Suprokash

Suprokash বাংলা সাহিত্যের প্রকাশনা। সুপ্রকাশ আগামীতে হয়ে উঠতে চায় সার্বিক সাংস্কৃতিক উদ্যোগ।

বাংলা সাহিত্যের প্রকাশনা। আলোকবৃত্তের বিপ্রতীপে থাকা মানুষের আখ্যান, ধ্রুপদী কথাসাহিত্য, চিন্তাপ্রধান গদ্য এবং স্মৃতি জুড়ে থাকা মানুষের ইতিহাসের কথা বলাই সুপ্রকাশের স্বনির্বাচিত দায়।

পর্ণশ্রী আবাসনে জোড়া খুন। ঘটনাস্থল পাঁচ তলার সেই ফ্ল্যাট, একবছর আগে যেখানে এক যুবকের রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়। তদন্তে নাম...
14/09/2026

পর্ণশ্রী আবাসনে জোড়া খুন। ঘটনাস্থল পাঁচ তলার সেই ফ্ল্যাট, একবছর আগে যেখানে এক যুবকের রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়। তদন্তে নামেন পুলিশ অফিসার সূর্যশেখর সেনগুপ্ত। মৃত মানুষের অতীত, কর্পোরেট দুনিয়ার গোপন হিসেব, সম্পর্কের ভাঙন এবং মানুষের মনের অদ্ভুত নানান বাঁক। সব মিলিয়ে সত্যিটা ক্রমশ অধরা হয়ে ওঠে।
মানুষ কেন বদলে যায়, কতটা বদলাতে পারে, আর সেই বদলের দায় শেষ পর্যন্ত কার— এই প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে উপন্যাস জুড়ে।

নিভৃত কুহক
অলোক সান্যাল

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৩৭০ টাকা

সুপ্রকাশ

সুপ্রকাশ বইঘরে এ-সপ্তাহের নির্বাচিত বই। শনিবার অব্দি।প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত বই পরিবর্তন হবে।
14/09/2026

সুপ্রকাশ বইঘরে এ-সপ্তাহের নির্বাচিত বই। শনিবার অব্দি।

প্রতি সপ্তাহে নির্বাচিত বই পরিবর্তন হবে।

ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপ্রকাশের বইপত্রের খবরাখবর অনেকসময়ই আগ্রহী পাঠকের কাছে পৌঁছায় না। এ সমস্য...
13/09/2026

ফেসবুক এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপ্রকাশের বইপত্রের খবরাখবর অনেকসময়ই আগ্রহী পাঠকের কাছে পৌঁছায় না। এ সমস্যার সমাধানে এবার থেকে শুরু হয়েছে সুপ্রকাশের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল এবং গ্রুপ।

সুপ্রকাশ প্রকাশিত নতুন, পুরোনো বইপত্র সম্পর্কে খবরাখবর জানতে পাঠকেরা সাবস্ক্রাইব করতে পারেন সুপ্রকাশের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল। বইপত্রের যাবতীয় খবরাখবর এবং ছাড় সংক্রান্ত খবরের জন্য যোগ দিন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।

লিঙ্ক কমেন্টে।

নীল উৎপাদনের মরশুম যখন আসে, গোটা ফ্যাক্টরিটা আর তার সব মানুষজন যেন নতুন প্রাণ পেয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যদি কারখানা ছোটো হয়,...
13/09/2026

নীল উৎপাদনের মরশুম যখন আসে, গোটা ফ্যাক্টরিটা আর তার সব মানুষজন যেন নতুন প্রাণ পেয়ে জীবন্ত হয়ে ওঠে। যদি কারখানা ছোটো হয়, সেখানে অল্প পরিমাণ নীল উৎপাদন হয়, যেমন ধরা যাক কোনো কারখানায় যদি এক মরশুমে ২৫০ মণ বা ১৭ কুইন্টাল নীল উৎপাদন হয় তাহলে এই কাজটুকু করার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক আশেপাশের এলাকা থেকেই পাওয়া যায়। চাষীদের বিশেষ করে এই মরশুমের জন্য কাজে নেওয়া হয়। কিন্তু, যদি ফ্যাক্টরি বড়ো হয়, যেমন মূলনাথে, সেক্ষেত্রে অন্তত শ’খানেকের বেশি লোক পাশের জেলা থেকে ভাড়া করে আনতে হয়। বেশ কিছু আসে মেদিনীপুর জেলা থেকে। কিন্তু বেশিরভাগ শ্রমিকই হলো মানভূম বা সিংভূম জেলার জঙ্গুলে আদিবাসী। বাঁকুড়ার আশেপাশের অঞ্চলে তাদের জঙ্গল মেহার-ও বলা হয়। সাধারণভাবে এদের ভূনা বা ভূনওয়া কুলি বলা হয়।

