23/08/2026
১৯৯৭-এর সেই ৪-১। স্মৃতিতে ভাইচুং ভুটিয়া, পিকে আর আজ, কয়েক দশক পর আবারও ৪-১। এবার হাবাসের কৌশল, এডমুন্ডের নেতৃত্বে লাল-হলুদ ঝড়। হেড-টু-হেডে এখনও এগিয়ে ইস্টবেঙ্গলl । ডুরান্ড কাপের ইতিহাসেও লাল-হলুদের গৌরব কম নয়—চ্যাম্পিয়নের মুকুটও উঠেছে তাদের মাথায়। কিন্তু কিছু জয় পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। আজকের ৪-১ তেমনই এক রাত যেখানে অতীত, ডুরান্ডের গৌরব এবং বর্তমানের দাপট একই গল্পে এসে মিশে গেল।
শেষবার ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ২০০৪ সালে, ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে। ২২ বছর পর সেই মোহনবাগানকেই ফাইনালে ৪-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধার করল ইস্টবেঙ্গল। এই ম্যাচের মূল নায়ক এডমুন্ড লালরিন্দিকা। দুরন্ত হ্যাটট্রিক করে কলকাতা ডার্বির মঞ্চে নিজের নাম ইতিহাসে লিখে ফেললেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আরও একটি গোল করেন বিপিন সিং। মোহনবাগানের একমাত্র গোলটি করেন মনবীর সিং।
ম্যাচের শুরুতে মোহনবাগান তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলছিল। পিছন থেকে পাস বাড়িয়ে বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করছিল তারা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণাত্মক ও সরাসরি ফুটবল শেষ পর্যন্ত বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। অভিজ্ঞ কোচ অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাসের পরিকল্পনায় দ্রুত ফরোয়ার্ড পাস এবং মোহনবাগানের রক্ষণভাগের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করে লাল-হলুদ।
১০ মিনিটেই বিপিন সিংয়ের গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। মাত্র দু’মিনিট পরেই এডমুন্ডের দুরন্ত লো-শট ইস্টবেঙ্গলের ব্যবধান বাড়িয়ে দেয় ২-০।
এরপর ২২ মিনিটের মাথায় এডমুন্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করেন। ড্যানি রামিরেজের পাস পেয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে গোলরক্ষক বিশাল কাইথকে কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। ফলে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে যায় ৩-০।
৩৩ মিনিটে মনবীর সিংয়ের গোলে মোহনবাগান ব্যবধান কমালেও ম্যাচে ফেরার মতো চাপ তৈরি করতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে, ৪৪ মিনিটে এডমুন্ড সম্পূর্ণ করেন নিজের হ্যাটট্রিক। জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় বিরতির আগেই।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে এডমুন্ড আরও একটি বিশেষ রেকর্ডের অংশ হয়ে গেলেন। স্বাধীনতার পর কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে হ্যাটট্রিক করা ভাইচুং ভুটিয়ার পর দ্বিতীয় ফুটবলার হলেন তিনি। বাইচুং ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের ৪-১ জয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। একদিকে লাল-হলুদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং, অন্যদিকে মোহনবাগানের দখল-নির্ভর কিন্তু ফলহীন ফুটবল—শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিল এই দুই কৌশলই।