Post Of Islam

Post Of Islam islamic post,gojol,jalsha,nasid,and other:.

মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুল করে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো—ভুলের দরজা বন্ধ নয়, বরং তাওবার দরজা সবসময় খোলা। এই অধ্যায়ে শেখা...
28/03/2026

মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুল করে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো—ভুলের দরজা বন্ধ নয়, বরং তাওবার দরজা সবসময় খোলা। এই অধ্যায়ে শেখানো হয়েছে, কিভাবে একজন বান্দা তার গুনাহ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।”
— (সূরা আন-নূর ২৪:৩১)

আরও বলেন:

“হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ! তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করেন।”
— (সূরা আয-যুমার ৩৯:৫৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

“হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আমি নিজেও দিনে একশ’বার তাওবা করি।”

এই হাদিস আমাদের শেখায়—যিনি নিষ্পাপ নবী, তিনিও প্রতিনিয়ত তাওবা করতেন। তাহলে আমাদের মতো গুনাহগারদের জন্য তাওবা কতটা জরুরি!

তাওবার তিনটি শর্ত রয়েছে:
১. গুনাহ ত্যাগ করা
২. অন্তরে অনুতপ্ত হওয়া
৩. ভবিষ্যতে সেই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করা

আর যদি গুনাহ মানুষের হক সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তার হক ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া অপরিহার্য।

তাওবা শুধু মুখের কথা নয়, এটি হৃদয়ের পরিবর্তন। একজন ব্যক্তি যখন সত্যিকার তাওবা করে, তখন তার জীবন বদলে যায়। সে গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং নেক কাজের দিকে ফিরে আসে।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

“যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবা করে, সে এমন যেন সে কখনো গুনাহই করেনি।”

এটি আল্লাহর অসীম রহমতের প্রমাণ। তিনি শুধু ক্ষমা করেন না, বরং গুনাহ মুছে দেন।

তাওবার সবচেয়ে উত্তম সময় হলো—গুনাহের পরপরই। দেরি করা উচিত নয়, কারণ আমরা জানি না কখন মৃত্যু এসে যাবে। তবে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আগে পর্যন্ত এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাওবার দরজা খোলা থাকে।

তাই একজন মুমিনের জীবন হওয়া উচিত—
গুনাহ হলে দ্রুত তাওবা করা,
আল্লাহর দিকে ফিরে আসা,
এবং তাঁর রহমতের উপর আশা রাখা।

সূত্র: Riyadh-us-Saliheen — Imam Nawawi

একদিন মারুফ আল-কারখী (রহ.) বাগদাদের একটি রাস্তায় হাঁটছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও আল্লাহভীরু একজন মানুষ। মানুষ তাকে...
12/03/2026

একদিন মারুফ আল-কারখী (রহ.) বাগদাদের একটি রাস্তায় হাঁটছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী ও আল্লাহভীরু একজন মানুষ। মানুষ তাকে খুব সম্মান করত, কিন্তু তিনি নিজেকে সবসময় সাধারণ মানুষের একজন মনে করতেন।

সেদিন কয়েকজন লোক একটি বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিল। ভেতরে থেকে হাসি-তামাশা ও গান-বাজনার শব্দ আসছিল। কেউ একজন মারুফ আল-কারখী (রহ.)-কে দেখে বলল,

“হে আবু মাহফূজ! দেখুন, এই ঘরের লোকেরা আল্লাহকে ভুলে শুধু দুনিয়ার আনন্দে মত্ত। আপনি কি তাদের জন্য বদদোয়া করবেন?”

মারুফ আল-কারখী (রহ.) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তিনি ঘরের দিকে তাকালেন। ভেতর থেকে এখনও হাসির শব্দ ভেসে আসছিল।

তারপর তিনি দু’হাত তুলে দোয়া করলেন,

“হে আল্লাহ, যেমন আপনি তাদের দুনিয়ায় আনন্দ দিয়েছেন, তেমনি আখিরাতেও তাদের সুখ দিন।”

এ কথা শুনে উপস্থিত লোকেরা অবাক হয়ে গেল। তারা বলল,

“হে মারুফ! তারা তো গাফেল অবস্থায় আছে। আপনি তাদের জন্য এমন দোয়া করলেন কেন?”

