LaughaLaughi

LaughaLaughi ভারতের একমাত্র বাংলা মিডিয়া সংস্থা
যারা ফেক নিউজ ছড়ায় না

LaughaLaughi is a registered trademark of LaughaLaughi Private Limited.

Trademark Numbers - 4944806 (class 35), 4944552 (class 16), 4944563 (41)

ভারতের জ্বালানি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে নীতিন গডকরির প্রদর্শিত ইথানল-ভিত্তিক রান্নার চুলা। মাত্র ৭ শতাংশ ইথানল ও ...
08/06/2026

ভারতের জ্বালানি খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে নীতিন গডকরির প্রদর্শিত ইথানল-ভিত্তিক রান্নার চুলা। মাত্র ৭ শতাংশ ইথানল ও ৯৩ শতাংশ জলের মিশ্রণ ব্যবহার করে রান্নার উপযোগী শিখা তৈরির দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এলপিজির খরচ কমানো, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস এবং দেশীয় প্রযুক্তির প্রসার—সব মিলিয়ে এই উদ্যোগ এখন দেশের অন্যতম আলোচিত উদ্ভাবন।

----

ভারতের রান্নাঘরে এলপিজি সিলিন্ডারের বিকল্প খোঁজার আলোচনা নতুন নয়। তবে ২০২৬ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি এমন এক প্রযুক্তির প্রদর্শন করেন, যা এই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নাগপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ইথানল-ভিত্তিক রান্নার চুলা সামনে আনেন। তাঁর দাবি, এই চুলা ইথানল ও জলের বিশেষ মিশ্রণ ব্যবহার করে রান্নার উপযোগী শিখা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি এলপিজির তুলনায় কম খরচে ব্যবহার করা সম্ভব বলেও তিনি জানান।

প্রদর্শিত প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো এর জ্বালানি। গডকরির বক্তব্য অনুযায়ী, এই চুলায় প্রায় ৭ শতাংশ ইথানল এবং ৯৩ শতাংশ জল মিশিয়ে তৈরি করা একটি মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। সাধারণভাবে ইথানল একটি দাহ্য জ্বালানি হলেও এত বেশি পরিমাণ জল মিশ্রিত অবস্থায় সেটি কীভাবে কার্যকরভাবে জ্বলতে পারে, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রদর্শনের সময় চুলাটি থেকে স্থিতিশীল শিখা দেখা গেলেও এর পূর্ণ প্রযুক্তিগত নকশা এখনও সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

এই উদ্যোগকে ভারতের বৃহত্তর বায়োফুয়েল কর্মসূচির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে ইথানল উৎপাদন ও ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলে ইথানল মিশ্রণের হার বাড়ানো থেকে শুরু করে ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহন চালুর উদ্যোগ পর্যন্ত একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশে ইথানল-সমৃদ্ধ ইন্ধন বিক্রির পরিকাঠামো সম্প্রসারণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রান্নার ক্ষেত্রেও ইথানল ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে আনা হয়েছে।

গডকরি দাবি করেছেন, এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তুলনায় সস্তা বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি এটি আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে। ভারত প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে প্রযুক্তিটি নিয়ে এখনও একাধিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। বাজারে এই চুলা কবে আসবে, এর দাম কত হবে, এক লিটার ইথানলে কতক্ষণ রান্না করা যাবে কিংবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন কোন মানদণ্ড পূরণ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিজ্ঞানীরা এটাও খতিয়ে দেখছেন যে, এত কম ইথানল ঘনত্বের মিশ্রণ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে রান্নার উপযোগী তাপ উৎপাদন কতটা কার্যকরভাবে সম্ভব।

বর্তমানে এই ইথানল-চালিত চুলা মূলত একটি প্রদর্শিত প্রযুক্তি হিসেবেই আলোচনায় রয়েছে। দেশীয় উদ্ভাবন, বিকল্প জ্বালানি এবং দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনে এটি দেশের জ্বালানি নীতির আলোচনায় নতুন একটি বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে।

