06/08/2026
কোথায় যাচ্ছে নব প্রজন্ম..নাবালিকা বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে অপু মালাকার ও মনাজ দাস বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে। অন্যদিকে, ১৭ বছর বয়সি এক নাবালক, ধীরাজ দাস ও জয়দীপ রী সামনের দিক দিয়ে ঘরে ঢোকে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নাবালিকাকে “শিক্ষা” দেওয়া ।
জয়দীপ রীর ই-রিকশায় করে মণিপুর দিক থেকে অলইছড়ায় আসে। এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ‘ঠান্ডা মাথায়’ পরিকল্পনা করে সংঘটিত করা হয়। ১ আগস্ট সকাল থেকেই অভিযুক্তরা নাবালিকার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল।
বিএ পড়ুয়া অপু মালাকার এবং মনাজ দাস এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী। অন্য গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা তাদের বন্ধু। তদন্ত চলাকালীন জয়দীপ রীর দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অপু মালাকার ও মনাজ দাসের সঙ্গে নিহত নাবালিকার পূর্বে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। পরে তারা জানতে পারে যে নাবালিকা তাদের দু’জনের সঙ্গেই সম্পর্ক রেখেছিল বলে তারা বিশ্বাস করেছিল। এরপরই তাকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।
উল্লেখ্য, হাইলাকান্দি পুলিশ অপু মালাকারকে শিলচর থেকে এবং মনাজ দাসকে বুধবার কাটলিছড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে আরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায়।
অলইছড়া পার্ট-৪ এলাকায় নাবালিকার বাড়িটি জাতীয় সড়ক ৬-এর একেবারে পাশে অবস্থিত। আশপাশে নিহতের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িও রয়েছে। ঘটনার রাতে নাবালিকা তার মা ও ১০ বছর বয়সি ভাইয়ের সঙ্গে ‘মৎস্য স্পর্শ’ অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। কিন্তু রান্নার কাজ বাকি থাকায় সে আগে বাড়ি ফিরে আসে।
১০:৫৩ মিনিটে এক মাসির সঙ্গে নাবালিকার শেষ ফোনে কথা হয়। এটিই ছিল তার শেষ ফোনকল। পরে পুলিশ দেখতে পায় যে তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট রাত ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্তকারীদের ধারণা, এর পরেই অভিযুক্তরা বাড়িতে প্রবেশ করে।
পুলিশের দাবি, রাত প্রায় ১২টার দিকে নাবালিকার মা বাড়ি ফিরে প্রথমে বাড়ির বাইরে ভাঙা অবস্থায় নাবালিকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তিনি দেখেন, তার মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে রয়েছে এবং শরীরে কোনো পোশাক ছিল না।
তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, অভিযুক্তরা প্রথমে নাবালিকার মুখ চেপে ধরে, এরপর একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করে। পরে ধারালো রান্নাঘরের একটি সরঞ্জাম দিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি, ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে তার মুখ ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়।
(হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সাংবাদিক Nilotpal Deb এর ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত।)