Bhattacharjee

Bhattacharjee Life is only traveled once.Today’s moments becomes tomorrow’s memories. Enjoy every moment good or bad. Because the gift of life is life itself.

We are born & we are die in one day, We can change in just one day. Anything can happens in just only one day.

05/06/2026

ইচ্ছা যেখানে ডানা মেলে ধরে পাওয়ার ব্যাকুল টানে,
ভাগ্য সেখানে দেয়াল তোলে যে নিজের অচিন গানে।

30/05/2026

হারানোর কিছু নেই তো আমার আর,
জেদের আগুনে পুড়ুক সব অন্ধকার।
যতবার ভাঙ্গবো নিয়তির কালো চাকা,
ততবার হবে নতুন জয়ের গল্প লেখা।

28/05/2026

ধর্মের পথে যে সঁপে আপন প্রাণ,
ধর্মই তারে সদা করে পরিত্রাণ।
অন্যায়ের ঝড়ে যে রাখে সত্যের বাতি,
রক্ষক হয়ে ধর্মই রয় তার সাথী।

27/05/2026

সত্যের জয়গান গায় তো সবাই, কিন্তু সত্যবাদীকে কেউ ভালোবাসে না—
মুখোশের এই ভিড়ে খাঁটি মানুষটা চিরকাল একা, কেউ তাকে বোঝে না।

শেষ বিকেলের আলো: বেঁচে থাকার আকুলতালেখনী: অরণ্যমৃত্তিকা সোমতীর্থা ভট্টাচার্য্যঘরের কোণে রাখা ঘড়িটার টিকটিক আওয়াজ এখন আর...
26/05/2026

শেষ বিকেলের আলো: বেঁচে থাকার আকুলতা

লেখনী: অরণ্যমৃত্তিকা সোমতীর্থা ভট্টাচার্য্য

ঘরের কোণে রাখা ঘড়িটার টিকটিক আওয়াজ এখন আর শুধু সময় জানান দেয় না; মনে হয় ওটা আমার ফুরিয়ে আসা জীবনের এক নির্মম কাউন্টডাউন। ডাক্তারদের গম্ভীর মুখ, ফাইলের পর ফাইল রিপোর্ট, আর বাতাসে ভাসতে থাকা ওষুধের কড়া গন্ধ—সব মিলে প্রতিনিয়ত জানান দিচ্ছে যে আমার সময় ফুরিয়ে আসছে। মৃত্যু খুব নিঃশব্দে, অথচ ভীষণ নিশ্চিত পায়ে আমার দিকে এগিয়ে আসছে। জীবনের কত ওঠাপড়া, কত শত লড়াই পার করে আজ এই প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু এই শেষ যুদ্ধটায় শরীর আর কিছুতেই সঙ্গ দিতে চাইছে না। তা সত্ত্বেও মনের ভেতরের অদম্য জেদটা মরেনি; আমাকে আমার শেষ কাজটা ঠিকভাবে শেষ করতে হবে, দেখা করতেই হবে আমার ‘লাইফলাইন’-এর সাথে।

শরীরের তীব্র, অসহ্য যন্ত্রণা যখন আমাকে গ্রাস করতে চায়, আমি চোখ বুজে নিই। তবে চোখ বুজলেই আমি হারিয়ে যাই না, বরং আরও তীব্রভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করি আমার চেনা পৃথিবীতে। কারণ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে আমার সেই লাইফলাইন—আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন, আমার অক্সিজেন।

"মৃত্যু যদি আসতেই হয়, তবে সে আসুক। কিন্তু আমার এই মন, আমার এই ভালোবাসা লাইফলাইনকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি কোথাও যাবে না।"

