14/04/2026
সৌদি আরবের উত্তরের আরার অঞ্চলের কাছে লাউগা গুহা নেটওয়ার্কে চমকপ্রদ এক আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাদুড় ও পোকামাকড় খুঁজতে গিয়ে তারা এমন কিছু খুঁজে পান, যা সবাইকে বিস্মিত করে দেয়—৭টি মমি করা চিতা, যাদের দাঁত এখনো শুকনো ঠোঁটের বাইরে বেরিয়ে আছে।
এই গুহাগুলোর কিছু এতটাই দুর্গম যে সেখানে পৌঁছাতে ৫০ ফুট গভীর একটি গর্ত দিয়ে নিচে নামতে হয়। ওই ৭টি মমির পাশাপাশি আরও ৫৪টি চিতার কঙ্কাল এবং তাদের শিকারের হাড়ও পাওয়া গেছে।
রেডিওকার্বন পরীক্ষায় জানা গেছে, সবচেয়ে কম বয়সী চিতাটি প্রায় ১২৭ বছর আগে বেঁচে ছিল, আর সবচেয়ে পুরোনোটি ৪,২০০ বছরেরও বেশি আগে। এটি প্রথমবার, যখন বিজ্ঞানীরা প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাচীন বড় বিড়াল প্রজাতির ডিএনএ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, এই অঞ্চলে আগে এক নয়, দুই ধরনের চিতা বাস করত। সবচেয়ে নতুন চিতাটি এশীয় চিতার কাছাকাছি হলেও, পুরোনো দুটি নমুনা পশ্চিম আফ্রিকার চিতার সঙ্গে মিল পেয়েছে। বর্তমানে এশীয় চিতা খুবই বিরল—বনে মাত্র ৩০টিরও কম বেঁচে আছে। তাই এই নতুন তথ্য সংরক্ষণে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে যে, এই অঞ্চলে একসময় পশ্চিম আফ্রিকান চিতার জিনও ছিল। ফলে সংরক্ষণবিদরা এখন সেই প্রজাতির চিতা এনে এখানে পুনরায় বসবাস করানোর সম্ভাবনা দেখছেন।
সৌদি আরব ইতিমধ্যেই তাদের পরিবেশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনায় কাজ শুরু করেছে। তারা উটপাখি, আরবীয় ওরিক্স এবং পারস্যের অনাগারসহ বিভিন্ন প্রাণী আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গুহাগুলো যেন একসঙ্গে জাদুঘর, সমাধিস্থল এবং জিনগত তথ্যের ভাণ্ডার। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে চিতাদের আবার তাদের পুরোনো আবাসে ফিরিয়ে আনার পথ খুলে দিতে পারে।