এই গরিব মানুষগুলো সম্ভবত একশো কুড়ি মাইল দূর থেকে আসে, সামান্য মাইনেতে একটা কাজ পাবার জন্য। সে কাজের মেয়াদও আবার খুবই অল্প কয়েকটা দিন। এই লোকগুলি বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে অগ্রিম হিসেবে গোটা তিনেক টাকা পায় যাতে করে তাদের অবর্তমানে তাদের পরিবারগুলি খেয়ে পরে বেঁচে থাকে। এদের মিতব্যায়িতা এমনই যে যখন এরা মরশুম শেষে ফিরে যায়, তখন তারা এই কয়দিনে তারা যা রোজগার করেছে তার দশভাগের নয়ভাগই সঞ্চয় হিসেবে ফেরত নিয়ে যেতে পারে। এরা করে কী, এক টাকার মতন চাল কিনে নেয়। তাতেই তাদের এখানে থাকার সময়টা পার হয়ে যায়। আর যে মুহূর্তে তাদের সকালবেলার কাজটা শেষ হয়, তারা ছুট্টে চলে যায় কাছেপিঠে নদী খাল বিল যা পায় সেখানে। তারপর ছোটো হাতজাল হোক বা আগের চিঠিতে যে সমস্ত মাছ ধরার যন্ত্রপাতির কথা বললাম, সে সব হোক, যা হাতের কাছে পায় নিয়ে মাছ ধরতে লেগে পড়ে। ছোটো ছোটো মাছ যা পায় তা-ই ভাতের সঙ্গে রান্না করে খেয়ে ফেলে। ব্যাস হয়ে গেল। শুধু চালের দামটুকু দিয়েই তাদের সারাদিনের খাওয়াদাওয়া হয়ে গেল। এবারের বন্যাতে এদের বিশেষ করে সুবিধে হয়েছে। চারিদিকে জল আর জল। অজস্র ছোটো ছোটো জলের ধারা নদী থেকে নীচু জমিতে বয়ে এসেছে। ফলে সবসময়েই এদের দেখা যাচ্ছে হয় মাছ ধরছে না হয় স্নান করছে না হয় তাদের গরু-মোষ যা আছে তাদের জল খাওয়াচ্ছে। কুমিরের কামড়ের ভয় তাদের মোট্টে নেই। ভুনা কুলিদের একটা ব্যাপার হলো, তারা যে কাজে আসার সময় সঙ্গে করে শুধুমাত্র তাদের বৌ-বাচ্চাদের নিয়ে আসে তা নয়, নিজেদের জাতের লোকেদের নিয়ে রীতিমতো গ্রাম বসিয়ে ফেলে। যেমন এখন তারা মূলনাথে ফ্যাক্টরির আশেপাশের জমিতে করেছে। আর এই মুহূর্তে যদি তাদের গ্রামের দিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে, গ্রামের পুরুষদের মতো মেয়েরাও সমান ব্যস্ত। আর বাচ্চারা গম্ভীর ভাবে ধৈর্যের সঙ্গে জলের ধারে বসে আছে। তাদের হাতে একটা যেকোনও গাছের ডাল দিয়ে বানানো ছিপ, তাতে বাবলা কাঁটার বঁড়শি। এভাবে বসে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তারা এত মাছ ধরে ফেলে যে অল্প করে হলেও গোটা পরিবারের খাওয়া হয়ে যায়।
কোলস্ওয়ার্দি গ্রান্টের 'রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল'
অনুবাদ ও টীকা : অর্ণব রায়
প্রচ্ছদ : অজন্তা হাজরা
মুদ্রিত মূল্য : ৫৫০ টাকা
সুপ্রকাশ

বিলাস পা বাড়াল বোর্ডিং হাউসের দিকে। এই ছোট্ট ঘিলুর বয়সেই তার ভিতর দ্বন্দ্ব শুরু হল। বোর্ডিং হাউসের দিকে যেতে যেতেই তার ম...
13/09/2026

বিলাস পা বাড়াল বোর্ডিং হাউসের দিকে। এই ছোট্ট ঘিলুর বয়সেই তার ভিতর দ্বন্দ্ব শুরু হল। বোর্ডিং হাউসের দিকে যেতে যেতেই তার মনে হল, সে তো বিলাস। বিলাস সরকার। কোথা থেকে যে একটা জন এসে ওর ঘাড়ে বসল! সে মায়ের কাছে ভূতের গল্প শুনেছে অনেক। তার মনে হল জন একটা ভূত। তার ঘাড়ে চেপে বসেছে। জন নামটাকে সে মেনে নিতে পারছে না। কিন্তু সবাই ওকে জন বলে ডাকছে। আর জন ঘাড়ে চেপে বসতেই তার ভিতর কেমন রাগ রাগ অনুভূতি দেখা গেল। বিলাস ছিল নম্র, মৃদুভাষী। তার ভিতর ক্রোধ নামক রিপু কোনওদিন সেভাবে বাসা বাঁধেনি। কখনও সখনও অল্প স্বল্প রেগেছে ঠিকই, কিন্তু সে সাময়িক। কিন্তু এখন যেন ক্রোধ ওর ভিতর চোরাস্রোতের মতো ধীরে ধীরে প্রবাহিত হচ্ছে।

সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল পিতৃদেব অফিসঘরের সামনে বারান্দার রেলিংয়ে হাত রেখে তার দিকে তাকিয়ে আছেন। পাশে সেই সাদা ফাদার।

বিলাস প্রশ্ন করল সতীশকে, উনি কে?

—কে?

—ওই যে বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সাদা ফাদার।

হাসল সতীশ। বলল, উনি ফাদার অ্যান্টনি। আমরা বলি ফাদার আন্তন। উনি এখানে সবচেয়ে বড়ো। বড়ো ফাদার।

বিলাস কী বুঝল কে জানে। বলল, ও।

সতীশ বলল, তোমার জিনিসপত্র রেখে, তোমাকে নিয়ে ঘুরব। তোমার মা কিছু খাবার দিয়েছেন?

—না তো!