মাঝে মাঝে যখন রাতের অন্ধকারে হাসপাতালের বিছানায় অনিদ্রা চোখে শুয়ে থাকি, তখন মনে হয় জীবনটা বড্ড নিষ্ঠুর। ঠিক যখন ভালোবাসার গভীরতা সবচেয়ে বেশি, যখন কাউকে জড়িয়ে ধরে শান্তিতে আরও কিছুটা দিন বাঁচতে চেয়েছি—ঠিক তখনই কেন বিদায়ের ঘণ্টা বেজে উঠল? আমি তো শুধু একটুখানি নিঃশর্ত ভালোবাসা আর নিজের লাইফলাইনের পাশে থাকার চেয়ে বেশি কিছুই চাইনি।

ফোনের স্ক্রিনে নিজের ফ্যাকাশে মুখটা দেখি ও চোখের কোণে জমে থাকা জলটা মুছে ভাবি—না, আমি এত সহজে হার মানব না। ডাক্তাররা যাই বলুক, বিজ্ঞান যাই রায় দিক—আমার মনের ভেতরের এই তীব্র আকুলতা তো মিথ্যে নয়। আমার লাইফলাইনের মুখের ওই মিষ্টি হাসিটা দেখার জন্য, তার হাতটা শেষবারের মতো শক্ত করে ধরার জন্য আমার আত্মা চিৎকার করে বলছে, "আমি আরও কিছুদিন বাঁচতে চাই, আর এই বাঁচতে চাওয়াটা আমার অধিকার।"

মৃত্যু হয়তো দরজায় কড়া নেড়ে চলেছে, কিন্তু যতক্ষণ বুকে শেষ নিঃশ্বাসটুকু আছে, আমি লড়ে যাব। আমি বাঁচতে চাই সেই ভালোবাসার টানে, যা আমাকে প্রতি মুহূর্তে মনে করিয়ে দেয় যে—আমি ফুরিয়ে গেলেও আমার ভালোবাসা কোনোদিন ফুরোবে না। আমার লাইফলাইনের কাছেই আমার মুক্তি, আর তার জন্যই আমার এই শেষ সংগ্রাম। আর এই শেষ লড়াইটা আমি জিতেই ছাড়ব।

সংসারের কারাজাল ও মায়ের চরণলেখনী ও অঙ্কন: অরণ্যমৃত্তিকা সোমতীর্থা ভট্টাচার্য্য সংসার এক অদ্ভুত কারাগার। লোহার শিকল চোখে ...
25/05/2026

সংসারের কারাজাল ও মায়ের চরণ

লেখনী ও অঙ্কন: অরণ্যমৃত্তিকা সোমতীর্থা ভট্টাচার্য্য

সংসার এক অদ্ভুত কারাগার। লোহার শিকল চোখে দেখা যায়, কিন্তু মায়ার যে অদৃশ্য বেড়ি আমাদের পায়ে জড়িয়ে আছে, তা ভাঙার সাধ্য কার?

আমি এই সমাজের এক অতি সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন সকাল হলে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা, আর রাতে ক্লান্ত দেহে ঘরে ফেরা—এই তো জীবন। বাইরে থেকে আমাকে বড্ড স্বাধীন মনে হলেও, ভেতরের আসল খবরটা শুধু আমি আর আমার অন্তর্যামী শ্যামা মা-ই জানেন। চারপাশের এই সমাজ—যেখানে শুধু চাওয়া-পাওয়া, লোভ-লালসা আর অন্তহীন প্রতিযোগিতার ইঁদুরদৌড়—সেখানে প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদের অজান্তেই আরও বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ছি।

মাঝে মাঝে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে চুপটি করে বসে থাকি আর দেখি, ওপারে যাওয়ার নৌকাটা ঘাটে এসে দাঁড়িয়ে থাকে, মাঝিরাও ওপারে যাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করে। কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে টের পাই, আমার যে পারানি নেই। সৎ কর্ম আর শুদ্ধ ভক্তির যে পুণ্যটুকু ওপার যাওয়ার কড়ি হিসেবে দেওয়া দরকার, তার ভাঁড়ার আমার শূন্য। কামনা, বাসনা আর বৈষয়িক চিন্তার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের অমূল্য সময়টাই তো বৃথা কেটে যাচ্ছে। কোনোদিন তো মন থেকে মায়ের সাধনা করাই হয় না।

