Premananda gosai

Premananda gosai জয় নিতাই

🌷🌷রথযাত্রার প্রথম দিনটিকে কেন 'বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের উৎসব' বলা হয়? রথ কি এখানে কুরুক্ষেত্র থেকে বৃন্দাবনে যাওয়ার বাহন?...
25/07/2026

🌷🌷রথযাত্রার প্রথম দিনটিকে কেন 'বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের উৎসব' বলা হয়? রথ কি এখানে কুরুক্ষেত্র থেকে বৃন্দাবনে যাওয়ার বাহন?🌷🌷

গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শনে শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি হলো 'বিরহ-মিলনের' এক পরম গূঢ় লীলা। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষানুসারে, রথযাত্রার প্রথম দিনটিকে 'বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের উৎসব' বলা হয় কারণ এটি ভক্তের হৃদয়ের সেই আকুলতা প্রকাশ করে, যা ভগবানকে রাজৈশ্বর্য থেকে বৃন্দাবনের সহজ-সরল প্রেমে ফিরিয়ে আনতে চায়।

নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. রথ কি কুরুক্ষেত্র থেকে বৃন্দাবনে যাওয়ার বাহন?

হ্যাঁ, গৌড়ীয় বৈষ্ণব তত্ত্ব অনুযায়ী এর উত্তর হলো— অবশ্যই।

নীলাচল (জগন্নাথ মন্দির):

এটি হলো দ্বারকা বা কুরুক্ষেত্রের প্রতীক, যেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঐশ্বর্যময় বেশে রাজা হিসেবে বিরাজ করেন।

গুণ্ডিচা মন্দির:

এটি হলো বৃন্দাবনের প্রতীক।

রথ:

রথ হলো সেই মাধ্যম, যা দিয়ে বৃন্দাবনবাসীরা (গোপীরা) তাঁদের প্রিয় কৃষ্ণকে কুরুক্ষেত্রের রাজৈশ্বর্য থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বৃন্দাবনের যমুনা পুলিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

২. শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন রথের সামনে নাচতেন, তখন তাঁর মনে শ্রীমতী রাধারাণীর ভাব প্রবাহিত হতো। তিনি মনে করতেন তিনি সেই কুরুক্ষেত্রে আছেন এবং কৃষ্ণকে বৃন্দাবনে ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শ্লোক (মধ্য ১৩.১১৯):

"সেই ত পরাণ-নাথ পাইলু।‌
যাঁহা লাগি' মদন-দহনে ঝুরি' গেনু ॥"

অনুবাদ: (শ্রীরাধার ভাবে মহাপ্রভুর উক্তি) "আজ আমি আমার সেই প্রাণনাথকে ফিরে পেলাম, যাঁর বিরহে আমি এতদিন বিরহ-বেদনায় দগ্ধ হচ্ছিলাম।"

শ্লোক (মধ্য ১৩.১২৬-১২৭):

"অন্যের হৃদয়—মন, মোর মন—বৃন্দাবন,
মনে বনে এক করি' জানি।
তথা তোমার পদদ্বয়, কর যদি উদয়,
তবে আমার পূর্ণ কৃপা মানি ॥"

অনুবাদ: (গোপীদের আকুতি) "হে কৃষ্ণ! অন্যের যা হৃদয়, সেটিই তাদের মন। কিন্তু আমার মন হলো স্বয়ং 'বৃন্দাবন'। তাই আমি আমার মন ও বৃন্দাবন বনকে এক বলে জানি। যদি তুমি আমার এই হৃদয়-বৃন্দাবনে তোমার শ্রীচরণ অর্পণ করো (অর্থাৎ ফিরে এসো), তবেই আমি জানব যে তুমি আমাকে পূর্ণ কৃপা করেছ।"

৩. কেন এটি 'বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তন'?

গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের পরম আচার্যগণ রথযাত্রার এই গূঢ় তত্ত্বটি এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:

ক) কুরুক্ষেত্রের সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

সূর্যগ্রহণের সময় কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণের সাথে বৃন্দাবনবাসীদের দেখা হয়েছিল। কৃষ্ণ সেখানে রাজবেশে, হাতি-ঘোড়া ও বিশাল সৈন্যবাহিনী পরিবেষ্টিত ছিলেন। কিন্তু গোপিকারা কৃষ্ণকে সেই রাজকীয় ঐশ্বর্যে দেখে তৃপ্ত হতে পারেননি। তাঁরা চেয়েছিলেন কৃষ্ণ তাঁর সেই পীতবসন (হলুদ ধুতি) পরুন, হাতে বাঁশি নিন এবং পুনরায় বৃন্দাবনের ধুলোয় তাঁদের সাথে বিহার করুন। রথযাত্রা হলো সেই গোপীদের আকুলতা, যেখানে তাঁরা কৃষ্ণের রথের রশি ধরে তাঁকে বৃন্দাবনের (গুণ্ডিচার) দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।

খ) ঐশ্বর্য বনাম মাধুর্য:

জগন্নাথ মন্দিরে যে পূজা হয়, তা অনেক বিধি-বিধান ও ঐশ্বর্যে পূর্ণ। কিন্তু গুণ্ডিচা মন্দিরে যখন জগন্নাথ যান, তখন সেখানে 'মাধুর্য' বা সহজ প্রেমের প্রাধান্য থাকে। গুণ্ডিচা মন্দির মার্জনের (পরিষ্কার করার) মাধ্যমে মহাপ্রভু শিখিয়েছেন যে, আমাদের হৃদয়কে যদি বৃন্দাবনের মতো নির্মল করি, তবেই জগন্নাথ সেখানে অধিষ্ঠান করবেন।

গ) মহাপ্রভুর রথযাত্রা দর্শন:

মহাপ্রভু যখন রথের রশি স্পর্শ করতেন বা রথের সামনে নাচতেন, তখন তিনি আসলে জগন্নাথকে (কৃষ্ণকে) মিনতি করতেন— "প্রভু! অনেক হয়েছে তোমার রাজার সাজ, এবার চলো তোমার সেই পুরনো বৃন্দাবনে, যেখানে তোমার ময়ূরপুচ্ছ আর বাঁশি আমাদের অপেক্ষায় আছে।" এই কারণেই রথ যখন গুণ্ডিচার দিকে এগিয়ে যায়, ভক্তরা আনন্দে মেতে ওঠেন, কারণ ভগবান তাঁর আসল আলয় বৃন্দাবনে ফিরছেন।

৪. শাস্ত্রীয় সিদ্ধান্ত ও তাৎপর্য

স্কন্দ পুরাণ (পুরুষোত্তম মাহাত্ম্য):

যদিও স্কন্দ পুরাণে রথযাত্রার লৌকিক মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু মহাপ্রভু সেই মাহাত্ম্যকে প্রেমের শিখরে নিয়ে গেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, রথের চাকা যখন ঘোরে, তখন তা আসলে ভক্তের হৃদয়ের 'উৎকণ্ঠা' বা ছটফটানি প্রকাশ করে।

সারকথা:

১. রথযাত্রার প্রথম দিনটি হলো মিলনের দিন।

২. এটি রাজকীয় ঐশ্বর্য (কুরুক্ষেত্র) ত্যাগ করে প্রেমময় ধামে (বৃন্দাবন) প্রবেশের উৎসব।

৩. গৌড়ীয় বৈষ্ণবদের কাছে রথের রশি হলো 'প্রেমের ডোর', যা দিয়ে ভগবানকে নিজের হৃদয়ে বন্দি করে রাখা যায়।

উপসংহার:

