08/06/2026
ধর্ষকের কখনো ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাত হয় না। ধর্ষক যেকোনো ধর্মের হতে পারে, যেকোনো জাতির হতে পারে, সে নাস্তিকও হতে পারে আবার আস্তিকও হতে পারে। একজন মানুষের পরিচয় তার ধর্ম নয়, তার চরিত্র ও কর্ম।
যে ব্যক্তি নিজের বিকৃত কামনা-বাসনা পূরণের জন্য নারী, শিশু কিংবা দুর্বল মানুষের মর্যাদাকে পদদলিত করতে চায়, যে ব্যক্তি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, যৌন হয়রানি কিংবা ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়, সে মানবতার শত্রু। সেই মুহূর্তে সে কোনো ধর্মের প্রতিনিধি নয়, কোনো জাতির প্রতিনিধি নয়; সে কেবল একজন অপরাধী।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা প্রায়ই এমন কিছু কুরুচিকর ও অমানবিক মন্তব্য দেখতে পাই, যা শুধু একজন নারীকে নয়, পুরো সমাজের নৈতিকতাকেই অপমান করে। একটি শিশুকে বা কোনো নারীকে যৌন দৃষ্টিতে দেখা, তাদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করা কিংবা এমন মানসিকতা প্রকাশ করা সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আমরা অপরাধীর ধর্ম খুঁজতে চাই না, আমরা অপরাধের বিচার চাই। আমরা কোনো সম্প্রদায়কে দোষারোপ করতে চাই না, আমরা সেই বিকৃত মানসিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাই যা নারী ও শিশুর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।
যখন একজন ধর্ষক বা যৌন অপরাধী তার শিকারের যন্ত্রণা, ভবিষ্যৎ এবং মানবিক মর্যাদার কথা একবারও ভাবে না, তখন সমাজেরও উচিত তার প্রতি অযৌক্তিক সহানুভূতি দেখানো নয়, বরং কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ধর্ষণ ও গুরুতর যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা আমাদের প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি।
মানবতা রক্ষার জন্য অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই জরুরি। আসুন, ধর্ম-বর্ণের বিভাজন ভুলে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, সম্মান এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে একসঙ্গে আওয়াজ তুলি।
#নারীর_নিরাপত্তা
#ধর্ষণের_বিরুদ্ধে
#মানবতার_পক্ষে