23/10/2025
১৪ বছর পর মায়ের হাতে ফিরল মেয়ের দেহাবশেষ!
এই ঘটনাটি পড়লে চোখে জল আসতে বাধ্য।
--------
২০১১ সালের ভয়াবহ জাপান ভূমিকম্প ও সুনামির কথা আমরা সকলেই জানি। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হারিয়ে গিয়েছিল ছোট্ট নাতসুসে ইয়ামানে—মাত্র ছয় বছরের এক মেয়ে। ১৪ বছর পর অবশেষে তার দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে, আর তাতেই যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল তার পরিবারের।
ঘটনাটি জাপানের ইওয়াতে প্রিফেকচারের ইয়ামাদা শহরের। ২০১১ সালের ১১ মার্চ, উত্তর-পূর্ব জাপানে আঘাত হানে ৯.০ মাত্রার ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প, যার পরপরই তীব্র সুনামি আছড়ে পড়ে উপকূলে।
সেই সময় নাতসুসে তার দিদিমার সঙ্গে ছিল এবং নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল ঢেউ সব কিছু গ্রাস করে নেয়। দিদিমা কোনোভাবে বেঁচে যান, কিন্তু নাতসুসে আর ফিরেনি।
তখন থেকেই নাতসুসে ছিল জাপানের প্রায় ২৫০০ নিখোঁজ মানুষের মধ্যে একজন। বছরের পর বছর কেটে গেলেও পরিবার কখনও আশা ছাড়েনি। প্রত্যেক জন্মদিনে কেক কাটা থেকে শুরু করে যাবতীয় আয়োজন করেছে এবং মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষা করেছে।
অবশেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, মিয়াগি প্রিফেকচারের মিনামি-সানরিকু উপকূলে, এক স্বেচ্ছাসেবী শ্রমিক তীর পরিষ্কারের সময় একখণ্ড চোয়ালের হাড় ও কিছু দাঁত উদ্ধার করেন।
পরবর্তীতে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ ও প্রোটিন বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়—ওগুলো নাতসুসে ইয়ামানেরই দেহাবশেষ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেই অংশ পাওয়া যায় তার বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে!
২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর, নাতসুসের বাবা-মা—চিয়ুমি ইয়ামানে ও তোমোনোরি ইয়ামানে, এবং তার দাদা—মিনামি-সানরিকু পুলিশ স্টেশনে গিয়ে ছোট্ট একটি কলসিতে তার দেহাবশেষ গ্রহণ করেন।
মা চিয়ুমি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন,
“ধন্যবাদ… তুমি ফিরে এসেছো আমাদের কাছে। এখন আবার আমরা চারজন একসাথে আছি।”
সাথে এটাও বলেন যে, "এখনো মনেহয় মেয়ের 'মামা' বলে ডাকটা শুনতে পারছি"
----
না এটা কোনো বানানো গল্প নয়। এটা বাস্তব।
এই ঘটনায় গোটা জাপান জুড়ে গভীর আবেগের স্রোত বয়ে যায়। ২০১১ সালের সেই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান, আর এখনো এতো বছর পরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ।