28/08/2026
বর্তমান ডাবল ইঞ্জিন পরিচালিত বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা রাজ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি এক ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, সর্বোচ্চ বেকার সমস্যা, ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ভাঙ্গা ও খানা-খন্দে পরিণত রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি ও স্মার্ট মিটার বাসনো, কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া, ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, চুরি ডাকাতি তোলাবাজি, ড্রাগ ও মাদক দ্রব্যের প্রসার, ভুলুণ্ঠিত গণতান্ত্রিক অধিকার ইত্যাদি সমস্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত। বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার জনজীবনের কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। এমতাবস্থায় এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট) দলের উদ্যোগে আজ ২৭ আগস্ট নিম্নলিখিত ১২ দফা দাবিতে আগরতলার ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু করে একটি প্রতিবাদ মিছিল শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমার পর প্যারাডাইস চৌমুহনিতে এলে সেখানে এক বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সভায় এই দাবিগুলির সমর্থনে বক্তব্য রাখেন দলের রাজ্য সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদক অরুন ভৌমিক। তিনি বলেন জনগণ তাঁদের জীবনের সমস্যাগুলি সমাধানের আশায় ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করে। কিন্তু বাস্তবে কোন সরকারই সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কাজেই দলমত নির্বিশেষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণআন্দোলনের চাপে এইসব সমস্যা সমাধানে সরকারকে বাধ্য করতে হবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই বেঁচে থাকার পথ সুগম করতে হবে। তিনি এই ১২ দফা দাবির সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে এগিয়ে আসতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। দাবিসমূহ ১) অবিলম্বে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেয়াজ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে হবে।
২) রেশনে চাল, চিনি সহ অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়মিত সরবরাহ করতে হবে।
৩) কোন অজুহাতেই বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধি করা চলবে না এবং স্মার্ট মিটার বাতিল করতে হবে।
৪) শ্রমিকদের ২০০ দিনের কাজ সুনিশ্চিত ও ন্যূনতম মজুরী ৭০০ টাকা প্রদান করতে হবে।
৫) কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (C+2) প্রদান আইনসিদ্ধ করতে হবে।
৬) সরকারি শিক্ষার মান উন্নয়নে স্কুল, কলেজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
৭) সমস্ত সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে।
৮) রাজ্যের জাতীয় সড়ক সহ সমস্ত রাস্তা মেরামত করে চলাচল যোগ্য করতে হবে।
৯) শিক্ষাক্ষেত্র, কাজের জায়গা সহ সর্বত্র মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
১০) রাজ্যে মদ, ড্রাগ ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
১১) অবিলম্বে সমস্ত সরকারি দপ্তরের শূণ্য পদে নিয়োগ করতে হবে।
১২) রাজ্যে চুরি, ডাকাতি, তোলাবাজি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত
করতে পুলিশ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।