রথযাত্রার এই ৯ দিন আসলে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন যাপনের ৯ দিন। রথযাত্রা হলো সেই বিরহী ভক্তদের বিজয়োৎসব, যাঁরা ভগবানকে দুনিয়ার সমস্ত নাম-যশ-ঐশ্বর্য থেকে মুক্ত করে কেবল নিজের প্রেমের কুঞ্জে ফিরিয়ে আনতে চান। এই কারণেই গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতে এটি 'বৃন্দাবন প্রত্যাবর্তনের উৎসব'।🌷🌷

18/07/2026
 #পুরুষোত্তম_মাস_কি ?  #কবে_থেকে_শুরু❓  #শাস্ত্রের_আলোকে_শ্রীশ্রী_পুরুষোত্তম_মাসের_মহিমাকি?আগামী ১৬ই মে ২০২৬ থেকে মহাপাপ...
16/05/2026

#পুরুষোত্তম_মাস_কি ?

#কবে_থেকে_শুরু❓

#শাস্ত্রের_আলোকে_শ্রীশ্রী_পুরুষোত্তম_মাসের_মহিমা
কি?

আগামী ১৬ই মে ২০২৬ থেকে মহাপাপবিনাশী শ্রীপুরুষোত্তম মাস আরম্ভ হতে যাচ্ছে।

শাস্ত্র অনুসারে, পুরুষোত্তম মাস অন্যান্য মাস অপেক্ষা ১০০০ গুণ বেশী ফলদায়ক।

👉পুরুষোত্তম মাস কি?

হিন্দু সৌর পঞ্জিকায় একটি বিশেষ অতিরিক্ত মাস রয়েছে, যা “অধিক মাস”, “মলমাস”, “অধিমাস” এবং সর্বোপরি “পুরুষোত্তম মাস” নামে পরিচিত। বৈষ্ণব শাস্ত্রে এই মাসকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্বীয় মাস বলা হয়েছে।

এই মাসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি সামান্য ভক্তি করলেও প্রেমভক্তি বর্ধিত হয়। ভগবদ্ভজন, হরিনাম, গীতা পাঠ, শ্রীমদভাগবত শ্রবণ, দান, তীর্থস্নান ও বৈষ্ণবসেবা—সবকিছুই এই মাসে অসীম ফলদায়ক।

চন্দ্রবর্ষে থাকে প্রায় ৩৫৪ দিন এবং সৌরবর্ষে প্রায় ৩৬৫ দিন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১১ দিনের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। এই ব্যবধান পূরণ করার জন্য প্রতি প্রায় ৩২ মাস ১৬ দিন ৪ ঘণ্টা অন্তর একটি অতিরিক্ত চন্দ্রমাস যোগ করা হয়। এই অতিরিক্ত মাসই অধিকমাস বা পুরুষোত্তম মাস।

সূর্যসিদ্ধান্তে বলা হয়েছে—

এক মহাযুগে ১৫,৯৩,৩৩৬টি অধিকমাস এবং ৫১,৮৪০,০০০টি সৌরমাস বিদ্যমান।

এইভাবে জ্যোতির্বিদ্যাগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অধিকমাসের আবির্ভাব ঘটে।

👉স্মার্ত ও পারমার্থিক শাস্ত্রের দৃষ্টিভঙ্গি

শাস্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত—

১.স্মার্ত শাস্ত্র — কর্ম, যজ্ঞ, সামাজিক বিধি ইত্যাদি কেন্দ্রিক
২.পারমার্থিক শাস্ত্র — ভগবদ্ভক্তি ও আত্মোদ্ধার কেন্দ্রিক

স্মার্ত শাস্ত্রে অধিকমাসে বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা, যজ্ঞাদি নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। এজন্য একে “মলমাস” বলা হতো।

কিন্তু পারমার্থিক বৈষ্ণব শাস্ত্রে এই মাসকে সর্বোচ্চ ভক্তিময় মাস বলা হয়েছে। কারণ এই মাসে জাগতিক কর্মের বিঘ্ন কম থাকে এবং ভক্তি সহজে বৃদ্ধি পায়।

👉অধিকমাস কীভাবে “পুরুষোত্তম মাস” হলো?