—কিছু দেননি? মুড়ি-চিড়ে।

—হ্যাঁ, ভুজি আছে, বিস্কুট আছে।

সতীশ জানে মুড়ির সঙ্গে ভাজা চিড়ে, বাদাম, ঝুরিভাজা মিলিয়ে দিলেই ভুজি হয়ে গেল। ওদের গ্রামে ওরা ভুজি বলে। সেও নিয়ে আসে বাড়ি থেকে। তার মা অবশ্য ছোলা ভাজাও মিশিয়ে দেন।

সতীশ বলল, ভুজি খেয়ে, আমরা ঘুরব। বই খাতা আছে? অঙ্ক বই? ইংরেজি বই?

—না তো।

—ঠিক আছে। সন্ধে হলেই স্টাডি। সকলকে পড়ার ঘরে যেতে হবে। তোমার কোন ক্লাস?

—ক্লাস থ্রি।

—আমি ক-টা অঙ্ক দেব, তুমি করবে। ঠিক আছে?

বিলাস ক্রমশ খাঁচার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। প্রথম দিনেই তার মনে হল, পিতৃদেব তাকে এক অচেনা বিরাট খাঁচার ভিতর রেখে দিয়ে চলে গেলেন। তার কেমন অভিমান হল। সেই অভিমান গলায় দানা বাঁধতে শুরু করল। মনে হল সে কেঁদে ফেলবে।
জনবিলাসের বারোমাস্যা
সমরেন্দ্র মণ্ডল

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা

সুপ্রকাশ

নির্মুখোশ ডট ইন-এ আজ থেকে শুরু হচ্ছে সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুবাদে নতুন ধারাবাহিক 'আমাজনের পথে'।......................
13/09/2026

নির্মুখোশ ডট ইন-এ আজ থেকে শুরু হচ্ছে সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুবাদে নতুন ধারাবাহিক 'আমাজনের পথে'।...........................
১৮৪৮ সালে আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেসকে সঙ্গে নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে অজানা আমাজনের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন তরুণ প্রকৃতিবিদ হেনরি ওয়াল্টার বেটস। সামনে তখন হাজার হাজার মাইলের নদী, দুর্ভেদ্য অরণ্য আর প্রায়-অজানা এক জীবজগৎ। যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল প্রকৃতির নমুনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, তা শেষ পর্যন্ত বেটসকে আমাজনে আটকে রাখে প্রায় এগারো বছর—তাঁর নিজের ভাষায়, জীবনের শ্রেষ্ঠ এগারোটি বছর।
‘দ্য ন্যাচারালিস্ট অন দ্য রিভার আমাজনস’ সেই দীর্ঘ অভিযানেরই কাহিনি। নদীপথে অজানা জনপদের দিকে এগিয়ে যাওয়া, আদিম অরণ্যে ঘুরে বেড়ানো, বিচিত্র পাখি-পতঙ্গ ও প্রাণীর মুখোমুখি হওয়া—তার পাশাপাশি রয়েছে আমাজনের মানুষ ও তাদের দৈনন্দিন জীবনের ছবি। প্রকৃতিবিদের অনুসন্ধিৎসা আর অভিযাত্রীর বিস্ময়—এই দুইয়ের মিশেলেই বইটি হয়ে উঠেছে ঊনবিংশ শতকের আমাজনকে আবিষ্কারের এক রোমাঞ্চকর আখ্যান।

আজ প্রথম পর্ব। সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

চলে যেতে যেতে আহাম্মকের ক-অক্ষর। পর্ব ১১। দুর্লভ সূত্রধরসম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।
13/09/2026

চলে যেতে যেতে আহাম্মকের ক-অক্ষর। পর্ব ১১। দুর্লভ সূত্রধর
সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৪৮। শোভন সরকারসম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।
13/09/2026

কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৪৮। শোভন সরকার
সম্পূর্ণ পড়ার লিঙ্ক কমেন্টে।

বেশ কিছু বছর ধরেই কিছু কিছু বইয়ের ক্ষেত্রে সুপ্রকাশ প্রকাশ করে চলেছে ভূমিকা-পুস্তিকা। পাঠকের সঙ্গে বইটির পরিচয়ের সেতু তৈ...
12/09/2026

বেশ কিছু বছর ধরেই কিছু কিছু বইয়ের ক্ষেত্রে সুপ্রকাশ প্রকাশ করে চলেছে ভূমিকা-পুস্তিকা।
পাঠকের সঙ্গে বইটির পরিচয়ের সেতু তৈরি করার উদ্যোগ এই পুস্তিকা প্রকাশ। প্রকাশ করা হয় পিডিএফ আকারে, ডাউনলোড করে পড়তে পারেন, যতখুশি বন্ধুদের সঙ্গে ভাগও করে নিতে পারেন।
বইটির অংশবিশেষ এমনভাবে পুস্তিকায় রাখা হয় যে, সেটুকু পাঠ করলেই পাঠক বইয়ের নির্যাস চেখে দেখতে পারেন। তাঁর পাঠরুচি অনুসারে বইটির সম্পূর্ণ-পাঠের জন্য তিনি আগ্রহী হবেন অথবা তাঁর ক্ষুধামান্দ্য ঘটবে।
কমেন্টবাক্সে লিঙ্ক দেওয়া থাকলো আমাদের প্রকাশিত সমস্ত ভূমিকা-পুস্তিকার। ধীরে ধীরে আমাদের অধিকাংশ বইয়েরই ভূমিকা-পুস্তিকা এখানে যোগ হতে থাকবে।

