Rupesh Samanta

Rupesh Samanta Here's a creative sky...

18/05/2026

পাঁশকুড়া স্টেশনের দেওয়ালচিত্রে আসুক নেতাজী ও ফুলের উপত্যকা

✍️অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১২৫ বছরের প্রাচীন পাঁশকুড়া রেল স্টেশন-কে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম ব্যস্ত এই জংশনে যাত্রীসুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক টিকিট কাউন্টার, বিশ্রামকক্ষ ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। বিশেষত স্টেশনের প্রবেশপথে তৈরি হওয়া দেওয়ালচিত্র ও কারুকাজ যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
তবে দেওয়ালচিত্রের বিষয়বস্তু নির্বাচনে পাঁশকুড়ার নিজস্ব ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। বিভিন্ন রেল স্টেশনের সৌন্দর্যায়নে স্থানীয় ঐতিহ্য তুলে ধরাই দস্তুর, পাঁশকুড়ার ক্ষেত্রেও তা প্রত্যাশিত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৩৮ সালের ১১ এপ্রিল সুভাষ চন্দ্র বসু পাঁশকুড়া স্টেশনে নেমে তমলুকে গিয়েছিলেন এবং এখানে জনসভাও করেছিলেন। এছাড়া অধিক ফুল উৎপাদনের জন্য পাঁশকুড়া ‘ফুলের উপত্যকা’ হিসেবেও পরিচিত।
তাই নেতাজীর পাঁশকুড়া আগমন, ফুল বাগিচা ছাড়াও পাঁশকুড়ার সাথে সম্পর্কিত বৈষ্ণবীয় সংস্কৃতি, ভারত ছাড়ো আন্দোলন, লবণ সত্যাগ্রহ ও টেরাকোটা মন্দির শিল্পের চিত্র স্টেশনের দেওয়ালচিত্রে ফুটিয়ে তোলা হলে এই ঐতিহাসিক জংশনের পরিচিতি আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। এখনও সময় রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করলে পাঁশকুড়া স্টেশন স্থানীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও গৌরবের এক অনন্য পরিচায়ক হয়ে উঠতে পারে।

✍️ রূপেশ কুমার সামন্ত

(জনস্বার্থে শেয়ার করুন)🙏

পাঁশকুড়া পশ্চিমের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জয় সিন্টু সেনাপতির, ভাঙল ওমর আলির রেকর্ড(নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ)✍️পাঁশকুড়া পশ্চিম ব...
10/05/2026

পাঁশকুড়া পশ্চিমের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জয় সিন্টু সেনাপতির, ভাঙল ওমর আলির রেকর্ড
(নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ)

✍️পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাস দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর থেকে এই কেন্দ্র কখনও কংগ্রেস, কখনও বামপন্থী শক্তি, আবার সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাকে ভেঙে এক নতুন ইতিহাস রচনা করল। বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি ৩২,৫৬৭ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে পাঁশকুড়া পশ্চিমের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বকালের বৃহত্তম জয়ের নজির স্থাপন করলেন।

এই ফলাফল শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং পাঁশকুড়া পশ্চিমের সাত দশকের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রথম তিনটি নির্বাচনে, অর্থাৎ ১৯৫১, ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে কংগ্রেস নেতা শ্যামাদাস ভট্টাচার্য ধারাবাহিকভাবে জয়ী হন। তবে প্রতিবারই তাঁর জয়ের ব্যবধান ক্রমশ কমতে থাকে। ১৯৫১ সালে যেখানে ব্যবধান ছিল ৯,৮২৬ ভোট, ১৯৬২ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৪,৬২১-এ। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই কংগ্রেসের ভিত দুর্বল হতে শুরু করেছিল।

১৯৬৭ সালে বাংলা কংগ্রেস প্রার্থী রজনীকান্ত প্রামানিক ১৫,১৮৩ ভোটে জয়ী হয়ে প্রথম বড় রাজনৈতিক পালাবদলের সূচনা করেন। এরপর ১৯৬৯ সালে আবার বাংলা কংগ্রেস ক্ষমতা ধরে রাখলেও ১৯৭১ সাল থেকে শুরু হয় বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘ আধিপত্য।

বিশেষ করে ওমর আলি পাঁশকুড়া পশ্চিমের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৯৭১, ১৯৭২, ১৯৭৭, ১৯৮২, ১৯৮৭ এবং ১৯৯১ সালে তিনি টানা ছয়বার জয়ী হন। ১৯৭৭ সালে মাত্র ৪৯৩ ভোটে জিতলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ২৫,৩৫১ ভোটে, যা সেই সময়ের নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছিল যে, পাঁশকুড়া পশ্চিম দীর্ঘ সময় ধরে বামপন্থী মতাদর্শের শক্ত জমিতে পরিণত হয়েছিল।

পরবর্তীকালে চিত্তরঞ্জন দাসঠাকুর ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৬ সালে সিপিআইয়ের হয়ে জয়ী হয়ে বামেদের প্রভাব অটুট রাখেন। তবে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাকিউর রহমান খানের সঙ্গে তাঁর লড়াই যথেষ্ট হাড্ডাহাড্ডি হয়েছিল। বিশেষত ১৯৯৬ সালে মাত্র ৩,৪৫৪ ভোটের ব্যবধানে জয় প্রমাণ করেছিল যে, বামেদের একচ্ছত্র আধিপত্যে ফাটল ধরতে শুরু করেছে।

২০১১ সালে রাজ্যের পালাবদলের ঢেউ পাঁশকুড়া পশ্চিমেও পৌঁছায়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ওমর আলি জয়ী হন। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে ফিরোজা বিবি পরপর দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে লক্ষণীয় বিষয়, তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কখনওই অত্যন্ত বড় হয়নি। ২০১৬ সালে মাত্র ৩,১৪৫ এবং ২০২১ সালে ৮,৮৮৯ ভোটের ব্যবধান এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করছিল।

সেই রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই ২০২৬ সালে প্রবল জনসমর্থনে নিজেদের দিকে টেনে নিতে সক্ষম হয় বিজেপি। সিন্টু সেনাপতি-র ৩২,৫৬৭ ভোটের জয় শুধু তৃণমূল প্রার্থী সিরাজ খানকে পরাজিত করেনি, বরং অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ ব্যবধান ছিল ১৯৯১ সালে ওমর আলির ২৫,৩৫১ ভোটের জয়। সেই রেকর্ডও ২০২৬ সালে ভেঙে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ব্যবধান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের ফল। দীর্ঘদিনের গ্রামীণ ক্ষোভ, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশ্নে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। হিন্দু ভোটের উল্লেখযোগ্য মেরুকরণ এবং তরুণ ভোটারদের একাংশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাও এই ফলাফলে বড় ভূমিকা নিয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাঁশকুড়া পশ্চিমের নির্বাচনী ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে জয় আগে কখনও দেখা যায়নি। কংগ্রেসের উত্থান, বাংলা কংগ্রেসের সংক্ষিপ্ত আধিপত্য, বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসন এবং তৃণমূল যুগ অতিক্রম করে এখন বিজেপি এই কেন্দ্রের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

১৯৫১ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রাপথ তাই শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফলের ইতিহাস নয়, বরং বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।
তথ্যসূত্র- পাঁশকুড়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ও রাজনৈতিক বিবর্তন, লেখক- রূপেশ কুমার সামন্ত

©রূপেশ কুমার সামন্ত
(ভালো লাগলে শেয়ার করুন)🙏

লহ প্রনাম 🙏কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী
09/05/2026

লহ প্রনাম 🙏
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী : রাজনীতির এই বিস্ময় প্রতিভা একদিন বসবেন দিল্লির মসনদেও✍️বাংলার রাজনীতিতে আজ এক বিস...
09/05/2026

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী : রাজনীতির এই বিস্ময় প্রতিভা একদিন বসবেন দিল্লির মসনদেও