(পদ্মপুরাণ ও নারদীয় পুরাণের কাহিনী)

প্রাচীনকালে অধিকমাসকে কেউ সম্মান করত না। কোনো দেবতার অধীনে ছিল না, কোনো উৎসবও ছিল না। মানুষ তাকে “অপবিত্র মাস” বলে ঘৃণা করত।

দুঃখে কাতর অধিকমাস বৈকুণ্ঠে গিয়ে ভগবান নারায়ণের শরণ নেয়। নারায়ণ তাকে নিয়ে গোলোকধামে শ্রীকৃষ্ণের কাছে যান। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ করুণায় অভিভূত হয়ে বলেন—
“যেমন আমি ‘পুরুষোত্তম’ নামে জগতে প্রসিদ্ধ, তেমনি এই অধিকমাসও আজ থেকে ‘পুরুষোত্তম মাস’ নামে প্রসিদ্ধ হবে।”

তিনি আরও বলেন—
“অন্যান্য মাস জাগতিক কামনা পূরণ করে; কিন্তু এই পুরুষোত্তম মাস নিষ্কাম ভক্তির মাস।”

এবং—
“যে ব্যক্তি নিষ্কাম বা সকামভাবেই হোক না কেন, এই অধিকমাসে ভক্তিভরে ভজন করবে, তার পাপ দগ্ধ হবে এবং সে নিশ্চয়ই আমাকে লাভ করবে।”

👉দ্রৌপদীর পূর্বজন্মের কাহিনী
(নারদীয় পুরাণ)

দ্রৌপদী পূর্বজন্মে ঋষি মেধাবীর কন্যা ছিলেন। দুর্বাসা মুনি তাকে পুরুষোত্তম মাস পালনের উপদেশ দেন। কিন্তু তিনি অধিকমাসকে “মলমাস” ভেবে অবজ্ঞা করেন।

ফলে দুর্বাসা মুনি রুষ্ট হয়ে বলেন—“তুমি এই মাসকে অবজ্ঞা করেছো, তাই পরজন্মে বহু দুঃখভোগ করবে।”

পরবর্তীতে তিনি কঠোর তপস্যা করে শিবের নিকট স্বামী প্রার্থনা করেন। পাঁচবার “স্বামী দাও” বলায় শিব আশীর্বাদ করেন—“তোমার পাঁচজন স্বামী হবে।”

সেই কন্যাই পরজন্মে দ্রৌপদী রূপে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচ পাণ্ডবের পত্নী হন।

👉পাণ্ডবদের পুরুষোত্তম ব্রত পালন
বনবাসকালে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের বলেন—

“তোমরা পুরুষোত্তম মাস উপেক্ষা করেছো, তাই দুঃখ ভোগ করছো।”

পরে পাণ্ডবগণ ভক্তিভরে পুরুষোত্তম ব্রত পালন করেন। “পাণ্ডবগণ বিধিপূর্বক পুরুষোত্তম ব্রত পালন করে সমস্ত দুঃখ অতিক্রম করে পুনরায় অতুলনীয় রাজ্য লাভ করেন।”

👉রাজা দৃঢ়ধন্বার কাহিনী
(স্কন্দপুরাণ)

বাদরিকাশ্রমে নারদ মুনি নারায়ণ ঋষির কাছ থেকে পুরুষোত্তম ব্রতের বিধি শ্রবণ করেন। পরে বাল্মীকি মুনি রাজা দৃঢ়ধন্বাকে সেই ব্রতের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন—“অশ্বমেধ যজ্ঞের চেয়েও অধিক ফল পুরুষোত্তম ব্রত পালনে লাভ হয়।”

