প্রতিস্রোত - Protisrot

প্রতিস্রোত - Protisrot আর জি কর মেডিকেল ও নার্সিং কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী

জেলে থাকা কালীন ক্ষুদিরাম বসুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী      বন্দেমাতরম্আমার পিতার নাম শ্রী ত্রৈলক্যনাথ বসু। আমার তিন ভগিন...
11/08/2025

জেলে থাকা কালীন ক্ষুদিরাম বসুর লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী

বন্দেমাতরম্

আমার পিতার নাম শ্রী ত্রৈলক্যনাথ বসু। আমার তিন ভগিনী ও ২টি সহোদর ছিল। তাহার মধ্যে বড় ভগিনী ও আমার উপরোক্ত ভগিনীটি বর্তমান। আমার পিতার উপরে নীচে সহোদর ছিল। তাঁহাদের নাম টাম লইয়া আমার এখন সময় নাই কেবল আমার নিজের জীবনীটুকু সংক্ষেপে লিখিব। আমার বাড়ি বা পৈত্রিক ভিড়া মেদিনীপুর হইতে ১০/১২ ক্রোশ উত্তর মুখে মৌ-বনী নামক একটি ক্ষুদ্র গ্রামে। মেদিনীপুরে আমার জন্ম হয়। মেদিনীপুরে নারাজোল রাজ কাছারীতে আমার পিতা কাজ করিতেন। ছেলেবেলায় আমি অত্যন্ত দুষ্ট ছিলাম। আমার পিতা আমাকে অত্যন্ত ভালবাসিতেন। যখন যা চাইতাম তখন তাহার কোন ত্রুটি হইলে বড়ই গোলমাল বাধাইতাম। যখন আমার বয়স ৪/৭ বৎসর হইল তখন আমি পাঠশালায় পড়িতে যাইতে লাগিলাম। এই সময় আমার পিতা-মাতা দুজনেই মরিয়া গেলেন।

প্রথমে আমার মাতা মরিয়া যান। আমার পিতা আবার বিবাহ করিলেন। এই বিমাতা অভিমানবশত তাঁহার পিত্রালয়েই থাকেন। বিবাহের ১/২ মাস পরেই আমার পিতা মরিয়া গেলেন। আমার একটি দিদিমা ছিলেন, তিনিও ইহাদের সঙ্গে সঙ্গে গত হইলেন। তারপর আমার এক জ্যাঠতুতো ভাই আছেন ইনি আমাদেরই বাড়িতে মানুষ হইয়াছিলেন। এখন ইহার উপরেই সমস্ত ভার চাপা পড়িল। কারণ এই সময়ে অভিভাবক স্বরূপ আর কেহ ছিল না। তারপর বিষয়-পত্র ইত্যাদি কি যে গোলমাল হইয়া গেল তাহা অজ্ঞানতা বশতঃ কিছুই জানিতে পারি নাই।

তারপর দিন কতক পর আমার বড় ভগিনীপতি তাঁহার বাড়ি হইতে আসিয়া আমাকে লইয়া গেলেন। কিন্তু আমার দুষ্ট স্বভাব কিন্তু পূর্ববৎ ঠিক রহিল। ইহার অনেক সাধনেও কিছু হইল না। তখন আমার ভ্রাতাকে ইনি আমাকে লইয়া যাইবার জন্য চিঠি লিখিলেন। তিনি আসিয়া আমাকে লইয়া গেলেন। ইনি মেদিনীপুরের ৮ ক্রোশ উত্তরে আনন্দপুর গ্রামেই তার শ্বশুর বাড়িতে থাকিতেন। আমি সেইখানেই গেলাম। এখানে একটি ছাত্রবৃত্তি স্কুল আছে তাহাতে ভর্তি করিয়া দিলেন। বেশ পড়িতে লাগিলাম। কিন্তু দুষ্ট স্বভাব গেল না। এবার আমার ভ্রাতার কঠিন শাসনে দুষ্টামি মনোভাবটা ভাল হইয়া গেল। এখানে সর্বদা তিরস্কার বশতঃ বিরক্ত হইয়া লুকাইয়া মেদিনীপুর পলাইয়া থাকিলাম। এখানে আমাদের পূর্ব পরিচিত এক ভদ্রলোকের বাড়িতে রহিলাম। এদিকে আমার ভ্রাতা খুঁজিতে খুঁজিতে এখানে আসিয়া উপস্থিত হইলেন ও আমাকে কিন্তু খুব তিরস্কার করিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন এবার কোথায় যাইবে। আমি চাইলাম আমি ভগিনীর নিকটে যাইব ও ইংরাজী শিখিব। এই সময়ে আমার ভগিনীপতি তমলুকে বদলী হইয়া আসিয়াছিলেন। এখান হইতে আমার এক মামাবাড়ির আত্মীয়ের সহিত তমলুকে আসিলাম।

এখানে আসিয়া স্কুলে ভর্তি হইয়া বেশ ভালো পড়া করিতে লাগিলাম। এখানে আমার দুষ্ট স্বভাব একেবারে বদল হইয়া গেল। তারপর ৫ম শ্রেণীতে পরীক্ষা দিলাম। এমন সময় আমার ভগিনীপতি মেদিনীপুরে বদলী হইয়া আসিলেন তখন মেদিনীপুর কলেজে ৪র্থ শ্রেণীতে (মেদিনীপুর কলেজ প্রকৃতপক্ষে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল। কলেজ সংলগ্ন এই স্কুলটি কলেজ নামেই অভিহিত হত। ৪র্থ শ্রেণী মানে ক্লাস সেভেন। সেই সময় এন্ট্রান্স পরীক্ষা চালু ছিল। ক্লাস টেনকে বলা হত ফার্স্ট ক্লাস, ক্লাস নাইনকে সেকেণ্ড ইত্যাদি। ক্ষুদিরামও তাই ব্যবহার করেছেন- সম্পাদক) ভর্তি হইলাম। ইহার কিছুদিন পরেই আমার পরিবর্তন ঘটিতে লাগিল, পড়াশুনার দিকে সেরকম মন না দিয়া শারীরিক পরিশ্রমের দিকে মনঝুঁকিয়া পড়িল ও সমপাঠী সকলের মধ্যে বলিষ্ঠ হইব এই চেষ্টা করিতে লাগিলাম। কিন্তু ইতিমধ্যে আর একটি চিন্তার উদয় হইল যে দেশের জন্যও কিছু করা চাই। এই কথা লইয়া আমার আরও দুইটি বন্ধু এ বিষয়ে সর্বদা আলোচনা করিতাম। এই সময় শুনি দেশে দুর্ভিক্ষ হইতেছে। ক্লাসে ক্লাসে চাঁদা উঠিতে লাগিল। কিন্তু যে চাঁদা তুলিল সে হয় অর্ধেক পাঠাইয়া অর্ধেক নিজে গাপ্ করিয়া লইল। এই লইয়া মন অত্যন্ত খারাপ হইল।

