে। পশ্চিমবাংলায়, বিশেষত কলকাতায় শব্দ দুটি সমার্থক। এক বাঙালকে জনৈক কলকাতাবাসী নাকি প্রশ্ন করেছিল—'আপনার বাসা কোথায়?’ সেই বাঙাল ছিল কুলীন বরিশালি বাঙাল, যারা কোনো কথা সোজাভাবে বোঝে না। সে ভাবল, কলকাইত্যা লোকটা নিশ্চয়ই তাকে তুচ্ছভাবে পাখি বলে ভেবেছে। আবার এও ভাবল, পাখি যখন ভেবেছে, নিশ্চয়ই খুব কদর্য পাখিই ভেবে থাকবে। সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই শকুন ভাবাই সম্ভব। এখন, বরিশালি জবানে 'শকুন' শব্দটির উচ্চারণ হচ্ছে ‘হহুন’। সুতরাং ‘বাসা কোথায়’— এই প্রশ্নের উত্তরে সে সরাসরি বলল, ‘হহুন তোর বাফে।’
বাড়ি শব্দটার ডিনোটেশন এবং কনোটেশন ব্যাপারটা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার। ব্যাপারটা ক্ষুদ্রতা এবং ব্যাপকতার। গ্রামীণ যৌথ গৃহস্থালিতে যারা কোনোদিন বসবাস করেছে, তারাই বাড়ি কথাটার ব্যাপকতা বোঝে। বাসা জিনিসটা শহুরে, ক্ষুদ্রতা। সেটা যেন অনেকটা গর্তের মতো। বাইরের জগতের সঙ্গে তার একাত্মতা বোধে আসে না। যখন কেওড়ার বাড়ি চিরকালের মতো ছেড়ে এসেছিলাম, মনে হয়েছিল দুহাতের স্নেহের আগল থেকে যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেলাম। ওরকম একটা হাহাকারি-অনুভূতি এ জীবনে আর পেলাম না। ছন্নছাড়া হওয়ার এই অনুভূতিটা জীবনে যেন চিরস্থায়ী হয়ে রইল।
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ২৭০ টাকা
১৪. ঝিঙাফুলের কলি
মিহির সেনগুপ্ত
মিহির সেনগুপ্তর দুই মোকাম— জন্মসূত্রে বরিশাল, কর্মসূত্রে ঝাড়খণ্ড। প্রাকৃতিক, জনজাতিক এবং বাচনিক ভেদে দুই মেরুতে অবস্থিত দুই ভূখণ্ড। খাল-সোঁতা, নদী-বিল অধ্যুষিত বরিশাল, টাঁড়-টিলা, পাহাড়-জঙ্গল অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ড। বরিশালের অপবর্গীয় প্রান্তিক জন— বাগদি-কাহার, নোমো-জোলা, পীর-ফকির মিহিরের যেমন আত্মজন, তেমনই তাঁর প্রাণের স্ফূর্তি ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী-জনজাতি— সাঁওতাল, মুন্ডারি, বিরহড়, কুর্মি, কীর্তনিয়া-ঝুমুরিয়াদের সংসর্গে। 'সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম ' যদি হয় তাঁর বরিশালীয় পরনকথা, মানভূমিজ পরনকথা অবশ্যই এই গ্রন্থ — ঝিঙাফুলের কলি।
দুই পর্বে বিন্যস্ত গ্রন্থটিতে একাধারে আছে দীনেশচন্দ্র সেন কথিত বৃহদ্বঙ্গের অর্থাৎ পূর্বতন বিহার রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ বা বর্তমানের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলাকে নিয়ে গড়ে ওঠা মিশ্রভাষী জনগণের মানভূমীয় সাংস্কৃতিক এবং নৃতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ, অন্যধারে লেখকের এক ব্যক্তিগত আখ্যান।
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৪৪০ টাকা
১৫. বাঙালির শিকার স্মৃতি
সম্পাদনা : গৌরব বিশ্বাস
বাংলার জমিদার, মহারাজা বা উচ্চবিত্ত বাঙালি শিকারীরা, যখনই শিকার স্মৃতি লিখতে বসেছেন, অরণ্যের সৌন্দর্য থেকে কেউ কিন্তু মুখ ফিরিয়ে থাকেননি। অরণ্যমধ্যে পরিত্যক্ত বাসভূমি সূর্যকান্ত আচার্যর হৃদয় আর্দ্র করেছে। ময়ূরভঞ্জের বর্ষার রূপ মুগ্ধ করেছে অক্ষয়কুমার চট্টোপাধ্যায়কে। অরণ্যের রূপ-রস-গন্ধকে না চিনলে হয়ত শিকারী হওয়া যায় না। অথচ, বন্যপ্রাণ—যা, অরণ্যেরই অংশ স্বরূপ, তা নিধনের পর এদের বিজয়-উল্লাস বড় পীড়াদায়ক। এমন মনস্তাত্ত্বিক বৈপরীত্য সম্ভব! এ কি, শিক্ষিত তথাকথিত সংস্কৃতিবান বাঙালির চারিত্রিক দ্বিচারিতা?
এ স্মৃতি-মালা বিগত যুগের মুষ্টিমেয় বাঙালির শৌর্য, বীরত্বের গৌরবগাথার নাকি, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ বিনাশের আঁধার ইতিহাসে বাঙালির লজ্জাজনক আখ্যান এবং একই সঙ্গে এক উৎকেন্দ্রিক দেশীয় অভিজাত শ্রেণীর স্বরূপ উন্মোচনের উপাদান, তা সমাজ-ইতিহাসে মনোযোগী পাঠক অনায়াসেই বুঝতে পারবেন।
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৫৪০ টাকা
১৬. পূর্ববঙ্গের এক মৈথিল-গৃহবধূর আত্মকথা
অনুপমা ঝা
অনুপমা ঝা (১৯৩৫-২০১৬) জন্মেছিলেন ওপার বাংলায়। বিয়ে হয়েছিল পূর্ববঙ্গেরই এক মৈথিল পরিবারে। জীবনসায়াহ্নে এসে খানিকটা নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্যই পুরোনো দিনের কথা লিখেছিলেন। সেই এলোমেলা স্মৃতিকথনে দেশভাগের ভাগ্য-বিপর্যয়ের শিকার এক গৃহবধূর আশা-আকাঙক্ষা-বেদনার মধ্যে ধরা রয়েছে সেই সময়, মৈথিল সমাজের নানা লোকাচার এবং সেইসঙ্গে লিপিবদ্ধ হয়েছে ইতিহাসের এক অশ্রুতপর্ব।
সম্পাদনা ও সংকলন : উৎপল ঝা
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সুব্রত মাজী
মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা
১৭. বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা
কল্লোল লাহিড়ী
গত প্রজন্মের এক ছিন্নমূল পরিবার এপার বঙ্গে এসে মফস্বলে থিতু। এখানে ভাড়া বাড়ি আছে। পাড়া আছে। গঙ্গার ঘাট আছে। আছে হৃদয়ে কাঁটাতারের দাগ নিয়ে জীবনের উদযাপন।
আর? বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা।
প্রচ্ছদ-পরিকল্পনা ও অলংকরণ : মেখলা ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ-রূপায়ণ : শোভন সরকার
মুদ্রিত মূল্য : ৩৭০ টাকা