29/10/2021
কৃষক বিক্ষোভ সিরিজ― ১
"""""""""""""""""""""""""'''''''''''''''''''''''''''
কৃষক বিক্ষোভ : এক অভুতপূর্ব ঐক্যের উন্মেষ
নন্দন রায়
"""""""""""""""
বিজেপি সরকার দ্বারা প্রবর্তিত তিন কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে উত্তর ভারত জুড়ে চলমান কৃষক বিক্ষোভ হিন্দু ও মুসলমান ধর্মীয় সম্প্রদায় দুটির মধ্যে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের উন্মেষ ঘটাচ্ছে যা দীর্ঘ কয়েক দশকের পারস্পরিক বিদ্বেষের ঘটনাগুলিকে ইতিহাসে পরিণত করেছে। এর তাৎপর্য খুবই গভীর, কারণ ২০১৩ সালের মজফফর নগরের দাঙ্গা এমন এক গভীর ধর্মীয় মেরুকরণের জন্ম দিয়েছিলো যে তাকে সম্বল করে বিজেপি দেশ জুড়ে মুসলমান বিদ্বেষের হাওয়া তুলে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন তো করেই ছিল, উপরন্তু তারপরেও নোটবন্দির কারণে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভাতেও দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেয়েছিলো এবং এমনকি এই মেরুকরণকে দেশজোড়া এক স্থায়ী ঘটনায়(feature) পরিণত করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের ক্ষেত্রেও বিজেপিকে বিপুল ডিভিডেন্ড দিয়েছিলো। কৃষি আইন বিরোধী বর্তমানের এই চলমান বিক্ষোভ এই ‘স্থায়ী’ বৈশিষ্ট্যকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়ে বিজেপির হাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রটিকে কেড়ে নিয়েছে।
হিন্দু-মুসলমান মৈত্রীর এই বাতাবরণ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হরিয়াণা প্রভৃতি রাজ্যে সাম্প্রতিক অতীতের কলঙ্কময় ইতিহাসের থেকে এতটাই বিচ্ছেদ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে যে এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানেও স্থানীয় বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতির ওপরেও কৃষকেরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়াণায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনেও বিজেপি বহুক্ষেত্রে প্রার্থী করার মতো লোক খুঁজে পায়নি। কৃষি আন্দোলনের এই অপ্রতিহত প্রতাপ ভাঙার জন্য মরিয়া হয়ে লখিমপুর খেরীতে বিজেপির নেতা তথা গুন্ডাদের দ্বারা গাড়ির চাকার তলায় পিষে ফেলে কৃষক হত্যার নির্মম ঘটনার পর থেকে বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে বিজেপির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যা নিরসনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা গণ আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরূপ আন্দোলন যত অগ্রসর হয় ততই তা মানুষের মধ্যে একতার বন্ধনকে ক্রমশ শক্তিশালী করে তোলে। উপনিবেশবাদ বিরোধী গণসংগ্রামের পরতে পরতে তার অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে। যে দেশ হাজার বছর ধরে জাতপাতের বিভাজনের ভিত্তিতে সামাজিক অনৈক্যের এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণি নিপীড়নকে অমানুষিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, সেই দেশের অগণিত জনগণ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং এই ঐক্যের ভিত্তিতে এমন এক সংবিধান প্রণয়ন করেছিল যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলিকে, নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্ব সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রামের প্রভাব কীভাবে সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়, তার একটি অপূর্ব উদাহরণ দার্শনিক আকীল বিলগ্রামী আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন। ১৯২১ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক বিধান পরিষদে মহিলাদের ভোটাধিকার প্রদানের উদ্দেশে একটি বিল আনা হয়। মূলত মুসলমান সদস্যদের বিরোধিতার কারণে বিলটি পরাজিত হয়। কিন্তু খিলাফত আন্দোলন যখন ক্রমশ গতিলাভ করলো তখন মুসলমান সমাজের বহু সদস্য তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলো। অন্যদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বিধান পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসের মধ্যেই স্বরাজ পার্টি গঠন করলেন যাতে বহু মুসলমান