30/05/2026
মাতৃত্ব আমাদের কত কিছু যে প্রথমবার শেখায়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই! হসপিটাল থেকে বাড়ি আসার পর প্রতিটি নতুন মায়ের জীবনেই একটা মস্ত বড় মাইলস্টোন আসে—বাচ্চার পটি নিজের হাতে প্রথমবার পরিষ্কার করা। আজ সেই ‘অভিজ্ঞতা’ নিয়েই কিছু কথা বলি।
জন্মের পর প্রথম এক-দুই দিন নবজাতকেরা যে আলকাতরার মতো ঘন, চটচটে আর কালো রঙের পটি করে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলা হয় 'মিকোনিয়াম' (Meconium)। বাচ্চা যখন মায়ের পেটে থাকে, তখন অ্যামনিওটিক তরল, মিউকাস আর ল্যানুগো (শরীরের সূক্ষ্ম লোম) ইত্যাদি গিলতে থাকে। সেগুলোই বাচ্চার অন্ত্রে জমা হয়ে এই কালো মিকোনিয়াম তৈরি করে। এটি বাচ্চার পেট থেকে পুরোপুরি পরিষ্কার হওয়া মানেই হলো তার পরিপাকতন্ত্র একদম সঠিক নিয়মে কাজ করা শুরু করেছে। হাসপাতালে থাকাকালীন ইহিতার এই কালো পটিগুলো ওখানকার মাসিরাই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন, তাই তখন অতটা গায়ে লাগেনি।
আসল পরীক্ষা শুরু হলো বাড়ি আসার পর। বুকের দুধ বা ফর্মুলা ফিড খাওয়া শুরু করার পর মিকোনিয়ামের কালো রঙ বদলে যখন প্রথমবার হালকা সবুজ থেকে একদম সরষের মতো হলুদ রঙের পটি হলো, সেটি পরিষ্কার করার দায়িত্ব এইবার আমার ওপর।
আগেকার দিনে অন্য কারও বাচ্চার পটি বা বমি দেখলে যেখানে একটা সহজাত অস্বস্তি বা অনীহা কাজ করত, নিজের বাচ্চার ক্ষেত্রে দেখলাম অনুভূতিটা এক নিমেষে উধাও! তখন ওসব অস্বস্তির কোনো জায়গাই থাকে না; বরং মনে শুধু একটাই চিন্তা থাকে—'আমার বাচ্চার পেট পরিষ্কার হয়েছে তো? ও সুস্থ আছে তো?' পরম মমতায়, কোনো রকম দ্বিধা ছাড়াই নিজের হাতে যখন ঈহিতাকে পরিষ্কার করালাম, তখন বুঝলাম—মা হওয়া বোধহয় একেই বলে! এই ছোট ছোট জিনিসগুলোই একজন নারীকে প্রতিদিন একটু একটু করে 'মা' হিসেবে গড়ে তোলে।
আপনারা যখন প্রথমবার নিজের হাতে বাচ্চার পটি পরিষ্কার করেছিলেন, আপনাদের অনুভূতি কেমন ছিল? আমার মতোই কি সব অস্বস্তি ভুলে মায়ায় জড়িয়ে গিয়েছিলেন? আর মিকোনিয়াম (Meconium) শব্দটার সাথে কারা আগে থেকেই পরিচিত ছিলেন?