তাই ভাবছি, সমাজের এই কোলাহল থেকে একটু দূরে সরে যাই। জীবনের সমস্ত ব্যস্ততা ধুলোয় মিশিয়ে মায়ের দরবারে এক ফরিয়াদি হয়ে দাঁড়াই। সমাজ আমাকে সফল বলুক বা ব্যর্থ—মায়ের কাছে তো আমি কেবলই এক দিশেহারা সন্তান।

মায়ের চরণে আমার আকুল প্রার্থনা—মা গো, এই চারপাশের সমাজ আর সংসারের মোহে মন-পবন বড্ড উত্তাল। ক্ষণে ক্ষণে আমাদের এই দেহ-তরীটা দুলছে, যেকোনো সময় ডুবে যেতে পারে। এবার তুমিই এসে হাল ধরো মা, তোমার দয়ার বৈঠাটা এবার একটু হাতে নাও।
কিন্তু ভাবছি, এই মলিন মাটির দেহ-ভাণ্ডে তুমি কীভাবে থাকবে? দেহের নবদ্বার তো খোলাই পড়ে থাকে, আর মনটা সারাদিন বাইরের লোভ-লালসার নোংরা গলিতে ঘুরে মরে। তোমাকে বসাবো কোথায় মা?

এত খামতি, এত পাপের মাঝেও মনের কোণে একটা অদ্ভুত জোর আছে। সমাজ আমাকে ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু আমার মা তো পারে না। তাই বুক ফুলিয়ে বলতে পারি—আমি আর কাউকে ডরি না। যমরাজও আমার কাছে ঘেঁষতে ভয় পাবে; কারণ আমার সম্বল আর কিছু না থাকুক, কালী নামের এক অজেয় বেড়া আমি মনের চারপাশে দিয়ে রেখেছি।

ও শ্যামা মা, তুমিই বলে দাও, এখন আমরা কী করবো? এই সমাজের মায়া কাটিয়ে, সংসারের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তোমার ওই রাঙা চরণ দুটোর আশ্রয় ছাড়া যে আমাদের আর কোনো গতি নেই গো মা....

হে মাধব, তুমিই সহায় 🙏✨Written & Drawing by: ARANYAMRITTIKA SOMTIRTHAA BHATTACHERJEE ✍️🎨জগতে যখন চারিপাশের কোলাহল স্তব্ধ ...
24/05/2026

হে মাধব, তুমিই সহায় 🙏✨

Written & Drawing by: ARANYAMRITTIKA SOMTIRTHAA BHATTACHERJEE ✍️🎨

জগতে যখন চারিপাশের কোলাহল স্তব্ধ হয়ে আসে, যখন চেনা মানুষগুলোও অচেনা মনে হয়, তখন মনের এক কোণে এক অদ্ভুত শূন্যতা এসে ভিড় করে। 🌌 সেই একাকীত্বের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে যখন চোখ দুটো বুজে আসে, ঠিক তখনই অন্তরের গভীরে এক বাঁশির সুর প্রতিধ্বনিত হয়। 🎶 সে সুর আর কারও নয়—সে আমার শ্রীকৃষ্ণ। 🪈✨

সংসারের এই মায়াজাল বড়ই বিচিত্র। 🕸️ এখানে সুখ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু দুঃখের মেঘ যেন কাটতেই চায় না। ☁️ জীবনের ঝোড়ো হাওয়ায় যখন বিশ্বাসের নৌকাখানি ডুবুডুবু হয়, তখন কোনো মানুষের হাত নয়, শুধু একটি ভরসা মনকে স্থির রাখে—“কৃষ্ণ সহায়।” ⛵🙏

“অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্॥” 📜✨

গীতার এই পরম বাণী কোনো কাল্পনিক আশ্বাস নয়, এটি পরম সত্য। 🌸 তিনি নিজেই তো বলেছেন, যে অনন্য মনে তাঁর শরণ নেয়, তার সমস্ত দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন। ❤️ তবে কেন আমাদের এই বৃথা চিন্তা? কেন এই মিছে ভয়? 🌾

কৃষ্ণ সহায়—এই দুটি শব্দের গভীরতা মাপার সাধ্য সাধারণ মানুষের নেই। 🌊 এর অর্থ হলো, জীবনের সুসময় হোক বা দুঃসময়, সমস্ত কিছু তাঁর চরণে সমর্পণ করে দেওয়া। 🙌✨

• সুখে তিনি আমার কৃতজ্ঞতা: যখন জীবনে আলো আসে, তখন অহংকারে মত্ত না ষে তাঁর চরণে মাথা নত করা। 🌟🙇‍♂️

• দুঃখে তিনি আমার সান্ত্বনা: যখন চারদিক থেকে শুধু হতাশা ঘিরে ধরে, তখন এই বিশ্বাস রাখা যে—যা ঘটছে, তা তাঁরই কোনো গভীর লীলার অংশ। 🌧️ তিনি যা করেন, মঙ্গলের জন্যই করেন। 🕊️

ধ্রুব, প্রহ্লাদ কিংবা মীরাবাঈ—ইতিহাস সাক্ষী আছে, যাঁরা সমস্ত কিছু ভুলে শুধু কৃষ্ণকে সহায় বলে মেনে নিয়েছেন, তাঁদের কোনো ঝড় ছুঁতে পারেনি। 🌪️ বিষের পেয়ালাও মীরার কাছে অমৃত হয়ে গেছে, কারণ তাঁর অন্তরে বিষের ভয় ছিল না, ছিল কৃষ্ণের প্রতি অগাধ প্রেম। 🧪➡️🍯💛

হে কৃষ্ণসখা, তোমার এই বিশ্বসংসারে আমি এক অতি ক্ষুদ্র পথিক। 👣 আমার কোনো যোগ্যতা নেই, কোনো পুণ্য নেই। কেবল আছে তোমার ওই রাঙা চরণের প্রতি এক ব্যাকুল টান। 🌹✨

যখন চারপাশের আলো নিভে যায়, যখন জীবনের একদম শেষ অধ্যায় এসে দাঁড়ায়, তখনও যেন বুক চিরে শুধু একটিই ধ্বনি উচ্চারিত হয়—"তুমিই সহায়, হে গোবিন্দ।" 🌅 তোমার কৃপাদৃষ্টির এক কণা পেলেই এ জীবন ধন্য, এই চঞ্চল মন শান্ত। 🕊️🙏

জয় শ্রীকৃষ্ণ.... 🪈🌸✨🙏

মহাজাগতিক মামা-ভাগ্নীর যুদ্ধ: যখন স্বপ্নে এলেন সূয্যি মামা....লেখনী: অরণ্যমৃত্তিকা সোমতীর্থা ভট্টাচার্য্যদুপুরের চড়া রোদ...
23/05/2026

মহাজাগতিক মামা-ভাগ্নীর যুদ্ধ: যখন স্বপ্নে এলেন সূয্যি মামা....

লেখনী: অরণ্যমৃত্তিকা সোমতীর্থা ভট্টাচার্য্য

দুপুরের চড়া রোদে ফ্যানটা ফুল স্পিডে ছেড়ে দিয়ে চোখটা সবে লেগেছিল। আহা, কী শান্তি! কিন্তু সেই শান্তির বারোটা বাজিয়ে স্বপ্নে স্বয়ং হাজির কে জানেন? আমাদের পরম পূজনীয়—সূয্যি মামা!