যোগ দিলেন। এরপর ১৯২৫ সালে যখন স্বরাজ পার্টির উদ্যোগে আবার মহিলাদের ভোটাধিকার অর্পণের জন্যই কোন হুইপ ছাড়াই বিলটি অনুমোদন করলেন। বিলগ্রামী বলেছেন, গণ আন্দোলনে অংশগ্রহনের কারনণেই মুসলমান সমাজের সদস্যদের মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছিল। খিলাফত আন্দোলন চরিত্রে যদিও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছিল, এটি আদৌ কোনও প্রগতিশীল চরিত্রের ছিল না, এমনকি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নেও এই আন্দোলন পরিচালিত হয়নি। কিন্তু একই সঙ্গে এটি কোন বিভেদ সৃষ্টিকারী আন্দোলনও ছিল না। এই শেষোক্ত কারণেই সম্ভবত জনগণের দৃষ্টিভঙ্গির প্রগতিশীল রূপান্তর ঘটাতে এই আন্দোলন সক্ষম হয়েছিলো।
*দুই*
মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে না এরূপ আন্দোলনই একমাত্র ‘গণ’ চরিত্রের হতে পারে কারণ তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে এবং মানুষে মানুষে সৌভ্রাতৃত্ব ও একতার উন্মেষ ঘটায়। এরূপ আন্দোলন জনতার কোনো এক বিশেষ অংশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় বরং জনতার সব অংশকে এই আন্দোলনে সামিল হতে আহবান জানায়। বাবরি মসজিদের স্থলে রামমন্দির গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে আডবাণি যে রথযাত্রা করেছিল, কেউ কেউ তাকে দীর্ঘকালের মধ্যে বৃহত্তম ‘গণ আন্দোলন’ আখ্যায় ভূষিত করেন। কিন্তু এখানে ‘গণ’ যে বিভাজিত— ধর্মের পরিচয়ে গরিষ্ঠ মানুষকে অসহায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার যে আন্দোলন তা কিভাবে ‘গণ’ চরিত্রের হয়? আসলে এ হচ্ছে জনবিরোধী আন্দোলনকে গণআন্দোলন বলে অভিহিত করে জনদরদী গণআন্দোলনের সাথে একই পংক্তিতে বসিয়ে তার বিভেদকামী চরিত্রকে আড়াল করার অপচেষ্টা। যদিও ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের একটি শ্রেণি চরিত্রের পাশাপাশি একটি গণ চরিত্রও থাকে, যে গণ চরিত্র কাজে লাগে লগ্নী পুঁজির সবচেয়ে হিংস্র সবচেয়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ অংশের একনায়কত্বকে সমাজের চোখে বৈধতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। পক্ষান্তরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সমস্যা নিরসনের দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে গণ চরিত্রের হতেই হবে কারণ তা জনতার কোন বিশেষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়না, বরং আপামর জনসাধারণকে সে আহবান জানায় আন্দোলনে যোগদান করার জন্য যাতে রাষ্ট্রশক্তিকে বাধ্য করা যায় দাবি মেনে নিতে। ঐক্যমুখী এই আন্দোলন তাই পিছিয়ে পড়া আত্মমুখী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রগতিবাদী উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর জন্ম দেয়। আজকের চলমান কৃষক বিক্ষোভ এই পথেই ব্যাপ্ত হয়ে দুনিয়ার বৃহত্তম গণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
*তিন*
জাঠ-মুসলিম ঐক্য এই কৃষক আন্দোলনের একমাত্র উদ্ভাবিত মুল্যবান প্রাপ্তি নয়। আরও মুল্যবান প্রাপ্তি হচ্ছে এটাই যে এই আন্দোলনের চলমানতার মধ্য দিয়ে কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যেও একটি ঐক্যের ধারা ক্রমশ জায়মান হয়ে উঠেছে। এ ঘটনা অভূতপূর্ব, কারণ কৃষক, অর্থাৎ জমির মালিক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যে কেবল যে শ্রেণিদ্বন্দ্ব (নিয়োগকর্তা বনাম নিয়োজিত মজুর) আছে, শুধু তাই নয়, তাদের মধ্যে জাতপাতগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতও (জাঠ বনাম দলিত) রয়েছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত কখনো কখনো বা জ্বলে ওঠে, যেমন ঘটেছিলো দিল্লীর লাগোয়া কাঞ্ঝাওয়ালা এলাকায় যেখানে সিপিআই দলের দ্বারা সংগঠিত দলিত ক্ষেতমজুরদের সঙ্গে জমির মালিক জাঠ কৃষকদের সংঘাত চরমে ওঠে। একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দুই গোষ্ঠির মানুষ পরস্পরের কাছাকাছি আসছে, একই বিদ্রোহের ঝান্ডা একসাথে তুলে ধরছে কিছুদিন আগেও এমন দৃশ্য অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু তিন কৃষি আইনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রকে যখন একচেটিয়া পুঁজির আধিপত্যের