হুগলির হিন্দমোটরের রিতু মণ্ডল জিতেছে দুটি স্বর্ণপদক, আর অভয় বর্মন এনে দিয়েছে ভারতের প্রথম স্বর্ণ। বিশ্বের প্রথম যোগাসন...
08/06/2026

হুগলির হিন্দমোটরের রিতু মণ্ডল জিতেছে দুটি স্বর্ণপদক, আর অভয় বর্মন এনে দিয়েছে ভারতের প্রথম স্বর্ণ। বিশ্বের প্রথম যোগাসন বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার দুই খেলোয়াড়ের এই সাফল্য এখন দেশের ক্রীড়া জগতের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

----

হুগলির হিন্দমোটরের সরু গলি থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যোগাসন মঞ্চে পৌঁছনোর পথটা মোটেই সহজ ছিল না। সেই পথের প্রতিটি ধাপে ছিল দীর্ঘ অনুশীলন, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং পরিবারের অবিরাম লড়াই। ২০২৬ সালের বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি স্বর্ণপদক জিতে সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায় লিখেছে বাংলার মেয়ে রিতু মণ্ডল। একই প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে ভারতের পদক অভিযান শুরু করেন পশ্চিমবঙ্গের আরেক যোগাসন খেলোয়াড় অভয় বর্মন। বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার এই দুই খেলোয়াড়ের সাফল্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

আহমেদাবাদের ইকা এরিনায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল বিশ্বের একাধিক দেশের প্রতিযোগীরা। ভারত ১২২ সদস্যের দল নিয়ে মাঠে নামে। সেই মঞ্চে সিনিয়র মহিলা ট্র্যাডিশনাল যোগাসন বিভাগে ৬৪.৩৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে স্বর্ণপদক জিতে নেয় রিতু মণ্ডল। কাজাখস্তান এবং হংকংয়ের প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে শীর্ষস্থানে উঠে আসে তার নাম। পরে আরও একটি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে রিতু চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়ে।

রিতুর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রায় আট বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতি। মাত্র ১২ বছর বয়সে যোগাসনের অনুশীলন শুরু করে সে। হিন্দমোটরের একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিতুর বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। সংসারের সীমিত আয়ের মধ্যেও মেয়ের প্রশিক্ষণ থামিয়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি পরিবারের সদস্যরা। প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি, যাতায়াত, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের খরচ সামলানো সহজ ছিল না, তবুও লড়াই থামেনি।

রিতুর যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ নাম তার দাদা গৌতম মণ্ডল। একসময় তিনিও যোগাসনের খেলোয়াড় ছিলেন। রাজ্য স্তর পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নিজের ক্রীড়াজীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। পরে সেই অপূর্ণ স্বপ্নের অনেকটাই জড়িয়ে যায় বোনের সাফল্যের সঙ্গে। অনুশীলন থেকে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি থেকে মানসিক দৃঢ়তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে রিতুর পাশে দেখা যায় গৌতমকে। বর্তমানে রিতু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বৃত্তি হিসেবে প্রতি মাসে ১৩ হাজার টাকা পায়। এর আগে খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমস এবং খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমসেও ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছিল সে।

অন্যদিকে পুরুষদের সিনিয়র ট্র্যাডিশনাল যোগাসন বিভাগে ৬৩.৪২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে স্বর্ণপদক জেতেন অভয় বর্মন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদকটি আসে তার হাত ধরেই। আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এই সাফল্য ভারতীয় দলের পদক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ গতি এনে দেয়। পরবর্তীতে একের পর এক পদক জয়ের পথে এগিয়ে যায় ভারত।