✍️বাংলার রাজনীতিতে আজ এক বিস্ময়ের নাম শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বিরোধী অতি বড় রাজনীতিবিদও আড়ালে-আবডালে স্বীকার করেন তাঁর রাজনৈতিক দক্ষতা। বিরোধীরা তাঁকে যতই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করুক, লড়াই-সংগ্রামের ময়দানে তাঁর সাহসিকতা, দৃঢ়তা এবং আপসহীন মানসিকতার আকর্ষণে বাংলার মানুষ তাঁর প্রেমে পড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাই তিনি আজ অপ্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচিত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

বিপ্লবের মাটি মেদিনীপুর-এর সন্তান আজ শুধু জননেতা নন, নেতাদেরও নেতা। “Leader of Leaders” — এই অভিধা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গেই যেন স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে। তবে নেতা থেকে জননেতা হয়ে ওঠার পথ কখনও সহজ নয়। তার জন্য প্রয়োজন সংগ্রাম, ধৈর্য, মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক এবং অদম্য মানসিক শক্তি।

শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন দেখলে বিস্ময়ে অভিভূত হতে হয়। নব্বইয়ের দশকের কলেজের ছাত্র রাজনীতি, মাঠে-ঘাটের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের ভেতর দিয়ে হেঁটে চলা এক তরুণ আজ সময়ের আগুনে পুড়ে ইস্পাত হয়ে ওঠা এক ব্যক্তিত্ব। কুচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, হাজার হাজার কিলোমিটার পথ ছুটে চলেছেন তিনি, এক অদম্য সাহসী সৈনিকের মতো। লক্ষ্য স্থির, শৃঙ্খলায় অবিচল। তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত হয় খেটে খাওয়া, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের প্রতিবাদী মেঠো ভাষা। সেই ভাষাই মন জয় করে নিয়েছে আপামর বাঙালির।

স্বাধীনতার আগে তমলুকে গড়ে উঠেছিল ঐতিহাসিক জাতীয় সরকার। সেই ইতিহাসের পেছনে ছিলেন সতীশ সামন্ত, অজয় মুখার্জি, সুশীল ধাড়া, কুমার জানা, বিরেন্দ্রনাথ শাসমল, মাতঙ্গিনী হজরাদের মতো সংগ্রামী মানুষ। সেই ঐতিহ্যের উত্তরসূরি হিসেবেই আজ আবার মেদিনীপুরের সন্তান শুভেন্দু অধিকারী বাংলার মসনদে অধিষ্ঠিত।

তাঁর বক্তব্যে বারবার ফিরে আসে সতীশ সামন্ত, কুমার জানা, বিরেন্দ্রনাথ শাসমল, মাতঙ্গিনী হাজরা, সুশীল ধাড়াদের আদর্শের কথা। মেদিনীপুরের মাতঙ্গিনী বুকে গুলি খেয়েও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়েননি। বিরেন্দ্রনাথ শাসমল মাথা উঁচু রেখেই চিতায় দাহ হয়েছিলেন। বিপ্লবের মাটি মেদিনীপুরের আজকের সন্তান শুভেন্দু অধিকারীও সেই আদর্শেই দীক্ষিত। তাঁর হার না-মানা মনোভাব, মাথা উঁচু রেখে লড়াই করার মানসিকতা যেমন বাংলার মানুষের হৃদয় জয় করেছে, তেমনই জয় করেছে বাংলার মসনদ।

নেতৃত্বদানের গুণ তাঁর সহজাত। এ যেন এক বিস্ময় প্রতিভা। আর সেই প্রতিভাই একদিন তাঁকে পৌঁছে দেবে দিল্লির মসনদেও।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়কে।🙏 আগামী দিনে আপনার হাতে গড়ে উঠুক নতুন বাংলা। আর আপনার চোখে নতুন স্বপ্ন দেখুক সারা ভারত।

