25/08/2026
দিনে ১২ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স চালানো থেকে মহাকাশ গবেষণা! দিনমজুরের ছেলের রূপকথাকেও হার মানানো জয়
আজকাল আগামী: গাড়ি চালক বলে প্রচুর অপমান সহ্য করেছি, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অপমানকেই জেদে পরিণত করেছিলাম।” শান্ত উচ্চারণে জীবনের কঠিন সংগ্রামের কথাগুলো বলে গেলেন ৩১ বছরের দেবজিৎ ভদ্র। প্রতিকূলতার পাহাড় টপকে দদীয়ার গাংনাপুরের এই যুবক আজ ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-র টেকনিশিয়ান।
নদিয়ার গাংনাপুর সিরিষনগর জামতলার বাসিন্দা দেবজিৎ উচ্চমাধ্যমিকের পর টালিগঞ্জের একটি আইটিআই (ITI) থেকে পড়াশোনা করেন। কিন্তু বাবার কাঠের ব্যবসা তলানিতে ঠেকা ও পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতায় সংসারে ঘোর সংকট নেমে আসে।
উপার্জনের তাগিদে ২০১৯ সালে শান্তিপুর হাসপাতালে গ্রুপ-ডি পদে কাজে যোগ দেন দেবজিৎ, পরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন।
অভাব ও অপমান জয় করে মহাকাশ গবেষণা
প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা অ্যাম্বুল্যান্স চালানোর মতো হাড়ভাঙা খাটুনির পরও দেবজিতের নজর ছিল নিজের লক্ষ্যে। ইসরোর ‘চন্দ্রযান’ সফল হওয়ার পরেই তাঁর মনে মহাকাশ সংস্থায় কাজ করার স্বপ্ন উঁকি দেয়।
দিনে ডিউটি সেরে রাতে ইউটিউব দেখে এবং বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। মা গৃহশিক্ষকতা কেন্দ্রে কাজ করে পেতেন মাত্র ১ হাজার টাকা, তবে মাসি ও মামাদের আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি।
সাফল্যের পথ সহজ ছিল না, পরপর ৫-৬ বার ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়েননি। অবশেষে মেলে কাঙ্ক্ষিত জয়। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারে ‘টেকনিশিয়ান বি’ পদে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, সর্বভারতীয় স্তরে এই পদে মাত্র ৬টি আসন ছিল, যার মধ্যে রাজ্য থেকে একমাত্র দেবজিৎ-ই স্থান করে নিয়েছেন।দিন ১৫ আগে নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার পর কান্না ধরে রাখতে পারেননি পরিবার ও দেবজিৎ। মা চায়না দেবী বলেন, “সংসারে হাজারো অভাব থাকলেও ছেলের জেদ ও ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো বাধাই টিকতে পারেনি।”নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী দেবজিৎ জানান, “দেশের জন্য কিছু করতে পারলেই আমার ভালো লাগবে। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।” দেবজিতের এই রূপকথার মতো সাফল্যে এখন উৎসবে মেতেছে পুরো গাংনাপুর।