আর্জেন্টিনা, সিঙ্গাপুর, নেপাল, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার তৃতীয় দিনের শেষে ভারতের ঝুলিতে জমা পড়ে ২২টি স্বর্ণপদক। সেই পদক তালিকায় বিশেষ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে বাংলার দুই নাম—রিতু মণ্ডল এবং অভয় বর্মন। একজন রাজমিস্ত্রির মেয়ে হিসেবে সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্বসেরা হওয়ার গল্প লিখেছে, আর অন্যজন ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণ জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের ছাপ রেখে গেছে।

সূর্যের এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রভাবে আজ ভারতের কিছু অঞ্চলের আকাশে বিরল অরোরা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত...
08/06/2026

সূর্যের এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের প্রভাবে আজ ভারতের কিছু অঞ্চলের আকাশে বিরল অরোরা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাধারণত মেরু অঞ্চলের এই আলোকচ্ছটা কি সত্যিই ভারতের আকাশে ধরা দিতে পারে?

---

সাধারণত নর্দার্ন লাইটস বা অরোরা বোরিয়ালিসের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নরওয়ে, আইসল্যান্ড কিংবা আলাস্কার আকাশ। কিন্তু এবার সেই বিরল আলোকচ্ছটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ভারতের কিছু অংশেও। মার্কিন মহাকাশ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এনওএএ স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার ৮ জুনের জন্য একটি জি৩ স্তরের জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম ওয়াচ জারি করেছে। এই সতর্কতার কারণ সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে নির্গত একটি বিশাল করোনাল মাস ইজেকশন বা সিএমই, যা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছে।

সিএমই আসলে সূর্যের বাইরের স্তর থেকে নির্গত বিপুল পরিমাণ আধানযুক্ত কণার মেঘ। এই কণাগুলি প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশো থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার গতিতে মহাকাশে ছুটে চলে। কিছু ক্ষেত্রে গতিবেগ ৪,০০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারে। যখন এই কণাগুলি পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, তখন উপরের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণু উত্তেজিত হয়ে আলো বিকিরণ করে। সেই আলোকচ্ছটাই অরোরা নামে পরিচিত।

অরোরা সাধারণত উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি ৬০ থেকে ৭৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। তবে জিওম্যাগনেটিক ঝড় যত শক্তিশালী হয়, অরোরার বলয় তত নিচের অক্ষাংশের দিকে সরে আসতে পারে। জি৩ বা স্ট্রং শ্রেণির ঝড়ের সময় এই আলোকচ্ছটা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দক্ষিণে দেখা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। সেই কারণেই ভারতের উত্তরাংশের কয়েকটি অঞ্চলের দিকে এখন নজর রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের।

ভারতে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে লাদাখের হ্যানলে ডার্ক স্কাই রিজার্ভ অঞ্চলের ক্ষেত্রে। প্রায় ৪,৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই এলাকা বিশ্বের অন্যতম অন্ধকার আকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে আলোকদূষণ অত্যন্ত কম এবং উত্তর দিগন্ত প্রায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। পাশাপাশি চাংথাং মালভূমি, লাদাখের অন্যান্য উচ্চভূমি, কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশ এবং হিমালয়ের কয়েকটি উঁচু এলাকা থেকেও বিশেষ পরিস্থিতিতে অরোরার ক্ষীণ আভা ধরা পড়তে পারে।

এমন ঘটনা একেবারেই নজিরবিহীন নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে লাদাখের হ্যানলে অঞ্চলে বিরল লাল রঙের অরোরার ছবি ধরা পড়েছিল। সেই সময়ও শক্তিশালী সৌর ক্রিয়াকলাপের ফলে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র প্রবলভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। ওই ঘটনার ছবি আন্তর্জাতিক মহাকাশ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান মহলেও বিশেষ আগ্রহের সৃষ্টি করেছিল।

