13/11/2025
আজ যখন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠছে তখনও তিনি নিজেকে দাবাং অফিসার জ্ঞান করছেন৷ করবেনই তো! কারন WBCS পাওয়ার আগে থেকেই তিনি রাজ্য প্রশাসনের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি৷ আর সেই কারনেই ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারিতে ফেল করেও মেইনসে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন । তার পর সেই প্রার্থী ২০১৭-র মেইনসে 'প্রথম' ঘোষিত হয়ে নিজ জেলার বিডিও হিসাবে নিয়োগ পান৷ ২০১৭-র মেইনসে 'প্রথম' ঘোষিত ওই প্রার্থীর ইংরেজি আবশ্যিকে প্রাপ্ত নম্বর ০ থেকে বেড়ে ১৬২ এবং আবশ্যিক বাংলায় ১৮ থেকে বেড়ে ১৬৮ হওয়ার অভিযোগও উঠেছিল৷
এইখবর এই কলমচির নয়, এই সংক্রান্ত খবর প্রথম যে সংবাদপত্রটিতে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তার নাম "এই সময়"৷ WBCS এ নম্বর কেলেঙ্কারি এই অভিযোগে গৌরব কুমার বসু নামে এক আইনজীবি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে আরও দুটি মামলা এড হয়৷ তবে গৌরব বাবু সেই সময় জনস্বার্থ মামলার সূত্রেই হাইকোর্টে একটি সাপ্লিমেনটারি এফিডেভিট পেশ করে জানিয়ে ছিলেন যে তিনি ১৭০০৩৫৩ রোল নম্বরের প্রার্থীর রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনে ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে একটি আরটিআই দাখিল করেছিলেন। তাতে তিনি ২০১৭-র ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশান্ত বর্মনের প্রাপ্ত নম্বর জানতে চেয়েছিলেন।
সেটির উত্তরে খোদ রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তরফে স্টেট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার (এসপিআইও) ও ডেপুটি সেক্রেটারি তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ২০১৭-র প্রিলিমিনারিতে সাকুল্যে ৬.৮৬৫ শতাংশ (২০০-র মধ্যে মাত্র ১৩.৭৩) পেয়েছেন। সে বছর প্রিলিমিনারিতে সফল প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৭৯২১। আর ১৭০০৩৫৩ রোল নম্বরের প্রার্থীর র্যাঙ্ক ছিল ৭৩ হাজার পিছনে- ৮০,৯৪৭। এমনকী, সে বছর প্রাথমিক ভাবে প্রকাশিত সফল প্রার্থীদের তালিকায় তাঁর নামই ছিল না। পরে পিএসসি একটি সংশোধনী জারি করে 'সফল' প্রার্থী হিসাবে ১৭০০৩৫৩ রোল নম্বরের নাম ঘোষণা করে। এই 'অন্তর্ভূক্তির' সমর্থনে কোনও নথিও যে পিএসসি-র দপ্তরে নেই, আরটিআইয়ের উত্তরে এমন কথাও এসপিআইও জানিয়েছিলেন।
গৌরবের বক্তব্য, 'এসপিআইও-র জবাব থেকে পরিষ্কার, ওই প্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মারাত্মক অসঙ্গতি ও দুর্নীতি রয়েছে। উচ্চ আদালতের কাছে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিল করার ও আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন
জানিয়েছিলেন৷ বেশ কয়েকটি শুনানিও হয়েছিল৷ কিন্তু কোন জাদুবলে সেই মামলা আজও বোতল বন্দী৷ তবে মামলাটি আবার পুনরায় লাগু হলে আসল সত্যিটা জানা যাবে৷
বলাবাহুল্য,সেসময় পিএসসি-র চেয়ারম্যান ছিলেন দেবাশিস বসু৷
মলয় মুখোপাধ্যায়৷
১০.১১.২৫