তিনি শান্তভাবে বললেন,

“যদি আল্লাহ তাদের আখিরাতে সুখ দিতে চান, তাহলে অবশ্যই তিনি তাদের তওবা করার তাওফিক দেবেন।”

এই কথা শুনে সবাই নীরব হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল—একজন আল্লাহর প্রিয় বান্দার হৃদয়ে মানুষের প্রতি কত দয়া ও আশা থাকে।

পরে মারুফ আল-কারখী (রহ.) প্রায়ই বলতেন,

“মানুষের জন্য বদদোয়া করা সহজ, কিন্তু তাদের হেদায়েতের জন্য দোয়া করা আল্লাহর নেক বান্দাদের কাজ।”

তার এই দয়া ও কোমল হৃদয়ের কারণেই মানুষ তাকে খুব ভালোবাসত। কারণ তিনি মানুষকে ঘৃণা দিয়ে নয়, বরং দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে আল্লাহর দিকে ডাকতেন।

সূত্র: হিলইয়াতুল আউলিয়া — ইমাম আবু নু‘আইম আল-ইসফাহানী (রহ.)।

লাইলাতুল কদর এমন একটি বরকতময় রাত যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন। এই রাতটি ঠিক কোনটি ত...
12/03/2026

লাইলাতুল কদর এমন একটি বরকতময় রাত যা আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন। এই রাতটি ঠিক কোনটি তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে রমজানের শেষ দশ রাতে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান করতে বলেছেন। হাদিস ও আলেমদের বর্ণনা থেকে কিছু আলামত বা ইঙ্গিত জানা যায়, যেগুলো থেকে মানুষ ধারণা করতে পারে যে হয়তো সে লাইলাতুল কদরের রাত পেয়েছে।

এই রাত সাধারণত খুব শান্ত ও প্রশান্ত হয়। বাতাস থাকে নরম ও স্থির, পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্ত অনুভূত হয়। অনেক নেককার মানুষ বলেন, এ রাতে ইবাদত করলে হৃদয়ে অদ্ভুত এক শান্তি অনুভব হয় এবং আল্লাহর স্মরণে মন সহজেই একাগ্র হয়ে যায়।

এই রাতে আবহাওয়াও সাধারণত মাঝামাঝি থাকে। খুব বেশি গরম বা খুব ঠান্ডা অনুভূত হয় না। পরিবেশ থাকে আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক। অনেক সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং রাতটি উজ্জ্বল মনে হয়।

হাদিসে আরও এসেছে যে এই রাতে শয়তানের কুমন্ত্রণা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। ফলে অনেক মানুষের কাছে ইবাদত করা সহজ মনে হয় এবং তারা দীর্ঘ সময় নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত বা দোয়ায় কাটাতে পারে।

লাইলাতুল কদরের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত হলো এর পরের দিনের সকাল। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে যে পরদিন সূর্য উদয় হয় তীব্র কিরণ ছাড়া, নরম ও শান্ত আলো নিয়ে। সূর্যের আলো তখন তুলনামূলকভাবে কোমল দেখায়।

তবে এই আলামতগুলো সব সময় প্রত্যেকের কাছে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে না। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা রমজানের শেষ দশ রাতেই বেশি বেশি ইবাদত করি, কারণ লাইলাতুল কদর সেই রাতগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এই রাতে বেশি করে যে দোয়াটি পড়তে বলা হয়েছে তা হলো:
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

এই রাতের প্রকৃত সৌভাগ্য হলো যে ব্যক্তি এই রাতে ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করে, আল্লাহ তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। তাই মুমিনের উচিত এই রাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানো। 🌙

মদিনার এক শান্ত সকাল। মানুষজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত। সেই সময় এক মহান সাহাবী মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরল...
12/03/2026

মদিনার এক শান্ত সকাল। মানুষজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত। সেই সময় এক মহান সাহাবী মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরল ও আল্লাহভীরু মানুষ—
Abu Bakr al-Siddiq (আবু বকর সিদ্দীক রা.)।

রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ইন্তেকালের পর তিনি মুসলিমদের খলিফা হয়েছেন। বিশাল ইসলামী রাষ্ট্রের শাসক হয়েও তার জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারণ।

একদিন Umar ibn al-Khattab (উমর রা.) লক্ষ্য করলেন—ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পর আবু বকর (রা.) দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে কোথাও চলে যান। প্রতিদিনই তিনি একইভাবে চলে যান।

উমর (রা.) ভাবলেন, “তিনি কোথায় যান?”

একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বিষয়টি জানবেন। তাই দূর থেকে আবু বকর (রা.)-কে অনুসরণ করতে লাগলেন।

তিনি দেখলেন, আবু বকর (রা.) মদিনার এক প্রান্তে একটি ছোট কুঁড়েঘরে ঢুকলেন। কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর তিনি বের হয়ে চলে গেলেন।

উমর (রা.) খুব অবাক হলেন। তিনি ভাবলেন—এখানে কী করেন তিনি?

আবু বকর (রা.) চলে যাওয়ার পর উমর (রা.) সেই ঘরের ভেতরে ঢুকলেন। ভেতরে গিয়ে দেখলেন—একজন বৃদ্ধ অন্ধ মহিলা সেখানে থাকেন।

উমর (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“এইমাত্র যে ব্যক্তি এখানে ছিলেন, তিনি কে?”

বৃদ্ধা বললেন,
“আমি জানি না তিনি কে। কিন্তু প্রতিদিন ভোরে একজন মানুষ এখানে আসে। তিনি আমার ঘর পরিষ্কার করেন, আমার ছাগলের দুধ দোহন করেন এবং আমার জন্য খাবার প্রস্তুত করে দিয়ে যান। তারপর চুপচাপ চলে যান।”

এই কথা শুনে উমর (রা.)-এর চোখে পানি চলে এলো। তিনি বুঝতে পারলেন—এটি আর কেউ নন, মুসলিমদের খলিফা আবু বকর সিদ্দীক (রা.)।

তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“হে আবু বকর! আপনি আমাদের পরেও খলিফাদের জন্য দায়িত্বকে কত কঠিন করে রেখে গেলেন!”

এই ঘটনা সাহাবীদের চরিত্রের এক অসাধারণ উদাহরণ। ক্ষমতা ও মর্যাদা তাদের অহংকারী করেনি; বরং তারা মানুষের সেবা করাকেই নিজেদের দায়িত্ব মনে করতেন।

Abu Bakr al-Siddiq (রা.) প্রমাণ করে গেছেন—নেতৃত্ব মানে সম্মান নেওয়া নয়; নেতৃত্ব মানে মানুষের সেবা করা।

এই ঘটনা আমাদের শেখায়—আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে-ই, যে মানুষের উপকার করে, গোপনে হলেও।

সূত্র:
Stories of the Sahaba;
Hilyat al-Awliya.

মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে, তখন তার হাত খালি থাকে। আর যখন পৃথিবী থেকে চলে যায়, তখনও সে খালি হাতেই চলে যায়। কিন্তু একটি জিনিস...
12/03/2026

মানুষ যখন পৃথিবীতে আসে, তখন তার হাত খালি থাকে। আর যখন পৃথিবী থেকে চলে যায়, তখনও সে খালি হাতেই চলে যায়। কিন্তু একটি জিনিস আছে যা মানুষের মৃত্যুর পরেও তার সঙ্গে থাকে—তার আমল। ভালো কাজ, নেক কাজ, মানুষের উপকার—এসবই হয়ে ওঠে তার আসল সম্পদ। আর এই নেক কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী আমলগুলোর একটি হলো সদকায়ে জারিয়া।

একবার কল্পনা করুন—আপনি পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। আপনার কবরের মাটি শুকিয়ে গেছে, মানুষ ধীরে ধীরে আপনাকে ভুলে গেছে। কিন্তু হঠাৎ আপনার আমলনামায় সওয়াব লেখা হচ্ছে। কেন? কারণ কোথাও একটি মসজিদে মানুষ নামাজ পড়ছে, আর সেই মসজিদ তৈরিতে আপনার একটি ছোট অংশ ছিল। কোথাও একটি টিউবওয়েল থেকে তৃষ্ণার্ত মানুষ পানি পান করছে, আর সেই পানির উৎস তৈরি করতে আপনি সাহায্য করেছিলেন। কোথাও একটি শিশু কুরআন পড়ছে সেই কুরআন থেকে, যা আপনি একদিন দান করেছিলেন।

আপনি নেই, কিন্তু আপনার সওয়াব চলতেই আছে। এটাই সদকায়ে জারিয়া।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

“মানুষ যখন মারা যায় তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল বন্ধ হয় না—
১. সদকায়ে জারিয়া
২. এমন জ্ঞান, যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়
৩. নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)

এই হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের জীবন খুব ছোট, কিন্তু সে চাইলে এমন কিছু রেখে যেতে পারে যার সওয়াব মৃত্যুর পরেও চলতে থাকবে।

কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা দানের উদাহরণ দিয়ে বলেনঃ

“যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উদাহরণ হলো একটি শস্যবীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মে এবং প্রতিটি শীষে থাকে একশত দানা। আর আল্লাহ যাকে চান তাকে এর চেয়েও বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:২৬১)

ভাবুন তো, একটি ছোট দান—কিন্তু আল্লাহ সেটিকে কত বড় করে দেন!