সুপ্রকাশ-এর 'স্মৃতির ইতিহাস, ইতিহাসের স্মৃতি গ্রন্থমালা'-র এখন অবধি প্রকাশিত বইপত্র। বিষয় বৈচিত্র্য ও প্রাসঙ্গিকতায় প্...
12/09/2026

সুপ্রকাশ-এর 'স্মৃতির ইতিহাস, ইতিহাসের স্মৃতি গ্রন্থমালা'-র এখন অবধি প্রকাশিত বইপত্র। বিষয় বৈচিত্র্য ও প্রাসঙ্গিকতায় প্রতিটি বই-ই নিজস্ব পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ। ............................................................
১. অকূলের কাল
অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী

১৯৬৮ থেকে ১৯৭৪— এক অস্থির অথচ স্বপ্নময় সময় জুড়ে এই পর্বের বিস্তৃতি। উল্লিখিত সময়টা ছিল ভীষণই 'বোকা'।
সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ বাঙালি শুধুমাত্র উচ্চআয়ের পেশায় স্থিত হওয়ার সংকল্পে প্রাণপাত করার কথা ভাবত না। তাদের চোখে আদর্শ ছিল; ছিল যূথসমাজের স্বপ্নকথা কিংবা প্রেমের জন্য অপরিকল্পিত মরণঝাঁপ।

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা

২. উড়নচণ্ডীর পাঁচালি
সমরেন্দ্র মণ্ডল

জীবন-নৌকা, ভবঘুরের মতো উড়নচণ্ডী জীবনকে এপার-ওপার করে, ঘাটে ঘাটে ভিড়িয়ে দেয়। আসলে, জীবনটাই তো জীবন-ছুট। এ জীবন মেলে তো, ও জীবন মেলে না। জীবনে জীবন যোগ করার কত কথাই তো শুনি। কিন্তু, সত্যি হয় কি? বোধহয় না। আর, হয় না বলেই চিরকাল উড়নচণ্ডী হয়ে ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়ালাম। ভেতরে সেই উড়নচণ্ডীই রয়ে গেলাম। ওড়াটাই যেন নেশা হয়ে গেল। জীবনের পড়ন্তবেলায় যখন হোঁচট খেয়ে দম নেবার ফুরসত মিলল, তখন ভেসে উঠল ছায়ামুখের ছবি।

প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল
মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ টাকা

৩. এক যে ছিল গ্রাম
অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী

এই বিশাল ভুবনের এক অন্ধকার কোণে এক অখ্যাত গ্রাম। অনেক দূরের এক নিঝুম মাঠে পড়ে থাকা তার খড়ো চালের পাঠশালা, পাঠশালার পণ্ডিত আর পড়ুয়া, পণ্ডিতের রুলবাড়ি কিংবা দিয়াশলাই, পড়ুয়াদের বইদপ্তর; গাঁয়ের ছোটখাটো সব মানুষ, চিতু ওনা লুড়কা লেউল জগা ওন্তা বুড়া মথুর বদনা সত্য পদি কালীমতি উরা, তাদের সঙ্গী ঘোড়া-কুকুর-ইঁদুর-সাপ; তার গাছ আর ফল, আম-জাম-তাল-মোল; তার দুগ্‌গা আর ভাদু পূজা, যাত্রাপালা, তার বকুল গাছের ছায়ায় রামমন্দিরের শীতল চাতাল; তার শিলাই নদীর দ’ আর খালের বাঁধ— এই সবকিছু নিয়েই ‘এক যে ছিল গ্রাম’।

প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা

৪. স্মৃতিভারে পড়ে আছি
সন্ধ্যা রায় সেনগুপ্ত

পূর্ব পাকিস্তানের এক তরুণী আর সেখান থেকে এপারে চলে আসা তার সহপাঠী বন্ধুর পরস্পরকে লেখা চিঠি এক সময় সারি বেঁধে সীমানার এপার ওপার করছিল। তারপর শুঁয়োপোকা প্রজাপতি হলো, পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হলো আর সেই চিঠিদের ভাষা থেকে বন্ধুতার খুনসুটি উবে গিয়ে তা অনুরাগের গাঢ় ছোপে রঞ্জিত হলো। ওপার থেকে এপারে এসে তরুণী ঘর বাঁধল সেই তরুণের সঙ্গে।
অর্ধ শতক পের হয়ে ফের যখন একলা হলেন সেই একদা-তরুণী, তখন সেই তরুণ বেলার চিঠির ঝাঁক হারিয়ে গেছে ব্যস্ত সংসারের গলিঘুঁজিতে। তিনি শেষবারের মতো চিঠি লিখতে বসলেন অন্য ভুবনে চলে যাওয়া তাঁর জীবনসঙ্গীকে। তাঁর কলমের কালিতে এখন বিগত সময়ের নির্যাস। তিনি জানেন পাশের শয্যা থেকে উঠে গেলেও তাঁর সঙ্গীর পরিত্রাণ নেই অগণিত পাঠকের বিষাদবৃক্ষ থেকে; তাদের সিদ্ধিগঞ্জের মোকামেই যে তিনি লিখে গেছেন তাঁর শেষ ঠিকানা।
এই গ্রন্থ প্রয়াত মিহির সেনগুপ্তকে লেখা, সন্ধ্যা রায় সেনগুপ্তের শেষ চিঠি যা তিনি তুলে দিতে চান মিহিরের মোকামের সব পাঠকের হাতে।

