Suprokash

Suprokash বাংলা সাহিত্যের প্রকাশনা। সুপ্রকাশ আগামীতে হয়ে উঠতে চায় সার্বিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ।

বাংলা সাহিত্যের প্রকাশনা। আলোকবৃত্তের বিপ্রতীপে থাকা মানুষের আখ্যান, ধ্রুপদী কথাসাহিত্য, চিন্তাপ্রধান গদ্য এবং স্মৃতি জুড়ে থাকা মানুষের ইতিহাসের কথা বলাই সুপ্রকাশের স্বনির্বাচিত দায়।

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩.............................................................'অজস্র মহাবৃক্ষবে...
30/12/2025

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩.............................................................
'অজস্র মহাবৃক্ষবেষ্টিত এই মধ্যম-পরিসর বনস্থলীর ঈষৎ রুক্ষ ভুমিতে তাঁদের শকটটির অগ্রভাগ একটি প্রকৃতিসৃষ্ট মৃত্তিকানির্মিত বেদীর আশ্রয় পাওয়ায় এখনকার মতো অর্ধ-প্রণত। এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সাধারণ উদক বা 'সদুজল'। সেই উদকের পিপাবাহী অন্য শকটটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তিনসারি বৃক্ষ পেরিয়ে পাশ্ববর্তী বনস্থলীতে। সেটি এই বনস্থলীটির তুলনায় অপেক্ষাকৃত সুপরিসর; সেখানেই আজকের মতো অধিকাংশ 'দুসকুটি' বা মণ্ডপাদি স্থাপনা করা হবে। এবং এই ক্ষুদ্রাকার বনস্থলীতে নিশাচর্যাকারীদের পালাক্রমিক আশ্রয়ের জন্য একটিমাত্র মণ্ডপ রচনা করলেই চলবে।

জতুরসে রঞ্জিত স্থূল বস্ত্রসহ দুসসকুটি রচনার সামগ্রীগুলি উদকবাহী শকটের পশ্চাদ্ভাগে বিন্যস্ত থাকে। মহোদাচার্য মহাকনককাঞ্চন সম্প্রতি অশীতিবর্ষ বয়স অতিক্রম করেছেন, তিনি শরীরচর্চালব্ধ অটুট স্বাস্থ্যের অধিকারী হলেও বয়ঃক্রমিক প্রাচীনতার কারণে ইদানিং তাঁর নানাবিধ কায়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। বনজ ইন্ধনের ধূম্ররাশি তাঁকে পীড়িত করে বলে তাঁর মূল অবস্থানের বনস্থলীটির কিয়ৎ দূরত্বে এই ক্ষুদ্রাকার বনস্থলীতে রন্ধনের আয়োজন করতে হয়েছে।

শকটদুটি সাধারণ গো-শকট নয়—দুটি শকটই বিশেষভাবে নির্মিত চারচক্রবিশিষ্ট। পশ্চাদ্ভাগের চক্রদুটির ওপরেও বংশনির্মিত পাটাতনের বিস্তার। বয়সের কারণে আচার্য মহাকনককাঞ্চন একাদিক্রমে বেশিক্ষণ পদব্রজে চলতে পারেন না। ক্লান্ত হলে তিনি এই অংশে উপবেশন করেন। এই পদ্ধতি ভিক্ষু স্থিতধীমান-কর্তৃক প্রবর্তিত! শকটদুটিকে ভিক্ষুদল পালাক্রমে টেনে আনছেন সেই সুদূর পিঙ্গলগিরির উত্তরাংশে শাল-গজার, পিয়ালের বৃক্ষশোভিত অরণ্যের শতাব্দী-প্রাচীন ছায়ায় রক্ষিত সারবানবিহার থেকে। পথে কত গাম, গামগেহ, নাম-না-জানা অথচ নিজ পরিচয়ের একান্ত অস্তিত্বে গরীয়ান ক্ষুদ্র ও মধ্যম জনপদ পেরিয়ে এসেছেন তাঁরা।

বক্ষ্যমাণ বনস্থলীর শকটটি দেখতে সাধারণ চতুঃচক্রবিশিষ্ট অশ্বকর্ষী শকটেরই অনুরূপ, কিন্তু অগ্র-পশ্চাতে অস্বাভাবিক বিস্তৃত পাটাতনযুক্ত। সেই কারণে অগ্রে এক-হস্ত বা অষ্টাদশ কর-পরিমাণ অংশ অনধিকৃত ও শূন্য। গো বা অশ্ব-শকট হলে এই স্থানটি দ্বিগুণ পরিমাণ হতেই হতো, অন্যূনপক্ষে শকটের চালক ও তার সহায়ক—এই দুজনের উপবেশন-স্থান ও অত্যধিক সময় একাদিক্রমে উপবেশনজনিত শরীরী অস্বস্তি ও অবসাদ দূর করার মতো চাঞ্চল্যপ্রকাশের পরিসর থাকতেই হতো। কিন্তু মনুষ্য-চালিত এই শকটের অগ্রের ঐ স্থানটুকু ব্যতিরেকে পশ্চাদ্দেশ অবধি অবশিষ্ট সর্বাংশই বংশনির্মিত ছাউনির ওপর 'থুল' বস্ত্রের আবরণে আচ্ছাদিত।