একজন মানুষ হয়তো খুব ধনী নয়। তার কাছে কোটি টাকা নেই। কিন্তু সদকায়ে জারিয়ার জন্য ধনী হওয়া প্রয়োজন নেই। একটি কুরআন দান করা, একটি গাছ লাগানো, একটি টিউবওয়েল খননে সামান্য অংশ নেওয়া, একটি মাদরাসার ছাত্রের পড়াশোনায় সাহায্য করা—এসবই হতে পারে সদকায়ে জারিয়া।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কোনো গাছ রোপণ করে অথবা কোনো ফসল ফলায়, আর মানুষ, পাখি বা পশু তা থেকে খায়—তাহলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।”
— (সহিহ বুখারি ২৩২০, সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ একটি গাছও মানুষের জন্য সদকায়ে জারিয়া হতে পারে।

আজ পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা মৃত্যুর পরেও বেঁচে আছে তাদের কাজের মাধ্যমে। কোথাও একটি মসজিদ, কোথাও একটি স্কুল, কোথাও একটি কূপ—এসব মানুষের নাম হয়তো আমরা জানি না, কিন্তু আল্লাহ জানেন। আর আল্লাহর কাছে তাদের সওয়াব চলতেই আছে।

একদিন আমাদের সবারই কবর হবে। আমাদের সঙ্গে কেউ যাবে না—না ধনসম্পদ, না বাড়ি, না গাড়ি। যাবে শুধু আমাদের আমল।

সেদিন যদি আমাদের আমলনামায় চলমান সওয়াব লেখা হতে থাকে—এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে?

তাই আজই ভাবুন—আমি কী রেখে যেতে চাই?

হয়তো একটি ছোট কূপ, একটি কুরআন, একটি গাছ, একটি মসজিদের ইট, অথবা একটি উপকারী জ্ঞান। হয়তো সেই ছোট কাজটাই হবে আপনার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত সওয়াবের দরজা।

কারণ সদকায়ে জারিয়া হলো এমন একটি দান, যা দুনিয়ায় মানুষের উপকার করে এবং আখিরাতে আপনার জন্য নূরের আলো হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন আমল করার তাওফিক দান করুন, যার সওয়াব মৃত্যুর পরেও অব্যাহত থাকবে। আমিন।

একবার ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহ.) রাজত্ব ছেড়ে আল্লাহর পথে বের হয়ে দীর্ঘদিন ইবাদত ও মুজাহাদায় জীবন কাটাচ্ছিলেন। তিনি মানুষের...
11/03/2026

একবার ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহ.) রাজত্ব ছেড়ে আল্লাহর পথে বের হয়ে দীর্ঘদিন ইবাদত ও মুজাহাদায় জীবন কাটাচ্ছিলেন। তিনি মানুষের চোখের আড়ালে থাকতে পছন্দ করতেন। সাধারণ পোশাক পরতেন, নিজের পরিচয় গোপন রাখতেন, এবং শ্রম করে জীবিকা অর্জন করতেন।

একদিন তিনি সমুদ্রতীরে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করছিলেন। সারাদিন ভারী বোঝা বহন করার পর সবাই মজুরি পেল। কিন্তু মালিক ভুলবশত তাকে মজুরি দিল না। অন্য শ্রমিকরা বলল, “তুমি গিয়ে তোমার পাওনা চাও।”

তিনি শান্তভাবে বললেন, “যিনি আমার রিযিকের দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি ভুল করেন না।”

রাত হয়ে গেল। সবাই খাবার কিনে খেতে লাগল, কিন্তু তার কাছে কিছুই ছিল না। তিনি সমুদ্রের পাশে বসে দুই রাকাত নামাজ পড়লেন এবং বললেন, “হে আল্লাহ, যদি ক্ষুধা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে আমাকে ধৈর্য দান করুন; আর যদি রিযিক উত্তম হয়, তবে আপনি নিজেই ব্যবস্থা করুন।”