তবে ভারতের অধিকাংশ সমতল অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব ভারত, মধ্য ভারত এবং দক্ষিণ ভারতের আকাশে উজ্জ্বল নর্দার্ন লাইটস দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। অনেক ক্ষেত্রে খালি চোখে কিছুই দেখা না গেলেও দীর্ঘ এক্সপোজারের ক্যামেরায় উত্তর দিগন্তে হালকা লালচে বা গোলাপি আভা ধরা পড়তে পারে। তাই আজকের এই সৌরঝড় বিজ্ঞানীদের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আকাশ পর্যবেক্ষকদের কাছেও এটি একটি বিরল পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়ে উঠেছে।

আকাশে দেখা এই লাল আলোর শাখা-প্রশাখা কোনো কল্পচিত্র নয়, বরং পৃথিবীর অন্যতম বিরল বৈদ্যুতিক ঘটনাগুলোর একটি। রেড স্প্রাইট না...
08/06/2026

আকাশে দেখা এই লাল আলোর শাখা-প্রশাখা কোনো কল্পচিত্র নয়, বরং পৃথিবীর অন্যতম বিরল বৈদ্যুতিক ঘটনাগুলোর একটি। রেড স্প্রাইট নামে পরিচিত এই আলোকচ্ছটা তৈরি হয় বজ্রঝড়ের বহু কিলোমিটার উপরে, যেখানে সাধারণ বিমানও পৌঁছতে পারে না।

---

এই যে ছবিটা দেখছ, প্রথম নজরে মনে হতে পারে যেন কোনো কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক ছবির দৃশ্য। রাতের আকাশে লাল রঙের বিশাল আলোকচ্ছটা, নিচে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে অবস্থিত মঁ-সাঁ-মিশেল নামের প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো দ্বীপ-অ্যাবি। সামাজিক মাধ্যমে এই ছবিকে ঘিরে দাবি করা হচ্ছে, এটি কোনো বিশেষ প্রভাব নয়, বরং একটি বাস্তব প্রাকৃতিক ঘটনা। সেই ঘটনাটির নাম ‘রেড স্প্রাইট’ বা লাল স্প্রাইট।

রেড স্প্রাইট আসলে এক ধরনের বিরল বৈদ্যুতিক আলোকঘটনা, যা সাধারণ বজ্রপাতের মতো মাটির দিকে নয়, বরং আকাশের আরও উঁচু স্তরের দিকে সৃষ্টি হয়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মেসোস্ফিয়ার স্তরে, সাধারণত ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৯০ কিলোমিটার উচ্চতায় এই ঘটনা দেখা যায়। তুলনা করলে দেখা যাবে, যাত্রীবাহী বিমান সাধারণত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়ে। অর্থাৎ স্প্রাইট তৈরি হয় তারও বহু গুণ উপরে।

সাধারণ বজ্রপাত মেঘ থেকে মাটির দিকে নেমে আসে। কিন্তু শক্তিশালী বজ্রঝড়ের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রবল ধনাত্মক বজ্রপাত বিপুল শক্তি উপরের দিকে পাঠায়। সেই শক্তির প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের উচ্চস্তরে থাকা নাইট্রোজেন অণু উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং লাল আভা সৃষ্টি করে। সেই কারণেই স্প্রাইটকে প্রায়ই আকাশজুড়ে লাল রঙের শাখা-প্রশাখার মতো দেখা যায়। অনেক আলোকচিত্রে এগুলোর আকৃতি জেলিফিশ, গাছের শিকড় কিংবা আগুনের শিখার মতো দেখায়।

এই ঘটনাটি এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর স্থায়িত্ব এক সেকেন্ডের দশভাগের এক ভাগেরও কম। অনেক স্প্রাইট মাত্র কয়েক মিলিসেকেন্ড স্থায়ী হয়। মানুষের চোখের পলক ফেলতে যে সময় লাগে, তার মধ্যেই ঘটনাটি শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই খালি চোখে দেখা কঠিন এবং আলোকচিত্রে ধারণ করাও সহজ নয়।

