Deshkal Vabna

Deshkal Vabna An economic political fortnight that goes with your time, with your soul ...

Editor - Ratan Khasnab

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় এই হেল্পলাইনগুলি চালু আছে
17/06/2024

কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় এই হেল্পলাইনগুলি চালু আছে

কৃষক বিক্ষোভ সিরিজ― ১"""""""""""""""""""""""""'''''''''''''''''''''''''''কৃষক বিক্ষোভ : এক অভুতপূর্ব ঐক্যের উন্মেষনন্দন ...
29/10/2021

কৃষক বিক্ষোভ সিরিজ― ১
"""""""""""""""""""""""""'''''''''''''''''''''''''''

কৃষক বিক্ষোভ : এক অভুতপূর্ব ঐক্যের উন্মেষ

নন্দন রায়
"""""""""""""""

বিজেপি সরকার দ্বারা প্রবর্তিত তিন কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে উত্তর ভারত জুড়ে চলমান কৃষক বিক্ষোভ হিন্দু ও মুসলমান ধর্মীয় সম্প্রদায় দুটির মধ্যে এক অভূতপূর্ব ঐক্যের উন্মেষ ঘটাচ্ছে যা দীর্ঘ কয়েক দশকের পারস্পরিক বিদ্বেষের ঘটনাগুলিকে ইতিহাসে পরিণত করেছে। এর তাৎপর্য খুবই গভীর, কারণ ২০১৩ সালের মজফফর নগরের দাঙ্গা এমন এক গভীর ধর্মীয় মেরুকরণের জন্ম দিয়েছিলো যে তাকে সম্বল করে বিজেপি দেশ জুড়ে মুসলমান বিদ্বেষের হাওয়া তুলে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গঠন তো করেই ছিল, উপরন্তু তারপরেও নোটবন্দির কারণে মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভাতেও দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা পেয়েছিলো এবং এমনকি এই মেরুকরণকে দেশজোড়া এক স্থায়ী ঘটনায়(feature) পরিণত করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের ক্ষেত্রেও বিজেপিকে বিপুল ডিভিডেন্ড দিয়েছিলো। কৃষি আইন বিরোধী বর্তমানের এই চলমান বিক্ষোভ এই ‘স্থায়ী’ বৈশিষ্ট্যকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়ে বিজেপির হাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রটিকে কেড়ে নিয়েছে।

হিন্দু-মুসলমান মৈত্রীর এই বাতাবরণ পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, হরিয়াণা প্রভৃতি রাজ্যে সাম্প্রতিক অতীতের কলঙ্কময় ইতিহাসের থেকে এতটাই বিচ্ছেদ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে যে এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানেও স্থানীয় বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতির ওপরেও কৃষকেরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। পাঞ্জাব ও হরিয়াণায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনেও বিজেপি বহুক্ষেত্রে প্রার্থী করার মতো লোক খুঁজে পায়নি। কৃষি আন্দোলনের এই অপ্রতিহত প্রতাপ ভাঙার জন্য মরিয়া হয়ে লখিমপুর খেরীতে বিজেপির নেতা তথা গুন্ডাদের দ্বারা গাড়ির চাকার তলায় পিষে ফেলে কৃষক হত্যার নির্মম ঘটনার পর থেকে বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে বিজেপির চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

মানুষের বাস্তব জীবনের সমস্যা নিরসনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা গণ আন্দোলনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এরূপ আন্দোলন যত অগ্রসর হয় ততই তা মানুষের মধ্যে একতার বন্ধনকে ক্রমশ শক্তিশালী করে তোলে। উপনিবেশবাদ বিরোধী গণসংগ্রামের পরতে পরতে তার অজস্র উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে। যে দেশ হাজার বছর ধরে জাতপাতের বিভাজনের ভিত্তিতে সামাজিক অনৈক্যের এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণি নিপীড়নকে অমানুষিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে, সেই দেশের অগণিত জনগণ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক অসাধারণ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল এবং এই ঐক্যের ভিত্তিতে এমন এক সংবিধান প্রণয়ন করেছিল যেখানে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলিকে, নাগরিকদের মধ্যে ঐক্য, সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্ব সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রামের প্রভাব কীভাবে সংগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়, তার একটি অপূর্ব উদাহরণ দার্শনিক আকীল বিলগ্রামী আমাদের সামনে উপস্থিত করেছেন। ১৯২১ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক বিধান পরিষদে মহিলাদের ভোটাধিকার প্রদানের উদ্দেশে একটি বিল আনা হয়। মূলত মুসলমান সদস্যদের বিরোধিতার কারণে বিলটি পরাজিত হয়। কিন্তু খিলাফত আন্দোলন যখন ক্রমশ গতিলাভ করলো তখন মুসলমান সমাজের বহু সদস্য তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলো। অন্যদিকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ বিধান পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে কংগ্রেসের মধ্যেই স্বরাজ পার্টি গঠন করলেন যাতে বহু মুসলমান যোগ দিলেন। এরপর ১৯২৫ সালে যখন স্বরাজ পার্টির উদ্যোগে আবার মহিলাদের ভোটাধিকার অর্পণের জন্যই কোন হুইপ ছাড়াই বিলটি অনুমোদন করলেন। বিলগ্রামী বলেছেন, গণ আন্দোলনে অংশগ্রহনের কারনণেই মুসলমান সমাজের সদস্যদের মধ্যযুগীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছিল। খিলাফত আন্দোলন চরিত্রে যদিও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছিল, এটি আদৌ কোনও প্রগতিশীল চরিত্রের ছিল না, এমনকি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নেও এই আন্দোলন পরিচালিত হয়নি। কিন্তু একই সঙ্গে এটি কোন বিভেদ সৃষ্টিকারী আন্দোলনও ছিল না। এই শেষোক্ত কারণেই সম্ভবত জনগণের দৃষ্টিভঙ্গির প্রগতিশীল রূপান্তর ঘটাতে এই আন্দোলন সক্ষম হয়েছিলো।