এই কথা মনে হইল যে গভর্নমেন্ট এ বিষয়ে নির্লিপ্ত। ইহার পর হইতে গভর্নমেন্টের উপরে একটা ঘৃণা হইতে লাগিল। কেবল ঐ কারণে হইল তাহা নহে আরও অনেক কারণ মিলিল। তারপর প্রকৃত ইতিহাস ও বহি ইত্যাদিতে ইংরাজের ভারতে আগমন ও তাহার অধিকারের সকল বিষয় যখন প্রকৃত জানিতে পারিলাম তখন মনে অত্যন্ত একটা বিজাতীয় ঘৃণা জন্মিয়া গেল।

আমি এবং আমার উক্ত দুইটি বন্ধু পরস্পর প্রতিজ্ঞা করিলাম দেশের জন্য কিছু একটা করিয়া মরিব। এমন সময় বঙ্গভঙ্গ হইল। সমস্ত ভারতবাসী দেশের উপকারের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইল। এই গোলমালে আরও অনেক ছাত্র এই প্রতিজ্ঞার মতো প্রতিজ্ঞা করিল। আমরাও প্রতিজ্ঞা করিলাম যে যতটুকু পারি হৃদয়ের রক্ত দিয়া মাতৃভূমির উপকার করিব। তারপর একটা কথা ভাবিলাম ঘরে বসিয়া এ ব্রত উদ্যাপন হইতে পারে না। কিছুদিন পরে মন অত্যন্ত চঞ্চল হইয়া উঠিল, মনে মনে এক যুক্তি আঁটিলাম। কাহাকেও না বলিয়া এক ত্রিশূল বানাইয়া লইয়া সন্ন্যাসী হইয়া একদিন রাত্রে পলাইয়া গেলাম। কিছুদিন পরে ভারী কষ্ট হওয়াতে ফিরিয়া আসিলাম ও ভাবিলাম এরূপ করিয়া কিছু হইবে না। এমন সময়ে একজন খাঁটি স্বদেশহিতৈষীর হাতে পড়িলাম। তাঁহার নিকট এ বিষয়ে উপদেশ পাইতে লাগিলাম কি করিয়া দেশের কাজে লাগিতে হইবে। এই সময় আমার ভগিনীপতি আবার স্কুলে ভর্তি হইবার জন্য অনুরোধ করিলেন ও কিছু টাকা দিলেন। আমি আমার উক্ত গুরুর উপদেশ অনুসারে আর একটি বন্ধুর সহিত পূর্বউক্ত আনন্দপুরে তাঁত শিখিতে গেলাম। আনন্দপুরে অনেক তাঁতীর বাস। এইজন্য ঐখানে গিয়া আমার ভ্রাতার বাড়িতে থাকিয়া দিন কতকের মধ্যে তাঁতে কাপড় বুনা শিখিয়া আসিলাম। এখন কি করি। আমরা অনেক ছাত্র মিলিয়া ভদ্রলোকদের নিকট হইতে চাঁদা করিয়া কিছু টাকা তোলা ছিল। সেই টাকা লইয়া আমার বন্ধুটি কলিকাতা হইতে একটি তাঁত কিনিয়া আনিল। সেই তাঁতে আমরা কিছু বেশ কাপড় বুনিলাম। আমাদের উৎসাহ দেখিয়া আরও অনেক ছাত্র তাঁত শিখিতে আসিতে লাগিল। এই সময় 'যুগান্তর' কাগজ বাহির হইল। রীতিমত পড়িয়া বুঝিতে পারিলাম তাঁত বুনিয়া দেশ উদ্ধার হইবে না। ইহাতে একটি প্রবন্ধ মনে পড়ই লাগিয়াছিল সেটি এই- 'স্বদেশ পরের হাতে দিয়ে স্বদেশী চাও কোন আশায়, ঘরের ভিতর চোর ঢুকিয়ে পাহারা দাওয় চৌমাথায়'। ইহার পর হইতে তাঁদের উপর আর ততটা মন লাগিল না। কেবল কি করিব, কি করিব, এবং কিছু একটা করিতে যেন মন আনন্দে বিহ্বল হইয়া উঠিল। ক্রমশ সময় মেদিনীপুরে এজিবিশন হইল। আমি ভলান্টিয়ার হইলাম। ইংরাজের দোষগুণ লইয়া কতকগুলো কাগজ আমার হাতে পড়িল, সেই গুলো নিয়ে আমি সাবধানে বিলি করিতে লাগিলাম। কিন্তু ধরাও পড়িলাম। শরীরের শক্তিতে মারধোর করিয়া পালাইয়া গেলাম। দিন কতোক চুপচাপ রইলাম। জানিতে পারিলাম যে আমাকে গ্রেপ্তার করিবে। একদিন রাত্রে তাঁতশালায় বসিয়া আহার করিতেছি এমন সময় ১০/১২ জন কনস্টেবল ও দুইজন Inspector আসিয়া আমায় গ্রেপ্তার করিল (প্রায় ১ মাস পর)। হাজতে তিন দিন রহিলাম জামিনে খালাস হইয়া আসিলাম। সেশন সোপর্দ হইল। আবার একদিন হাজতে রহিলাম। জামিনে খালাস হইলাম। জজের নিকট ১ দিন বিচার হইয়া ২য় দিন মোকদ্দমা গভর্ণমেন্ট উঠাইয়া লইল, শুনিলাম। তখন আমার বয়স প্রায় ১৫ বৎসর হইবে।