👉শাস্ত্রে পুরুষোত্তম মাসের মহিমা

♦পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ঘোষণা: “পুরুষোত্তম মাস পালনকারী আমার নিকট অতি প্রিয়। তার পাপ ভস্মীভূত হয় এবং সে গোলোকধাম লাভ করে।”

♦দুর্বাসা মুনির উক্তি: “পুরুষোত্তম মাসে একবার তীর্থস্নান করলে বহু সহস্র বছর গঙ্গাস্নানের ফল লাভ হয়।”

♦নারদ মুনির উক্তি: “এই মাসের মাহাত্ম্য শ্রবণ করলেও কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়।”

♦বাল্মীকি মুনির উক্তি: “শত অশ্বমেধ যজ্ঞের চেয়েও অধিক ফল পুরুষোত্তম ব্রতে।”

♦নৈমিষারণ্যের ঋষিগণের প্রতি সুত গোস্বামীর উক্তি: “পুরুষোত্তম মাস ভক্তের ইচ্ছাপূরণকারী কল্পবৃক্ষস্বরূপ।”

♦ শ্রীমদ্ভাগবতের দ্বাদশ স্কন্ধে বর্ণিত মহিমা:
এই মাসে ক্ষুদ্র সৎকর্মও কোটিগুণ ফলদায়ক।

এই মাসে প্রতিদিন গীতা পাঠ মোক্ষদায়ক, গোদান, অন্নদান, বিদ্যাদান মহাপুণ্যময়, হরিনাম জপের ফল অসীম বৃদ্ধি পায়।

👉পুরুষোত্তম মাসে করণীয়:-

১. ব্রাহ্মমুহূর্তে জাগরণ
২.ভোরে উঠে স্নান ও জপ করা।
৩.তীর্থস্নান: শাস্ত্রে বলা হয়েছে—সমুদ্রে পতিত নদীতে স্নান শ্রেষ্ঠ।
৪.তিলক ধারণ: গোপীচন্দন তিলক ধারণ করা।
৫. রাধাকৃষ্ণ অর্চন: এই মাসের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ।
৬. হরিনাম জপ: হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র ও
গোবর্ধনধারী গোপাল স্তব
৭. গীতা ও ভাগবত পাঠ: বিশেষত গীতার ১৫তম অধ্যায় “পুরুষোত্তম যোগ”।
৮. প্রদীপদান: প্রতিদিন ঘৃত প্রদীপ অর্পণ।
৯. উপবাস ও সংযম: একাদশী পালন, নিরামিষ ভোজন, অল্প আহার।
১০. বৈষ্ণবসেবা: বৈষ্ণব ও ব্রাহ্মণদের ভোজন করানো।
১১. দান: অন্নদান, গোদান, বস্ত্রদান, বিদ্যাদান,
ভাগবত বিতরণ

👉পুরুষোত্তম মাসে বর্জনীয়
শাস্ত্রে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে—
১. পরনিন্দা
২. মিথ্যা কথা
৩. ক্রোধ ও কলহ
৪. বিষয়ীর অন্ন ভোজন
৫. ইন্দ্রিয়ভোগে আসক্তি
৬. জড়জাগতিক সাহিত্য পাঠ
৭. বৈষ্ণব অপরাধ
৮. জাগতিক ভোগবিলাস
৯. নিষিদ্ধ সম্পর্ক
১০. অহংকার ও কৃপণতা

👉পুরুষোত্তম মাসে নিষিদ্ধ জাগতিক কাজ:
স্মার্ত শাস্ত্রে নিম্নলিখিত কাজ এড়াতে বলা হয়েছে—
বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু, নতুন গৃহ নির্মাণ, যজ্ঞাদি, নামকরণ অনুষ্ঠান!