এই গ্রন্থে কেবলই দুটি হৃদয়ের কথা নেই, আছে সীমান্তপারের এক উপপ্লবের কথা, আছে এক অস্থির ও নিষ্ঠুর সময়ের বৃত্তান্ত; আর আছে এক দেশান্তরী পরিবারের কঠিন সংগ্রাম-সংকল্পের রাশিচিহ্ন। সর্বোপরি আছে পরিবারের সব মানুষকে একই ছাদের তলায় এনেও সময়ের প্রতিকূল স্রোতে ধরে না রাখতে পারার বেদনায় দীর্ণ এক মানুষের শেষের অসহায় দিনগুলির বিষাদকথা।

পুনর্বিন্যাস, সম্পাদনা : অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা

৫. চলার পথের চলনদার
মিহির সেনগুপ্ত

মিহির সেনগুপ্ত তাঁর সংস্কৃতিপথের চলনদারদের কথা শুনিয়েছেন এই বইতে। তাঁর চলনদারদের মধ্যে রয়েছেন অগ্রজ অভিজিৎ সেন, তপন রায়চৌধুরী, সমরেশ বসু, জ্যোতিভূষণ চাকী, রবীন্দ্রকুমার দাশগুপ্ত, শিবনারায়ণ রায়, অরুণ নাগ, দ্বিজেন শর্মা থেকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

পুনর্বিন্যাস, সম্পাদনা : অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৪৯০ টাকা

৬. হাফ প্যাডেলের কাল
অর্দ্ধেন্দুশেখর গোস্বামী

হাফ প্যাডেলে পা দিয়ে আকাশে ডানা মেলার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠছে চিত্তাকাশ, মননের গতি; বয়ঃসন্ধির অনুভব, হৃদয়ের আবেগ, যৌনতার স্ফুরণ। বালক থেকে কিশোর হওয়ার পথে জীবন যখন সমগ্রতায় ভরে উঠতে চায়, তখন তার সমান্তরালে উড়ে চলা এক কালো পাখির ভ্রুকুটি-করাল ছায়া। খণ্ড খণ্ড জীবনকে সমগ্রতায় জোড়ার বিভক্তি অনুসর্গগুলি প্রহেলিকা হয়ে থেকে যায় বালকের মনে।
ষাট বছর পিছিয়ে গিয়ে তাঁর বালক থেকে কিশোরবেলার ছয় বছরের স্মৃতিকে তুলে এনেছেন লেখক। ধরেছেন তার মন, তার চিন্তা, তার আবেগ, তার সরল সংস্কার। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে সেই সময়কে আলোড়িত করা দেশবিদেশের ঘটনা, সেইসব মানুষ, যাদেরকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছিল বালকের জীবন। সব মিলিয়ে এক টুকরো সামাজিক ইতিহাস।
বাংলা সাহিত্যে অকপট স্মৃতিকথা সংখ্যায় নগণ্য। সেখানে নিজের স্খলন-পতনের এমন অর্গলহীন, দুঃসাহসিক বিবরণ প্রকৃতই দুর্লভ।

প্রচ্ছদ : সুলিপ্ত মণ্ডল
অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত
মুদ্রিত মূল্য : ৪০০ টাকা

৭. আহাম্মকের খুদকুড়ো
দুর্লভ সূত্রধর

জীবন তুচ্ছ? সাধারণ? তাহলে এই এত আয়োজন চারপাশের? মেঘের পরে মেঘ, রোদ আর জলজ এই বাতাস? নাম না জানা পাখির ডাক? রূপেশ্বরী নদীর বয়ে চলা? কোথায় নিয়ে যায় আদতে সেই সব আমাদের?

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
অলংকরণ : দুর্লভ সূত্রধর
মুদ্রিত মূল্য : ৩২০ টাকা

৮. সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম
মিহির সেনগুপ্ত

বাংলা ভাষায় এ চিরকালীন আখ্যান একক ও অদ্বিতীয়। লেখকের স্মৃতিগদ্যে ধরা পড়েছে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পনেরো-বিশ বছর পরের বরিশাল। বর্ধিষ্ণু হিন্দুরা অনেক আগেই সীমান্ত পেরিয়ে 'হিন্দুস্তানে' চলে গেছেন। সমশ্রেণীর মুসলমানেরা নতুন সুযোগের সন্ধানে গেছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং আরও দূর দেশে-- দুবাই, সৌদি, মার্কিন মুলুকে। দুঃস্থ ব্রাত্যজন পড়ে আছেন। পরস্পরকে 'শ্যাখ' বা 'মালাউন' বলে সহর্ষ বিদ্রূপ করতে তাঁদের বাধে না, আবার তারাই চাঁদা তুলে দুর্গাপুজো করেন, পূজা প্যান্ডেলের চাল তৈরির জন্য টিন আসে মসজিদ থেকে। মালাউন দেওর 'হিন্দুস্তানে' চলে গেলে তার শ্যাখ বড়ভাই বাঁচবে না বলে মুসলমান ভাবী চোখের জল ফেলেন। খলিল ঠাহুর ভোগ রাঁধেন। সঙ্গে বলতে পারেন, "খাইতে হয় খাও, না খাও তো খালপাড়ে গিয়া সোগা মারাও।" উজাগর রাত্রে আসর বসে ছোমেদ মেঞার জারি গানের। এ স্মৃতিগদ্যে মিহির রেখে যান চিরকাল খেদানি খেয়ে ভাতের গ্রাস তোলা বাঙালির সত্য পরিচয়।