*দুই*

মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করে না এরূপ আন্দোলনই একমাত্র ‘গণ’ চরিত্রের হতে পারে কারণ তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শ্রদ্ধা করে এবং মানুষে মানুষে সৌভ্রাতৃত্ব ও একতার উন্মেষ ঘটায়। এরূপ আন্দোলন জনতার কোনো এক বিশেষ অংশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় বরং জনতার সব অংশকে এই আন্দোলনে সামিল হতে আহবান জানায়। বাবরি মসজিদের স্থলে রামমন্দির গড়ে তোলার আহবান জানিয়ে আডবাণি যে রথযাত্রা করেছিল, কেউ কেউ তাকে দীর্ঘকালের মধ্যে বৃহত্তম ‘গণ আন্দোলন’ আখ্যায় ভূষিত করেন। কিন্তু এখানে ‘গণ’ যে বিভাজিত— ধর্মের পরিচয়ে গরিষ্ঠ মানুষকে অসহায় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার যে আন্দোলন তা কিভাবে ‘গণ’ চরিত্রের হয়? আসলে এ হচ্ছে জনবিরোধী আন্দোলনকে গণআন্দোলন বলে অভিহিত করে জনদরদী গণআন্দোলনের সাথে একই পংক্তিতে বসিয়ে তার বিভেদকামী চরিত্রকে আড়াল করার অপচেষ্টা। যদিও ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের একটি শ্রেণি চরিত্রের পাশাপাশি একটি গণ চরিত্রও থাকে, যে গণ চরিত্র কাজে লাগে লগ্নী পুঁজির সবচেয়ে হিংস্র সবচেয়ে প্রতিহিংসা পরায়ণ অংশের একনায়কত্বকে সমাজের চোখে বৈধতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য। পক্ষান্তরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সমস্যা নিরসনের দাবীতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে গণ চরিত্রের হতেই হবে কারণ তা জনতার কোন বিশেষ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়না, বরং আপামর জনসাধারণকে সে আহবান জানায় আন্দোলনে যোগদান করার জন্য যাতে রাষ্ট্রশক্তিকে বাধ্য করা যায় দাবি মেনে নিতে। ঐক্যমুখী এই আন্দোলন তাই পিছিয়ে পড়া আত্মমুখী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রগতিবাদী উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর জন্ম দেয়। আজকের চলমান কৃষক বিক্ষোভ এই পথেই ব্যাপ্ত হয়ে দুনিয়ার বৃহত্তম গণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

*তিন*

জাঠ-মুসলিম ঐক্য এই কৃষক আন্দোলনের একমাত্র উদ্ভাবিত মুল্যবান প্রাপ্তি নয়। আরও মুল্যবান প্রাপ্তি হচ্ছে এটাই যে এই আন্দোলনের চলমানতার মধ্য দিয়ে কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যেও একটি ঐক্যের ধারা ক্রমশ জায়মান হয়ে উঠেছে। এ ঘটনা অভূতপূর্ব, কারণ কৃষক, অর্থাৎ জমির মালিক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যে কেবল যে শ্রেণিদ্বন্দ্ব (নিয়োগকর্তা বনাম নিয়োজিত মজুর) আছে, শুধু তাই নয়, তাদের মধ্যে জাতপাতগত দ্বন্দ্ব ও সংঘাতও (জাঠ বনাম দলিত) রয়েছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত কখনো কখনো বা জ্বলে ওঠে, যেমন ঘটেছিলো দিল্লীর লাগোয়া কাঞ্ঝাওয়ালা এলাকায় যেখানে সিপিআই দলের দ্বারা সংগঠিত দলিত ক্ষেতমজুরদের সঙ্গে জমির মালিক জাঠ কৃষকদের সংঘাত চরমে ওঠে। একটি আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই দুই গোষ্ঠির মানুষ পরস্পরের কাছাকাছি আসছে, একই বিদ্রোহের ঝান্ডা একসাথে তুলে ধরছে কিছুদিন আগেও এমন দৃশ্য অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু তিন কৃষি আইনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রকে যখন একচেটিয়া পুঁজির আধিপত্যের গ্রাসে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তখনই এই দুই গোষ্ঠির মানুষ একসাথে এই সাধারণ শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে। এক সাধারণ উপলব্ধি উভয় গোষ্ঠির কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে এই আইন রূপায়িত হলে একদিকে যেমন কৃষক একচেটিয়া পুঁজির মর্জি মাফিক চুক্তি চাষের কাছে কার্যত বন্দি হয়ে অবশেষে জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে, অন্য দিকে ক্ষেতমজুররা কর্পোরেট স্বার্থে যন্ত্র চালিত কৃষির দাপটের মুখে কাজ হারাবে। এই উপলব্ধি উভয় গোষ্ঠিকে যুগ যুগ ধরে চলে আসা দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করেছে।