অন্যান্য শকটের মতোই এই শকটটিরও অগ্রের ডান ও বাম—অর্থাৎ শকটের মঞ্চ ছাড়িয়ে দুদিকে দুই হস্ত-পরিমাণ পরিবর্ধিত এবং কাষ্ঠ ও সাং-এর পাশির দুটি প্রান্ত দৃশ্যত তৈল-পক্ক বংশের মতো মধ্যম গড়নের বংশদণ্ড দ্বারা দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ। দৃঢ়তার প্রয়োজনে দু-দিকেই পার্শ্বের কাষ্ঠ ও সাং-এর সঙ্গে তা লৌহ কীলক দ্বারা সংগ্রথিত। পশুচালিত শকটে এই দণ্ডের দু-পাশে দুটি পশুকে বেঁধে দেওয়া হয়। এই শকটটি মনুষ্য-চালিত বলেই এই বংশখণ্ডটিকে ধারণ করেই শকটটিকে টেনে আনা যায়, কিন্তু সামগ্রীর ভার অত্যধিক হলে মঞ্চ ও বংশখণ্ডের মাঝখানে ঢুকে কটিদেশের সম্মুখভাগে বংশখণ্ডটি লাগিয়ে শকটটিকে টানতে হয়।

এই যাত্রায় দুটি শকট ব্যবহৃত হচ্ছে। শকট দুটিকে এভাবেই দীর্ঘ পথ পালাক্রমে ভিক্ষু দলকে টেনে আনতে হচ্ছে বলে দলের প্রায় সকলেই কম-বেশি ক্লান্ত। কারও কারও ক্লান্তির থেকে বিরক্তি বেশি। এই দলের মধ্যে বিরক্তি সবচেয়ে বেশি সুপুণ্যকেরই। আহার-বিহার-পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ ও ধারণ, রাত্রিকালীন বিশ্রামের ব্যবস্থা—এই দীর্ঘ যাত্রা, যাত্রাপথের যাবতীয় বিপৎপত্তি, একজন ভিক্ষুর নিত্যকর্মাদি সম্পাদন, অনুশাসন প্রতিপালন—সর্ব-বিষয়েই তাঁর অন্তরে নিজস্ব এক জিজ্ঞাসিত-অসন্তুষ্টি রয়েছে।' .........................................................
প্রতিযাত্রা
দুর্লভ সূত্রধর

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত

মুদ্রিত মূল্য : ৪৮০ টাকা

সুপ্রকাশ

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩...............................................................পরিবেশ-সচেতনতার...
30/12/2025

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩...............................................................
পরিবেশ-সচেতনতার ঠাণ্ডা ঘরের ঢক্কানিনাদের ভেতর সেইসমস্ত শরীরগুলো শনাক্ত করা দরকার, যারা ভেসে গেছিল। রামধনু, নৌকো, সূর্য-পরিবেশ আন্দোলনের অতিসরলীকরণের ওপর ঠাণ্ডা চাদর। অথচ শরীরগুলো চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। মিলান কুন্দেরা বলেছিলেন— 'দ্য স্ট্রাগল অফ ম্যান এগেইন্সট পাওয়ার ইজ দ্য স্ট্রাগল অফ মেমোরি এগেইনস্ট ফরগেটিং'। বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতির এই অসম লড়াইয়ের ইতিহাস-বর্ণনার ছোট্ট একটি চেষ্টা পরিবেশ সংক্রান্ত আ ক্রমণ-হ .ত্যার সংকলন। ইতিহাস ঘেঁটে বিশেষ কিছু রাষ্ট্র-ভিত্তিক আ ক্রমণের ইতিহাস ও সাম্প্রতিকতার অন্বেষণ, সেইসমস্ত দেশে যেখানে সরকার নিজে পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর নয়, যেখানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা তলানিতে, যেখানে দুর্নীতির লেখচিত্র ক্রমশ ওপরের দিকে, যেখানে আইনের শাসন খুবই সামান্য, বিচারব্যবস্থা ধুঁকছে। পরিবেশকর্মী হ .ত্যার তথ্যে কিছু বিশেষ দেশ, অঞ্চল চিহ্নিত যেখানে লেখচিত্রের অদলবদল ঘটলেও বছর থেকে বছর তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য আশার বাক্স খোলার খবর পাওয়া যায় না।