প্রচ্ছদ : তিস্তান
মুদ্রিত মূল্য : ৫০০ টাকা

৯. অভিমানভূম
শুভদীপ চক্রবর্তী

ঋতু বদলালে, বদলায় প্রকৃতিও। আর এক ঋতু থেকে অন্য ঋতুতে বয়ে যেতে যেতে, মরশুমি আরো কত মন ছুঁয়ে যায় আমাদের ভিতর। এই যাত্রাপথ নেহাৎই গন্তব্য ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া নয়। বরং তার উল্টোপিঠে দাঁড়িয়ে এই চলমানতা যেন একটা বসবাস। ‘অভিমানভূম পুরুলিয়ার মানুষদের গল্প।— সেই সব গল্পে নিজেদের মিশে যাওয়ার কথা। যাপন জুড়ে থাকা ধুলো, নদী, ফুল আর পাথরদের কথা। আর খুঁজে চলা তার ভিতরে ভিতরে অচেনা অজানা মিথ, ইতিহাস, ঐতিহ্য। নিজস্ব বলতে যেখানে শুধু বিস্ময় আর সবশেষে অনেকদিন পরে প্রিয় কাউকে ছেড়ে চলে আসার মতো, মনখারাপ একরাশ।

প্রচ্ছদ : সন্দীপ রায়
অলংকরণ : সুলিপ্ত মণ্ডল
মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা

১০. টাঁড় পাহাড়ের পদাবলি
মিহির সেনগুপ্ত

টাঁড় সেই স্থান, যেখানে শুধু ঝাঁটি, ঝাড়, জঙ্গল, খাঁ খাঁ ভূমি, পাথর এবং অসম্ভব গরিব মানুষজন। তারা ওই মালভূমির খাঁজে-খাঁজে টিলার গোড়ালিতে কিছু চাষ-আবাদ করে, অথবা আশপাশ অঞ্চলের খনিতে কয়লা, অভ্র, ম্যাঙ্গানিজ এইসব আকর তোলে। যারা এসব কাজে দড় নয়, অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া এবং গভীর অরণ্যবাসী গোষ্ঠী, তারা জংলি লতা, গাছের আঁশ— এইসব দিয়ে দড়ি বোনে, বনের কাঠ চুরি করে হাইরোডের ধারে সাজিয়ে বসে বিক্রি করার জন্য। এইসব রকমারি কাজ করে তারা।
সাতঘাটের জল খেয়ে, সাতসতেরো হ্যাপা সেরে এরকম এক স্থানে আমার স্থিতি। এখানে ভূমির চরিত্র বড়ো বিশৃঙ্খলার। এ-ভূমি টাঁড়, তো ও-ভূমি বহিয়ার। টাঁড়ে ভূমি বড়ো রুক্ষ, তথাপি বৃক্ষ সব বনস্পতি। নাবালের ভূমিতে জন্মকর্ম, ডাঙর হওয়া। সেখানে শস্য-শাববক, গাছপালা, বৃক্ষ লক্-লহমায় বাড়ে। তারা শ্যামলিমায় শ্যামল, কান্তিতে কান্ত। টাঁড়ে তা নয়। এখানে বৃক্ষ-বনস্পতির চরিত্র ভিন্ন। তাদের শরীরে কান্তভাব কম। কিন্তু তারাও কি ছায়া দেয় না? দেয়, তবে তফাৎ আছে। এই তফাৎটি প্রকৃতি এবং মানুষের এক নতুন অধ্যায় খুলে দেয় চোখের সামনে। রুক্ষ কঠোর আদিম এই সৌন্দর্য।

প্রচ্ছদ : শুভশ্রী দাস
অলংকরণ : পার্থপ্রতিম সরকার, আত্রেয়ী সাহা
মুদ্রিত মূল্য : ২৯০ টাকা

১১. ছায়াবৃতা
সুনীল সেনশর্মা

ষাটের দশকের অরুণাচল, সেদিনের অবগুণ্ঠনবতী নেফায় ভূতাত্ত্বিক হিসেবে লেখকের যাওয়া। হাতে দূরবীন, গলায় কম্পাস আর কাঁধের ঝুলিতে নানা কেজো জিনিস নিয়ে প্রতিদিনের অভিযানে শিলাস্তরের রহস্যমোচন যেমন হয়, তেমনি মনের গভীরে দাগ দিয়ে যায় গম্ভীর ধ্যানমগ্ন পাহাড়, প্রাচীন অরণ্য আর সানুদেশে পুঞ্জীভূত মেঘ। এ বই নিছক এক নবীন ভূতাত্ত্বিকের দিনপঞ্জী নয়, 'ছায়াবৃতা' নেফার ঘুম ভাঙার গল্প। রূপকথার রাজকন্যার মতো ঘুম ভেঙে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে নেফা। এ এক প্রেমের কাহিনী। এ প্রেমে মনের আনন্দে গান শুনিয়েছে জিয়া ভরেলী নদী, সাক্ষী হয়েছে শ্যামল পাহাড়ের সারি, আকাশছোঁয়া প্রাচীন গাছ।