✍️ রূপেশ কুমার সামন্ত

আশির মোক্ষোদার ভোট জয়ের হাসি- এক অন্য অভিজ্ঞতার দিনলিপি✍️২৩ এপ্রিল সকালটা ছিল অদ্ভুত শান্ত। বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের সেই শে...
25/04/2026

আশির মোক্ষোদার ভোট জয়ের হাসি- এক অন্য অভিজ্ঞতার দিনলিপি

✍️২৩ এপ্রিল সকালটা ছিল অদ্ভুত শান্ত। বাংলা-ওড়িশা সীমান্তের সেই শেষ গ্রাম—যেন পৃথিবীর শেষ প্রান্তে বসে আছে, নিঃশব্দে। গাছের পাতায় দমকা হাওয়া, দীগন্ত বিস্তৃত ধান ক্ষেত, আর পাশেই ছোট্ট একটা স্কুলঘর—সেখানেই গড়ে উঠেছে ভোটকেন্দ্র। আমি দায়িত্বে, প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে। সবকিছু চলছিল নিরুত্তাপ, নিয়মমাফিক।

হঠাৎ বাইরের নীরবতা ভেঙে উঠল কোলাহলে।

দরজা পেরিয়ে বাইরে এসে দেখি, এক যুবক তার বৃদ্ধা মাকে কোলে তুলে নিয়ে এসেছে। মায়ের শরীর প্রায় নিশ্চল, চোখে বয়সের ক্লান্তি, অথচ কোথাও যেন লুকিয়ে আছে এক অদম্য ইচ্ছা। পাশে দাঁড়িয়ে এক মহিলা—বৃদ্ধার মেয়ে—কণ্ঠে দৃঢ়তা, চোখে দাবির আগুন।

সমস্যাটা দ্রুত স্পষ্ট হল। দু’জনেই চায়, তারা মায়ের “সহচর” হয়ে ভোট দেবে। নিয়ম বলে, একজনই পারবে। কিন্তু এখানে নিয়মের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে সম্পর্কের জটিলতা।

আমি নরম গলায় জিজ্ঞেস করলাম,
“মা, আপনার ভোট কে দেবেন? ছেলে না মেয়ে?”

বৃদ্ধা মা ছেলের কোলে শুয়েই ধীরে বললেন,
“আমার ভোট দেবে ছেলে।”

কথা শেষ হতে না হতেই মেয়ের কণ্ঠ গর্জে উঠল—
“স্যার, মায়ের হয়ে ভোট দেওয়ার অধিকার কি শুধু ছেলের? আমার নেই? মা সারা বছর আমার কাছে থাকে। আমিই দেখাশোনা করি। তাহলে আমি কেন পারব না? দাদা মাকে আমার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসেছে।”

তার কথায় শুধু যুক্তি নয়, জমে থাকা অভিমানও স্পষ্ট।

বৃদ্ধা মা যেন দোদুল্যমান হয়ে পড়লেন। মেয়ের কথায় সাড়া দিয়ে এবার বললেন,
“আমার ভোট দেবে মেয়ে।”

এইবার ছেলের চোখে আগুন। সে বলল,
“মা, ভালো করে ভেবে দ্যাখো। তুমি বোনের কাছে থাকো ঠিকই, কিন্তু তোমার খরচটা আমি দিই!”

এক মুহূর্তে যেন ভোটকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে গেল একটা সংসার।
ভাই-বোনের টানাপোড়েনের মাঝে দাঁড়িয়ে এক অসহায় মা—চোখ ভরে উঠছে জলে।

আমি বুঝলাম, এখানে শুধু একটা ভোটের প্রশ্ন নেই। আছে অধিকার আর অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধা—যার নিজের কণ্ঠটাই যেন সবচেয়ে ক্ষীণ।

তখনই মনে হল, সমাধানটা অন্য পথে করতে হবে। তা না হলে ভোট পরবর্তীতে সব চেয়ে সমস্যায় পড়বেন এই বৃদ্ধা মা নিজেই। ছেলে বা মেয়ে যার দিকেই তিনি যাবেন, অন্য জনের কাছে তখন ব্রাত্য হয়ে পড়বেন।

আমি ধীরে বললাম,
“মা, আপনি কি দাঁড়াতে পারবেন?”