গ্লোবাল উইটনেস, মোঙ্গাবে, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ফ্রন্টলাইন ডিফেন্ডার্স বা এনভায়রনমেন্টাল জাস্টিস অ্যাটলাস সহ অসংখ্য রিপোর্ট থেকে আ ক্রমণ-হ .ত্যাগুলিকে দুই মলাটে এনে সামগ্রিক পরিবেশ বিভী ষিকার ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টার ভেতর অনেকটাই হয়তো ফাঁকি থেকে যায়। কারণ, হ .ত্যার সংখ্যার আগে সবসময় 'অন্তত' শব্দ বসে যায়। অর্থাৎ এটাই আসল ছবি নয়, বরং এটা ন্যূনতম ছবি। 'গ্লোবাল উইটনেস' পত্রিকার তরফ থেকে পরিবেশকর্মী হ .ত্যার ইতিহাসের ওপর কাজ করা হচ্ছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে। পত্রিকার সাম্প্রতিকতম বার্ষিক রিপোর্ট 'মিসিং ভয়েসেস' বলছে ২০২৩-এ পরিবেশকর্মী হ .ত্যা অন্তত ১৯৬। এই তথ্যে বিশদে আসার আগে পরিবেশকর্মীর সংজ্ঞা নিরূপণ জরুরি হয়ে যায়। পরিবেশ আন্দোলন এবং জমি অধিকার অঙ্গাঙ্গী জড়িত, সেই হিসেবে গ্লোবাল উইটনেস 'জমি ও পরিবেশ অধিকার রক্ষক' বা 'ল্যান্ড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রাইটস ডিফেন্ডার' (এলইডি) শব্দের ওপর জোর দিয়েছে। ২০১৪-র মিশেল ফর্স্ট-এর নেতৃত্বে 'ইউ এন স্পেশাল র‍্যাপোর্টের অন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স'-এর রিপোর্টে শব্দটিকে বলা হয়েছে 'এনভায়রনমেন্টাল হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার' (ইএইচআরডি)। পরিবেশ ও মানবাধিকার রক্ষকদের সংজ্ঞা হিসেবে রিপোর্ট বলছে— 'কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা, যাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত ক্ষমতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জল, বাতাস, মাটি, প্রাণী ও উদ্ভিদসহ সমস্ত পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত মানবাধিকারের প্রসার ও প্রতিরক্ষা করছেন, তাঁদের পরিবেশ ও মানবাধিকার রক্ষক বলা যেতে পারে।' ব্রাজিলের তদন্তকারী বেসরকারি সংস্থা 'পাবলিকা'-র পক্ষ থেকে নাতালিয়া ভিয়ানা-র কথায়— 'এই পরিবেশকর্মীরা আমাদের নিজেদেরই উচ্চারিত কণ্ঠ। এই মানুষগুলোই গোটা পৃথিবীকে বলে দিচ্ছে ঠিক কী কী হচ্ছে চারপাশে।'
চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে
(পরিবেশ সম্পর্কিত আক্রমণ-হত্যা: ইতিহাস-বর্তমান)
অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য

প্রচ্ছদের ছবি : অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ রূপায়ণ : সৌজন্য চক্রবর্তী

মুদ্রিত মূল্য : ৩৯০ টাকা

সুপ্রকাশ

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩......................................................................—নাম বাজ...
30/12/2025

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩......................................................................
—নাম বাজিকর। বাজিকর একটা গোষ্ঠী।
—নিবাস?
—তামাম দুনিয়া।
ঘর নেই বলে দুনিয়া জুড়ে তার নিবাস। ঘর হারাবার পর থেকে তারা ঘর খুঁজে বেড়াচ্ছে দিনের পর দিন। কোনো এককালে তারা ছিল গোরখপুরে। ভূমিকম্পে সেখান থেকে উৎখাত হয়ে ঘুরে ঘুরে গিয়েছিল রাজমহল। সেখান থেকে মণিহারিঘাট, হরিশ্চন্দ্রপুর, সামসি হয়ে মালদা। পুবের দিকে তাদের যাত্রা। পূর্বদিকে সূর্য ওঠে, তাদের পূর্বপুরুষ বলেছিল পুবেই যেন থিতু হয় তারা। তাই মালদা হয়ে রাজশাহী, তারপর পাঁচবিবি। সেখানে মার খেয়ে ফের যেতে হয় পশ্চিমের দিকে। তা ঘর তো আরো কারো কারো থাকে না। কিন্তু তাদের গন্তব্য থাকে। ইহুদিরা হাজার হাজার বছর ঘুরে বেড়িয়েছে, কিন্তু তাদের জন্য ছিলো প্রতিশ্রুত দেশ, ঈশ্বর তাদের পছন্দ করেন, পছন্দের বান্দাদের জন্যে তিনি খাস জায়গা রেখে দিয়েছিলেন। তাদের পয়গম্বররা সবাই ঈশ্বরের প্রতিনিধি, পয়গম্বররা জানতো ইহুদিদের ঘর একদিন না একদিন মিলবেই। কিন্তু এই বাজিকরদের কোনো দেশ তাদের জন্যে অপেক্ষা করে না, নিজেদের দেশ তাদের নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হবে।
—বেশ তো, নিবাস ঠিকানাহীন। তবে তাদের ধর্ম কী? কী জাত?
বাজিকর এবার লা-জওয়াব। নিজেদের ধর্ম যে কী, তা তাদের জানা নেই। প্রচলিত ধর্মগুলির কোনোটিকেই তারা সচেতনভাবে গ্রহণ করেনি, আবার ধর্মও তাদের রেহাই দিয়েছে, আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেনি। তারা ধার্মিক নয়, আবার এই কারণেই বকধার্মিক হওয়াও তাদের সাধ্যের বাইরে। এতে বাজিকর যে আরামে দিন কাটায় তা নয়, তার কাছে আল্লা ভগবান নামে এমন কোনো পাত্র নেই যার ভেতর তার বিবেচনা, অভিজ্ঞতা সব ঢেলে দিয়ে সে নিশ্চিত হতে পারে।
—তাহলে তার ভাষা কী?
এরকম একটি মূলোৎপাটিত গোষ্ঠীর ভাষার পরিচয় দেওয়া কি সোজা? তার যা আছে তাকে বড়োজোর বুলি বলা যায়। তার যেখানে রাত সেখানে কাত, তেমনি যেখানে যায়, কিছুদিন থাকতে থাকতেই সেখানকার বুলি সে জিভে তুলে নেয়। পায়ের মতো জিভও তার বড়ো পিচ্ছিল, কোনো জায়গার বুলিই তার মুখে ভাষা হওয়ার সময় পায় না, দেখতে না দেখতে বাজিকর চলে যায় অন্য কোথাও, সেখানে গিয়ে সে নতুন বুলি রপ্ত করে।
‘রহু চণ্ডালের হাড়’-এর এই গৃহহীন, ভূমিবঞ্চিত, ধর্মমুক্ত বাজিকর গোষ্ঠী একটি স্থায়ী ঠিকানার খোঁজে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর, এক শতাব্দী পেরিয়ে আরেক শতাব্দী জুড়ে এবং গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়, এক নদী পেরিয়ে অন্য নদীর তীরে, পাহাড় পাড়ি দিয়ে আরেক পাহাড়ের উপত্যকায় তাঁবু গাড়ে, জমি পেলে লাঙল চষে, মাঠের জানোয়ার পোষ মানায়, গৃহস্থের পশু হাতাতেও তাদের জুড়ি নেই, সেখানকার বুলি তুলে নেয় মুখে। কিন্তু আসন পেতে বসা তাদের কপালে নেই, অভিশপ্ত পূর্বপুরুষের পাপে (?) তারা ঠিকানাবিহীন মানুষ।

