28/08/2025
পশ্চিমবঙ্গে যে উন্নয়নের সরণি তৈরি হয়েছে, এই বাংলার নবযৌবনের দূত সেই পথের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আমাদের ছাত্র-যুবসমাজ বাংলার গর্ব, দেশের গর্ব, তারাই আগামী ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে সকলকে আমার জাতীয়তাবাদী এবং সংগ্রামী অভিনন্দন।
কুচক্রী বিজেপি বাংলাকে যেমন কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করে চলেছে, তেমনই এসআইআরের নামে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ক'রে - বাংলার পুণ্যভূমিতে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে। আমি কথা দিচ্ছি, কোনোরকম নৈরাজ্যবাদী শক্তিকে সংস্কৃতি সম্পন্ন এই বাংলায় অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেবো না। আমার ছাত্র-যুবরা যতদিন বুক চিতিয়ে লড়াই করবে, ততদিন কোনো বাংলা-বিরোধী, ভাষা-বিদ্বেষী, গণতন্ত্র-বিরোধী এই পুণ্যধরণীতে পা রাখতে পারবে না।
এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচনী লড়াই নয়, গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত। বাংলায় জোর করে এনআরসি ঢুকিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার নোংরা খেলায় নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই গণতন্ত্র-বিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব আমরা। আমি কথা দিচ্ছি, বাংলায় যতদিন মা-মাটি-মানুষের সরকার রয়েছে - ততদিন বাংলার একজনও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’ বলে অত্যাচার, নিপীড়ন করছে। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। ভারতের জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’ এই বাংলার ভূমিপুত্র বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমের উঠে এসেছে। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে’ ভারতের প্রথম নোবেলজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক তৎসম বাংলা ভাষায় রচিত। এই বাংলা স্বাধীনতা আন্দোলনের মহাতীর্থ। দেশের জন্য হাসতে হাসতে ফাঁসির মঞ্চে যে বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদ হয়েছেন; তিনি এই বাংলার ক্ষুদিরাম বসু।
তাই এই বাংলা-বিরোধী, ভাষা-বিদ্বেষী, ভারত-বিরোধী, গণতন্ত্র-বিরোধী বিজেপিকে আগামী নির্বাচনে বাংলার মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যোগ্য জবাব দেবেন, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
জয় বাংলা।