প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা

১২. সময় ভ্রমণ
(দার্জিলিং : পাহাড়-সমতলের গল্পগাছা)
সৌমিত্র ঘোষ
দার্জিলিং পাহাড় এবং পাহাড়ের নিচের তরাই অঞ্চলের নিসর্গের খোঁজ করা হচ্ছে এই বইতে। খোঁজ বলতে অসংখ্য পুরোনো-নতুন বইপত্র ও দলিল-দস্তাবেজ, সেই সঙ্গে নানান রকমের ও নানান জনের স্মৃতিভান্ডার খুঁড়ে দেখা, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া। জায়গা বলতে নিছক স্থান নয়, সময়ও। ঔপনিবেশিক ও প্রাক-ঔপনিবেশিক সময়পর্ব থেকে দার্জিলিং পাহাড়ের ও সংলগ্ন সমতলের ইতিহাস ভূগোল সমাজ কীভাবে বদলেছে, এখনো বদলাচ্ছে, তার বিশদ সন্ধান নেওয়া, সে উদ্দেশ্যে এই সময়ে ওই সময়ে পাড়ি দেওয়া। পাড়ি দিতে দিতে যা এখন আছে, এবং যা নেই, থাকা না থাকার এই দ্বিবিধ জ্যামিতিকে প্ৰশ্ন করা। প্রশ্ন আমাদের দেখার, মুগ্ধতার, ভালো খারাপ লাগার ধরন নিয়েও। প্রকৃতি, নিসর্গ, নিসর্গ প্রকৃতি ইতিহাস ভূগোল সমাজ নিয়ে বিভিন্ন পাঠ ও দেখা, সময়ভ্রমণ বলতে আসলে এই সবের মধ্যে বেড়ানো, বেড়াতে বেড়াতে বেড়ানোর গল্প বলা এবং শোনা। দার্জিলিং নিয়ে প্রত্যেক আগ্রহীজনের অবশ্যপাঠ্য, অবশ্যশ্রাব্য। দার্জিলিংয়ের মানুষ, চা বাগান ও শ্রমের ইতিহাস এর আগে এত যত্ন করে কোথাও লেখা হয়নি।

অলংকরণ : অদ্বয় দত্ত, শুভশ্রী দাস
প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৫৬০ টাকা

১৩. এপার বড়ো মাঘমাস ওপার বড়ো কুয়া
মিহির সেনগুপ্ত

সর্বশেষ এখন যেখানে আছি সেটাকে বাড়ি বলি বটে, তবে তারও সেই মান্যতা নেই। আগেরগুলো সব ‘বাসা’। এখনকারটাকে বাড়ি বলি, একটা আকাঙ্ক্ষা পুনর্নির্মাণ করার জন্য। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। বাল্যকালীন, বহুল প্রচলিত একটা গল্পের কথা মনে পড়ে। বাঙালেরা বাসা এবং বাড়ি দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করে। বাসাতে, তাদের মতে পাখিরা থাকে। মানুষ থাকে বাড়িতে। পশ্চিমবাংলায়, বিশেষত কলকাতায় শব্দ দুটি সমার্থক। এক বাঙালকে জনৈক কলকাতাবাসী নাকি প্রশ্ন করেছিল—'আপনার বাসা কোথায়?’ সেই বাঙাল ছিল কুলীন বরিশালি বাঙাল, যারা কোনো কথা সোজাভাবে বোঝে না। সে ভাবল, কলকাইত্যা লোকটা নিশ্চয়ই তাকে তুচ্ছভাবে পাখি বলে ভেবেছে। আবার এও ভাবল, পাখি যখন ভেবেছে, নিশ্চয়ই খুব কদর্য পাখিই ভেবে থাকবে। সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই শকুন ভাবাই সম্ভব। এখন, বরিশালি জবানে 'শকুন' শব্দটির উচ্চারণ হচ্ছে ‘হহুন’। সুতরাং ‘বাসা কোথায়’— এই প্রশ্নের উত্তরে সে সরাসরি বলল, ‘হহুন তোর বাফে।’
বাড়ি শব্দটার ডিনোটেশন এবং কনোটেশন ব্যাপারটা স্থান, কাল, পাত্র ভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রকার। ব্যাপারটা ক্ষুদ্রতা এবং ব্যাপকতার। গ্রামীণ যৌথ গৃহস্থালিতে যারা কোনোদিন বসবাস করেছে, তারাই বাড়ি কথাটার ব্যাপকতা বোঝে। বাসা জিনিসটা শহুরে, ক্ষুদ্রতা। সেটা যেন অনেকটা গর্তের মতো। বাইরের জগতের সঙ্গে তার একাত্মতা বোধে আসে না। যখন কেওড়ার বাড়ি চিরকালের মতো ছেড়ে এসেছিলাম, মনে হয়েছিল দুহাতের স্নেহের আগল থেকে যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেলাম। ওরকম একটা হাহাকারি-অনুভূতি এ জীবনে আর পেলাম না। ছন্নছাড়া হওয়ার এই অনুভূতিটা জীবনে যেন চিরস্থায়ী হয়ে রইল।