রহুর যে হাড় বাজিকররা হাতে তুলে নিয়েছিলো তারা তাই বাজিয়ে বাজিয়ে সবাইকে ডাক দিয়ে চলেছে। তাদের বহুকাল আগেকার দেশের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পবিত্র নদী ঘর্ঘরার উত্তাল ঢেউ এই বাজনার সঙ্গে সংঘাত করলেও এর আওয়াজ মিঠে নয়। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এবং পদ্মা, মেঘনা যমুনার মতো ঘর্ঘরাও বিশাল ও প্রাচীন সব তীরভূমি ভেঙে একাকার করে ফেলে। হাড়ের বাজনায় যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তাতে ভাঙনের নিশ্চিত আওয়াজ শোনা যায়।
রহু চণ্ডালের হাড়
অভিজিৎ সেন

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
অলংকরণ : শুভেন্দু সরকার

মুদ্রিত মূল্য : ২৯৫ টাকা

সুপ্রকাশ

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩...............................................সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময় ত...
30/12/2025

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় সুপ্রকাশ : ৫০৩...............................................
সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে পড়ার সময় তারাশঙ্কর থাকতেন এন্টালি অঞ্চলে। পরে কিছুদিন ছিলেন বউবাজারের একটি মেস-এ। এন্টালিতে বহু অ্যাংলো ইন্ডিয়ানের বসবাস। এই মেস বাড়িটির একটি পরিত্যক্ত ঘরে দুই অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান মহিলা বাস করতেন। নিম্নবিত্ত শ্রেণীর। খ্রিস্ট-ধর্মাবলম্বী ভারতীয় সম্প্রদায়কে তারাশঙ্কর যেটুকু দেখেছিলেন, সেখান থেকেই পরবর্তীকালে গড়ে তুলেছেন 'সপ্তপদী' (১৯৫৭) উপন্যাস।

১৯৩৩ সালে মনোহরপুকুর সেকেন্ড লেনে একটি পাকা-দেওয়াল টিনের-ছাউনির ঘর ভাড়া করেন তারাশঙ্কর। চিঠিপত্র থেকে জানা যায়, এই বাড়িটির ঠিকানা ছিল : পি-৬২৩, মনোহরপুকুর সেকেন্ড লেন, পো কালীঘাট। এখানে ঘরভাড়া পাঁচ টাকা। লাইট-চার্জ এক টাকা। চা-জলখাবার সাত-আট টাকা। খাবার খরচ আট টাকা। এই বাড়িতে কল-চৌবাচ্চা ছিল না. একটা টিনের গোল জালা কিনেছিলেন তিনি। ভোরবেলা কলে জল এলেই বালতি করে রাস্তার কল থেকে জল এনে জালাটা ভর্তি করে রাখতেন। তার আগেই ঘর পরিষ্কার, জল দিয়ে মোছা শেষ হতো। আসবাবপত্র কিছু ছিল না, একটা দেওয়ালের তাকে সামান্য জিনিস থাকত। মেঝের উপর শতরঞ্চি পেতে, সুটকেস টেনে, সেটিকেই রাইটিং ডেস্ক হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিছুদিন পর আলিপুর আদালতের কাছে পুরোনো আসবাবের দোকান থেকে একটা কুশন-মোড়া আধ-সোফা ও একটা ফোল্ডিং চেয়ার কিনেছিলেন। বিকেলবেলা ফোল্ডিং চেয়ারটা বের করে বাইরে গলি-রাস্তায় পেতে বসে আরাম করতেন। বিড়ি টানতেন। খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা ছিল আরও বিচিত্র। ওখান থেকে রাসবিহারী অ্যাভেনিউয়ের মোড়ে যেতেন চা খেতে। দুপুর এবং রাতের আহারের ব্যবস্থা প্রথম মাসটা করেছিলেন তাঁর দেশের কয়েকটি ছেলের সঙ্গে। মনোরঞ্জন সরকার, বাদল, সুধীর আরও দু- তিনজন ভাগ্যান্বেষণে মহানির্বাণ রোড, অশ্বিনী দত্ত রোড এবং মনোহরপুকুর সেকেণ্ড লেনের সংযোগস্থলে কয়লার ডিপো খুলেছিল, তার সঙ্গে ছিল দুধের ব্যবসা, মুদিখানা। ওদেরই সঙ্গে মাসখানেক খাওয়াদাওয়া করেছিলেন, তারপর পাইস হোটেলে।