আজ রেড স্প্রাইট নিয়ে বিস্তর বৈজ্ঞানিক গবেষণা হলেও দীর্ঘদিন এটি নিয়ে সন্দেহ ছিল। বিংশ শতাব্দীর বহু পাইলট আকাশে লাল আলোর অদ্ভুত ঝলক দেখার দাবি করেছিলেন। কিন্তু তাদের বর্ণনাকে অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। অবশেষে ১৯৮৯ সালে একদল গবেষক পরীক্ষামূলকভাবে আকাশের ভিডিও ধারণ করার সময় আকস্মিকভাবে প্রথম স্প্রাইটের আলোকচিত্র ধারণ করতে সক্ষম হন। এরপর থেকেই বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।

তবে এই নির্দিষ্ট ছবিটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। রেড স্প্রাইট বাস্তব এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ঘটনা হলেও ছবিটি ঠিক যেমনভাবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত একক আলোকচিত্র কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক আলোকচিত্রে অনেক সময় আলাদা সময়ে তোলা আকাশ ও ভূমির ছবি একত্র করা হয়, কিংবা রঙ, উজ্জ্বলতা ও বৈপরীত্য বৃদ্ধি করা হয়। ফলে ছবিতে দেখা দৃশ্য বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে হলেও তার উপস্থাপনা সম্পাদিত বা সংমিশ্রিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

মঁ-সাঁ-মিশেলের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনার উপর আকাশে লাল স্প্রাইটের উপস্থিতি অবশ্য বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব নয়। প্রবল বজ্রঝড়ের উপরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দক্ষ আলোকচিত্রীদের তোলা বাস্তব স্প্রাইটের ছবিও ইতিমধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে।

08/06/2026

ফিলিপাইন ভূমিকম্প! কম্পন মাত্র ছিল ৭.৮!
সেখানকার একটি স্কুলের ভিডিও রাখলাম তোমাদের সামনে

উলার হ্রদের তীরে অবস্থিত আরাগাম গ্রাম আজ ভারতের অন্যতম আলোচিত বুক ভিলেজ। হাজার হাজার বই, বাড়িভিত্তিক পাঠকেন্দ্র এবং সাহ...
08/06/2026

উলার হ্রদের তীরে অবস্থিত আরাগাম গ্রাম আজ ভারতের অন্যতম আলোচিত বুক ভিলেজ। হাজার হাজার বই, বাড়িভিত্তিক পাঠকেন্দ্র এবং সাহিত্যভিত্তিক পর্যটনের পরিকল্পনা নিয়ে কিভাবে একটি ছোট কাশ্মীরি গ্রাম নতুন পরিচয় গড়ে তুলছে, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

----

কাশ্মীরের নাম শুনলে সাধারণত পাহাড়, হ্রদ কিংবা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথাই সামনে আসে। কিন্তু উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার আরাগাম গ্রাম এখন এক ভিন্ন পরিচয় গড়ে তুলছে। উলার হ্রদের তীরে অবস্থিত এই গ্রামকে ধীরে ধীরে একটি ‘বুক ভিলেজ’ বা বইয়ের গ্রামে রূপান্তর করা হচ্ছে, যেখানে বই শুধু পড়াশোনার উপকরণ নয়, গ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। প্রায় ৩,০২০ জন মানুষের বাস এই গ্রামে, আর রয়েছে প্রায় ৫০৫টি পরিবার। সেই গ্রামকেই ভারতের বৃহত্তম বুক ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের পেছনে রয়েছে পুনে-ভিত্তিক সমাজসেবী সংস্থা সারহদ এবং জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ। ২০২৩ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে আরাগামকে বুক ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সামনে আসে। পরে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বই সহজে মানুষের কাছে পৌঁছবে এবং পড়ার অভ্যাসকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা যাবে।