কিছুক্ষণ পর এক অপরিচিত ব্যক্তি এসে তাকে খাবার দিল। বলল, “আমি জানি না কেন, কিন্তু হঠাৎ মনে হলো এই খাবার আপনাকে দিতে হবে।”

ইবরাহিম ইবনে আদহাম (রহ.) মুচকি হেসে বললেন, “যে রাজাকে আমি ছেড়ে এসেছি, তিনি সীমিত দিতেন। আর যার কাছে এসেছি, তিনি না চাইতেই দেন।”

পরদিন কাজের মালিক তার কাছে এসে ক্ষমা চাইল এবং বলল, “গতকাল ভুলে আপনার মজুরি দিইনি।” সে দ্বিগুণ মজুরি দিতে চাইল। তিনি শুধু নিজের প্রাপ্যটুকু নিলেন।

লোকটি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনি বেশি নিলেন না কেন?”

তিনি বললেন, “দুনিয়ার লাভ বাড়ালে হিসাবও বাড়ে। আমি এমন বোঝা নিতে চাই না, যা কিয়ামতের দিনে ভারী হয়ে যাবে।”

তার সঙ্গীরা পরে বলতেন, তিনি মানুষকে কথার মাধ্যমে নয়, নিজের তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন। তিনি দেখিয়েছিলেন—যে ব্যক্তি সত্যিকারভাবে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার হৃদয় অভাবের মধ্যেও ধনী থাকে।

সূত্র: হিলইয়াতুল আউলিয়া — ইমাম আবু নু‘আইম আল-ইসফাহানী (রহ.)।

হযরত মালিক বিন দিনার (র.) একবার এক বসতিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি দেখলেন একটি পরিত্যক্ত জীর্ণ ঘর, যার ভেতরে একজন অস...
11/03/2026

হযরত মালিক বিন দিনার (র.) একবার এক বসতিতে হেঁটে যাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি দেখলেন একটি পরিত্যক্ত জীর্ণ ঘর, যার ভেতরে একজন অসুস্থ ব্যক্তি অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। লোকটির শরীরে কোনো ভালো পোশাক ছিল না, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় সে কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিল এবং চারপাশ থেকে দুর্গন্ধ আসছিল।

মালিক বিন দিনার (র.) কাছে গিয়ে দেখলেন, লোকটির শরীরে ঘা হয়ে গিয়েছে এবং মাছি ভনভন করছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে লোকটি ব্যথায় চিৎকার না করে বিড়বিড় করে বলছিলেন, "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এমন অনেক বিপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন যা তিনি তাঁর অন্য অনেক সৃষ্টির ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।"

মালিক বিন দিনার (র.) অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর বান্দা! আমি তো দেখছি আপনি অত্যন্ত ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে আছেন। আপনার রোগ শোচনীয়, আপনার কোনো সম্পদ নেই, থাকার জায়গাটিও জীর্ণ। এরপরেও আপনি কোন বিপদের কথা বলছেন যা থেকে আল্লাহ আপনাকে মুক্ত রেখেছেন?"

লোকটি মুচকি হেসে তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, "হে মালিক! আপনি কি দেখছেন না আল্লাহ আমার অন্তরকে তাঁর মারেফত বা পরিচয়ের জন্য সজাগ রেখেছেন? তিনি আমাকে এমন লোক বানাননি যার অন্তরে তাঁর স্মরণের পরিবর্তে দুনিয়ার মোহ থাকে। তিনি আমাকে সুস্থ দেহ দেননি ঠিকই, কিন্তু তিনি আমাকে এমন একটি জিহ্বা দিয়েছেন যা সর্বদা তাঁর জিকিরে ব্যস্ত থাকে। এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কী হতে পারে?"

এই কথা শুনে মালিক বিন দিনার (র.) কেঁদে ফেললেন এবং বুঝতে পারলেন যে, প্রকৃত সুখ দেহের সুস্থতায় নয় বরং আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টির (রেজা বিল কাজা) মধ্যে নিহিত। লোকটির অমূল্য ঈমানি শক্তি দেখে তিনি নিজের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য দোয়া চাইলেন।

উৎস: আবু নুআইম আল-ইসফাহানী রচিত 'হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া'।

মদিনার একদিন। আকাশ পরিষ্কার, মানুষজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত। সেই সময় একজন সাহাবী শহরের বাইরে তার ভেড়া চরাচ্ছিলেন। হঠাৎ সেখা...
10/03/2026

