27/08/2026
*নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় হড়পা বানে প্রলয়ঙ্করী দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিক্রিয়া*
নেপাল-চিন সীমান্তে বুধবার হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকের খোঁজই পাওয়া যায়নি। অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রতি মৃত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শোকপ্রকাশ করছে। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে আচমকা হড়পা বান আসে। সে দেশের পর্যটন পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় (৩৭ জন অনাবাসী-সহ) রয়েছেন।
আসলে উন্নয়নের নামে প্রকৃতি ও পরিবেশকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার খেসারত দিতে হচ্ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছি যে পাহাড়ী এলাকায় যত্রতত্র, পরিকল্পনাহীন রিসোর্ট সহ আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা করা নিষিদ্ধ করতে হবে। অতি সতর্কতার সঙ্গে বাড়িঘর বানাতে হবে। হিমালয় পৃথিবীর অন্যতম সংবেদনশীল ও নবীন পর্বতশ্রেণি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, মেঘভাঙা বৃষ্টি, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৩–২০২২ সময়কালে ভারতের মোট নথিভুক্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রায় ৪৪ শতাংশ হিমালয় অঞ্চলে ঘটেছিল বলে CSE-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সাথেই যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত পর্যটন ও নগরায়ণ, বনভূমি ধ্বংস, পাহাড় কাটা এবং অপরিকল্পিত রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা ও পরিকাঠামো নির্মাণে পাহাড়ের ঢাল কাটা হলে ভূমিধসের প্রবণতা বেড়ে যায় বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।
নেপাল-চিন সীমান্তে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেইরকম দুর্ঘটনা ভারতের উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে আমাদের রাজ্যের উত্তরাংশেও ঘটছে।
অবিলম্বে সতর্ক না হলে হিমালয় পাহাড়কে বাঁচানো যাবে না। হিমালয় সংলগ্ন সবকটি দেশকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে একযোগে এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয় রোখার সবরকম বন্দোবস্ত করতে হবে।