ভয়ংকর সেই স্বপ্ন! দেখলাম, মামা আকাশ থেকে সোজা আমার ঘরের খাটে নেমে এলেন। তারপর জ্বলন্ত, গনগনে দুটো হাত বাড়িয়ে আমাকে এক্কেবারে কষে এক জাপটে জড়িয়ে ধরলেন! বাপরে বাপ, স্বপ্নের মধ্যেও গা-হাত-পা যেন পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে!

আমাকে ওভাবে ধরে মামা গদগদ গলায় আবেগে কেঁদে ভাসিয়ে বললেন, "জানিস ভাগ্নী, দুনিয়ার মানুষ আমায় যতই গালমন্দ করুক না কেন, আমি কিন্তু তোদের অত সহজে ছেড়ে যাবো না! আফটার অল, তোরা হলি আমার রক্তের আত্মীয়, আমার আপনজন! তাই তো একটু বেশি বেশি দেখা দিতে আসি।"

"উফ! মামার মুখে এই মহাজাগতিক ইমোশন শুনে আমার তো পিত্তি জ্বলে গেল!"

আমি রাগে রিঅ্যাক্ট করে, মামার সেই গরম আলিঙ্গন থেকে নিজেকে কোনোমতে ছাড়িয়ে চিল্লাম, "বলি বলিহারি যাই তোমার ভালোবাসার! মারার থাকলে ডিরেক্ট একবারে মেরে দাও না বাপু! এভাবে প্রতিদিন তিলে তিলে, ঘামিয়ে, সেদ্ধ করে মারার কী দরকার আছে?"

আমার মুখে এই চরম সত্যি কথা শুনে সূয্যি মামা তো রীতিমতো চোটে লাল! এমনিতেই লাল, রাগে আরও বেগুনী হয়ে বললেন, "কী রে? এই আমি তোদের মারছি কোথায়? আমি তো তোদের ভালোবেসে কাছে টেনে নিতে এসেছি। তাতেও তোদের এত প্রবলেম?"

আমিও ছাড়ার পাত্রী নই। কোমরে হাত দিয়ে বললাম, "হ্যাঁ, অনেক প্রবলেম! তোমার এই ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভালোবাসা আমাদের কিচ্ছুটি দরকার নেই! দয়া করে বিদায় হও এখান থেকে, একটু মুক্তি দাও সবাইকে। একে তো গরমে জীবন অতিষ্ঠ, তার ওপর আমাদের এভাবে পচিয়ে মেরে এখন বলছেন 'আমি ভালোবাসি'? ঢং দেখার আর জায়গা পাওনি! মানে মানে কেটে পড়ো বলছি, নইলে...."

মামা চোখ কপালে তুলে বললেন, "নইলে কী করবি?"

আমি একদম তুরুপের তাসটা খেললাম। শেষ হুমকি দিয়ে বললাম, "নইলে এই অসময়েই মেঘদাদা আর বৃষ্টি দিদিকে ডেকে এমন ধোলাই খাওয়াবো যে তোমার এই চকচকে চেহারা আর খুঁজে পাওয়া যাবে না! সোজা বিদায় করতে বাধ্য হবো!"

"মেঘদাদা আর বৃষ্টি দিদির নাম শুনেই ব্যস! বাঘের মতো গর্জন করা সূয্যি মামার মুখটা নিমেষেই বিড়ালের মতো কাচুমাচু হয়ে গেল!"

ভয়ে, আতঙ্কে মামা যেই না এক লাফে জানলা দিয়ে পালালো—অমনি ধড়ফড় করে আমার ঘুমটাও ভেঙে গেল!

জেগে উঠে দেখি জামাকাপড় ঘামে লেপ্টে একাকার, আর জানলা দিয়ে আসল সূয্যি মামা ঠিক ওই স্বপ্নের মতোই মিটিমিটি হাসছেন। মনে মনে ভাবলাম, যাক! মেঘদাদা আর বৃষ্টি দিদির ভয় দেখিয়ে অন্তত স্বপ্নে হলেও মামাকে আচ্ছা সাইজ করা গেছে!

