18/10/2026
চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু প্রিয়া সমাদ্দারের, শোকের ছায়া ব্যারাকপুরের বাড়িতে
বন্ধুদের সঙ্গে চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন ১৯ বছরের প্রিয়া সমাদ্দার। শনিবার ব্যারাকপুরের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে বাবা শ্যামল সমাদ্দারকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘চিন্তা কোরো না বাবা, ঠাকুর দেখে ঠিক বাড়ি ফিরে আসব।’ কিন্তু বাবাকে দেওয়া সেই কথা আর রাখা হলো না। ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হলো প্রিয়ার।
প্রিয়ার বাড়ি ব্যারাকপুরের উত্তর যোগেন্দ্রনগরে। তিনি নিউ ব্যারাকপুরের এপিসি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পুজোর অনেক আগে থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন প্রিয়া। কিন্তু চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
পেশায় ব্লাউজ কাটিংয়ের কারিগর প্রিয়ার বাবা শ্যামল সমাদ্দার। শনিবার রাতে ঘোলা থানার পুলিশ বাড়িতে গিয়ে মেয়ের মৃত্যুসংবাদ জানায়। খবর পেয়ে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছেছেন শ্যামল সমাদ্দার।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীনের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির জেরে রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বহু মানুষ মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় আচমকাই মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এর জেরেই পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। আহতদের পরিবারকে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা করে।
বাবাকে আশ্বস্ত করে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন প্রিয়া। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না তাঁর। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই পরিণত হলো এক পরিবারের অপূরণীয় শোকে।