গ্রাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তখনই এই দুই গোষ্ঠির মানুষ একসাথে এই সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে। এক সাধারণ উপলব্ধি উভয় গোষ্ঠির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এই আইন রূপায়িত হলে একদিকে যেমন কৃষক একচেটিয়া পুঁজির মর্জি মাফিক চুক্তি চাষের কাছে কার্যত বন্দি হয়ে অবশেষে জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে, অন্য দিকে ক্ষেতমজুররা কর্পোরেট স্বার্থে যন্ত্র চালিত কৃষির দাপটের মুখে কাজ হারাবে। এই উপলব্ধি উভয় গোষ্ঠিকে যুগ যুগ ধরে চলে আসা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে।
একইভাবে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে চোখে পড়ার মতো বিপুল সংখ্যায় মহিলাদের সক্রিয় উপস্থিতি ঐতিহ্যগত পিতৃতান্ত্রিক সমাজের আধিপত্যের অবসানও ঘোষণা করছে। গত প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর র্যালির প্রস্তুতি পর্বে খাপ পঞ্চায়েতগুলির ব্যবস্থাপনায় দলে দলে মেয়েদের ট্রাক্টর চালানো শেখানো হয়েছে। দেখেশুনে মনে হয় পাঞ্জাব-হরিয়ানা-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে পিতৃতান্ত্রিকতার নিগড় খসে খসে পড়ছে। বিক্ষোভে মেয়েদের এই অদম্য অংশগ্রহণের অন্যতম কারণ হচ্ছে গত তিরিশ বছরে যে অশোধযোগ্য ঋণের গ্লানি এবং দুখদুর্দশা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে লক্ষ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, যার ফলে তাদের পরিবারের মেয়েরা যে অভাবনীয় নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই ভয়াবহতার মুখোমুখি যাতে আর হতে না হয় সেইজন্য তারা মরিয়া হয়ে বিপুল সংখ্যায় কৃষি আন্দোলনের পতাকা তলে সমবেত হয়েছেন। এর ফলে একদিকে আন্দোলন যেমন পুষ্ট হয়েছে, অন্য দিকে তেমনই মেয়েদেরও দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে এবং গোটা সমাজের লিঙ্গ বৈষম্যের ওপরেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।
শুধু কৃষকের লড়াইয়ের মধ্যে এই সংগ্রাম আর সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম যখন কৃষকরা সিঙ্ঘু গাজীপুর প্রভৃতি দিল্লীর সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে অবস্থান শুরু করেছিলেন, সেই প্রথম দিন থেকেই আশেপাশের এলাকার কল-কারখানার শ্রমিকরা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সবরকম ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের সংগ্রামের প্রতিটি নতুন নতুন আহবানে শুধু সংহতি জানিয়ে কর্তব্য শেষ করেননি বরং তাতে সামিল হয়েছেন। এতদিন শ্রমিক ও কৃষকের যৌথ লড়াইয়ের যেসব প্রচেষ্টা গড়ে তোলার যেসব প্রয়াস ফলপ্রসু হয়নি আজ তা অনায়াসে ফলবতী হয়েছে দেখা যাচ্ছে। শুধু শ্রমিকরা নন, শত শত ছাত্র বাহিনী এবং বিবিধ পেশায় নিযুক্ত মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবিরা দলে দলে অবস্থানস্থলে জড়ো হয়ে এই প্রথম অন্নদাতাদের দুর্দশা সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত হয়েছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক ঐক্য প্রদর্শন করেছেন। এককথায় বিজেপি এবং তাদের বন্ধুবর্গ ছাড়া সমাজের আর সব অংশ এই আন্দোলনকে এতাবৎ কালের বৃহত্তম গণ আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে।
জনতার মধ্যে এই নতুন একতা বোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির এই প্রগতিবাদী ও ইতিবাচক পরিবর্তন যা নিয়ে আমরা এতক্ষণ আলোচনা করলাম সেসব সম্ভব হয়েছে কারণ চলমান কৃষক বিক্ষোভ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক বিষয়গুলিকে নিয়ে নয়াউদারবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জীবনপণ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এখনো পর্যন্ত পিছুহটার কোন লক্ষণ দেখাচ্ছে না। জনতার সব স্তরের সমর্থনে আন্দোলন যেমন পুষ্ট ও গভীর হয়েছে, তেমনি আন্দোলনও জনতাকে শত্রু-মিত্রের পার্থক্য স্পষ্ট ভাবে চিনিয়ে দিয়েছে। শাসকদল বিভাজনের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও এখনো সফল হতে পারেনি। সম্ভবত ঐক্যবদ্ধ সচেতনতার এক নতুন ইতিহাস রচনার সাক্ষী থাকছি আমরা।