একইভাবে কৃষি আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে চোখে পড়ার মতো বিপুল সংখ্যায় মহিলাদের সক্রিয় উপস্থিতি ঐতিহ্যগত পিতৃতান্ত্রিক সমাজের আধিপত্যের অবসানও ঘোষণা করছে। গত প্রজাতন্ত্র দিবসে ট্রাক্টর র‍্যালির প্রস্তুতি পর্বে খাপ পঞ্চায়েতগুলির ব্যবস্থাপনায় দলে দলে মেয়েদের ট্রাক্টর চালানো শেখানো হয়েছে। দেখেশুনে মনে হয় পাঞ্জাব-হরিয়ানা-পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চলে পিতৃতান্ত্রিকতার নিগড় খসে খসে পড়ছে। বিক্ষোভে মেয়েদের এই অদম্য অংশগ্রহণের অন্যতম কারণ হচ্ছে গত তিরিশ বছরে যে অশোধযোগ্য ঋণের গ্লানি এবং দুখদুর্দশা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে লক্ষ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, যার ফলে তাদের পরিবারের মেয়েরা যে অভাবনীয় নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়েছেন, সেই ভয়াবহতার মুখোমুখি যাতে আর হতে না হয় সেইজন্য তারা মরিয়া হয়ে বিপুল সংখ্যায় কৃষি আন্দোলনের পতাকা তলে সমবেত হয়েছেন। এর ফলে একদিকে আন্দোলন যেমন পুষ্ট হয়েছে, অন্য দিকে তেমনই মেয়েদেরও দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে এবং গোটা সমাজের লিঙ্গ বৈষম্যের ওপরেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে।

শুধু কৃষকের লড়াইয়ের মধ্যে এই সংগ্রাম আর সীমাবদ্ধ নেই। প্রথম যখন কৃষকরা সিঙ্ঘু গাজীপুর প্রভৃতি দিল্লীর সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে অবস্থান শুরু করেছিলেন, সেই প্রথম দিন থেকেই আশেপাশের এলাকার কল-কারখানার শ্রমিকরা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সবরকম ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, কৃষকদের সংগ্রামের প্রতিটি নতুন নতুন আহবানে শুধু সংহতি জানিয়ে কর্তব্য শেষ করেননি বরং তাতে সামিল হয়েছেন। এতদিন শ্রমিক ও কৃষকের যৌথ লড়াইয়ের যেসব প্রচেষ্টা গড়ে তোলার যেসব প্রয়াস ফলপ্রসু হয়নি আজ তা অনায়াসে ফলবতী হয়েছে দেখা যাচ্ছে। শুধু শ্রমিকরা নন, শত শত ছাত্র বাহিনী এবং বিবিধ পেশায় নিযুক্ত মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিজীবিরা দলে দলে অবস্থানস্থলে জড়ো হয়ে এই প্রথম অন্নদাতাদের দুর্দশা সম্পর্কে সম্যকভাবে অবগত হয়েছেন এবং দৃষ্টান্তমূলক ঐক্য প্রদর্শন করেছেন। এককথায় বিজেপি এবং তাদের বন্ধুবর্গ ছাড়া সমাজের আর সব অংশ এই আন্দোলনকে এতাবৎ কালের বৃহত্তম গণ আন্দোলনে রূপান্তরিত করেছে।

জনতার মধ্যে এই নতুন একতা বোধ এবং দৃষ্টিভঙ্গির এই প্রগতিবাদী ও ইতিবাচক পরিবর্তন যা নিয়ে আমরা এতক্ষণ আলোচনা করলাম সেসব সম্ভব হয়েছে কারণ চলমান কৃষক বিক্ষোভ মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক বিষয়গুলিকে নিয়ে নয়াউদারবাদী সরকারের বিরুদ্ধে জীবনপণ সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এখনো পর্যন্ত পিছুহটার কোন লক্ষণ দেখাচ্ছে না। জনতার সব স্তরের সমর্থনে আন্দোলন যেমন পুষ্ট ও গভীর হয়েছে, তেমনি আন্দোলনও জনতাকে শত্রু-মিত্রের পার্থক্য স্পষ্ট ভাবে চিনিয়ে দিয়েছে। শাসকদল বিভাজনের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও এখনো সফল হতে পারেনি। সম্ভবত ঐক্যবদ্ধ সচেতনতার এক নতুন ইতিহাস রচনার সাক্ষী থাকছি আমরা।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""নন্দন রায়।। তৃতীয় অংশ ।।অনুসন্ধিৎসু পা...
25/07/2021

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
নন্দন রায়

।। তৃতীয় অংশ ।।

অনুসন্ধিৎসু পাঠক লক্ষ্য করেছেন ওপরের আলোচনায় দুধরণের জাতীয়তাবাদের কথা বলা হয়েছে— এক, আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও বিজেপির আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ। জাতি, রাষ্ট্র ও জাতীয়তাবাদের ধারণাগুলির প্রথম উদ্ভব ইওরোপে ১৬৪৮ সালে westphalian চুক্তির পরে। একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে প্রধাণত এবং প্রায় সম ভাষা, সম ধর্ম এবং সম জাতি(race)ভুক্ত জনসমষ্টিকে নিয়ে জাতিরাষ্ট্র(nation state) গড়ে ওঠে। তৎসহ গড়ে ওঠে জাতীয়তাবাদের ধারণাটি। এই জাতীয়তাবাদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে—

১। সর্বত্রই এই জাতীয়তাবাদ দেশের অভ্যন্তরে একটি শত্রু ‘আবিষ্কারের’ চেষ্টা করে, যেমন প্রধানত প্রটেস্টান্ট ধর্মাবলম্বী উত্তর ইওরোপীয় দেশগুলিতে আভ্যন্তরীণ শত্রু হল ক্যাথলিকরা, প্রধানত ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী দক্ষিণ ইওরোপীয় দেশগুলিতে প্রটেস্টান্টরা এবং সর্বত্র ইহুদিরা;