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ২৭০ টাকা

১৪. ঝিঙাফুলের কলি
মিহির সেনগুপ্ত

মিহির সেনগুপ্তর দুই মোকাম— জন্মসূত্রে বরিশাল, কর্মসূত্রে ঝাড়খণ্ড। প্রাকৃতিক, জনজাতিক এবং বাচনিক ভেদে দুই মেরুতে অবস্থিত দুই ভূখণ্ড। খাল-সোঁতা, নদী-বিল অধ্যুষিত বরিশাল, টাঁড়-টিলা, পাহাড়-জঙ্গল অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ড। বরিশালের অপবর্গীয় প্রান্তিক জন— বাগদি-কাহার, নোমো-জোলা, পীর-ফকির মিহিরের যেমন আত্মজন, তেমনই তাঁর প্রাণের স্ফূর্তি ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী-জনজাতি— সাঁওতাল, মুন্ডারি, বিরহড়, কুর্মি, কীর্তনিয়া-ঝুমুরিয়াদের সংসর্গে। 'সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম ' যদি হয় তাঁর বরিশালীয় পরনকথা, মানভূমিজ পরনকথা অবশ্যই এই গ্রন্থ — ঝিঙাফুলের কলি।
দুই পর্বে বিন্যস্ত গ্রন্থটিতে একাধারে আছে দীনেশচন্দ্র সেন কথিত বৃহদ্‌বঙ্গের অর্থাৎ পূর্বতন বিহার রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ বা বর্তমানের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ধানবাদ এবং পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলাকে নিয়ে গড়ে ওঠা মিশ্রভাষী জনগণের মানভূমীয় সাংস্কৃতিক এবং নৃতাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ, অন্যধারে লেখকের এক ব্যক্তিগত আখ্যান।

প্রচ্ছদ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৪৪০ টাকা

১৫. বাঙালির শিকার স্মৃতি
সম্পাদনা : গৌরব বিশ্বাস

বাংলার জমিদার, মহারাজা বা উচ্চবিত্ত বাঙালি শিকারীরা, যখনই শিকার স্মৃতি লিখতে বসেছেন, অরণ্যের সৌন্দর্য থেকে কেউ কিন্তু মুখ ফিরিয়ে থাকেননি। অরণ্যমধ্যে পরিত্যক্ত বাসভূমি সূর্যকান্ত আচার্যর হৃদয় আর্দ্র করেছে। ময়ূরভঞ্জের বর্ষার রূপ মুগ্ধ করেছে অক্ষয়কুমার চট্টোপাধ্যায়কে। অরণ্যের রূপ-রস-গন্ধকে না চিনলে হয়ত শিকারী হওয়া যায় না। অথচ, বন্যপ্রাণ—যা, অরণ্যেরই অংশ স্বরূপ, তা নিধনের পর এদের বিজয়-উল্লাস বড় পীড়াদায়ক। এমন মনস্তাত্ত্বিক বৈপরীত্য সম্ভব! এ কি, শিক্ষিত তথাকথিত সংস্কৃতিবান বাঙালির চারিত্রিক দ্বিচারিতা?

এ স্মৃতি-মালা বিগত যুগের মুষ্টিমেয় বাঙালির শৌর্য, বীরত্বের গৌরবগাথার নাকি, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণ বিনাশের আঁধার ইতিহাসে বাঙালির লজ্জাজনক আখ্যান এবং একই সঙ্গে এক উৎকেন্দ্রিক দেশীয় অভিজাত শ্রেণীর স্বরূপ উন্মোচনের উপাদান, তা সমাজ-ইতিহাসে মনোযোগী পাঠক অনায়াসেই বুঝতে পারবেন।

প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সৌজন্য চক্রবর্তী
মুদ্রিত মূল্য : ৫৪০ টাকা

১৬. পূর্ববঙ্গের এক মৈথিল-গৃহবধূর আত্মকথা
অনুপমা ঝা

অনুপমা ঝা (১৯৩৫-২০১৬) জন্মেছিলেন ওপার বাংলায়। বিয়ে হয়েছিল পূর্ববঙ্গেরই এক মৈথিল পরিবারে। জীবনসায়াহ্নে এসে খানিকটা নিঃসঙ্গতা কাটানোর জন্যই পুরোনো দিনের কথা লিখেছিলেন। সেই এলোমেলা স্মৃতিকথনে দেশভাগের ভাগ্য-বিপর্যয়ের শিকার এক গৃহবধূর আশা-আকাঙক্ষা-বেদনার মধ্যে ধরা রয়েছে সেই সময়, মৈথিল সমাজের নানা লোকাচার এবং সেইসঙ্গে লিপিবদ্ধ হয়েছে ইতিহাসের এক অশ্রুতপর্ব।

সম্পাদনা ও সংকলন : উৎপল ঝা
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সুব্রত মাজী
মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা

১৭. বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা
কল্লোল লাহিড়ী

গত প্রজন্মের এক ছিন্নমূল পরিবার এপার বঙ্গে এসে মফস্বলে থিতু। এখানে ভাড়া বাড়ি আছে। পাড়া আছে। গঙ্গার ঘাট আছে। আছে হৃদয়ে কাঁটাতারের দাগ নিয়ে জীবনের উদযাপন।
আর? বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা।

প্রচ্ছদ-পরিকল্পনা ও অলংকরণ : মেখলা ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ-রূপায়ণ : শোভন সরকার
মুদ্রিত মূল্য : ৩৭০ টাকা

Address

16, Radhanath Mallik Lane
Kolkata
700012

Opening Hours

Monday 12am - 8pm
Tuesday 12pm - 8pm
Wednesday 12pm - 8pm
Thursday 12pm - 8pm
Friday 12pm - 8pm
Saturday 12pm - 8pm

Telephone

+919477530440

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Suprokash posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Suprokash:

Shortcuts

Share

Category