__________________________________________

‘’....এ দেশে তিনি তাঁহার সমযোগ্য সহযোগীর অভাবে আমৃত্যুকাল নির্বাসন ভোগ করিয়া গিয়াছেন। তিনি সুখী ছিলেন না। তিনি নিজের মধ্...
29/07/2025

‘’....এ দেশে তিনি তাঁহার সমযোগ্য সহযোগীর অভাবে আমৃত্যুকাল নির্বাসন ভোগ করিয়া গিয়াছেন। তিনি সুখী ছিলেন না। তিনি নিজের মধ্যে যে এক অকৃত্রিম মনুষ্যত্ব সর্বদাই অনুভব করিতেন চারি দিকের জনমণ্ডলীর মধ্যে তাহার আভাস দেখিতে পান নাই। তিনি উপকার করিয়া কৃতঘ্নতা পাইয়াছেন, কার্যকালে সহায়তা প্রাপ্ত হন নাই। তিনি প্রতিদিন দেখিয়াছেন–আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না; আড়ম্বর করি, কাজ করি না; যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করি না; যাহা বিশ্বাস করি তাহা পালন করি না; ভূরিপরিমাণ বাক্যরচনা করিতে পারি, তিলপরিমাণ আত্মত্যাগ করিতে পারি না; আমরা অহংকার দেখাইয়া পরিতৃপ্ত থাকি, যোগ্যতালাভের চেষ্টা করি না; আমরা সকল কাজেই পরের প্রত্যাশা করি, অথচ পরের ত্রুটি লইয়া আকাশ বিদীর্ণ করিতে থাকি; পরের অনুকরণে আমাদের গর্ব, পরের অনুগ্রহে আমাদের সম্মান, পরের চক্ষে ধূলিনিক্ষেপ করিয়া আমাদের পলিটিকস্‌, এবং নিজের বাক্‌চাতুর্যে নিজের প্রতি ভক্তিবিহ্বল হইয়া উঠাই আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। এই দুর্বল, ক্ষুদ্র, হৃদয়হীন, কর্মহীন, দাম্ভিক, তার্কিক জাতির প্রতি বিদ্যাসাগরের এক সুগভীর ধিক্কার ছিল। কারণ, তিনি সর্ববিষয়েই ইহাদের বিপরীত ছিলেন। বৃহৎ বনস্পতি যেমন ক্ষুদ্র বনজঙ্গলের পরিবেষ্টন হইতে ক্রমেই শূন্য আকাশে মস্তক তুলিয়া উঠে বিদ্যাসাগর সেইরূপ বয়োবৃদ্ধি-সহকারে বঙ্গসমাজের সমস্ত অস্বাস্থ্যকর ক্ষুদ্রতাজাল হইতে ক্রমশই শব্দহীন সুদূর নির্জনে উত্থান করিয়াছিলেন, সেখান হইতে তিনি তাপিতকে ছায়া এবং ক্ষুধিতকে ফল দান করিতেন, কিন্তু আমাদের শতসহস্র ক্ষণজীবী সভাসমিতির ঝিল্লিঝংকার হইতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ছিলেন।.."

-বিদ্যাসাগরচরিত,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৭ ২৫মিনিট এ মিছিল করে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে চললেন ভগৎ সিং ,রাজগুরু ,  সুখদেব..সবার কন্ঠে জেলের আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয়ে ...
23/03/2025