২। এই জাতীয়তাবাদ তার উদ্ভবের শুরু থেকেই সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্খাসম্পন্ন(empire) অর্থে, তখনো মার্ক্সবাদী অর্থে সাম্রাজ্যবাদ ইতিহাসে আবির্ভুত হয়নি)। ১৬৪৯ সালে অলিভার ক্রমওয়েল দ্বারা বিজিত আয়ার্ল্যান্ডই হল প্রথম কলোনী;

৩। এই জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্র তথা জাতির স্থান নির্দিষ্ট করলো নাগরিকদের ওপরে, নাগরিকদের প্রথম কর্তব্য হল রাষ্ট্রের সেবা করা, রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্নহীন আনুগত্য প্রদর্শন করা এবং তার সম্পদ বৃদ্ধি করা। সংক্ষেপে জাতির শ্রেষ্ঠত্ব বিভিন্ন মতবাদের বুর্জোয়াদের সাধারণ মতাদর্শ।

এই জাতীয়তাবাদের চরমতম রূপ হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। ১৯৩০ দশকের সেই ফ্যাসিবাদ এক মহাযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গোটা দুনিয়াটা ধংস করতে উদ্যোগী হয়েছিল এবং নিজেরাই সেই যুদ্ধের আগুনে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যতদিন পৃথিবীতে পুঁজিবাদ এবং তার বর্তমান রূপ নয়া উদারবাদ থাকবে ততোদিন ফ্যাসিবাদের বিপদও থেকে যাবে। এদেশে বিজেপি ধর্মীয় মোড়কে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হয়েছে।

১৯৩০এর ধ্রুপদী ফ্যাসিবাদের যে মূল বৈশিষ্ট্যগুলি ছিল আজও তা প্রাসঙ্গিক এবং বিজেপির মধ্যে সেই গুলি বর্তমান। তবে এটা হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর ফ্যাসিবাদ। তাই ১৯৩০এর চশমা দিয়ে ধ্রুপদী ফ্যাসিবাদের অবিকল প্রতিরূপ বিজেপির মধ্যে খুঁজলে ভুল হবে। এই ভ্রান্তির জন্য অনেক বামপন্থীরা বিজেপিকে ফ্যাসিবাদী দল বলতে দ্বিধা বোধ করেন। বিজেপিকে নয়া ফ্যাসিবাদ, আধা ফ্যাসিবাদ যা-ই নাম দেওয়া হোক না কেন, এটা আদতে ফ্যাসিবাদ-ই।

এর বিপরীতে রয়েছে ঔপনিবেশিক বিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ভারতীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এক নতুন ধরণের জাতীয়তাবাদ। বৃটিশ-পূর্ব ভারতে জাতি চেতনা অথবা জাতীয়বাদের কোন সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না। কিন্তু দেশের দিকে দিকে আঞ্চলিক ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক জাতীয়তার (অথবা অধিজাতীয়তার) চেতনা আগে থেকেই জায়মান ছিল। ইতিহাসে তার অসংখ্য প্রমান ছড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু ভারতজোড়া এই জাতীয়তাবাদী চেতনা সমাজের ওপরের স্তরে উপনিবেশবাদ বিরোধী লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছিল। তাঁরা বুঝেছিলেন যে দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে এই ভূখন্ডের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষকে সমবেত করতে হবে। তাই ১৯৩০ সাল থেকে শুরু করে একদিকে উপনিবেশবাদ বিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অন্যদিকে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য আম্বেদকার, পেরিয়ার প্রভৃতির সংগ্রাম এবং বামপন্থীদের শ্রমিক ও কৃষকদের শ্রেণীসংগ্রাম পরিস্থিতির দাবীতে নিচের দিকে এক অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে তুলেছিল যার ফলে স্বাধীনতার সংগ্রামে সারাদেশ উদ্বেল হয়ে উঠেছিল এবং স্বাধীনতা লাভ সম্ভব হয়েছিল। প্রথমোক্ত জাতীয়তাবাদকে ওপর থেকে নিচের দিকে নামানোর একটা ক্ষীণ চেষ্টা ছিল বটে, কিন্তু সাধারণ মানুষ সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পরেই কেবলমাত্র গতি পেল। তবু এটা প্রকৃতপক্ষে ‘ওপর থেকে জাতীয়তাবাদ’—nationalism from above।

যেহেতু জাতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে, তাই এই জাতীয়তাবাদকে অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হয়েছে, ইওরোপীয় জাতীয়তাবাদের মতো আভ্যন্তরীণ শত্রু খোঁজার মতো সে বর্জনমূলক হতে পারেনা। দ্বিতীয়ত, এই জাতীয়তাবাদ জাতি অথবা রাষ্ট্রকে নাগরিকদের ওপরে স্থান দিয়ে তাকে অনাবশ্যকরূপে মহিমান্বিত করতে পারে না, নাগরিকের প্রতি তার কোন দাবী নেই, বরং নাগরিকরা সমষ্টিগত ভাবে সংবিধান সভার মাধ্যমে একটি সংবিধান রচনা করে রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে এই অনুজ্ঞায় যে রাষ্ট্র নাগরিকদের সব রকম সমানাধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিপীড়ণ ও অসাম্য থেকে মুক্তি দেবে এবং নাগরিকদের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্ব সুনিশ্চিত করবে। এটাই হচ্ছে ভারতীয় রাষ্ট্রের সংগে ভারতীয় নাগরিকদের ‘সামাজিক চুক্তি’(Social Contract)।

ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে জন্মলগ্ন থেকেই বহুবিধ শত্রুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে দেখা দিয়েছে ট্রাডিশনাল হিন্দু সমাজ যে সমাজ জাতপাতের নিপীড়ণ ও অসাম্যের ওপরে দাঁড়িয়ে। দ্বিতীয় শত্রু পুঁজিবাদ। পুঁজিবাদ যেহেতু চরিত্রগত ভাবেই এক অসম ব্যবস্থা, তাই সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের ভিত্তিতে গঠিত এক জাতীয় ব্যবস্থার সাথে পুঁজিবাদ খাপ খায় না। দেশের জাতীয়তাবাদী ভিত্তিটি যেহেতু দুর্বল, তাই তাকে ক্রমশ পিছু হঠতে হল। হিন্দুত্ববাদ ও পুঁজিবাদের সবচেয়ে বড়ো পৃষ্ঠপোষক যেহেতু বিজেপি এবং নয়া উদারবাদী জমানায় যা আরও পত্রপুষ্পে বিকশিত হয়ে উঠেছে, সেই শক্তিটি যখন কেন্দ্রীয় শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল তখন থেকে উপনিবেশবাদ বিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ভারতীয় বৈশিষ্ট্যের জাতীয়তাবাদ রূপান্তরিত হয়েছে ইওরোপীয় বৈশিষ্ট্যের বর্জনমূলক এবং আগ্রাসী জাতীয়তাবাদে।

এটা সম্ভব হয়েছে জাতিবাদ ভিত্তিক হিন্দু কায়েমী স্বার্থের সংগে একাধারে পুঁজিবাদ ও সামন্তবাদী স্বার্থের অশুভ মিলন ও তাদের সমবেত নিরলস অন্তর্ঘাতের ফলে এবং সদ্য গড়ে ওঠা নতুন জাতীয়তাবাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর দুর্বলতার দরুণ।

এতো বড় একটা দেশে, যেখানে ছ’টি প্রধান ধর্ম, তিনটি প্রধান নৃ-গোষ্ঠী, ২২২টি ভাষা এবং কয়েক হাজার জাতের(caste/sub caste) মানুষ বাস করে সেখানে জাতীয়তাবাদী চেতনাকে বহুত্ববাদী হতে হবে যাতে সকলে বৈশিষ্ট্যসহ সহাবস্থান করতে পারে। এটা সম্ভব যদি সেই জাতীয়তাবাদ অন্তর্ভুক্তিমূলক, সৌভ্রাতৃত্ব ও সমানাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সাথে আগে থেকেই গড়ে ওঠা আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক পরিচিতি বা অধিজাতীয়তাবাদী চেতনার কোন সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ থাকে না। কিন্তু যদি হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী জাতীয়তাবাদ গোটা দেশে উপরে কথিত বহুত্ববাদকে ঘুচিয়ে দিয়ে uniformity চাপানোর চেষ্টা করে তবে সংঘাতের সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে আমরা সেটাই প্রত্যক্ষ করেছি।

।। শেষ ।।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা"""""""""""''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''...
24/07/2021

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা
"""""""""""'''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''""

নন্দন রায়

।। দ্বিতীয় অংশ ।।

বঙ্গের নির্বাচনে দুই প্রকারের জাতীয়তা সচেতনতার আবাহন— একদিকে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তা বোধের চেতনা চাগিয়ে তোলার চেষ্টা এবং অন্যদিকে বাঙ্গালী সাংস্কৃতিক জাতীয়তাকে তার প্রতিস্পর্ধী হিসেবে দাঁড় করানো, ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটিকেও কিছুটা অন্যভাবে বিবেচনা করেছে— বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা খাপ খায় না, বরং ধর্মনিরপেক্ষতাই বেশি প্রার্থিত। বলাবাহুল্য, এটি নেহাতই একটি অলস ইচ্ছাপূরণের আশা (wishful thinking) এবং সামাজিক শক্তি হিসেবে যথেষ্ট দুর্বল। কিন্তু আশার কথা এটাই যে আম হিন্দু বাঙালির এই মনোভাব পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে সীমিত করে রেখেছে। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় লোকনীতি-সিএসডিএস-এর নির্বাচনোত্তর সমীক্ষাতে এর সমর্থন মেলে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে যে বিজেপি ৫৭% হিন্দু ভোট এককাট্টা করতে পেরেছিল, এবারে সেটা নেমে এসেছে ৫০ শতাংশে এবং তৃণমূলের হিন্দু ভোট একই বেড়েছে ৩২(২০১৯) থেকে ৩৯ শতাংশ। মাত্র ২০ শতাংশ হিন্দু বাঙালি মনে করে বাবরি মসজিদ ধ্বংস সঠিক কাজ হয়েছিল এবং ৮১% হিন্দু বাঙালির মতে ভারত সব ধর্মেরই দেশ। দুর্বলতার দিকটি হল, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭০-৮০র দশক পর্যন্ত বিশেষত বুদ্ধিজীবি সম্প্রদায়ের মধ্যে অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে হলেও ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে যে অচঞ্চল দৃঢ় মনোভাব দেখা যেত আজ তা দেখা দুর্লভ। ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল অলস প্রার্থিত বিষয় নয়, তার জন্য চেতনার যে উল্লম্ফন প্রয়োজন, একমাত্র বামপন্থী চেতনাই তা দিতে পারে।

বাংলা, তামিলনাডু বা কেরালার মতো যে সব অঞ্চলে শক্তিশালী ভাষাগত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে— শুধু তা-ই বা বলি কেন— বস্তুত হিন্দি হার্টল্যান্ডের সীমানার চারিদিক জুড়ে যে রাজ্যগুলি (কেবল আসাম ছাড়া, যার অন্য বিশেষত্ব রয়েছে) আছে, সেখানকার ভাষা গত সাংস্কৃতিক পরিচিতিসত্তা হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় পরিচিতির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ভূমিকা নিতে পারে।