সকালবেলা গৃহকর্ম সেরে লিখতে বসতেন। বেলা বারোটা নাগাদ স্নান সেরে লেখা হাতে বেরিয়ে যে- কোনো পাইস হোটেলে খেয়ে নিয়ে কাগজের অফিসে হাজির হতেন। বেলা আড়াইটে-তিনটে নাগাদ প্রথম দিকে 'বঙ্গশ্রী' অফিসে, পরে সজনীকান্ত দাসের 'শনিবারের চিঠি'-র অফিসে এসে খান দুই-তিন চেয়ার জুড়ে তার উপর আধ ঘন্টা-পয়তাল্লিশ মিনিট ঘুমিয়ে নিতেন। বিকেল পাঁচটা-ছটা পর্যন্ত আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরতেন। যেদিন ফিরতে রাত্রি হতো, সেদিন পথেই খাওয়া সেরে মেসে ফিরতেন।

তারাশঙ্কর এই মনোহরপুকুর সেকেন্ড লেনে ছিলেন প্রায় দেড় বছর।

তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শুরু এখানেই। এই সময়েই লিখেছেন-শ্মশান-বৈরাগ্য, মধুমাস্টার, ঘাসের ফুল, জলসাঘর, রায়বাড়ি, আখড়াইয়ের দীঘি, তারিণী মাঝি-র মতো অনেকগুলি শ্রেষ্ঠ বিশ্বমানের গল্প। 'নটু মোক্তারের সওয়াল' নামে একটি গল্প এই সময় লেখা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে 'দুই পুরুষ' নাটকে পূর্ণতা পায়। 'আগুন' উপন্যাসটিও এই ঘরে বসে লেখা। এইসব অসাধারণ মানের গল্পগুলির সঙ্গে বেশ কিছু চিঠিও এই ঘরে বসেই লেখা হয়েছিল। স্ত্রীকে লেখা এইসব চিঠি তারাশঙ্করের লেখকসত্তার উজ্জীবনের এক মূল্যবান দলিল।

এরপর তারাশঙ্কর উঠে যান বউবাজার স্ট্রীটের একটি মেসবাড়িতে। সেটা ১৯৩৫ সাল। বউবাজারের এই মেসটি ছিল একটি বিচিত্র স্থান। বাড়িটি ছিল কলেজ স্ট্রীট ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ-এর মধ্যে বউবাজার স্ট্রীটের উত্তর ফুটপাতের উপর। সামনেই একটি গীর্জা ছিল। উত্তর দিকে ফুটপাতের বাড়িটার ঠিক একটি বাড়ির পরেই ছিল 'ফিরিঙ্গি-কালীবাড়ি'। চিনেম্যান, দেশি ক্রীশ্চান, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, মুসলমান—নানান জাতি, ধর্ম ও ভাষা নিয়ে পাড়াটা। শুধু তাই নয়, বড়ো বড়ো বাইজিদের বাসা এখানে। যে বাড়িটায় তাদের মেস ছিল, সেই বাড়িতে এককালে ছিল বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক 'সারভেন্ট' পত্রিকার অফিস। সেকথা জানিয়েছিলেন পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়। একটা তিনতলা বাড়ি। উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। নিচের তলায় চামড়ার গুদাম। সামনেটায় ফার্নিচারের দোকান। একটা গলিপথে ঢুকে পুবমুখী দরজার উপরতলায় সিঁড়ি। এই সিঁড়িটা বাড়িটিকে দু-ভাগে বিভক্ত করেছে। সামনের ভাগে দোতলা ও তিনতলায় চারটি বড়ো বড়ো ঘরে পশ্চিমদেশীয়া বাইজিরা থাকে। উত্তরে আটখানা ঘরে চারটি মেস। এক-এক ঘরে দশ-বারোজন করে থাকে। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, বরিশাল, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম—সবজায়গারই লোক। তারাশঙ্কর যে মেসটায় থাকতেন, সেই মেসটা ছিল লাভপুরের নির্মলশিববাবুদের [নির্মলশিব বন্দ্যোপাধ্যায় (১২৯১- ১৩৫১)। ইনি তারাশঙ্করের জন্মস্থান লাভপুরে নাট্যালয় স্থাপন করেছিলেন। সেকালের সুপরিচিত নাট্য-ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 'রাতকানা', 'ভুলের খেলা', 'নবাবী আমল' ইত্যাদি নাটক ও নক্শা রচয়িতা। 'নাট্যবিদ্যাভারতী' ও 'কবিভূষণ' উপাধিপ্রাপ্ত—স.] ব্যবসায়-প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের মেস। কয়েক বছর পর অপবাদের বোঝা মাথায় নিয়ে ওই মেস ছেড়ে দিলেন তারাশঙ্কর।
তারাশঙ্করের মেস-জীবন : সময় আর জীবনের জ্যামিতি
স্বরূপ বোস
………………………….................................
মেস-হোস্টেল ঘটিত এ বাঙালি জীবন
সম্পাদনা : সুজন বন্দ্যোপাধ্যায়

মুদ্রিত মূল্য : ৬৫০ টাকা

সুপ্রকাশ

পোস্টে ব্যবহৃত ছবি ঋণ : বর্ষণা

কলকাতা বইমেলা ২০২৬-এ সুপ্রকাশের স্টল : ৫০৩বাঙালির রুচি-স্বাতন্ত্র্যবাঙালির মনন-সামর্থ্যসুপ্রকাশ
29/12/2025