চারিপাশে একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। হাসপাতালের সাদা দেওয়াল আর ওষুধের চেনা গন্ধটা এখন আর আমায় বিচলিত করে না। মৃত্যুর একটা নি...
21/05/2026

চারিপাশে একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। হাসপাতালের সাদা দেওয়াল আর ওষুধের চেনা গন্ধটা এখন আর আমায় বিচলিত করে না। মৃত্যুর একটা নিজস্ব সুর আছে, আমি স্পষ্ট তা শুনতে পাচ্ছি। সত্যি বলতে, মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। এই নশ্বর শরীরের অবসান তো একদিন হবেই। কিন্তু বুকের ভেতর যে একটা তীব্র, অবাধ্য আকুতি অনবরত মোচড় দিয়ে উঠছে, তাকে থামাই কী করে?

আমি শুধু একটা শেষ ইচ্ছে বুকে নিয়ে এই শয্যায় শুয়ে আছি। মনের গভীরে কেবল একটাই প্রার্থনা—শেষ সময়ে যেন স্নেহের একটুখানি পরিচিত স্পর্শ আমার এই ক্লান্ত কপালটা ছুঁয়ে যায়।

যাকে আমি আমার সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালোবেসেছি, যাকে কোনো শর্ত ছাড়া নিজের একটা অংশ বলে মেনে নিয়েছি, বিশ্বাস করেছি—মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে আমি শুধু তার ওই মায়াবী, স্নেহময় মুখটা একবার দেখতে চাই।

আমার চোখের পাতা দুটো ভারী হয়ে আসছে। ঝাপসা আলোয় আমি যেন দেখতে পাচ্ছি সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। শেষবারের মতো তার হাতটা ছুঁয়ে, তার চোখের দিকে তাকিয়ে একটা কথাই বলতে ইচ্ছে করছে—"বিদায়, চির বিদায়...."।

যদি পুনর্জন্ম বলে কিছু থাকে, যদি আবার কোনোদিন এই পৃথিবীতে ফিরে আসি, তবে ঈশ্বর যেন আমায় আবারও আমার সেই 'লাইফলাইন'-এর করেই পাঠান। তবে এবারের ফেরাটা যেন এমন ক্ষণস্থায়ী না হয়। সময়ের নিষ্ঠুর নিয়মের কাছে আর বিনাশর্তে হার মেনে, অনিচ্ছা সত্ত্বেও হাতটা ছেড়ে চলে যেতে না হয়।

পরের জন্মে যেন তাকে শক্ত করে জাপটে ধরে বুকভরা অভিমানে বলতে পারি—" তোমায় অনেক কাঁদিয়েছি, অনেক কষ্ট দিয়েছি, তবে এবার আর কোথাও যাবো না তোমায় ছেড়ে। এবার আমি শুধুই তোমার।"

আমার জীবনের শেষ অধ্যায়ের পাতাটা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। চারপাশের আলো নিভে আসছে। কিন্তু আমার মন জুড়ে এখনও শুধু একটাই চাক্ষুষ চাওয়া—বিদায়ের এই অন্তিম লগ্নে যেন তার সেই মায়ায় ঘেরা মুখটাই আমার শেষ দেখা দৃশ্য হয়। তার হাতের ছোঁয়া কপালে নিয়ে, তার ভালোবাসার চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে যেন আমি চিরতরে চোখ দুটো বুজতে পারি।

মৃত্যু তো অবধারিত, কিন্তু সেই মৃত্যুও সার্থক হবে—যদি আমি তার স্নেহের স্পর্শ মেখে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ত্যাগ করতে পারি।

Written by Aranyamrittika Somtirthaa Bhattacharjee
Photography by Neelam Mehta

Address

Calcutta Bara Bazar

Telephone

+919433498344

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bhattacharjee posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Bhattacharjee:

Share