08/06/2026
ভারতের জ্বালানি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে নীতিন গডকরির প্রদর্শিত ইথানল-ভিত্তিক রান্নার চুলা। মাত্র ৭ শতাংশ ইথানল ও ৯৩ শতাংশ জলের মিশ্রণ ব্যবহার করে রান্নার উপযোগী শিখা তৈরির দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এলপিজির খরচ কমানো, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং দেশীয় প্রযুক্তির প্রসার—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ এখন দেশের অন্যতম আলোচিত উদ্ভাবন।
----
ভারতের রান্নাঘরে এলপিজি সিলিন্ডারের বিকল্প খোঁজার আলোচনা নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি এমন এক প্রযুক্তির প্রদর্শন করেন, যা এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নাগপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ইথানল-ভিত্তিক রান্নার চুলা সামনে আনেন। তাঁর দাবি, এই চুলা ইথানল ও জলের বিশেষ মিশ্রণ ব্যবহার করে রান্নার উপযোগী শিখা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি এলপিজির তুলনায় কম খরচে ব্যবহার করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।
প্রদর্শিত প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর জ্বালানি। গডকরির বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুলায় প্রায় ৭ শতাংশ ইথানল এবং ৯৩ শতাংশ জল মিশিয়ে তৈরি করা একটি মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে ইথানল একটি দাহ্য জ্বালানি হলেও এত বেশি পরিমাণ জল মিশ্রিত অবস্থায় সেটি কীভাবে কার্যকরভাবে জ্বলতে পারে, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রদর্শনের সময় চুলাটি থেকে স্থিতিশীল শিখা দেখা গেলেও এর পূর্ণ প্রযুক্তিগত নকশা এখনও সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।
এই উদ্যোগকে ভারতের বৃহত্তর বায়োফুয়েল কর্মসূচির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে ইথানল উৎপাদন ও ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের হার বাড়ানো থেকে শুরু করে ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন চালুর উদ্যোগ পর্যন্ত একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশে ইথানল-সমৃদ্ধ ইন্ধন বিক্রির পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রান্নার ক্ষেত্রেও ইথানল ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে আনা হয়েছে।
গডকরি দাবি করেছেন, এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তুলনায় সস্তা বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি এটি আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে। ভারত প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রযুক্তিটি নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বাজারে এই চুলা কবে আসবে, এর দাম কত হবে, এক লিটার ইথানলে কতক্ষণ রান্না করা যাবে কিংবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন কোন মানদণ্ড পূরণ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিজ্ঞানীরা এটাও খতিয়ে দেখছেন যে, এত কম ইথানল ঘনত্বের মিশ্রণ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে রান্নার উপযোগী তাপ উৎপাদন কতটা কার্যকরভাবে সম্ভব।
বর্তমানে এই ইথানল-চালিত চুলা মূলত একটি প্রদর্শিত প্রযুক্তি হিসেবেই আলোচনায় রয়েছে। দেশীয় উদ্ভাবন, বিকল্প জ্বালানি এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনে এটি দেশের জ্বালানি নীতির আলোচনায় নতুন একটি বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।