কলকাতা বইমেলা ২০২৬-এ সুপ্রকাশের স্টল : ৫০৩

বাঙালির রুচি-স্বাতন্ত্র্য
বাঙালির মনন-সামর্থ্য

সুপ্রকাশ

তীব্র রাজনৈতিক অভিঘাতই যে গ্রাফিতি উৎসমুখ খুলে দেয় তার আরও এক বড়ো প্রমাণ পাওয়া যায় গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায়। এই গৃহযুদ্...
28/12/2025

তীব্র রাজনৈতিক অভিঘাতই যে গ্রাফিতি উৎসমুখ খুলে দেয় তার আরও এক বড়ো প্রমাণ পাওয়া যায় গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায়।

এই গৃহযুদ্ধের যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা, ঔচিত্য-অনৌচিত্য বিষয়ে তর্ক ও আলোচনা চলতেই পারে, কেননা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধও ছিল তথাকথিত ‘আরব বসন্ত’-এর অন্তর্গত। ২০১০ সাল থেকে পাকিয়ে ওঠা ‘আরব বসন্ত’ আরবীয় দেশগুলিতে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটায়, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলির পরোক্ষ সমর্থন ও প্রত্যক্ষ সক্রিয় সহযোগিতা এবং পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলির একতরফা প্রচারের মাধ্যমে ফেনিয়ে তোলা এই বসন্ত আরব দুনিয়ার দেশে দেশে একনায়কতন্ত্রী শাসন (যেমন : তিউনিসিয়ার শাসক জেন এল আবেদিন বেন আলি, মিশরের প্রেসিডেন্ট হোসনে মোবারক, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গদ্দাফি, ইয়েমেনর রাষ্ট্রপতি আলি আবদুল্লাহ সালেহ প্রমুখ শাসকেরা), ভয়াবহ বেকারি, অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও দারিদ্র্য, গণতান্ত্রিকতার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই সমস্ত প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত মরীচীকায় পরিণত হয়। পশ্চিমী পুঁজিবাদের প্রতিপত্তির সূচনা হয় আরব দুনিয়ায়। বিপ্লবের নামেও যে মানব-ইতিহাসের বিকল্প-বিপথ-যাত্রা ঘটতে পারে আরব বসন্ত তার উদাহরণ হয়ে থাকে। মূলত আরব বসন্তের হাওয়া গায়ে মেখে ২০১১ সালে সিরিয়াতেও শাসকদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিবাদ দেখা দেয়। এক দশকাধিকাল চলে আসা গৃহযুদ্ধে প্রচুর মানুষ নিহ ত হন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা লক্ষাধিক। আরব বসন্তের কারণে সমগ্র আরব দুনিয়ায় আহ ত ও নিহ তের সংখ্যা কতটা ভয়াবহরূপে বিপুল ছিল, সংখ্যাটা প্রায় পাঁচ লক্ষ বলে অনুমান করা হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই যু দ্ধ-হিং সায় মা .রা যান। চিকিৎসার অভাব, আশ্রয়ের বিনষ্টি, খাদ্যাভাবেও বহু মানুষের প্রাণহানি হয়।

এই বিপত্তিই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় গ্রাফিতির জন্ম দেয়। দিনে বিদ্রোহী যোদ্ধা এবং রাত্রে তরুণ দেয়ালশিল্পী আবু মালিক আল শামি সিরিয়ায় গ্রাফিতিকে নতুন মাত্রা দেন। একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের গায়ে তাঁর আঁকা করোটির স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেয়ালে অঙ্কনরত একটি ছোট্ট বালিকার চিত্রটি বিখ্যাত হয়। বালিকাটি একটিমাত্র শব্দ আঁকছিল―‘হোপ’। ছবিটিতে ব্যাঙ্কসির অঙ্কন-ঘরানার ছাপ স্পষ্ট। এই গ্রাফিতি আল শামিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। এবং তাঁকে ‘সিরিয়ার ব্যাঙ্কসি’ বলে সম্বোধন করা হতে থাকে। প্রায় দু-বছর ধরে সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসের ১০ কিলোমিটার দূরে দারাইয়া জুড়ে কয়েক ডজন গ্রাফিতি এঁকেছিলেন শামি। মাদার্স ডে উপলক্ষে শামি বেদনার্ত ব্যঙ্গে এঁকেছিলেন সন্তান কোলে বিপন্ন মায়ের ছবি―যাঁর মাথার ওপরে বোমারু বিমানের ওড়াউড়ি, পশ্চাদদৃশ্যে বোমাবিধ্বস্ত শহরের আভাস, আর হ্যাপি মাদার্স ডে-র বার্তা! অপর একটি গ্রাফিতিতে একটি বালিকা সশস্ত্র এক সৈন্যকে হৃদয়ের প্রতীক বা লাভ সাইনের অর্থ শিক্ষা দিচ্ছে। আরেকটি দেয়ালচিত্রে মেশিনগানে বুলেটের পরিবর্তে ফুল ব্যবহার করা হচ্ছে, আরবি অক্ষরে শামি লিখেছেন একটিমাত্র সংক্ষিপ্ত বাক্য―‘এই বছর আমরা ইদ উদযাপন করব কেমন করে?’ আবু মালিক সম্ভবত সেই দলের বিদ্রোহী সৈনিক যাঁরা আরব বসন্তের ডাকে প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর একটি গ্রাফিতি সিরিয়ার সংঘাতের পরিবর্তিত ক্রমপর্যায়কে চিহ্নিত করেছে―প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ (২০১১ / বেহালা বাদনরত এক স্থূলকায়া মহিলা), শাসকবাহিনীর প্রত্যাঘাত (২০১২ / রাইফেল নিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত রাষ্ট্রীয় সৈন্য), বিদ্রোহীদের সাফল্য (২০১৩ / স্টেনগানসহ মাথায় ফেট্টি-বাঁধা এক বিদ্রোহী তরুণ), অবশেষে বিদ্রোহের ফলশ্রুতিতে ইসলামিক রাষ্ট্রের উত্থান (২০১৪ / কালো আলখাল্লা পরিহিত ও অত্যাধুনিক রাইফেল নিয়ে মুখোশ পরিহিত ইসলামিক জে হাদি)।

