23/08/2026
আজ রাধারমণ শক্তির বিশেষ প্রকাশ ললিতা সখী ঠাকুরাণীর আবির্ভাব স্মরণে শ্রীগুরুদেবের কৃপা প্রেরণায় এই নিবেদন -
*রাধারমণের জয় গোপাল*
সখীমার সূচক কীর্ত্তন প্রসঙ্গে শ্রীল দ্বিজপদ গোস্বামী মহাশয় বলছেন -
শ্রীগুরু-চরণাশ্রিতা
জয় দাসী শ্রী ললিতা
শ্রীগুরুনিষ্ঠা সেবার মুরতী
আর শ্রীপাদ রামদাস বাবাজী মহারাজ আখর দিচ্ছেন-
যেন, মুরতী ধরে এসেছিল
শ্রীগুরু সেবা নিষ্ঠা,
যেন, মুরতী ধরে এসেছিল।
আজ তাঁর আসবার দিন। মুর্তীমন্ত সেবা নিষ্ঠা এলেন রাধারমণের অমূল্য ধন শ্রীযুক্তেশ্বরী ললিতা সখী দাসী স্বরূপে বাংলার ১২৮০ বঙ্গাব্দের ২৭শে আষাঢ় বৃহস্পতিবারে শ্রীগুরু পূর্ণিমা তিথি যোগে বরিশালের হরিসেন গ্রামে পিতা কৃষ্ণাত্রেয়গোত্রীয় শ্রীল কালীকান্ত ভট্টাচার্য ও মাতা গৌর সুন্দরী দেবীর কোল আলো করে। পিতৃদত্ত নাম গোপালকৃষ্ণ। যাতকের ষষ্ঠীপূজার দিন রাত্রে স্থানীয় জ্যোতিষ পন্ডিত প্রবর রামচন্দ্র সর্বজ্ঞ গননা করে বলেছিলেন - এ ছেলে কখনও ঘরে থাকবে না।
১২৮৪ বঙ্গাব্দে বিদ্যালয় শিক্ষা আরম্ভ হয় গ্রাম্য পাঠশালায় শ্রীমহিম চন্দ্র সরকারের নিকট। মেধাবী ছাত্র গোপাল কৃষ্ণ এরপর স্থানীয় কার্তিক চন্দ্র সর্বজ্ঞের নিকট উচ্চ প্রাথমিকের পাঠ পড়তে পড়তে হঠাৎ সংস্কৃত পড়বার ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্থানীয় গৈলা গ্রামে কবীন্দ্র বাড়ীর সংস্কৃত টোলে কলাপ পড়তে শুরু করেন। পরবর্তীতে খলিশাকোঠার প্রসন্ন স্মৃতিরত্নের টোল থেকে ব্যাকরণের উপাধি লাভ করেন। এরপর পড়াশোনার জন্য মেজ দাদা দীনবন্ধুর সাথে কলকাতা মহানগরে এসে কালিঘাটের বরদা বিদ্যারত্ন মহাশয়ের কাছে কাব্য পড়তে শুরু করেন। এরপর শ্রীধাম নবদ্বীপের বেদান্তবাগীশের টোলে বেদান্তের পাঠ শুরু করেন।
ইতিমধ্যেই বাংলার ১২৯১ সালে উপনয়ন সংস্কার প্রাপ্ত হয়ে গৃহদেবী কালীমাতার সেবা করতে থাকেন এবং ১২৯৪ সালের কালীপূজার দিন পিতৃদেবের নিকট শক্তিমন্ত্রে দীক্ষালাভ করেন।
এইভাবে লেখাপড়া সাঙ্গ করে ১৩০১ সনে পিতৃদেবের প্রয়াণে ইনি আবার দেশের বাড়ি যান। তখন অক্লান্ত পরিশ্রমের এবং বন্ধু বান্ধবদের সাহায্য গ্রামে একটি উচ্চ প্রাথমিক পাঠশালা ও একটি দরিদ্র ভান্ডার স্থাপন করেন।
বিবাহের জন্য পারিবারিক চাপ আসতে থাকায় ইনি গৃহত্যাগ করেন। এরপর তিনি বরাহনগরে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মন্ত্রশিষ্যা গৌরীমাতার সঙ্গ ও কৃপা পান। এরপর তারকেশ্বর, কাশি হরিদ্বার প্রভৃতি তীর্থস্থানে ঘুরতে ঘুরতে বাংলার ১৩০৫ সনে ছদ্মবেশে আলখাল্লা পড়ে মোটা রুদ্রাক্ষের মালা ধারণ করে (কারণ ইতিমধ্যে বাড়ি থেকে তাঁর সন্ধানে বিভিন্ন তীর্থস্থানে লোক পাঠানো শুরু হয়ে গিয়েছে) শ্রীধাম পুরীতে (যে বছর বড়বাবাজী মশাই জাহাজে পুরীযাত্রা করেছিলেন) আসলেন। এখানে তিনি শ্রীল শ্রীমদ্ রাধারমণ দেবের নিজজন শ্রীনবদ্বীপ দাস ও শ্রীগোবিন্দ দাসের সঙ্গে মিলিত হন।
রথযাত্রার কদিন পরে বড়বাবাজী মশাই সগনে পুরীতে পদার্পণ করলেন। নবদ্বীপ দাদা জয়গোপালকে (নবদ্বীপ দাদা এই নামেই ডাকতে) একটি প্রসাদী মালা ও চরণ তুলসী প্রভৃতি দিয়ে স্টেশনে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি আড়ালে থাকবে। দাদা (রাধারমণ দেব) তোমাকে নাম ধরে ডাকলে তবেই তুমি গিয়ে এই মালাটি তাঁর গলায় দেবে। জয়গোপাল ইতিপূর্বে বড়বাবাজী মশাই কে দেখেননি। ট্রেন থামলে বড়বাবাজী মশাই পরিচিত সকলকে আলিঙ্গনাদি করতে করতে একটু অগ্রসর হয়ে বললেন - জয়গোপাল, তুমি ও এসেছো। এস, প্রসাদী মালা দাও। এবার জয়গোপাল ওনার কাছে গেলে ইনি তাঁকে কোলে তুলে নেন আর জয়গোপাল ও মালা দিয়ে শ্রীগুরু চরণে চিরদিনের জন্য বিক্রীত হলেন। এই মহাত্মা পরবর্তীকালে শ্রীধাম পুরীর রাধারমণ কুঞ্জে শ্রীগুরুদেবের থেকে সিদ্ধ মন্ত্র ও সিদ্ধ স্বরূপ প্রাপ্ত হন। নবদ্বীপ দাদা নামকরণ করলেন ললিতা দাসী। গণের সকলের কাছে ললিতা দিদি বা সখীমা নামে পরিচিতি লাভ করেন।
নীলাচলে লীলাকালে,শ্রীরাধারমণ-কুঞ্জে মিলে,
জয়গোপালে গোপীভাব দিলা।
সখী-সাজে সাজাইয়া, স্বরূপ স্বভাব জাগাইয়া,
শ্রীললিতাদাসী প্রকটীলা।।