৭ ২৫মিনিট এ মিছিল করে ফাঁসির মঞ্চের দিকে এগিয়ে চললেন ভগৎ সিং ,রাজগুরু , সুখদেব..সবার কন্ঠে জেলের আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয়ে উঠেছিলো- " ইনকিলাব জিন্দাবাদ , বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক " | ভূপেন্দ্র কিশোর রক্ষিত রায়ের কথায় "যাদের নয়নে বন্হিশিখা , বাহুতে অমিত শক্তি ,হৃদয়ে আত্ম বলি দান এর আবেদন, রক্তে সর্বনাশ এর নেশা "
১৯৩১ সালের ২৩ সে মার্চ লাহোর সেন্ট্রাল জেলে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিয়েছিলেন অগ্নি যুগ এর বীর সেনা ভগৎ সিং |১৯০৭ সালের ২৮ এ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাব এর বাংগা গায়ের এক বিপ্লবী পরিবারে জন্ম |পিতা কিষেন সিং ও দুই কাকা অজিত সিং এবং সরণ সিং সবাই স্বদেশী আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন |মানুষ এর চরিত্র তার পরিবেশ এর প্রভাবে বিকশিত হয়ে ওঠে |ছোটো বয়সে কর্তার সিং সারাবা কে দেখে গভীর ভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন |আবার শিক্ষক হিসেবে বিপ্লবী নেতা সচিন সান্যাল , জয়চাঁদ বিদ্যালঙ্কার প্রমুখ এর সান্নিধ্যে আসেন | ভগৎ সিং বিশ্বাস করতেন অন্ধভাবে কোনও মতামত ও পন্থা অনুসরণ করা উচিত নয় সমস্ত কিছু কে মূল্যায়ন করে তার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে তবেই তা গ্রহণ করতে হয় |তাই তার জ্ঞানাকাঙ্ক্ষা ছিল তীব্র ,তাকে নিবিড় ভাবে পড়তে দেখা যেতো ধনতন্ত্র , সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ধর্ম বিভিন্ন বিষয় | জেলে থাকা কালীন ও তার বই পড়া ছিল অব্যাহত |শেষ ইচ্ছে তে জানিয়ে ছিলেন তিনি লেনিনের জীবনী পড়ছেন সেটি শেষ করে যেতে চান মৃত্যুর আগে |
দেশের জন্য কাজ করবো বলা সহজ কিন্তু করা খুব কঠিন | কারণ পদে পদে অপেক্ষা করে থাকে অসংখ্য বিপত্তি, দুঃখ কষ্ট এবং মৃত্যু সম অশেষ পীড়ন | দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও সাহসিকতা | কারণ ইতিহাস তাদেরই শুধু মনে রাখে যারা ষোলো আনা দিতে সক্ষম |যারা পারে না তারা হারিয়ে যায় মানুষের মন থেকে | ভারত মাতার দামাল ছেলেদের মুখে মুখে তখন রামপ্রসাদ বিসমিল এর লেখা
"
Sarfaroshi ki tamanna
Abb hamaare dil mein hai
Dekhna hai zor kitna
Baazu-e-qaatil mein hai"
এরপর ১৯২৭ সালের মে মাসে কাকোরী ষড়যন্ত্র মামলার সাথে যুক্ত থাকার সন্দেহে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং রাজসাক্ষী হিসেবে পেশ করতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন | ঠাকুর রোশন সিং, রাজেন্ লাহিড়ী ও আসফাকউল্লার ফাঁসির মধ্য দিয়ে কাকোরী মামলার শেষ হয় |১৯২৮ সালের ১৭ ই নভেম্বর সর্ব ভারতীয় নেতা পাঞ্জাব এর লালা লাজপত রায় এর মৃত্যু হয় পুলিশ এর অত্যাচার এ | তার ঠিক ১ মাস পর ভগৎ সিং ,রাজগুরু , সুখদেব.,প্রমুখ বিপ্লবী রা তার বদলা নিলেন পুলিশ এর ছোটো কর্তা s.p স্যান্ডার্স কে হত্যা করে | এরপর সহকর্মী ভগবতী চরণ ভোরার স্ত্রী দুর্গা দেবীর সাথে ছদ্মবেশে ভগৎ সিং এলেন বাংলায় | প্রথমে অস্ত্র সংগ্রহ এর চেষ্টা তে বিশেষ সাফল্য পেলেন না এরপর দেখা হল বাংলার যতীন দাস এর সাথে | এরপর ৮ এই এপ্রিল ১৯২৯ সাল দিল্লী অ্যাসেমবলি হল এ বোমা বিস্ফোরণ করে স্বেচ্ছায় ধরা দিলেন ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত |আস্তে আস্তে পুলিশ এর তল্লাশি তে ধরা পড়লেন যতীন দাস সহ বাকিরা | ১৯২৯ এর ১৫ জুন ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত জেলের মধ্যে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার দাবি তে অনশনে বসেন পরে ১৩ জুলাই থেকে বাকি সদস্যরাও যোগ দিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম যতীন দাস |দীর্ঘ তেষট্টী দিনের অনশন শেষে যতীন দাস শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন.. এরপর ভগৎ সিং এর ফাঁসি তে লাহোর থেকে বাংলা সকলের মধ্যে আগুন জ্বলে ওঠে | একের পর এক আঘাত নাড়িয়ে দেয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কে| মানুষের কান্না বুকে নিয়ে বিপ্লবী দের পথ চলা শুরু হয় সেই পথচলা আজও শেষ হয় নি. এখনও আকাশে বাতাসে দুঃখ এর হাহাকার ,ক্ষুধার আর্তনাদ, অভাবের অব্যক্ত বেদনা | কাজী নজরুল ইসলাম এর কথায়
"মহা- বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না –
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত!"

কলমে -
প্রীতি নায়ক, বি এস সি নার্সিং, দ্বিতীয় বর্ষ

14/01/25R G kar medical college এর ডাক্তারী, নার্সিং,  paramedical ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত "প্রতিস্রোত সাংস্কৃতি...
15/01/2025

14/01/25

R G kar medical college এর ডাক্তারী, নার্সিং, paramedical ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত "প্রতিস্রোত সাংস্কৃতিকগোষ্ঠী"র উদ্যোগে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠান.......
গতকাল অনেক সদস্যই পরীক্ষা বা বিশেষ কিছু কারণে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, কিন্তু তারা মননে সর্বদাই প্রতিস্রোতী 🌹

এরকম দুর্গম পথ অতিক্রম করা সক্ষম তখনই যখন স্রোতের বিপরীতে প্রতিস্রোতীরা একত্রিত হয়।

আগামীর জন্য শুভেচ্ছা জানাই 🌹
এইভাবেই দিকে দিকে বইতে থাকুক প্রতিস্রোতের হাওয়া ........

29/07/2024
আজ ঘরে ঘরে প্রয়োজন প্রীতিলতাকে;দেশের আজ বড়ো প্রয়োজন প্রীতিলতাকে ।আজ প্রয়োজন ঘরে ঘরে মেয়েরা সবাইপ্রীতিলতার মতো হওয়ার...
05/05/2024

আজ ঘরে ঘরে প্রয়োজন প্রীতিলতাকে;
দেশের আজ বড়ো প্রয়োজন প্রীতিলতাকে ।
আজ প্রয়োজন ঘরে ঘরে মেয়েরা সবাই
প্রীতিলতার মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখুক;
এই দেশকে, মানবসভ্যতাকে অন্ধকারের গ্রাস থেকে
বাঁচাতে মেয়েরা সবাই প্রীতিলতা হয়ে উঠুক ।

☘️| ‘রক্তে আমার লেগেছে যে আজ সর্বনাশের নেশা..’ |☘️প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কে দেখেছেন..?ছোট করে ছাঁটা চুল, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আ...
05/05/2024

☘️| ‘রক্তে আমার লেগেছে যে আজ সর্বনাশের নেশা..’ |☘️

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার কে দেখেছেন..?
ছোট করে ছাঁটা চুল, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর সংকল্পবদ্ধ দৃঢ় মুখমণ্ডল। সব জায়গায় অগ্নিকন্যার এই একটাই ছবি।
১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে প্রীতিলতা যখন আত্মাহুতি দেন, তখন হিজলি বন্দিশিবিরে ছিলেন তাঁর জ্ঞাতিভাই বিপ্লবী পূর্ণেন্দু দস্তিদার। সেখানেই এর কয়েক দিন আগে প্রীতিলতার শেষ চিঠি পান তিনি। সেই চিঠিতে প্রীতিলতা লিখেছিলেন,
‘আঁধার পথে দিলাম পাড়ি/মরণ-স্বপন দেখে..’‌‌

বহু বছর পরে ১৯৬৯ সালে পূর্ণেন্দু দস্তিদার লিখেছিলেন প্রীতিলতার জীবনী। সেই বইয়ে তাঁর আঁকা প্রীতিলতার একটি আবক্ষ ছবিও ছাপা হয়েছিল। সেই ছবিটিই পরবর্তীকালে সব জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কী করে ওয়াদ্দেদার পরিবারের ছয় সন্তানের দ্বিতীয় সন্তান প্রীতিলতা হয়ে উঠলেন অগ্নিকন্যা?