আরাগামের বুক ভিলেজ প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এর ছড়িয়ে থাকা লাইব্রেরি ব্যবস্থা। এখানে একটি মাত্র বড় গ্রন্থাগার তৈরি করা হয়নি। তার বদলে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িকে ছোট ছোট পাঠকেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। কোনো বাড়িতে রাখা হয়েছে উপন্যাস, কোনো বাড়িতে ইতিহাসের বই, আবার কোথাও শিশু সাহিত্য বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির বই। ফলে বই খুঁজতে গেলে একজন পাঠককে গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে হয়, আর সেই প্রক্রিয়াতেই পুরো গ্রাম একটি জীবন্ত গ্রন্থাগারে পরিণত হয়।

এই পরিকল্পনার পেছনে একটি সফল উদাহরণও রয়েছে। মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার ভিলার গ্রামকে কয়েক বছর আগে ভারতের প্রথম বুক ভিলেজ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই মডেল থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে আরাগামে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কাশ্মীরের প্রাকৃতিক পরিবেশ, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সাহিত্যকে কেন্দ্র করে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত আকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধু বই পড়ার সুযোগ বাড়ানোই নয়, প্রকল্পটির লক্ষ্য আরও বড়। সাহিত্য উৎসব, লেখক-পাঠক আলোচনা, কবিতা পাঠ, বই প্রকাশ অনুষ্ঠান এবং কাশ্মীরি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও ভাবা হয়েছে। এর মাধ্যমে কাশ্মীরকে শুধু সংবাদ শিরোনামের বিষয় হিসেবে নয়, শিক্ষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সাহিত্যভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। উলার হ্রদের মনোরম পরিবেশের মধ্যে বইকেন্দ্রিক এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বহু মানুষের আগ্রহের কারণ হয়েছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও প্রকল্পটির প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেসব পরিবারের পক্ষে সব ধরনের বই কেনা সম্ভব নয়, তারা এখন সহজেই বিভিন্ন বিষয়ের বই হাতে পাচ্ছে। স্কুল ও উচ্চশিক্ষার পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান, সাহিত্য এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির বইও তাদের নাগালের মধ্যে এসেছে। ফলে আরাগাম আজ শুধু একটি গ্রাম নয়, বইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক নতুন সামাজিক উদ্যোগের উদাহরণ হয়ে উঠছে।

ফলতা কেন্দ্রের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচন, “পুষ্পা” মন্তব্য, হাইকোর্টে সুরক্ষা চাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ভারত-নেপাল সীমান্তের ক...
08/06/2026

ফলতা কেন্দ্রের বিতর্কিত পুনর্নির্বাচন, “পুষ্পা” মন্তব্য, হাইকোর্টে সুরক্ষা চাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছে গ্রেপ্তার। জাহাঙ্গীর খানকে ঘিরে গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

----

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। কয়েকদিন ধরে পলাতক থাকার পর তাঁকে ভারত-নেপাল সীমান্তের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ফলতা কেন্দ্রের ভোট বিতর্ক, পুনর্নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে তাঁর করা বহুল আলোচিত “পুষ্পা” মন্তব্য।

জাহাঙ্গীর খান ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক আইপিএস কর্মকর্তা অজয় পাল শর্মাকে ঘিরে একাধিক মন্তব্য করেন। সেই সময় নিজেকে “পুষ্পা” চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছিলেন যে তাঁকে সহজে দমন করা যাবে না। এই মন্তব্য দ্রুত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং ফলতা কেন্দ্রে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসে।

ভোটগ্রহণের সময় ফলতা কেন্দ্রে ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথের বাইরে অশান্তি এবং নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, কারণ সাধারণত গুরুতর অভিযোগ ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। তদন্ত এগোতে থাকলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা চান। আদালত প্রথমে তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা দিলেও পরে সেই অন্তর্বর্তী সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হয়। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের পর তদন্তকারী সংস্থাগুলির সামনে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেপ্তারের পথ আরও সহজ হয়ে যায়।