সিরিয়ান ব্যাঙ্কসির ট্যাগ দিয়ে আমেরিকার ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’-র ঢঙে একটি নব্য-আরবীয় ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’-র সঙ্গে শিল্পীর বয়ান―‘স্বাধীনতা আজ আর মূর্তিমাত্র নন, তিনি রক্তে-মাংসে জীবন্ত।’
শুধু আবু মালিক আল-শামি নন, যুদ্ধবিধ্বস্ত, রাজনীতি-বিভ্রান্ত, আশাভঙ্গের বেদনায় অবনত সিরিয়ায় অনেক দেয়াল ও রাস্তার শিল্পী রাজধানী দামাস্কাস এবং আক্রান্ত শহরগুলির দেয়ালে, সিরিয়া-তুরস্কের বর্ডার ওয়ালে প্রচুর গ্রাফিতির জন্ম দিয়েছেন। এই শিল্পীদের মধ্যে তাম্মাম আজ়ম, আজ়িজ় আল এসমার (আসমার?), সালাম হামিদ, মুহম্মদ এনিস, ৩৩৬ আজ়িজ়, শেরিন আবু আগলে (?) বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। সিরিয়ান গ্রাফিতিতে স্বাধীন প্যালেস্টাইনের সমর্থনে গণনীয়-সংখ্যক গ্রাফিতির দেখা মেলে। গ্রাফিতির দেয়ালে লেখা থাকে কয়েক মিলিয়ন উদ্বাস্তুর বেদনার কথা (যাদের মধ্যে মাত্র ০.৩৮ ইউরোপে পুনর্বাসন পান), গ্রাফিতি শিল্পী স্বপ্ন দেখেন বড়ো শক্তিগুলি সযত্ন প্রযত্নে (অ স্ত্র দিয়ে, অর্থ দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে এবং হস্তক্ষেপ করে) উৎখাত করা বাশার আল-আসাদ আবার ফিরে আসছেন এবং উদ্বাস্তুরা আবার দেশে ফিরে স্বপ্রতিষ্ঠ হবার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু এসব কিছুই হয় না, এপ্রিল ফুলের মতো তা রসিকতায় পর্যবসিত হয়। সিরিয়ার গ্রাফিতি শিল্পীরা ফুটবলের জাদুকর ও আদ্যন্ত বামপন্থী আর্জেন্টিনার দিয়েগো মারাদোনাকে দেয়ালে দেয়ালে অন্তরের ও তুলির প্রাতিকৃতিক শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।"
.....................................................
আসছে...
কলকাতা বইমেলা অথবা বইমেলার আগেই...
দেয়ালের লেখা : এক অন্তহীন প্রকীর্ণ শিল্পকথা
অনন্ত জানা
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী

সুপ্রকাশ

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত কম্পোজিটরদের নিয়ে একমাত্র বইয়ের নতুন মুদ্রণ পাওয়া যাচ্ছে। ..................................প্র...
28/12/2025

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত কম্পোজিটরদের নিয়ে একমাত্র বইয়ের নতুন মুদ্রণ পাওয়া যাচ্ছে। ..................................

প্রেস, নিকট-অতীতের লেটার-প্রিন্টিংপ্রেস মানে কী? প্রেস মানে তো একটা পরিচিত সাদা-কালো ছবি!

মলিন ঘরে সস্তার কাঠের টেবিল, গুটিকতক চেয়ার, বেয়াড়া মাপের টুল অথবা নাতিদীর্ঘ বেঞ্চি—এই হলো সদর ; আর অন্দরে আধো-অন্ধকার-সমাকীর্ণ একটি-দুটি ঘরে কালিমাচিহ্নিত দেওয়াল, মলিন চেহারার কয়েকটি নাতি-উচ্চ কেস-র‌্যাক—যেখানে ঢুকিয়ে রাখা টাইপ-কেস, ঢালওয়ালা কিন্তু চালাহীন কম্পোজ স্ট্যান্ডের ওপরে ও স্ট্যান্ড ঘিরে রক্ষিত টাইপ-ভর্তি চৌকোণা খোপওয়ালা কেসগুলো। প্রেসের আয়তন ও সামর্থ্য-অনুযায়ী এমন টাইপ-স্ট্যান্ডের সংখ্যা, প্রত্যেকটি স্ট্যান্ডের সামনে কাঠের টুল।

লেটার-প্রিন্টিংপ্রেসের এক প্রতিনিধি স্থানীয় চিত্রের সঙ্গে সঙ্গে এই বই বিশেষভাবে ছাপাখানার সেই তাঁদের কথা, যাঁদের হাতের বিন্যস্ত অক্ষর সংকেতে-ইশারায়-ইঙ্গিতে মূর্ত সৌধ রচনা করে এসেছে দীর্ঘকাল। এই বই সেই ঘরের কাছের উপেক্ষার দ্বীপান্তে নির্বাসিত জগৎটির ছবিটিকে সময়ের কুয়াশাচ্ছন্ন অরক্ষিত সংগ্রহশালা থেকে পুনঃসংগ্রহের একটা প্রচেষ্টা বলা যায়। এই অপরিসর, আলো-বাতাসের কার্পণ্যে মুহ্যমান জগতের শ্রমসাধ্য-ভ্রাতৃত্বের গল্প প্রায় উপকথা হয়ে আলো ছড়ায়। সেই আলো দেশ-কাল-পরিস্থিতি-মহাদেশ পেরিয়ে ইতিহাসবিশ্বকে আলোকিত করে তোলে।