মদিনার একদিন। আকাশ পরিষ্কার, মানুষজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত। সেই সময় একজন সাহাবী শহরের বাইরে তার ভেড়া চরাচ্ছিলেন। হঠাৎ সেখানে একজন পথিক এসে তাকে বলল,

“আমাকে একটি ভেড়া বিক্রি করো। আমি তোমাকে ভালো দাম দেব।”

সেই রাখাল যুবক শান্তভাবে বলল,
“এই ভেড়াগুলো আমার নয়। এগুলো আমার মালিকের।”

পথিকটি বলল,
“তোমার মালিক তো এখানে নেই। তুমি একটি ভেড়া আমাকে দিয়ে দাও। আমরা বলব যে নেকড়ে এসে একটি ভেড়া নিয়ে গেছে।”

এই কথা শুনে যুবকটি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর তার চোখ ভিজে উঠল। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,

“তাহলে আল্লাহ কোথায়?”

এই কথাটি শুনে পথিকটি গভীরভাবে কেঁপে উঠল। এই যুবক ছিল একজন সাধারণ রাখাল। তার কাছে ধন-সম্পদ ছিল না, ক্ষমতাও ছিল না। কিন্তু তার হৃদয়ে ছিল গভীর তাকওয়া—আল্লাহর ভয়।

পরে এই ঘটনার কথা মহান সাহাবী
Abdullah ibn Umar (আব্দুল্লাহ ইবন উমর রা.) শুনলেন।

তিনি সেই রাখাল যুবককে খুঁজে বের করলেন। তার সততা দেখে তিনি এতই মুগ্ধ হলেন যে সেই যুবককে তার মালিকের কাছ থেকে কিনে নিলেন এবং তাকে মুক্ত করে দিলেন।

শুধু তাই নয়, সেই ভেড়াগুলোও তাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেন।

এই ঘটনাটি সাহাবীদের যুগের ঈমান ও সততার এক অসাধারণ উদাহরণ। একজন সাধারণ রাখালও জানত—মানুষ না দেখলেও আল্লাহ সবকিছু দেখছেন।

এই ঘটনাটি আমাদের একটি গভীর শিক্ষা দেয়। প্রকৃত ঈমান তখনই প্রকাশ পায় যখন কেউ একা থাকে, আর কেউ তাকে দেখছে না—তবুও সে আল্লাহর ভয় থেকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকে।

সাহাবীদের যুগে মানুষ শুধু মানুষের ভয় করত না; তারা আল্লাহকে ভয় করত। আর সেই তাকওয়াই তাদের চরিত্রকে এত মহান করে তুলেছিল।

সূত্র:
Sahih al-Bukhari, হাদিস ৩৭৯৮;
Sahih Muslim;
Stories of the Sahaba.

একবার হযরত হাসান বসরী (র.)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ করল, "হে ইমাম! আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে গেছে, চারদিকে খ...
10/03/2026

একবার হযরত হাসান বসরী (র.)-এর কাছে এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ করল, "হে ইমাম! আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে গেছে, চারদিকে খরা দেখা দিয়েছে। আমরা বড় বিপদে আছি, আমাদের জন্য দোয়া করুন।" তিনি তাকে বললেন, "বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করো।"

কিছুক্ষণ পর অন্য এক ব্যক্তি এসে বলল, "আমি অত্যন্ত দরিদ্র, অভাব-অনটন আমার পিছু ছাড়ছে না।" তাকেও তিনি বললেন, "আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করো।"

এরপর আরেকজন ব্যক্তি এল এবং বলল, "আমার কোনো সন্তান হচ্ছে না, আমি একটি সন্তানের জন্য খুব ব্যাকুল।" হাসান বসরী (র.) তাকেও একই উপদেশ দিলেন, "তুমি ইস্তিগফার করো।"
সেখানে উপস্থিত হাসান বসরী (র.)-এর এক ছাত্র অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "হে ইমাম! বিভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা নিয়ে এল, অথচ আপনি সবাইকে একই সমাধান দিলেন কেন?"

হাসান বসরী (র.) মুচকি হেসে বললেন, "আমি নিজের থেকে কিছু বলিনি, বরং পবিত্র কুরআনের সূরা নূহের আয়াতটি স্মরণ করেছি। যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন— তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন এবং তোমাদের জন্য জান্নাত ও নহরসমূহ প্রবাহিত করবেন।"

উপস্থিত সবাই বুঝতে পারল যে, মানুষের সব সমস্যার মূল চাবিকাঠি হলো নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর পথে ফিরে আসা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়া।

উৎস: আবু নুআইম আল-ইসফাহানী রচিত 'হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তবাকাতুল আসফিয়া'।

28/02/2026

হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমাদের কাছে রমজান মাস আগমন করেছে!