হিন্দি হার্টল্যান্ডে বিষয়টি একেবারেই অন্যরকম। এই অঞ্চলটি একটি সুনির্দিষ্ট ভাষার ভিত্তিতে সুগঠিত নয়, বরং একটি মূল ভাষার আঞ্চলিক উপভাষার বিভিন্নতা সহ বিস্তীর্ণ এক অঞ্চল। ফলে কোন শক্তিশালী সাহিত্য ও সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে এইবিস্তীর্ণ অঞ্চলের কোনোখানেই এমন কোন সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্য গড়ে ওঠে নি যা নিয়ে অঞ্চলের অধিবাসীরা অহংকারী আত্মতৃপ্তি পেতে পারে। এমনকি এ অঞ্চলের শিক্ষিত অধিবাসীরাও এর ব্যাতিক্রম নন। বিজেপির হিন্দুত্ব প্রনোদিত ধর্মীয় পরিচিতির মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে শক্তিশালী আঞ্চলিক ঐতিহ্যের অনুপস্থিতি তাদের ধর্মীয় চেতনার কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য করেছে, ফলে এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল আগ্রাসী হিন্দুত্বতের বিস্তারের মুখে উন্মুক্ত থেকেছে।
বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং পিছিয়ে থাকা সামাজিক অংশের (ওবিসি) পরিচিতিকে জমায়েত করে হিন্দুত্ববাদের মহড়া নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এ অঞ্চলে এত অসংখ্য কাস্ট-সাবকাস্টের উপস্থিতি বিজেপিকে সুবিধে করে দিয়েছিল অগ্রসর ও অনগ্রসর ওবিসিদের মধ্যে কারো কারো প্রতি মেকি দরদ দেখিয়ে ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সংহতিতে ফাটল ধরাতে এবং এই অঞ্চলকে করায়ত্ত করতে।

ওপরের আলোচনা থেকে এমনটা মনে হতে পারে যে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের বিস্তারের একটি স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা আছে— হিন্দি হার্টল্যান্ড হিন্দুত্বের কাছে নতিস্বীকার করলেও তাকে ঘিরে থাকা শক্তিশালী ভাষা ও সাহিত্য-সংস্কৃতিগত পরিচিতির উপস্থিতি গোটা ভারত জোড়া বিজেপির ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক পরিচিতির বিস্তারে প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করবে। বাংলার নির্বাচন দেখিয়েছে এরূপ ধারণা কিছুটা সত্যি বটে কিন্তু তার বেশি কিছু নয়। যদি এমন ধারণা করা হয় যে সুতরাং বিজেপিকে এভাবেই পরাজিত করা যাবে, তাহলে তা হবে অতিসরলীকরণের দোষে দুষ্ট। এটা সবসময়ে নিশ্চিত নয় যে আঞ্চলিক ‘জাতীয়তাবাদ’ ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকে পরাভূত করতে পারবে। কর্ণাটকের ক্ষেত্রে এমনকি বাংলার ক্ষেত্রেও বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ আশঙ্কাজনক। একই ভাবে পূর্ববাংলা তাহলে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হত না।
আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছাড়াও অর্থনৈতিক উন্নতিরও সম্পর্ক রয়েছে। মমতা ব্যানার্জীর স্টাইলে বাঙ্গালীয়ানার প্রচারের দুর্বলতা হল মানুষের জীবন ও জীবিকার ভয়াবহ দুর্দশা লাঘব করার এবং স্বৈরাচারী শাসন প্রবণতা দমন করে গণতান্ত্রিকতা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে কোন কোথা নেই। তৎসহ লুম্পেনরাজের দৈনন্দিন হামলা তো রয়েছেই। বিজেপি এরই সুযোগ নিয়ে এবম্বিধ দুর্দশা ও দুঃশাসনের অবসানের মন ভোলানো মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে হাজির হয় এবং হতাশাগ্রস্ত মানুষ সেদিকেই ঢলে পড়ে। এটাই ফ্যাসিবাদের কৌশল। একমাত্র বামপন্থীরাই এর বিকল্প কর্মসূচী দিতে পারে। শর্ত একটাই— ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার প্রাথমিকতা বামপন্থীদের কর্মসূচীতে শুধু নয়, অন্তরেও থাকতে হবে।

(চলবে…)

‘দেশকাল ভাবনা’ পত্রিকার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবং তার ফলাফল নিয়ে বেশ কিছু লেখা ও মন্...
23/07/2021

‘দেশকাল ভাবনা’ পত্রিকার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবং তার ফলাফল নিয়ে বেশ কিছু লেখা ও মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। মুশকিল হল সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত লেখা একটু দীর্ঘ হলে লোকে আর পড়তে আগ্রহ বোধ করেন না। অথচ কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে হলে একটু পরিসর লাগেই। নিচে নির্বাচন বিষয়ে যে লেখাটি আমি পেশ করতে চলেছি সেটিও একটু বড় হয়েছে। একটানা পড়তে পাঠকের যাতে ধৈর্য্যচ্যুতি না হয় তার জন্য লেখাটিকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে পেশ করা হল।