ছাপাখানার জগৎ, মুখ্যত কম্পোজিটর এবং মুদ্রণশিল্পের অন্যান্য মানুষজনের কথা নিয়ে লেখা এই গ্রন্থে একটি একান্নবর্তী পরিবারের যাপনবৃত্তকে অনুসরণ করা হয়েছে। পরিবারটিকে ছাপাখানাজীবী বলা যায়। সেই যাপনবৃত্তান্তের সূত্রটিই যেন বয়নকালে মেঝেতে গড়ানো উলের গোলার মতো পরিবেশ, পরিস্থিতি, ঘটনা, সফলতা, বেদনার ইতিহাসগন্ধী তাথ্যিক জগৎটিকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে এগিয়ে গিয়েছে কথনের ত্রিমাত্রিকতার দিকে। উপন্যাস, নিবন্ধ, সন্দর্ভ, অর্থনৈতিক বা সমাজনৈতিক আলোচনা, স্মৃতিগদ্য-পারিবারিক বর্ণনাপঞ্জী—এই রচনাকে কী নাম দেওয়া হবে তা স্থির করা সহজ নয়। লেখক নিজে দীর্ঘ কয়েক দশক পত্রিকা সম্পাদনা, গ্রন্থ প্রকাশনা ও গ্রন্থনির্মাণের কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে লেটারপ্রেসের জগৎটিকে তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখে এসেছেন—আনন্দলাভের সঙ্গে বঞ্চনার প্রহার সহ্য করে বেড়ে উঠেছেন বা ক্রমশই নেশাগ্রস্ত বেগার-খাটা মজুরের মতো সেই জগতের মধ্যে বিলীন হয়েছেন। কিন্তু সেই তিক্ততার ব্যক্তিগত বলয়টিকে অগ্রাহ্য করে এই গ্রন্থে সংগত-কারণেই লেটার প্রেস প্রায় গথিক-ঈশ্বরগৃহের মহিমা পায়। লাঞ্ছনার ইতিবৃত্ত, বয়স বা কাল—কোনোকিছুই সেই মহিমাকে ম্লান করতে পারেনি।
........................................
লেটারপ্রেসের কম্পোজিটর
এক বিষাদান্ত পরম্পরা

অনন্ত জানা........................................
অলংকরণ : সুলিপ্ত মণ্ডল
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী

মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা

সুপ্রকাশ

বড় শহর থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে জেগে থাকে যে আপাত আলোড়নহীন মফস্বল টাউনগুলো, তাদের মতোই একটা টাউন শহর দরদী। কিন্তু এই ...
28/12/2025

বড় শহর থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে জেগে থাকে যে আপাত আলোড়নহীন মফস্বল টাউনগুলো, তাদের মতোই একটা টাউন শহর দরদী। কিন্তু এই বাংলার বুকে বদলাতে থাকা রাজনীতির ছায়া পড়ে দ্রুত যেন বদলাতে থাকে সেই মফস্বলের পরিচিত চেহারা। লোভ, হিংস্রতা, আর কালো পিচের রাস্তায় ছিটকে পড়া রক্ত— এইসবের মধ্যে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে কোথাও একপশলা প্রেমও। আর এই জ্বলতে থাকার কথা উঠলেই যেন জ্যোৎস্না নিভে যায় ঝুপ করে কোথাও। নিভে যাওয়া জ্যোৎস্নার আলো মেখেও, সেখানে অপেক্ষায় থাকে কেউ একটা পলাশ গাছে ফুল ভরে আসার।

পলাশবাড়ি
শুভদীপ চক্রবর্ত্তী

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্ত্তী

সুপ্রকাশ প্রকাশিতব্য

অকূলের কাল। পর্ব ৪৫। লিখছেন অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামীসম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।
28/12/2025

অকূলের কাল। পর্ব ৪৫। লিখছেন অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

সার্কাসের ইতিকথা : প্রান্তজনের করতালি। পর্ব ১২। বরুণদেবসম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।
28/12/2025

সার্কাসের ইতিকথা : প্রান্তজনের করতালি। পর্ব ১২। বরুণদেব
সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল। কোলস্‌ওয়ার্দি গ্রান্ট। পর্ব ৯। অনুবাদে অর্ণব রায়সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।
28/12/2025

রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল। কোলস্‌ওয়ার্দি গ্রান্ট। পর্ব ৯। অনুবাদে অর্ণব রায়
সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ১২। শোভন সরকারসম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।
28/12/2025

কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ১২। শোভন সরকার
সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

Address

16, Radhanath Mallik Lane
Kolkata
700012

Opening Hours

Monday 12am - 8pm
Tuesday 12pm - 8pm
Wednesday 12pm - 8pm
Thursday 12pm - 8pm
Friday 12pm - 8pm
Saturday 12pm - 8pm

Telephone

+919477530440

Website

http://suprokashbooks.com/

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Suprokash posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Suprokash:

Share

Category