প্রীতিলতা ১৯১১ সালের ৫ই মে চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার ছিলেন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটির বড়বাবু থাকতেন শহরে, সেখানেই কৈশোর কাটে তাঁর। অন্তর্মুখী স্বভাবের প্রীতিলতা ১৯১৮ সালে খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠী ছিলেন আরেক বিপ্লবী কল্পনা দত্ত। ভালো ফলাফলের জন্য প্রীতিলতা শিক্ষকদের স্নেহভাজন ছিলেন। এর মধ্যে ১৯২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের টাইগার পাস মোড়ে ঘটে এক ছিনতাইয়ের ঘটনা। রেলওয়ের কর্মচারীদের বেতনের ১৭ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্যরা। এই ঘটনার পরপর মাস্টারদা সূর্য সেন ও তাঁর সহযোগী অম্বিকা চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হন পুলিশের হাতে। খাস্তগীর স্কুলের ছাত্রীদের কাছে এই বিপ্লবীরা ছিলেন ‘স্বদেশি ডাকাত’। এক দিদিমণি ছাত্রীদের মুখে ‘ডাকাত’ কথাটা শুনে বলেছিলেন, ‘ডাকাত নন, ওরা স্বদেশি। দেশকে ওঁরা ভালোবাসেন। তাই ইংরেজরা ওঁদের বলে ডাকাত।’ কথাটা স্পর্শ করলো স্কুল পড়ুয়া প্রীতি কে..!

১৯২৪ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারত উপমহাদেশে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদে ব্রিটিশ সরকার ১ নম্বর বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স নামের এক জরুরি আইন পাস করে। এই আইনের উদ্দেশ্য ছিল, রাজনৈতিক কার্যকলাপের জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিনা বিচারে আটক রাখা। এই কালাকানুনের কারণে বিপ্লবীরা বাড়িতে বই রাখতেও ভয় পেতেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী দল ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য পূর্ণেন্দু দস্তিদার নিরাপদ ভেবে এসব নিষিদ্ধ বই এনে রাখতেন তাঁর বোন প্রীতিলতার কাছে। প্রীতিলতা কৌতূহল মেটাতে গিয়েই লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ে ফেলেন দেশের কথা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম আর কানাইলালের জীবনী ।

১৯২৮ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়ে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকায় ইডেন কলেজে আইএ পড়তে যান প্রীতিলতা। দেশের কথার মতো নানা বই পড়ে ভেতরে তখন আগুন জ্বলছিল। তাই ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কিছু একটা করতে যোগ দেন লীলা রায়ের দিপালী সংঘ সংগঠনে।

সূর্য সেনের বিপ্লবী দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছেটা ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছিল প্রীতিলতার মধ্যে। ১৯২৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় কংগ্রেসের সম্মেলনের সময় সে উদ্দেশ্য নিয়ে কল্পনা দত্তের সঙ্গে হাজিরও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেবার বিফল হয়ে ফিরে যেতে হয় তাঁদের।

১৯৩০ সালের ১৯ এপ্রিল আইএ পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ফিরে আসেন প্রীতিলতা। আগের দিন রাতেই চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের দীর্ঘ পরিকল্পিত আক্রমণে ধ্বংস হয়ে গেছে অস্ত্রাগার, পুলিশ লাইন, টেলিফোন অফিস ও রেললাইন। ঘটে গেছে ভারতবর্ষের ইংরেজ আমলের অন্যতম তোলপাড় করা ঘটনা ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ’।
নিজের শহরে এমন ঘটনা ঘটলেও তিনি এর অংশ হতে পারেননি। এই আক্ষেপ পোড়াচ্ছিল প্রীতিলতাকে। আর আক্ষেপ নিয়েই আইএ পরীক্ষায় মেয়েদের মধ্যে প্রথম হয়ে কলকাতায় বেথুন কলেজে পড়তে যান তিনি। বিপ্লবী দলে যোগ দিতে না পারলেও দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে এ সময় মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।

১৯৩২ সালে ডিস্টিংশন নিয়ে তিনি বিএ পাস করে চট্টগ্রামে ফিরে পরিবারের প্রয়োজনে অপর্ণাচরণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার পদে চাকরিও নিলেন। মন থেকে তখন সমাজ-সংসার সবই লোপ পেয়েছে। চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে অনেক বিপ্লবী মারা গেছেন তত দিনে। অনেকে জেলে। আর আত্মগোপনে থাকা সূর্য সেনসহ কয়েকজনের মাথার দামও ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। এমন কোণঠাসা অবস্থায়ও বিপ্লবীরা লড়াই জারি রেখেছিলেন। এই সময় আত্মগোপনে থাকা নির্মল সেনের সঙ্গে দেখা করে প্রীতিলতা তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা জানালেন। নির্মল সেন বুঝতে পারলেন টলানো যাবে না এই মেয়েকে...

