06/01/2026
হাসিমুখের আড়ালে যন্ত্রণা! আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে কী ঘটেছিল সংগীতশিল্পী দেবলীনা নন্দীর সঙ্গে?
News Bangla 24x7 Online নিজস্ব প্রতিবেদন:
সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বক্ষণ হাসিমুখ, গানের অনুষ্ঠানে ব্যস্ত জীবন—সব কিছুর আড়ালেই লুকিয়ে ছিল গভীর যন্ত্রণা। সেই মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের কাছেই নতিস্বীকার করে অবশেষে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দেবলিনা নন্দী। বর্তমানে তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং বিপন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন পরিবার।
দেবলিনার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে যোগাযোগ করা হয় তাঁর মায়ের সঙ্গে। কান্নায় ভেঙে পড়ে দেবলীনার মা একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ও স্বামী প্রবাহ-এর বিরুদ্ধে।
দেবলিনার মায়ের দাবি, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। তিনি বলেন,
“বিয়ের আগেই সব কথা পরিষ্কার করা হয়েছিল। আমার মেয়ে গান-বাজনার সঙ্গে যুক্ত থাকবে, আমিও ওর সঙ্গে থাকব—সব মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরেই বলা হয়, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা যাবে না।”
মায়ের অভিযোগ, দেবলীনা সবসময় দুই পরিবারকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চেয়েছিলেন। এমনকি শাশুড়ির মানসিক অবসাদের কথা ভেবে তাঁকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও নেন দেবলীনা। কিন্তু তাতেও অশান্তি কমেনি।
“ওরা বলত, ২৮ বছরের মেয়ের সঙ্গে সবসময় মা কেন যাবে? আমাকে নাকি ও ব্রেনওয়াশ করে।”
শুধু দেবলীনা নন, তাঁর মাকেও নানাভাবে অপমান করা হত বলে অভিযোগ।
“আমাকে অশিক্ষিত, কুৎসিত, মূর্খ বলা হয়েছে। ভিখিরির বাচ্চা বলেও অপমান করা হয়েছে,” — কাঁদতে কাঁদতে বলেন তিনি।
দেবলিনার মায়ের আরও দাবি, তাঁর মেয়েকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে, তবুও সংসার ভাঙবে ভেবে তিনি কখনও পুলিশে যাওয়ার কথা বলেননি।
“সমাজ কী বলবে, এই ভয়েই ও বেরিয়ে আসতে পারেনি। ইন্ডাস্ট্রির মেয়েরা খারাপ—এই বদনাম ও সহ্য করত।”
গত বছর ভাদ্র মাসে দেবলিনাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এমনকি পরে ‘সেপারেশন’-এর কথাও বলা হয়।
“তবুও আমরা কোনও অভিযোগ করিনি,” — জানান দেবলীনার মা।
অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়েও কোনও সাহায্য পাননি বলে দাবি পরিবারের।
“৫ ঘণ্টা থানায় বসে ছিলাম, অভিযোগ নেয়নি। উল্টে বলা হয়, দেবলিনার বিরুদ্ধেও কেস হতে পারে।”
বর্তমানে দেবলীনার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর মা।
“এরপর কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা ওর ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।”
এই ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত দেবলিনার স্বামী প্রবাহ বা তাঁর পরিবারের তরফে কোনও খোঁজ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।
বাংলা হ্যাশট্যাগ
#দেবলিনা_নন্দী
#শিল্পীর_যন্ত্রণা
#গার্হস্থ্য_হিংসা
#নারী_নির্যাতন
#মানসিক_স্বাস্থ্য
#এসএসকেএম
#বাংলা_সংবাদ
#সোশ্যাল_রিয়ালিটি
#ঘরোয়া_হিংসা
#ন্যায়বিচার