তিনি ঘাড় নেড়ে সম্মতি দিলেন।

ছেলে-মেয়েকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললাম। তারপর খুব যত্ন করে তাকে ভেতরে এনে একটা চেয়ারে বসালাম। বললাম,
“আপনি নিজের ভোট নিজেই দেবেন।”

বৃদ্ধা মা একটু ভয় মেশানো কণ্ঠে বললেন,
“আমি পারবোনি বাপু…”

আমি হেসে বললাম,
“আপনি খুব পারবেন। আমি শিখিয়ে দিচ্ছি।”

পাশ থেকে একটা ডামি ভোটপত্র এনে তার সামনে রাখলাম। ধীরে ধীরে বুঝিয়ে দিলাম—কোথায় চাপ দিতে হয়, কীভাবে বেছে নিতে হয়। তার কাঁপা আঙুলগুলো ধীরে ধীরে স্থির হতে লাগল। একবার, দু’বার… তারপর ঠিকমতো বোতাম টিপলেন।

আমি বললাম,
“দেখলেন মা? আপনি তো একেবারে শিখে গেলেন।”

তার চোখে তখন এক আশ্চর্য আত্মবিশ্বাসের আলো।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাকে ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে ভোটযন্ত্রের কাছে দিয়ে এলাম। কিছুক্ষণ নিঃশব্দ… তারপর হঠাৎ ভেসে এল সেই দীর্ঘ “বিপ” শব্দ।

আমি নরম গলায় বললাম,
“মা, আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।”

বৃদ্ধা মা একটু থমকে রইলেন। তারপর ধীরে মুখ তুলে তাকালেন। তার ঠোঁটে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত হাসি—নির্ভার, নির্মল, বিজয়ী।

সেই হাসি যেন শুধু একটি ভোট দেওয়ার আনন্দ নয়, সেটা ছিল নিজের অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার হাসি।

তিনি আমার মাথায় হাত রেখে বললেন,
“ভালো থাকো বাপু…”

সেই আশীর্বাদের উষ্ণতা মাথায় নিয়ে দুই ভাই বোনের কাছে দিয়ে এলাম মাকে।
আর সেই হাসি—
আশির মোক্ষোদার সেই ভোট জয়ের হাসি— মনে হয়, গণতন্ত্র ঠিক এখানেই বেঁচে থাকে।

✍️ রূপেশ কুমার সামন্ত

25/04/2026

ভোট গ্রহণের জন্য কাঁথি বিতরণ কেন্দ্রের চিত্র

ওড়িশার হাওয়ায় বাংলার ভোট—এক অন্য অভিজ্ঞতার দিনলিপি✍️প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে রওনা হওয়ার মুহূর্তে মনে ছিল এক অদ্ভুত মিশ্র...
24/04/2026

ওড়িশার হাওয়ায় বাংলার ভোট—এক অন্য অভিজ্ঞতার দিনলিপি

✍️প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে রওনা হওয়ার মুহূর্তে মনে ছিল এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি। গুরুদায়িত্ব যেমন দৃঢ় করেছিল মন, তেমনি কোথাও যেন অজানা আশঙ্কার হালকা ছায়াও ঘুরপাক খাচ্ছিল। লক্ষ্য একটাই—একটি নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া উপহার দেওয়া। সেই লক্ষ্যকে বুকে নিয়েই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পৌঁছলাম রাজ্যের একেবারে প্রান্তিক একটি গ্রামে—যার পরিচয়, গোপনীয়তার স্বার্থেই, উহ্য রাখলাম।