কারণ এই মাস মূলত জাগতিক কর্মের জন্য নয়, ভগবদ্ভজনের জন্য নির্ধারিত।

👉বিশেষ স্তব

গোবর্ধন ধরম বন্দে গোপালং গোপরূপিণম্ ।গোকুলোৎসবমীশানং গোবিন্দং গোপিকাপ্রিয়ম্ ॥

অর্থঃ
“আমি গোবর্ধনধারী গোপালকে বন্দনা করি, যিনি গোপবালকের রূপধারী ও গোপীদের প্রিয় গোবিন্দ।”

👉ধ্যানমন্ত্র
বন্দে নব ঘনশ্যামং দ্বিভূজম মূরলীধরম।
পীতাম্বর ধরম বন্দে সরাধং পুরুষোত্তমম।

অনুবাদ: “নবঘন মেঘসম শ্যামবর্ণ, বংশীধারী, পীতাম্বর পরিহিত শ্রীরাধাসহ পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণকে আমি প্রণাম করি।”

👉এই মাসে ৩৩ সংখ্যাটি অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ যেমন ৩৩ মালা জপ, ৩৩ বার দণ্ডবৎ প্রণাম, ৩৩ বার স্তব ও ৩৩ বার ধ্যানমন্ত্র উচ্চারণ।

👉হরিভক্তিবিলাস অনুসারে ভক্তদের তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়:
১. স্বনিষ্ঠ ভক্ত: যারা নিজ ব্রত কঠোরভাবে পালন করেন।
২. পরনিষ্ঠ ভক্ত: যারা গুরু ও আচার্যের নির্দেশ অনুসারে ব্রত পালন করেন।
৩. নিরপেক্ষ ঐকান্তিক ভক্ত: প্রধানত হরিনাম, শ্রবণ ও স্মরণে নিবিষ্ট থাকেন।

শ্রীল সনাতন গোস্বামীর সিদ্ধান্ত:
"ঐকান্তিক ভক্তদের জন্য কৃষ্ণস্মরণ ও কৃষ্ণকীর্তনই সর্বোচ্চ সাধনা।”

👉পুরুষোত্তম মাস কোনো সাধারণ অতিরিক্ত মাস নয়; এটি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের করুণাময় মাস।

এই মাসে হরিনাম জপ ১০০০ গুণ বেশী ফলদায়ক,
ক্ষুদ্র দানও অক্ষয় পুণ্যদায়ক, ভগবদ্ভক্তি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, অপরাধ মোচন হয়, জীবনের দুঃখ দূর হয়।
অতএব ভক্তিভরে হরিনাম, গীতা পাঠ, শ্রীমদভাগবত শ্রবণ, বৈষ্ণবসেবা, রাধাকৃষ্ণ ভজন
—এইসবের মাধ্যমে পুরুষোত্তম মাস পালন করলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ কৃপা লাভ হয়।

“যে ব্যক্তি ভক্তিভরে পুরুষোত্তম মাস পালন করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে পরিশেষে গোলোকধাম লাভ করে।"

আসুন আমরা যথাযথ নিষ্ঠা সহকারে পুরুষোত্তম মাসটি পালন করি এব কৃষ্ণ প্রেম ভক্তি লাভে প্রয়াসী হই।

18/04/2026

Sri Nityananda Dham foundation
Horibo

18/04/2026

Sri Sri jagonnath dham Puri

10/04/2026

Moha sammelon

09/04/2026

মতুয়া মহাসম্মেলনে শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ ধামে

09/04/2026

মহানবমীর মহা পূজা
জয় মা বাসন্তী

22/02/2026

শ্রী শ্রী নিত্যানন্দ ধামে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও 7 দিন ব্যাপি মহাযজ্ঞ ও মতুয়া মহা সম্মেলন
#শ্রীধামদুধপুকুর #জয়হরিবল

18/02/2026

mahashivratri Moha yaggo.....joy hori bol

Address

Sri Sri Nityananda Dham Foundation
North 24 Parganas
74223

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Premananda gosai posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Premananda gosai:

Shortcuts

Share

Category