26/09/2026
দেবী দুর্গার আরাধনার সঙ্গে বাঙালির দুর্গোৎসবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। রামায়ণের কাহিনিতে লঙ্কাজয়ের আগে শ্রীরামচন্দ্রের দেবী দুর্গার অকালবোধনের কথা বহুল পরিচিত। তবে দেবী আরাধনার উল্লেখ শুধু রামায়ণেই সীমাবদ্ধ নয়। মহাভারতের বিভিন্ন পর্বেও পাণ্ডবদের জীবনের সংকট ও কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সঙ্গে দেবী দুর্গার উপাসনার প্রসঙ্গ পাওয়া যায়।
পাশা খেলায় পরাজয়ের পর ১২ বছরের বনবাস শেষে পাণ্ডবদের সামনে আসে আরও এক কঠিন পরীক্ষা—এক বছরের অজ্ঞাতবাস। এই সময়ে তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেলে আবারও বনবাসে ফিরতে হত। বিরাটনগরে অজ্ঞাতবাস শুরু করার আগে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে যুধিষ্ঠির দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন বলে মহাভারতের বিরাট পর্বের কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে।
বর্ণনা অনুযায়ী, যুধিষ্ঠিরের স্তবে প্রসন্ন হয়ে দেবী পাণ্ডবদের আশীর্বাদ করেন। দেবীর কাছে প্রার্থনার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিপদ থেকে রক্ষা এবং অজ্ঞাতবাস সফলভাবে সম্পন্ন করা। কাহিনিতে দেবীকে সিংহবাহিনী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।
মহাভারতের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে উঠে আসে অর্জুনের দুর্গা আরাধনার প্রসঙ্গ। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরুর আগে নিজের আত্মীয়-পরিজন ও গুরুজনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে ভেবে অর্জুন মানসিকভাবে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে কর্তব্যপথে স্থির থাকার নির্দেশ দেন।
প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে অর্জুনকে দেবী দুর্গার স্তব করতে বলেন কৃষ্ণ। কৃষ্ণের নির্দেশে অর্জুন দেবীর উদ্দেশে স্তোত্র পাঠ করেন। দেবীর কৃপায় যুদ্ধজয়ের আশীর্বাদ পাওয়ার কথাও ওই আখ্যানের অংশ।
দেবী দুর্গার এই দুই আরাধনার কাহিনির মধ্যে একটি মিল স্পষ্ট—সংকটের সময়ে শক্তির আরাধনা। একদিকে অজ্ঞাতবাসের কঠিন পরীক্ষা, অন্যদিকে কুরুক্ষেত্রের মহারণ। দুই ক্ষেত্রেই পাণ্ডবদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেবী দুর্গার স্মরণ এসেছে।
রামায়ণের শ্রীরামচন্দ্রের অকালবোধন এবং মহাভারতের পাণ্ডবদের দুর্গা আরাধনা—এই দুই আখ্যান ভারতীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে দেবীকে শক্তি, সাহস ও বিপদ থেকে উদ্ধারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।
তাই বাঙালির দুর্গাপুজোর আবহে দেবী দুর্গাকে ঘিরে শুধু মহিষাসুরমর্দিনীর কাহিনিই নয়, রামায়ণ ও মহাভারতের সঙ্গে যুক্ত নানা পৌরাণিক আখ্যানও নতুন করে আলোচনায় আসে। যুগে যুগে দেবী আরাধনার এই কাহিনিগুলিই ভারতীয় ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
⚠️ এই প্রতিবেদনে পৌরাণিক আখ্যান ও ধর্মীয় বিশ্বাসের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এগুলিকে ঐতিহাসিক ঘটনার দাবি হিসেবে নয়, সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ ও প্রচলিত ঐতিহ্যের আলোকে দেখা উচিত।