08/10/2025
#ইদানিং_মাদ্রাসার_চাকরি_ছেড়ে_তরুণ_শিক্ষকরা_কেন_ব্যবসায়_নামছে #মালোপাড়া
কিছুদিন ধরে লক্ষ্য করছি একের পর এক তরুণ, শিক্ষিত, পরিশ্রমী মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। কেউ অনলাইন ব্যবসায় নামছেন, কেউ আবার ভিন্ন কিছু করছেন। অনেকে ভাবেন, হয়তো তারা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টা একদমই তা নয়।
অনেকের সাথে কথা বলে যা বোঝা যায় এই সিদ্ধান্তটা অনেকটা বাধ্য হয়েই সবাই নেয়।
বেতনের বাস্তবতা।
আমাদের দেশের অধিকাংশ মাদ্রাসায় একজন উস্তাদের মাসিক বেতন ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা হয় । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই টাকায় একজন শিক্ষক পরিবার চালাবেন কীভাবে?
চাল-ডাল, গ্যাস, বিদ্যুৎ,ওষুধ ,সবকিছুর দাম এখন আকাশছোঁয়া। এরকম সময়ে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে সংসার চালানো মানেই প্রতিদিন নতুন করে চিন্তার বোঝা কাঁধে তোলা।
তার উপর অনেক মাদ্রাসায় আবার মাস শেষে বেতন সময়মতো দেয় না। দুই-তিন মাস বকেয়া থাকে। অথচ মাদ্রাসার মুহতামিম সাহেবরা ঠিকই দামী গাড়িতে উঠানামা করেন, প্রভাবশালী মহলে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু উস্তাদের প্রাপ্য টাকাটা তাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না।
#ছুটির_সীমাবদ্ধতা
আরেকটি বড় কষ্টের জায়গা হলো ছুটি।
আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি। কারও আহলিয়া হঠাৎ অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ছুটি চায়, কিন্তু মুহতামিম ছুটি দেইনা। ভাবুন তো, একজন স্বামী হিসেবে এটা কতটা অসহ্য কষ্টের!
অনেক মাদ্রাসায় প্রতি দুই সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ছোট্ট একটা ছুটি থাকে। কেউ অসুস্থ হলেও, পারিবারিক সমস্যা হলেও সহজে ছুটি পাওয়া যায় না। যেন শিক্ষক মানুষ নয়, যন্ত্র। আবার অনেক মাদ্রাসায় এরকম আছে যে শিক্ষকরা মাদ্রাসার আশেপাশে বাসাও নিতে পারবে না,অলটাইম মাদ্রাসাতেই থাকতে হবে।
#উস্তাদদের_মূল্যায়নের_অভাব।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয়টা এখানে।
একজন ছাত্রকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যতটা সম্মান, যতটা গুরুত্ব দেয়, একজন উস্তাদকে তার অর্ধেকটাও দেয় না।
অনেক সময় ছাত্র বা গার্ডিয়ানের সামনে উস্তাদকে অপমান করা হয়, হেয় করা হয়। যাদের হাত ধরে একটি প্রজন্ম ইসলাম শেখে, সেই মানুষগুলোকেই অসম্মান করা হয় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে।
ফলাফল হিসেবে উস্তাদরা মন ভেঙে ফেলছেন, আত্মসম্মান হারাচ্ছেন, তারপর ভাবছেন, এই জীবনে অন্তত নিজের পরিবারটা তো একটু স্বস্তিতে রাখি।
এভাবেই
সংগ্রহীত।