এ যেন মানচিত্রের শেষ রেখা। বুথ কেন্দ্রটি দাঁড়িয়ে আছে দুই রাজ্যের সীমানা ছুঁয়ে—একদিকে বাংলা, অন্যদিকে ওড়িশা। একটি সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্তু তার অবস্থান যেন অসাধারণ। বিদ্যালয়ের পেছনের দেওয়ালটি দুই রাজ্যের সীমানা-রেখা টেনে দিয়েছে—ওপারে ওড়িশার বিস্তৃত মাঠ, আর এপারে বাংলার ছোট্ট, সবুজে ঘেরা গ্রাম। খেজুর আর নারিকেল গাছের সারি গ্রামটিকে দিয়েছে এক নিভৃত সৌন্দর্য। ওপারে ধানক্ষেত—আধপাকা সোনালি-সবুজ ঢেউ খেলে যাচ্ছে হাওয়ার ছোঁয়ায়। সেই মাঠের বহু দূরে, চোখে না পড়লেও অনুভবে ধরা দেয়, রয়েছে বঙ্গোপসাগর। তারই ঠান্ডা বাতাস ধানের শীষ ছুঁয়ে, সীমান্ত পেরিয়ে, স্কুলের জানালা দিয়ে হু হু করে ঢুকে পড়ছিল। বাইরে যখন দাবদাহের তাপ, ভেতরে তখন এক আশ্চর্য আরাম—প্রকৃতির নিজের হাতে গড়া শীতলতা।

প্রকৃতির মতোই ভোটের দিন মানুষের মনও ছিল শান্ত, সহনশীল। ভোটের সকালে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির পোলিং এজেন্টরা এলেন হাসিমুখে, গল্প করতে করতে। কোথাও কোনো তিক্ততা নেই, নেই উত্তেজনার ছাপ। চা-খাওয়া, হালকা কথাবার্তা—সব মিলিয়ে যেন এক উৎসবের আবহ। মনে হচ্ছিল, রাজ্যের অন্য প্রান্তে যে ঝান্ডা-ডান্ডা-স্লোগানের উত্তাপ, তার থেকে এ যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ।

তাদের কাছেই জানা গেল, এই অঞ্চলের অতীতও কম আকর্ষণীয় নয়। একসময়, ষাট-সত্তরের দশকে, এটি ছিল ওড়িশার অংশ। পরবর্তীকালে স্থানীয়দের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ভূমি হস্তান্তরের মাধ্যমে এটি বাংলার অন্তর্ভুক্ত হয়। কৌতূহলবশত প্রশ্ন করেছিলাম, “বাংলাকে এতটাই ভালোবাসেন?”
প্রধান দুই দলের পোলিং এজেন্ট হেসে উত্তর দিলেন, “ভালোবাসি বলেই তো আজও গণতন্ত্রে আস্থা রাখি। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে আমরা এক।”
এই সহজ অথচ গভীর কথাগুলো যেন মুহূর্তেই অনেক জটিল তত্ত্বকে সরল করে দিল।

এরই মাঝে এক জওয়ান এসে দাঁড়ালেন। হাতে একটি কাগজ, মুখে দায়িত্বের কঠোরতা। বললেন, “ফায়ারিং কে লিয়ে পহেলে সে এক অর্ডার দে দিজিয়ে। ফর কুইক রেসপন্স।”
আমি একটু থেমে বললাম, “দোজ হু লাভ ডেমোক্রেসি ডু নট ব্রেক দ্য ল। নো টিয়ার, নো ফায়ার।”
ঠিক সেই সময়ই আবার এক ঝলক ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে পড়ল জানালা দিয়ে। যেন দূর সমুদ্রের শ্বাস এসে ছুঁয়ে গেল আমাদের সবাইকে। জওয়ানের মুখের কঠোরতা নরম হয়ে এল, ঠোঁটে ফুটে উঠল এক চিলতে হাসি। স্যালুট ঠুকে তিনি চলে গেলেন।