১৯৩২ সালের ১২ই জুন তুমুল ঝড়-বৃষ্টির দিনে মাস্টারদার পাঠানো এক লোক প্রীতিলতাকে চট্টগ্রামের এক বাড়িতে নিয়ে আসেন। সাবিত্রী দেবীর ওই বাড়িতে মাস্টারদা ও নির্মল সেন ছাড়াও ছিলেন তরুণ বিপ্লবী অপূর্ব সেন (ভোলা)। কিন্তু বিপ্লবী জীবনের শুরুতে কী অপেক্ষা করছে তা জানতেন না প্রীতিলতা। টের পেলেন এর পরদিন।

বিপ্লবীদের অবস্থানের খবর জেনে ১৩ই জুন সন্ধ্যায় ক্যাপ্টেন ক্যামেরনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায় ধলঘাটের ওই বাড়িতে। অভিযানে নির্মল সেনের গুলিতে ক্যাপ্টেন ক্যামেরন মারা গেলেও পাল্টা গুলিতে তিনি নিজেও নিহত হন। মারা যান বিপ্লবী অপূর্ব সেনও। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন প্রীতিলতা ও সূর্য সেন।

নির্মল সেন ও অপূর্ব সেনের মৃত্যুর পর পাল্টা আঘাত হানার প্রয়োজন ছিল যেন। আর সূর্য সেন সেটাই করেন। ২৪শে সেপ্টেম্বর পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলার পরিকল্পনা নিলেন। হামলার দায়িত্বভার তিনি দিতে চেয়েছিলেন কল্পনা দত্তকে। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ আগে কল্পনা দত্ত গ্রেপ্তার হলে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব নিলেন প্রীতিলতা।

হামলার দিন নিজ হাতে সূর্য সেন প্রীতিলতাকে সামরিক পোশাক পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন ছিল শনিবার, প্রায় ৪০ জন মানুষ তখন ক্লাবঘরে অবস্থান করছিল। তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিপ্লবীরা ক্লাব আক্রমণ শুরু করেন রাত ১০টা নাগাদ। প্রীতিলতার পরনে ছিল খাকি শার্ট, ধুতি, মাথায় পাগড়ি ও কোমরে চামড়ার কটিবদ্ধে রিভলবার। অভিযানের শেষ দিকে হঠাৎ একজন ইংরেজ অফিসারের ছোড়া গুলিতে প্রীতিলতা মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন। নির্দেশ অনুযায়ী ধরা না দিতে মুখে পুরে দেন পটাশিয়াম সায়ানাইড। পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী সেদিনের আক্রমণে মিসেস সুলিভান নামের একজন ইংরেজ নারী নিহত হন এবং চারজন পুরুষ ও সাতজন নারী আহত হন...

'বীরকন্যা প্রীতিলতা' বইয়ে পূর্ণেন্দু দস্তিদার লিখেছেন, ‘চট্টগ্রামের একটি তরুণী নিজের মাতৃভূমিকে সাম্রাজ্যবাদের কবলমুক্ত করার জন্য যে “মরণ-স্বপন” দেখেছিল, তাঁর কর্মপন্থা যুগের সঙ্গে সঙ্গে নিঃসন্দেহে পরিত্যক্ত হয়েছে। কিন্তু তার দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত, তার অটুট আদর্শনিষ্ঠা আজও প্রেরণা সঞ্চারী। ‌

আজ তাঁর জন্মদিবসে আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি..🌷

#সংগৃহীত

তৃতীয় সংখ্যা আসছে...RGKAR Medical College এর MBBS ও Nursing পড়ুয়াদের দ্বারা পরিচালিত সাহিত্য পত্রিকা 'প্রতিস্রোত' প্রকা...
01/05/2024

তৃতীয় সংখ্যা আসছে...

RGKAR Medical College এর MBBS ও Nursing পড়ুয়াদের দ্বারা পরিচালিত সাহিত্য পত্রিকা 'প্রতিস্রোত' প্রকাশিত হতে চলেছে শীঘ্রই ।

স্বাস্থ্য বলতে আমরা কি বুঝি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, “Health is a state of complete physical, mental and social wel...
07/04/2024

স্বাস্থ্য বলতে আমরা কি বুঝি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, “Health is a state of complete physical, mental and social well-being and not merely the absence of disease or infirmity.” অর্থাৎ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে উন্নত অবস্থা।সারা পৃথিবীর কথা বাদই দিলাম। যদি ভারতবর্ষের দিকেই দেখি তাহলে কি সবাইকে সুস্বাস্থের অধিকারী বলা চলে। অবশ্যই নয়। তাহলে কেনো নয়? কিসের অভাব বা কেনো এইরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আজকের দিনে অন্তত এগুলো একটু ভেবে দেখা উচিত।
এই এক বিস্ময়কর ব্যাপার দুনিয়ায়, কারো বাড়িতে অঢেল খাবারদাবার আবার কেউ জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্যটুকুও জোগাড় করতে পারছে না। যে দেশের ৪০% সম্পত্তি ১% মানুষের কুক্ষিগত, বিশেষ কিছু পুঁজিবাদীদের দ্বারা দেশ চালিত হয়- সেখানে অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্য সরকারের কেন কোনো দায়বদ্ধতা থাকবে না? নিম্নবিত্ত মানুষরা দুবেলা পেট ভরে খেতে পায় না, নির্দিষ্ট বাসস্থান পর্যন্ত নেই সেখানে স্বাস্থ্য রক্ষা করার চিন্তা ভাবনা আসবে কোথা থেকে? দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের পরিমাণ প্রতি বছরই অনেকটাই কম নির্ধারণ করা হয়।যদিও সরকার বিভিন্ন রকমের প্রকল্প তৈরি করেছে। কিন্তু সেইসব প্রকল্পের সুবিধা কি সকলে পায় সমান ভাবে? পেলেও সেটা কি পর্যাপ্ত? পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় সবই যখন পণ্য হিসেবে দেখা হয় সেখানে এই সমস্ত কিছু নিয়ে ভাববার মানুষের সময় কোথায়! সবাই যে যার নিজের অবস্থা নিয়ে ভাবতেই ব্যস্ত। কিন্তু তাতেও বিত্তশালী ব্যক্তিরাও কি মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করছেন? স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প আছে সেসব প্রকল্পের সুবিধা সব বেসরকারি হাসপাতালে পাওয়া যায় না। যার ফলে সরকারি হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। যার চাপ পড়ে সেখানের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর। পর্যাপ্ত পরিমাণ স্বাস্থ্যকর্মী না থাকার কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক অবস্থার অবনতি হয়। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে রোগীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে। যা সুষ্ঠু পরিষেবার পরিপন্থী।
বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি একটি পরিবার সর্বোপরি দেশের অর্থনীতির উপর পরে। যা শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ। যা কোভিডের পরবর্তী সময় থেকে মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্ত কিছুর মধ্যে ৮০০ জীবনদায়ী ওষুধের দাম বৃদ্ধি- এগুলোর কি খুব প্রয়োজন ছিল? যেখানে মানুষ পেটভরে খেতে পায় না, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ সেবন করে জীবন অতিবাহিত করছে সেখানে এসবের কি মানে?এর দায় কার? বিরলতম রোগের জন্য কোটি কোটি টাকা প্রতি বছর প্রয়োজন হয়, যা ভারতবর্ষের মতো দেশের বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের কাছে অসাধ্য। রাষ্ট্রের যেখানে এসব ক্ষেত্রে স্বপ্রণোদিতভাবে সমস্ত কিছুতে সাহায্য করার কথা সেখানে প্রতিবার কোর্টের হস্তক্ষেপ ছাড়া এগুলো সম্ভব হয় না কেন? তাছাড়া রয়েছে মাত্র ছাড়া দূষণ। যা সরাসরি স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। যেখানে শুধুমাত্র সরকারকে বা প্রশাসনকে দায়ী করার কোনো মানে হয় না। এর দায় সমস্ত নাগরিকের উপরেও বর্তায়। খাদ্যবস্তুর মধ্যে অত্যধিক পরিমাণে রাসায়নিকের ব্যবহার এবং সেগুলো কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়াই বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং পরীক্ষাতে যদি পাশ না করে, টাকার দ্বারা সেসব ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এইসব যাদের নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব ছিল তারা যদি সঠিকভাবে কাজ করতো তাহলে এগুলো আটকানো যেত। এছাড়াও বাল্যবিবাহ, পুত্রসন্তানের আশায় বারবার সন্তানধারণ, শিক্ষার অভাব এসব কমবেশি বিশেষত মহিলাদের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণ।

