14/02/2026
এক মুহূর্তেই সব শেষ
সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল।
সেনাবাহী গাড়িটা এগোচ্ছিল চেনা রাস্তায়।
ভেতরে কেউ মায়ের কথা বলছিল,
কেউ স্ত্রীর শেষ ফোনটার কথা,
কেউ আবার ভাবছিল—
ছুটিতে বাড়ি গেলে ছেলেটাকে কী খেলনা এনে দেবে।
ঠিক তখনই—
একটা প্রচণ্ড শব্দ।
মাটি কেঁপে উঠল।
আকাশ ছিঁড়ে গেল যেন।
এক মুহূর্তের মধ্যে
আগুন, ধোঁয়া, চিৎকার—
আর তারপর… কিছুই না।
যেখানে কথা ছিল,
সেখানে নীরবতা।
যেখানে নিঃশ্বাস ছিল,
সেখানে শুধু ধোঁয়া আর পোড়া লোহার গন্ধ।
একটা বিস্ফোরণ
এক ঝটকায় কেড়ে নিল
এতগুলো প্রাণ।
খবরটা পৌঁছাতে সময় লাগেনি।
কিন্তু বিশ্বাস করতে সবার প্রাণ বেরিয়ে গেল।
এক মা দরজার সামনে বসে পড়ল।
হাতের থালাটা মাটিতে পড়ে ভেঙে গেল।
সে শুধু বলল—
“না… আমার ছেলেটা না…
ও তো আজ ফোন করবে বলেছিল…”
কিন্তু ফোন আর বাজেনি।
আরেক ঘরে
এক স্ত্রী হাউমাউ করে কাঁদছে।
চুল ছিঁড়ে ফেলছে,
বুক চাপড়ে চিৎকার করছে—
“আমায় নিয়ে যাও,
ওকে একা রেখো না!”
শিশুটা কিছু বুঝছে না।
সে শুধু দেখে
মা কাঁদছে,
ঘর ভেঙে পড়ছে,
আর বাবার জুতোটা দরজার পাশে পড়ে আছে—
যেটা আর কেউ পরবে না।
সে ঘুপিয়ে কাঁদে।
চুপচাপ।
কারণ ও জানে না
এই কান্নার নাম শোক।
একসাথে কতগুলো সংসার
পাশের ঘরের মতো
ভেঙে পড়ল।
যেন কেউ এক লাইনে দাঁড় করিয়ে
জীবনগুলো কেটে ফেলল।
মায়ের কোল খালি হলো।
স্ত্রীর সিঁথি শূন্য হলো।
সন্তানের মাথা থেকে
ছায়াটা সরে গেল।
দেশ বলবে—
“শহীদ।”
পতাকা চাপা দেবে দেহের ওপর।
কিন্তু যে মা রাতে ছেলের নাম ধরে ডাকবে,
যে স্ত্রী প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকবে,
যে শিশু বাবার গলা ভুলে যাবে ধীরে ধীরে—
তাদের কাছে
এই মৃত্যু কোনো শব্দ না,
কোনো খবর না।
এটা একটা চিরস্থায়ী শূন্যতা।
এক মুহূর্তের বিস্ফোরণ
আজীবনের কান্না হয়ে রয়ে গেল।
এইভাবেই
মৃত্যু ঢলে পড়েছিল তাদের ওপর।