বলাবাহুল্য, এর বক্তব্য বিষয় একা আমার কোনো ‘আবিষ্কার’ নয়। একদিকে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকায় ৯ জুন উত্তর-সম্পাদকীয় স্তম্ভে প্রভাত পট্টনায়েকের প্রবন্ধ, একই পত্রিকার ৫ জুলাই শ্রীপট্টনায়েকের সাক্ষাৎকার, ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার ৬মে প্রকাশিত নির্বাচনোত্তর সমীক্ষা, গণশক্তি ও অন্যদিকে দেশকাল ভাবনার পরিচালকমন্ডলীর collective wisdom এই প্রন্ধটি লিখতে সাহায্য করেছে। কিন্তু যাবতীয় ত্রুটি ও বক্তব্যের অস্বচ্ছতার দায় আমার একার।

নন্দন রায়
_____________________________

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""

।। প্রথম অংশ ।।

এবারের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচনে মোদী-শাহ পরিচালিত বিজেপির সগর্জন প্রচার সত্ত্বেও পরাজিত হওয়ার ঘটনা শুধুমাত্র এই রাজ্যের রাজনীতির ক্ষেত্রে নয়, গোটা দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রেও অসীম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। তার কারণ এই মাত্র কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিজেপি এমন একটা আগ্রাসী চরিত্র ধারণ করেছিল যে মনে হচ্ছিল এই ফ্যাসিস্ট শক্তি গোটা দেশটাকেই নিজের করতলগত করে ফেলবে। তামিলনাড়ু অথবা কেরালায় যে বিজেপি শাসনক্ষমতায় আসতে পারবে না এটা সকলেই বুঝেছিলেন। আসাম নিয়েও সন্দেহ ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভের জন্য বিজেপির মরিয়াভাব আশঙ্কার সৃষ্টি করেছিল। তাই দেশের প্রধানতম বিপদ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে এই রাজ্যের মাটিতে হারানো শুধু রাজ্যের স্বার্থে নয়, গোটা দেশের স্বার্থেই ছিল ভীষণ জরুরী। সুখের কথা, বিজেপি পরাজিত হয়েছে। এবং দেখা যাচ্ছে যে বাংলায় পরাজয়ের পরে মোদীর আকাশচুম্বী আত্মবিশ্বাস এবং অপরাজেয়তার মিথ চুরমার হয়ে গেছে। উপরন্তু রাজ্যে রাজ্যে এই ফ্যাসিবাদী কায়দায় রেজিমেন্টেড দলটির মধ্যে অন্তবিস্ফোরণ দেখা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশে, উত্তরাখন্ডে, কর্ণাটকে এবং এ রাজ্যেও— যা স্পষ্টতই বিজেপির দুর্বলতার চিহ্ন। এগুলি বামপন্থীদের কাছে সুখের কথা তাতে সন্দেহ নেই।

একই সাথে দুঃখের কথা হল এবারের নির্বাচনে বামপন্থীদের ভোটশতাংশ এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে স্বাধীনতার পরে এবারেই প্রথম বিধানসভায় তাদের কোন প্রতিনিত্ব নেই। প্রভাত পট্টনায়েক বলেছেন, বামপন্থীদের শক্তিহ্রাসের মূল্যে যেন বিজেপিকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে।

ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তিনি আরও বলেছেন, সমস্ত অন্যান্য পরিচিতির ওপরে ইসলামিক ধর্মীয় পরিচিতিকে সর্বাগ্রে স্থাপন করে দ্বিজাতি ত্তত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির জন্ম হয়েছিল। কিন্তু আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় পরিচিতির সর্বোচ্চতাকে ঘুচিয়ে বাঙালি পরিচিতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ নামে এক নতুন রাষ্ট্র স্থাপিত হয়েছিল। ধর্মের পরিচয়ই যে শেষ কথা নয়, কেবলমাত্র তা দিয়েই যে জাতি গঠন হয় না, এই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

এই ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনের কিছু মিল শ্রীপট্টনায়েক খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর মতে ভাষাভিত্তিক আঞ্চলিক পরিচিতি (বাঙালী) পরিচিতি এক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় পরিচিতির আবেদনকে পরাভূত করেছে। যদিও বিষয়ে সন্দেহ নেই যে মমতা ব্যানার্জীর জয়ের পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিল (overarching) এই ঘটনা যে দিল্লী থেকে প্রতিদিন ধাবিত একদল বহিরাগত, যারা এ রাজ্যের বাসিন্দা নয়, তাদের বিজাতীয় হুঙ্কার, তাদের অসংস্কৃত হাবভাব ভিন্ন সংস্কৃতির অপরিচয়, বিভাজন সৃষ্টির প্রচেষ্টা ইত্যাদি সমস্ত আয়ুধ প্রয়োগ করে যেন বাংলাকে জয় করতে চায় ছলেবলে অথবা কৌশলে, বাংলার ভাষাগত আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্যকে ধর্মীয় অবাঙালি স্থুল সংস্কৃতির দ্বারা আচ্ছন্ন করে ফেলতে চায়। এর বিরুদ্ধে বাঙালীর ভাষা গত সংস্কৃতির রক্ষাকল্পে মমতা ব্যানার্জী চ্যাম্পিয়ন হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি ঘোষণা করলেন বাংলাকে এই বহিশত্রুকে প্রতিহত করতে হবে। (সূর্যকান্ত মিশ্র একে বলেছেন ‘বাঙালি অস্মিতা’)। এ যেন ছোটমাপের বাংলাদেশের মতো ঘটনা।

একদিকে বিজেপির আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদী ধর্মীয় পরিচিতির আবেদন ও অন্যদিকে বাঙ্গালীর ভাষাভিত্তিক সংস্কৃতির পরিচিতি সত্তার অবলুপ্তির ভয়— এই দুইয়ের সঙ্ঘাতের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান হেতু বামপন্থীরা এই নির্বাচনে পিষ্ট হয়েছে। এমনটাই ঘটেছিল বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময়ে। পূর্ববঙ্গের রাজনীতিতে বামপন্থীরা কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী অস্তিত্বের সাক্ষ্য রেখেছিল, মৌলানা ভাসানীর মতো নেতারা প্রবল জনপ্রিয়ও ছিলেন। কিন্তু বাঙালী অস্মিতা যখন ধর্মীয় একতার থেকে প্রবল হয়ে উঠলো তখন বামপন্থী শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