অতএব তোমরা আল্লাহর সাথে তোমাদের অঙ্গীকার নবায়ন করো এবং *তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে নিজেরা নিজেদের হিসাব নাও!*

এক ব্যক্তি এক বুযুর্গের কাছে এসে বলল, "হযরত! অমুক ব্যক্তি আপনার নামে খুব খারাপ কথা বলছে, সে আপনার বদনাম করে বেড়াচ্ছে।"বু...
16/02/2026

এক ব্যক্তি এক বুযুর্গের কাছে এসে বলল, "হযরত! অমুক ব্যক্তি আপনার নামে খুব খারাপ কথা বলছে, সে আপনার বদনাম করে বেড়াচ্ছে।"

বুযুর্গ লোকটির কথা শুনে বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। বরং তিনি মুচকি হাসলেন এবং ঘরের ভেতর থেকে খুব দামী কিছু উপহার আর সুস্বাদু কিছু ফল একটি থালায় সাজিয়ে নিয়ে এলেন। এরপর তিনি সেই ব্যক্তিকে বললেন, "বাবা! তুমি যে ব্যক্তির কথা বললে, এই উপহারগুলো তার কাছে নিয়ে যাও এবং তাকে আমার সালাম জানিয়ে বলো যে—আমি তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।"

উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে গেল। তারা জিজ্ঞেস করল, "হযরত! সে আপনার গীবত করছে, আর আপনি তাকে উপহার দিচ্ছেন?"
বুযুর্গ তখন এক চমৎকার উত্তর দিলেন। তিনি বললেন:

> "দেখো! সে আমার গীবত করে তার কষ্ট করে কামানো সব নেকি আমার আমলনামায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। সে তো আমার ওপর অনেক বড় এহসান বা দয়া করছে! বিনিময়ে আমি তাকে সামান্য কিছু দুনিয়াবী ফল দিচ্ছি। লাভ তো আমারই হলো!"

হযরত নকশবন্দী সাহেব এই ঘটনার ব্যাখ্যায় বলেন:
> "গীবত হলো একটি ছিদ্রযুক্ত পাত্রের মতো। আপনি সারাদিন আমল করে সেই পাত্রে ভরছেন, কিন্তু গীবতের ছিদ্র দিয়ে সব নেকি অন্যের আমলনামায় চলে যাচ্ছে। আমরা যদি জানতাম গীবত আমাদের আখেরাতের কত বড় ক্ষতি করছে, তবে আমরা অন্য কারো নাম নেওয়ার আগে হাজার বার ভাবতাম।"

গল্পের মূল শিক্ষা:
* ধৈর্য ও সহনশীলতা: কেউ সমালোচনা করলে প্রতিবাদ না করে নিজের আমল ঠিক রাখাই শ্রেষ্ঠত্ব।
* গীবতের ভয়াবহতা: গীবত করলে নিজের ইবাদতের সওয়াব যার গীবত করা হয়েছে তার কাছে চলে যায়।
* নিজের দিকে মনযোগ: অন্যের দোষ না খুঁজে নিজের আমলনামা ভারী করার ফিকির করা।

উৎস: খুতুবাতে ফকির (হযরত মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী)

দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে চলো যেন তুমি একজন পথিক বা মুসাফিরএই দুনিয়া কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়—এটি কেবল একটি অস্থায়ী বিশ্রা...
16/02/2026

দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে চলো যেন তুমি একজন পথিক বা মুসাফির

এই দুনিয়া কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়—এটি কেবল একটি অস্থায়ী বিশ্রামস্থল। ইসলাম আমাদের শেখায়, দুনিয়াতে বসবাস করো ঠিকই, কিন্তু হৃদয়টা এখানে আটকে রেখো না। চলো এমনভাবে, যেন আমরা একজন পথিক—কিছু সময়ের জন্য থেমেছি, আবার সামনে এগিয়ে যাব।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> “দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে থাকো, যেন তুমি একজন অপরিচিত মানুষ বা পথিক।”
> (সহিহ বুখারি: ৬৪১৬)

এই ছোট্ট বাক্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে জীবনের সবচেয়ে বড় দর্শন।

