04/04/2026
মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন বিশ্বজয়ী সম্রাট আলেকজান্ডার। যে মানুষটি জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন বিজয়ের নেশায়, অসংখ্য দেশ জয়ের গৌরবে, আজ তিনি নীরব—মৃত্যুর অনিবার্য সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে।
শেষ মুহূর্ত ঘনিয়ে এলে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সেনাপতিদের ডেকে পাঠালেন। সবাই যখন তাঁর শয্যার পাশে জড়ো হলো, তিনি ধীর কণ্ঠে বললেন, “আমার মৃত্যুর পর তোমরা আমার তিনটি ইচ্ছা পূরণ করবে।”
সেনাপতিরা বিস্মিত দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন। আলেকজান্ডার বলতে শুরু করলেন—
“আমার প্রথম ইচ্ছা—আমার কফিন বহন করবে শুধু আমার চিকিৎসকেরা।”
“দ্বিতীয় ইচ্ছা—আমার কফিন যে পথ দিয়ে কবরস্থানে যাবে, সেই পথে আমার অর্জিত সোনা-রূপা ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”
“আর তৃতীয় ইচ্ছা—আমার কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলে থাকবে।”
এই অদ্ভুত ইচ্ছাগুলো শুনে সেনাপতিরা আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। তাদের একজন বিনীতভাবে জিজ্ঞেস করল, “হে সম্রাট, আপনি এমন বিচিত্র ইচ্ছা কেন প্রকাশ করছেন?”
আলেকজান্ডার গভীর একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তাঁর চোখে তখন যেন জীবনের সমস্ত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।
তিনি বললেন, “আমি দুনিয়ার মানুষের জন্য তিনটি শিক্ষা রেখে যেতে চাই।”
“প্রথমত, আমি চাই আমার চিকিৎসকেরা আমার কফিন বহন করুক—যাতে মানুষ বুঝতে পারে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকরাও মৃত্যুকে থামাতে পারে না। তারা যতই দক্ষ হোক, মৃত্যুর সামনে তারা অসহায়।”
“দ্বিতীয়ত, আমি চাই আমার সোনা-রূপা পথে ছড়িয়ে দেওয়া হোক—যাতে মানুষ উপলব্ধি করে, জীবনের সমস্ত ধন-সম্পদ, যার জন্য আমরা সারাটা জীবন ব্যয় করি, তার একটুকুও মৃত্যুর পরে সঙ্গে নেওয়া যায় না। সবই এখানে পড়ে থাকে, আর মানুষ খালি হাতেই চলে যায়।”
“আর তৃতীয়ত, আমার হাত দুটো কফিনের বাইরে রাখার কারণ—মানুষ যেন দেখে, এই পৃথিবীতে আমি এসেছিলাম খালি হাতে, আর চলে যাচ্ছি তেমনি খালি হাতেই।”
কথাগুলো বলে তিনি নীরব হয়ে গেলেন। ঘরে গভীর স্তব্ধতা নেমে এলো। তাঁর সেনাপতিরা তখন বুঝতে পারলেন—একজন বিজেতার জীবনের শেষ শিক্ষাই সবচেয়ে বড় সত্য।
এই গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্ষমতা, সম্পদ, অহংকার—সবই ক্ষণস্থায়ী। শেষ পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে থাকে না কিছুই, শুধু তার কর্ম ও সত্যের উপলব্ধি।