এ কথা বলার অর্থ এটা নয় যে ভাষাভিত্তিক আঞ্চলিক পরিচিতির গুরুত্বকে বামপন্থীরা চিরকালই অবজ্ঞা করেছে অথবা তার বিকাশে কখনোই যত্নবান হয়নি। বস্তুত, ভাষার ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলি গঠনের ধারণাটি বামপন্থীরাই প্রথম গণআন্দোলনের আকারে সংগঠিত করেন কারণ কমিউনিস্ট তত্ত্বে ভাষাকেই জাতীয়তার ভিত্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়। এর ফলে বিশাল অন্ধ্র ও ঐক্য কেরালাম আন্দোলনে নেতৃত্ত্বের ভূমিকায় বামপন্থীরাই অগ্রসর হয়ে এসেছিলেন এবং সংযুক্ত মহারাষ্ট্র সমিতির আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনা ঘটেছিল রাজ্যগুলি গঠিত হওয়ার সময়কালে। সাধারণভাবে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগুলির গঠনের কাজটি মোটামুটি সমাধা হয়ে যাওয়ার এতদিন পরে ২০২১ সালে এসে মমতা ব্যানার্জী যখন বহিরাগতদের হাতে বাংলার ভাষা গত সংস্কৃতি বলে আওয়াজ তোলেন, তখন তার সঙ্গে সহমত হওয়া বামপন্থীদের পক্ষে মুশকিল এ কথা বুঝতে হবে। ফলে এই অবস্থায়, যখন মমতা ব্যানার্জী যে ভাষা ও ভঙ্গিতে বাঙালির শক্তিশালী আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক অহমিকাকে তুলে ধরতে সফল হয়েছেন এবং নিজেকে রক্ষাকত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যা রাজনৈতিক কারণেই বামপন্থীদের পক্ষে অনুসরণ করা সম্ভব নয়, তখন বামপন্থী পরিসর ক্ষয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। বিশেষত মমতা ব্যানার্জী যখন উপলব্ধি করেছেন অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই তাকে আপ্রাণ বিজেপির বিরোধিতা করে যেতে হবে।

যতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি একটি সম্ভাব্য বিপদ হিসেবে বিদ্যমান থাকবে, ততদিন পর্যন্ত বিজেপির ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের সবচেয়ে ধারাবাহিক ও সবচেয়ে আপসহীন রাজনৈতিক শত্রু হলেও বামপন্থীদের শক্তিমান হয়ে ওঠা মুশকিল।

(চলবে…)

গ্রাহক ও পাঠকদের প্রতি"""""'""'''""""""""""""""""""""""""""""""গত বছর(২০২০) ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় সমগ্র দেশবাসীকে মাত্র চার ...
19/01/2021

গ্রাহক ও পাঠকদের প্রতি
"""""'""'''""""""""""""""""""""""""""""""

গত বছর(২০২০) ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় সমগ্র দেশবাসীকে মাত্র চার ঘণ্টার নোটিশে যখন দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী, তখন আচমকা আমরাও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলাম পাঠক ও গ্রাহকদের থেকে। এই লকডাউন পর্বে একমাত্র ভরসা ছিল ইলেকট্রনিক মাধ্যম। প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে আমরাও 'দেশকাল ভাবনা' প্রকাশনা শুরু করলাম এপ্রিলের শেষ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে। এপ্রিলের শেষ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিমাসে দু'টি করে মোট ষোলটি ডিজিটাল সংখ্যা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। এই পর্যায়ে আমরা বহু মানুষের সর্মথন ও সহযোগিতা পেয়েছি। ডিজিটাল সংখ্যা প্রকাশিত হলেও আমাদের সমস্ত গ্রাহক ও পাঠকদের কাছে আমরা পৌঁছতে পারিনি। এই নতুন বছরে আবার আমরা ছাপা মাধ্যমে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রকাশিত হয়েছে 'দেশকাল ভাবনা'র ৫ জানুয়ারি ২০২১ সংখ্যা। আগের মতোই কলেজস্ট্রীট-এর পাতিরাম, এনবিএ, ধ্যানবিন্দু-তে পাওয়া যাচ্ছে সংখ্যাটি। এছাড়াও পত্রিকাটি পেতে খোঁজ নিন নিকটবর্তী বামপন্থী প্রগতিশীল বইপত্রের দোকানগুলোতে।

ছাপা সংখ্যাগুলিতে ডিজিটাল সংখ্যায় প্রকাশিত কিছু বাছাই করা প্রবন্ধ পুনঃপ্রকাশ করার চেষ্টা করা হবে। আমরা আশা করি আগের মতোই সমর্থন, সহযোগিতা ও পরামর্শ পাবো। 'দেশকাল ভাবনা' প্রচণ্ড অর্থসংকটের মধ্য দিয়ে চলেছে। সমস্ত গ্রাহক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আমাদের আবেদন 'দেশকাল ভাবনা'-কে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে আপনারা সাধ্যমতো দান করুন।

যেকোনো প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ৯৪৩২৮৯৮১৭৫ নম্বরে।

প্রকাশিত হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০২১ সংখ্যা―

Address

Kolkata
700055

Telephone

9432898175

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Deshkal Vabna posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Deshkal Vabna:

Shortcuts

Share

Category