ভোট চলতে লাগল নিজের ছন্দে। হঠাৎ ফার্স্ট পোলিং অফিসারের ডাক—
“সিরিয়াল নম্বর দুই শত সাতাত্তর, অনিল পন্ডা!”
একজন পোলিং এজেন্ট হেসে বললেন, “স্যার, একটু ভুল হচ্ছে বোধহয়।”
পাশ থেকে অন্য দলের এজেন্ট মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ স্যার, এই গ্রামে একই নামে দু’জন আছেন, একটু মিলিয়ে নিন।”
লিস্ট যাচাই করতে অফিসার ব্যস্ত, আর সেই ফাঁকে এক এজেন্ট পকেট থেকে একটি পান বের করে চুপিচুপি মুখে পুরে ফেললেন। পাশে বসা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের এজেন্ট ইতিমধ্যেই তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। একটুখানি হাসি বিনিময়, আরেকটি পান তার হাতেও এল।
ফিসফিস করে বললেন, “তাড়াতাড়ি খেয়ে নে, না হলে স্যার দেখে ফেলবেন!”
এই ছোট্ট মুহূর্তটুকুতে যেন রাজনৈতিক বিভাজন গলে গিয়ে মানুষ হয়ে ওঠার সহজ ছবি ফুটে উঠল।

আমি চুপ করে বসে ভাবছিলাম—এই কি সেই গণতন্ত্র, যাকে আমরা এতদিন কাগজে-কলমে খুঁজেছি? যেখানে বিরোধিতা আছে, কিন্তু বিদ্বেষ নেই; মতভেদ আছে, কিন্তু মনভেদ নেই।
এরই মাঝে আবার সেই হাওয়া—ওড়িশার দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস, বাংলার জানালা দিয়ে ঢুকে আমাদের ছুঁয়ে যাচ্ছে। সেই হাওয়ায় বসে, দূরের অদৃশ্য সমুদ্রের গর্জন যেন কানে ভেসে আসছিল।
বুঝলাম, গণতন্ত্র শুধু ভোটযন্ত্রের বোতামে সীমাবদ্ধ নয়।
গণতন্ত্র বেঁচে থাকে মানুষের আচরণে, সৌহার্দ্যে, আর একসাথে থাকার সহজ বিশ্বাসে।

✍️ রূপেশ কুমার সামন্ত

শান্ত থাকুন, সচেতন থাকুন—গণতন্ত্রের উৎসব হোক মর্যাদা আর সৌহার্দ্যে ভরা। চললাম একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট পরিচালনা করার উ...
22/04/2026

শান্ত থাকুন, সচেতন থাকুন—গণতন্ত্রের উৎসব হোক মর্যাদা আর সৌহার্দ্যে ভরা। চললাম একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট পরিচালনা করার উদ্দেশ্য নিয়ে।

ভাস্কর দাদার (ভাস্করব্রত পতি, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক) কাছ থেকে আজ একটি মন ভালো করা দারুন উপহার পেলাম। 'মেদিনীপুরের...
17/04/2026

ভাস্কর দাদার (ভাস্করব্রত পতি, শিক্ষক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক) কাছ থেকে আজ একটি মন ভালো করা দারুন উপহার পেলাম। 'মেদিনীপুরের রাজবংশ ও জমিদার বংশ', সম্পাদনায় 'মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি'র পক্ষে ড. মৌদম মজুমদার, ভাস্করব্রত পতি, অপূর্ব কুমার জানা, রিঙ্কু চক্রবর্তী, সুজন বেরা ও সুভাষ জানা। এই বইটিতে আমারও একটি প্রবন্ধ (পলাশীর নন্দীদের জমিদারি, পৃ- ১৫০) একটু জায়গা খুঁজে পেয়েছে। এজন্য সম্পাদক মণ্ডলীকে অসীম কৃতজ্ঞতা জানাই।
ঐতিহাসিক জমিদার বংশ ও রাজবংশ আমাদের মেদিনীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। একসময়ের এইসব রাজা জমিদারদের রচিত কীর্তির নমুনায় আজও আমরা গর্বিত হই। তাদের অকথিত কাহিনী জানতে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।

ভোটের লাইনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্প 🇮🇳✍️গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল মানুষের ভোটাধিকার। এই ভোটের মাধ্যমেই দেশের শাসনব্যবস্থা ...
17/04/2026