কিছুদিন আগের একটি সমীক্ষায় জানা গেছে দেশে ৬৭ লক্ষ শিশু অপুষ্টির শিকার। মায়েদের কথা যত কম বলা হবে ততই ভালো!

আপনারা কেউ অর্জুন হেমব্রম বা সন্তোষী কুমারীর নাম শুনেছেন কিনা জানিনা! আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে এই দুজন না খেতে পেয়ে মারা যায়। কারণ তাদের রেশন কার্ডের সাথে আধার কার্ডের লিংক ছিল না। সুপ্রিম কোর্ট বারংবার বলা সত্বেও যে আধার কার্ডের সাথে রেশন কার্ডের লিংক না থাকলেও রেশন দিতে হবে, কেন্দ্রীয় সরকার মিথ্যা প্রচার করে এবং যাদের আধার কার্ডের লিঙ্ক ছিল না তাদের রেশন বন্ধ হয়ে যায়। সবথেকে দুঃখের কথা যখন সন্তোষী কুমারী (মাত্র এগারো বছর বয়স)মারা যায় তার শেষ কয়েকটি শব্দ ছিল “মা ভাত ভাত!” তার মা রেশন থেকে চাল “কিনতে” গিয়েছিল। ফিরে এসে সন্তানকে মৃত অবস্থায় দেখে!

মহারাষ্ট্রের‌ আখের খেতে যে সমস্ত মহিলার শ্রমিকরা কাজ করেন তাদের বেশিরভাগেরই menopause এর আগেই কোনরকম শারীরিক সমস্যা ছাড়াই hysterectomy করাতে বাধ্য হন। নইলে মাসের চার দিন কাজ করতে না পারার কারণে তাদের আর্থিক সমস্যার সাথে সাথে কাজও হারাতে হয়। যাতে কাজ হারাতে না হয় সেই জন্য এরা নিজেদের শারীরিক ক্ষতি সত্ত্বেও এইরকম একটি জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যেখানে অভ্র বা কয়লার খনি আছে বিশেষত অভ্রর খনিতে ছোট ছোট বাচ্চারা যারা দুবেলা খেতে পাবার জন্য,দুটো টাকা রোজগারের উদ্দেশ্যে এখানে কাজ করে- যা তাদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তোলে।তাদের শারীরিক ক্ষতির পরিবর্তে আমরা নিজেদের শরীরকে সাজায় বিভিন্ন কসমেটিক দিয়ে (অভ্রর ব্যবহার আছে অনেক কসমেটিক এ)এবং সে সমস্ত খনির যারা মালিক তারা নিজেদের বাচ্চাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিজেদের ভরণ পোষণ এইসব কিছু জোগান।

একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে এসব শুনতে অবাক লাগছে তাই না? কিন্তু এটাই বাস্তব! স্বাস্থ্য যদি সবার অধিকার হয় তাহলে এদের কেন স্বাস্থ্যের অধিকার নেই? আর সেটা যদি কিছু বিত্তশালীদের জন্যই হয় তাহলে অন্তত “আমার স্বাস্থ্য আমার অধিকার” এই প্রবাদের কোন প্রয়োজন নেই বলেই আমি মনে করি। আজও যদি আমরা এ সমস্ত কিছু নিয়ে না ভাবি প্রশ্ন না করি তাহলে আর কবে করবো? তাই “ভাবো, ভাবা প্র্যাকটিস করো”।

কলমে-- অমৃতা প্রতিহার ।
দ্বিতীয় বর্ষ, বি এস সি নার্সিং
CON,RGKMCH

জন্মের থেকে মৃত্যু বড় তাঁর, আবেগের থেকে যুক্তি তর্ক তাঁর কাছে সর্বদা প্রাধান্য পেয়েছে, আদর্শের জন্য যিনি কোনো কিছুর কা...
23/03/2024