১. কুরআনের দৃষ্টিতে দুনিয়ার বাস্তবতা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে দুনিয়ার জীবনের অসারতা এবং আখিরাতের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে বারবার সতর্ক করেছেন:
* খেলাধুলা ও মরীচিকা: "তোমরা জেনে রাখো, পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, আমোদ-প্রমোদ, জাঁকজমক, তোমাদের পারস্পরিক অহংকার আর ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা মাত্র..." (সূরা হাদীদ: ২০)
* আসল ঠিকানা: "আর এই দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর আখিরাতের আবাসই তো প্রকৃত জীবন, যদি তারা জানত!" (সূরা আনকাবুত: ৬৪)
২. পথিকের জীবন কেমন?
একজন মুসাফির বা পথিক যখন পথ চলে, তখন তার আচরণে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে যা একজন মুমিনের জীবনে থাকা জরুরি:
* ভারী বোঝা বর্জন: মুসাফির জানে সে চিরকাল থাকবে না, তাই সে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমায় না। রাসূল ﷺ বলেছেন: "আমার সাথে দুনিয়ার কী সম্পর্ক? আমি তো সেই আরোহীর মতো, যে একটি গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিল, তারপর তা ছেড়ে চলে গেল।" (তিরমিযী: ২৩৭৭)
* দৃষ্টি থাকে গন্তব্যে: পথিকের মূল লক্ষ্য থাকে তার ঘর বা গন্তব্যে পৌঁছানো। আমাদের আসল ঘর হলো জান্নাত।
৩. দুনিয়ার মোহ কেন বিপজ্জনক?
অতিরিক্ত দুনিয়ামুখিতা মানুষের অন্তরকে পরকাল থেকে বিমুখ করে দেয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
> "আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের জন্য দারিদ্র্যের ভয় করি না, বরং আমি ভয় করি যে, তোমাদের সামনে দুনিয়ার প্রাচুর্য বিছিয়ে দেওয়া হবে... এবং তা তোমাদের ধ্বংস করবে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছিল।"
> (সহিহ বুখারি: ৩১৫৮)

৪. পথিকের মতো চলার ৫টি মূল শিক্ষা

১. প্রয়োজনের অতিরিক্ত সঞ্চয় নয়: অল্পে তুষ্টি মুমিনের বড় সম্পদ।
২. অহংকার বর্জন: দুনিয়ার পদ-মর্যাদা ক্ষণস্থায়ী, তাই এটি নিয়ে গর্ব করা নিরর্থক।
৩. অন্যায় পরিহার: পরের হক নষ্ট করা মানে নিজের সফরের বোঝা ভারী করা।
৪. সময়ের সঠিক বিনিয়োগ: প্রতিটি শ্বাস এক একটি পুঁজি। রাসূল ﷺ বলেছেন: "দুটি নেয়ামতের বিষয়ে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—সুস্থতা এবং অবসর।" (বুখারি: ৬৪১২)
৫. মানুষের সেবা: পথে চলতে চলতে অন্য পথিকদের সাহায্য করাই হলো প্রকৃত মনুষ্যত্ব।

৫. আখিরাতই চূড়ান্ত গন্তব্য
সূর্য ডোবার আগেই মুসাফিরকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। তেমনি জীবনের সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে আমাদের আমলের ঝুলি পূর্ণ করতে হবে। কবরে আমাদের সাথে বাড়ি, গাড়ি বা ব্যাংক ব্যালেন্স যাবে না; যাবে কেবল ঈমান ও নেক আমল।

আল্লাহ তাআলা বলেন:
> "যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না; কেবল সেই মুক্তি পাবে, যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ ও পবিত্র অন্তর নিয়ে।"
> (সূরা শুআরা: ৮৮-৮৯)
>
উপসংহার:
দুনিয়াতে থাকা, কাজ করা বা পরিবার গঠন করা দোষের নয়—বরং দুনিয়াকে আখিরাত গড়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করাই হলো সফলতা। মনে রাখতে হবে, আমরা এখানে মেহমান।

দুনিয়াতে চলো, কিন্তু হৃদয়কে রেখো গন্তব্যের দিকে।
আল্লাহ যেন আমাদেরকে দুনিয়াতে একজন সত্যনিষ্ঠ পথিকের মতো চলার এবং আখিরাতে জান্নাত অর্জনের তাওফিক দেন।
আমীন।

Address

Hazrapota
Plassey

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Post Of Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share