ভোটের লাইনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্প 🇮🇳
✍️গণতন্ত্রের মূল শক্তি হল মানুষের ভোটাধিকার। এই ভোটের মাধ্যমেই দেশের শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে, পরিবর্তিত হয়, নতুন দিশা পায়। তাই নির্বাচন শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি এক বৃহৎ সামাজিক দায়িত্ব এবং নাগরিকের অধিকারচর্চার উৎসব। কিন্তু এই উৎসবের সাফল্যের পেছনে যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করেন, সেই ভোটকর্মীদের কথা আমরা অনেক সময়ই ভুলে যাই।

ভোটের দিন আমরা অনেকেই দেখি দীর্ঘ লাইন, গরমে বা বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, ফলে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। বিরক্তি থেকে কখনও কখনও অপ্রীতিকর মন্তব্যও বেরিয়ে আসে। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমরা ভুলে যাই, যাঁদের উদ্দেশ্যে এই রাগ প্রকাশ করছি, তাঁরা আসলে দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। ভোটের আগের দিন থেকেই তাঁদের কাজ শুরু হয়—সরঞ্জাম গ্রহণ, দূরবর্তী কেন্দ্রে যাত্রা, অনিশ্চিত পরিবেশে রাত কাটানো। অনেক সময় ঠিকমতো খাবার বা বিশ্রামও জোটে না।

ভোটের দিন তাঁদের দায়িত্ব আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ভোরের অন্ধকারে শুরু হওয়া ডিউটি বিরামহীন ভাবে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সারাদিন স্থির থেকে, অসংখ্য মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে, শৃঙ্খলা বজায় রেখে তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে মানসিক চাপ—যে কোনও পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা। এত কিছুর পরেও যদি তাঁদের সম্মান না দিয়ে উল্টে কটু কথা বলা হয়, তা নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক।

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, এই ভোটকর্মীরা কোনও আলাদা শ্রেণির মানুষ নন। তাঁরা আমাদেরই মতো—কেউ শিক্ষক, কেউ সরকারি কর্মচারী, কেউ বা আমাদের পরিবারেরই সদস্য হতে পারেন। যেমন একজন সৈনিক সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা করেন, তেমনই ভোটের দিনে এই কর্মকর্তারা দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখেন। তাঁদের দায়িত্বও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই তাঁদের প্রতি সমান সম্মান, সহানুভূতি এবং নিরাপত্তা প্রদান করা আমাদের নৈতিক কর্তব্য।

সমাধানের পথ শুধু প্রশাসনিক উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজন আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। ভোটার হিসেবে আমাদের উচিত ধৈর্য ধরে নিজের দায়িত্ব পালন করা এবং ভোটকর্মীদের প্রতি সদয় আচরণ করা। একটি হাসি, একটি ভদ্র কথা অনেক ক্লান্তি দূর করতে পারে। একইসঙ্গে প্রশাসনেরও উচিত ভোটকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, যাতে তাঁরা আরও স্বচ্ছন্দে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এছাড়াও যারা ভোটার, তাদের জন্য লাইন দেওয়ার পরিবর্তে স্লিপের ব্যবস্থা করা, ভোটকেন্দ্রের বাইরে বসার ব্যবস্থা করা, গরমে শেড ও পাখার ব্যবস্থা করা, পানীয় জলের ব্যবস্থা করা অতি প্রয়োজন।

শেষ কথা, গণতন্ত্র কেবল ভোটের মাধ্যমে টিকে থাকে না, এটি টিকে থাকে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার উপর। ভোটার এবং ভোটকর্মী—উভয়েই এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একে অপরকে বুঝে, সম্মান দিয়ে এবং সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিলেই এই গণতান্ত্রিক উৎসব সত্যিকার অর্থে সফল হয়ে উঠবে।

✍️ রূপেশ কুমার সামন্ত

Address

Panskura

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rupesh Samanta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share