জন্মের থেকে মৃত্যু বড় তাঁর, আবেগের থেকে যুক্তি তর্ক তাঁর কাছে সর্বদা প্রাধান্য পেয়েছে, আদর্শের জন্য যিনি কোনো কিছুর কাছে মাথানত করেননি, ব্রিটিশের কাছে প্রাণভিক্ষার চেয়ে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়াকে যিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন সেই ‘শহীদ ই আজম’ ভগৎ সিং এর আজ মৃত্যুবার্ষিকী। অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের এক আদ্যোপান্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবারে জন্ম ১৯০৭ এর ২৭ শে সেপ্টেম্বর। যে ছেলের রক্তে দেশপ্রেম সে বড়ো হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামী হবে না তো আর কি হবে! বয়সে হয়তো তিনি খুব একটা বড়ো হতে পারেননি, তবে আদর্শের বিচারে, মনুষ্যত্বের বিচারে অনেক বড়ো মানুষ হিসেবেই তিনি আমাদের হৃদয়ে বিরাজিত‌ থাকবেন সর্বদা। মাত্র ২৩ বছরের জীবনকালে তিনি যে দেশপ্রেমের পাঠ ভারতবাসী সর্বোপরি যুব সমাজকে দিয়ে গেছেন তা কোন কিছুর সাথেই তুলনা করা যায় না। প্রথমে লাহোরের খালসা হাই স্কুলে এবং পরবর্তী সময়ে দয়ানন্দ অ্যাংলো বৈদিক স্কুলে পঠন-পাঠন করেন। ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরোধিতা করে সরকারি স্কুল বই ও বিলাতি ইউনিফর্ম পুড়িয়ে দেন। কৈশোরেই গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন। পরবর্তীকালে চৌরিচৌরা ঘটনার পরে যখন গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন তুলে নেন তখন তিনি খুব হতাশ হন এবং পরবর্তীকালে বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন । তারপর সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে যোগদান করেন। ইউরোপীয় বিপ্লবী আন্দোলন এবং মার্কসবাদ দ্বারা তিনি খুবই অনুপ্রাণিত হন এবং সেই সম্বন্ধে যে সব বইপত্র আছে সেসব পড়াশোনা করতে শুরু করেন। হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশনের যোগদান করেন এবং পরবর্তীকালে সেটিকেই হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তিত করেন। তাঁর এই চিন্তা ভাবনা তৎকালীন অনেক কংগ্রেস নেতার কাছেই নৈরাজ্যবাদী চিন্তাভাবনা ছিল। পুঁজিবাদের পতন করে সর্বহারার সমাজতন্ত্র গড়ে তুলতে চাওয়া, অহিংসার পরিবর্তে সশস্ত্র আন্দোলন, গান্ধীবাদের বিরোধিতা, নাস্তিকতা (বিজ্ঞান যুক্তি তর্ক দ্বারা যা বিশ্লেষণ করা যায় না তাকে তিনি বিশ্বাস করতেন না তাই তার নাস্তিকতা গর্ব বা দাম্ভিকতার পরিচয় নয়। তাঁর আদর্শ ও বিশ্বাসের কথা। নিজের সব থেকে বড় কষ্টের সময়ও তিনি ভগবানের শরণাপন্ন হননি। এখানেই তাঁর আদর্শ জিতে গেছে। তবে এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ছিল) এসব তো সত্যিই সুবিধাবাদী স্বার্থপর ব্যক্তিদের কাছে নৈরাজ্যবাদই মনে হবে! সাধারণ মানুষকে হত্যার জন্য নয়,শুধুমাত্র নিজেদের বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনায় দেশের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় আইনসভার বোমা ফেলেন নিজের জীবন বাজি রেখে– তিনি তো বেপরোয়ার তকমা পাবেনই। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবী লালা লাজপত রায় এর হত্যার প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডার্সকে হত্যা করার অপরাধে মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের আদর্শের সাথে আপোষ না করে হাসতে হাসতে যিনি ফাঁসির দড়ির গলায় পড়তে পারেন তাঁর তো শ্রেষ্ঠ শহীদের তকমাই প্রাপ্য। কিন্তু আদর্শের কখনো মৃত্যু হয় না। তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে , তাঁর বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনায় অনুপ্রাণিত হয়ে বর্তমান যুবসমাজ সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করবে– এই শপথ নিতে হবে আজ। শিক্ষার আলোয় যুক্তিবাদী,বিজ্ঞানমনস্ক ,গণতান্ত্রিক মানুষ গড়ে তুলতে হবে। যারা কোন কিছুর ভেদাভেদ মানবে না। যেখানে ধর্ম, জাতপাত কোনো কিছুই প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না। মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখবে। যদি কারো আদর্শ না থাকে তাহলে তার আর পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। মানুষের যে বুদ্ধিমত্তা আছে তার দ্বারাই সে বাকি সবার থেকে পৃথক। আর এই বুদ্ধিমত্তার দ্বারাই সে ন্যায় -অন্যায় ,দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ এ সমস্ত কিছুর বিচার করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। বতর্মান ভারতবর্ষে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখার জন্য ভগৎ সিং এর বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনারই প্রয়োজন। আর তার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন যুবসমাজকে। কারণ আদর্শের জন্য সবার আগে প্রাণ দিতে এগিয়ে আসে এই যুবসমাজই। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এইরকম পরিস্থিতিতে ভগৎ সিং এর আদর্শে নিজের জীবনকে চালিত করা হয়তো খুবই কষ্টসাধ্য। কিন্তু নিজের আদর্শে যদি স্থির থাকা যায় তাহলে যে কোন দুর্গম পথই পার করা একদিন সম্ভব হবে। অর্থ প্রতিপত্তির ঠুনকো মর্যাদার থেকে আদর্শের মর্যাদায় জীবনযাপন করা অনেক গর্বের বিষয়।

কলমে-- অমৃতা প্রতিহার
দ্বিতীয় বর্ষ, বি এস সি নার্সিং
CON, RGK MCH

Address

Rajpur
700004

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when প্রতিস্রোত - Protisrot posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to প্রতিস্রোত - Protisrot:

Share

Category