11/10/2026
বন অধিকার আইনে দেশজুড়ে ১১ লক্ষের বেশি দাবি মুলতুবি! কলকাতায় আট রাজ্যকে নিয়ে কেন্দ্রের পর্যালোচনা বৈঠক।
বন অধিকার আইন, ২০০৬-এর বাস্তবায়ন নিয়ে উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। দেশজুড়ে ১১ লক্ষেরও বেশি বন অধিকার সংক্রান্ত দাবি এখনও মুলতুবি রয়েছে। অন্যদিকে, ৫৪ লক্ষেরও বেশি দাবি জমা পড়লেও এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৫ লক্ষ স্বত্বের দলিল বিতরণ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বনবাসী আদিবাসী ও অন্যান্য প্রথাগত বনবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর কলকাতায় বন অধিকার আইন, ২০০৬-এর বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিতীয় আঞ্চলিক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট আটটি রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
এই আটটি রাজ্য হলো পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়। পাশাপাশি, বন অধিকার সংক্রান্ত নথির ডিজিটাইজেশন এবং সরকারি রেকর্ডে স্বীকৃত অধিকার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে অন্ধ্রপ্রদেশের আধিকারিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৫৪ লক্ষেরও বেশি বন অধিকার সংক্রান্ত দাবি জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ দাবির ক্ষেত্রে স্বত্বের দলিল বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় ১১ লক্ষ দাবি এখনও বিভিন্ন পর্যায়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া, ১৮ লক্ষেরও বেশি দাবি খারিজ করা হয়েছে।
এখানেই উঠে আসছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বন অধিকার আইনে যাঁরা নিজেদের অধিকার দাবি করেছেন, তাঁদের আবেদন নিষ্পত্তি হতে এত সময় লাগছে কেন?
কলকাতার পর্যালোচনা বৈঠকে মুলতুবি দাবিগুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা, খারিজ হওয়া আবেদনগুলি আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যালোচনা করা এবং বন অধিকার সংক্রান্ত নথিপত্রের অসংগতি দূর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুধু ব্যক্তিগত বন অধিকারের স্বীকৃতি নয়, বনজ সম্পদের ওপর সম্প্রদায়ের অধিকার এবং বিশেষভাবে দুর্বল জনজাতি গোষ্ঠী বা PVTG-দের প্রথাগত আবাসভূমির অধিকার স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
বন অধিকার আইন, ২০০৬-এর মূল উদ্দেশ্য হলো বনবাসী তফসিলি জনজাতি এবং অন্যান্য প্রথাগত বনবাসীদের দীর্ঘদিনের বনভূমি ও বনজ সম্পদ ব্যবহারের অধিকারকে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু বিপুল সংখ্যক দাবি এখনও মুলতুবি থাকায় এই আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক তৎপরতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন সামনে আসছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু স্বত্বের দলিল বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। স্বীকৃত অধিকার সরকারি জমি ও বন বিভাগের রেকর্ডে সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা, গ্রামসভার ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং অধিকারপ্রাপ্ত পরিবারগুলির জীবিকা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মনে রাখতে হবে, সমস্ত খারিজ হওয়া আবেদন বেআইনিভাবে খারিজ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এই পরিসংখ্যানে নেই। প্রতিটি ক্ষেত্রে খারিজের কারণ এবং আইন অনুযায়ী পুনর্বিবেচনার সুযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন দেখার বিষয়, কলকাতার এই পর্যালোচনা বৈঠকের পর রাজ্যগুলি কত দ্রুত মুলতুবি দাবিগুলির নিষ্পত্তি করে এবং বনবাসী আদিবাসী ও অন্যান্য প্রথাগত বনবাসীদের আইনগত অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সূত্র: ভারত সরকারের জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রক ও প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB), ১০ অক্টোবর ২০২৬।
#आदिवासीअधिकार #आदिवासीसमाचार
✍️ কলমে - |