04/10/2026
বাচ্চার পটি নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা করাটা একটু অস্বস্তিকর হলেও, নতুন বাবা-মায়েদের জীবনের সবচেয়ে বড় টেনশন কিন্তু এটাই! আজ ভাবলাম সেই ‘অস্বস্তিকর’ অথচ অতি পরিচিত টপিকটা নিয়েই কিছু কথা শেয়ার করি।
চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, সদ্যোজাত বাচ্চাদের প্রথম কয়েকদিন আলকাতরার মতো কালচে ও চটচটে পটি হয়, যাকে 'ম্যাকোনিয়াম' (Meconium) বলে। মায়ের পেটে থাকাকালীন অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা মিউকাস পেটে গিয়ে এই পটি তৈরি হয়। এটা একদম স্বাভাবিক, আর ঈহিতা যতদিন হাসপাতালে ছিল, ওই প্রথম পাঁচদিন ওর এই কালো পটিই হয়েছিল।
কিন্তু আসল টেনশন শুরু হলো ওকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর! ম্যাডামের পটি করার কোনো নামগন্ধ নেই! কখনো ৪ দিন, কখনো ৫ দিন, আবার কখনো টানা ৬ দিন পর পর পটি করত। আমি তো রীতিমতো ক্যালেন্ডারে লাল কালিতে দাগ দিয়ে রাখতাম যে, নেক্সট কবে পটি না হলে আমাকে টেনশন শুরু করতে হবে! ডাক্তারবাবু অবশ্য আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, "বাচ্চাদের ৭ দিন পর্যন্ত পটি না করাটা একদম নরমাল। বাচ্চার পেট যদি নরম থাকে আর শক্ত না হয়, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই।"
কিন্তু টানা এত দিন পটি না হওয়ায় ঈহিতার খুব কষ্ট হতো। আর সেই সাথে প্রচণ্ড জোরে জোরে গ্যাস ছাড়ত! ওর ওই কষ্ট দেখে বাড়ির বড়রা কয়েকবার পানের বোঁটা (Paner bota) দিয়ে পটি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও ডাক্তারদের মতে বাচ্চার সেনসিটিভ জায়গায় বাইরের কিছু দেওয়া একেবারেই অনুচিত, কিন্তু বাচ্চার কষ্ট দেখতে না পেরে বড়রা তখন ওই দেশি টোটকাই কাজে লাগিয়েছিলেন।
তখন বাড়ির বড়দের মুখে একটা মজার থিওরি শুনতাম—"আঁতুড়ঘরে যে বাচ্চা কম পটি করে, সে নাকি বড় হলে বেশি বেশি পটি করে! আর যে আঁতুড়ঘরে বেশি করে, সে পরে নরমাল হয়ে যায়।"
যাই হোক, বড়দের কথা সত্যি করেই হোক বা বয়সের নিয়মেই হোক, ঈহিতা এখন অনেকটাই বড় হয়েছে এবং রোজই নিয়ম করে পটি করে। কিন্তু মায়ের টেনশন কি আর এত সহজে যায়! এখন রোজ পটি করলেও, পটির 'টেক্সচার' আর 'কালার' ঠিক আছে কিনা, সেই চিন্তা মা হিসেবে আজও আমার পিছু ছাড়েনি!
নতুন মায়েরা, আপনাদের পুচকেগুলোও কি প্রথমদিকে এমন ৫-৭ দিন পর পর পটি করত? আর পানের বোঁটার এই টোটকা বা আঁতুড়ঘরের ওই থিওরি কি আপনাদের বাড়িতেও শোনা গেছে? কমেন্টে এই মজার অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করুন তো! 👇