পুলিশ সূত্রের দাবি, আদালতের সুরক্ষা শেষ হওয়ার পর জাহাঙ্গীর খান প্রকাশ্যে দেখা দিচ্ছিলেন না এবং কয়েকদিন ধরে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে এসটিএফ উত্তরবঙ্গে অভিযান চালিয়ে ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ফলতার পুনর্নির্বাচনের ফলাফলে। সেখানে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা এক লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। শুধু পরাজয়ই নয়, জাহাঙ্গীর খান নিজের জামানতও রক্ষা করতে পারেননি। নির্বাচনের আগে যিনি “পুষ্পা” মন্তব্যের কারণে রাজ্যজুড়ে আলোচনায় ছিলেন, পুনর্নির্বাচনের ফল এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারি সেই রাজনৈতিক অধ্যায়কে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক চতুর্দশপদী নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে, গাড়ির ভেতর মাদক খাইয়ে হোটেলে গণধ*র্ষণের ঘটনায় তী...
08/06/2026

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক চতুর্দশপদী নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে, গাড়ির ভেতর মাদক খাইয়ে হোটেলে গণধ*র্ষণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল চক্রান্তকারী যুবতী ও হোটেলের ম্যানেজারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

----

পশ্চিম বর্ধমানের বুদবুদ ও দুর্গাপুর চত্বর এখন এক চরম নৃশংস ঘটনার সাক্ষী। গত শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, অষ্টম শ্রেণীর এক চতুর্দশ বর্ষীয় নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গণধ*র্ষণের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বুদবুদ থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে সিমরন তামাং নামের এক পরিচিত যুবতী প্রথমে বাড়ি থেকে ডেকে আনে। এরপর একটি চারচাকা গাড়ির ভেতর তাকে জোরপূর্বক মদ্যপান করানো হয় এবং মদের সঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় কোনো মাদক বা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। নেশার ঘোরে কিশোরীটি অচৈতন্য হয়ে পড়লে, তাকে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি বেসরকারি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনজন যুবক অচৈতন্য নাবালিকার ওপর নারকীয় যৌন নির্যাতন চালায়।

অপরাধের পর অভিযুক্তরা নির্যাতিতাকে বুদবুদ বাইপাসের ধারে অচৈতন্য অবস্থায় ফেলে রেখে চম্পট দেয়। শনিবার রাতে এক টোটো চালক মেয়েটিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনিই কোনোক্রমে নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে ওই কিশোরী দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনার পর নির্যাতিতার পিতা বুদবুদ থানায় নির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ও ফরেনসিক দল নির্দিষ্ট হোটেল ঘর এবং ওই চারচাকা গাড়িটি থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মূল অভিযুক্ত যুবতী সিমরন তামাং, মূল অপরাধে জড়িত দুই যুবক রাজ মল্লিক ও শেখ আজহারউদ্দিন, এবং অপরাধের স্থান জোগাড় করে দেওয়ার অপরাধে সংশ্লিষ্ট হোটেলের ম্যানেজার। ঘটনায় জড়িত আরও এক অভিযুক্ত যুবক এখনও পলাতক, যার খোঁজে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে। ধৃত চারজনকে সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্যাতিতার পরিবার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছে। রাজনৈতিক স্তরেও বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বিজেপি নেতা পারিজাত গাঙ্গুলী হাসপাতালে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দোষীদের জন্য কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলেছেন। পুলিশ পুরো ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশীট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

07/06/2026

আজ সারারাত জুড়েই রণক্ষেত্র গোটা যাদবপুর এলাকা। একের পর এক বুলডোজার এনে বেশ কিছু দোকানপাট, গরীব মানুষের ভিটে মাটি গুঁড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আহত একাদিক বাম কর্মীরা। আটক করা হয়েছে অনেক নেতাকে।

07/06/2026

Address

Kolkata

Website

https://www.laughalaughi.in/

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LaughaLaughi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to LaughaLaughi:

Share