05/06/2026
কংগ্রেসের পথে কাউন্সিলাররা: শিলিগুড়িতেও তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা
নিউজ ইউ এ পি ডিজিটাল ডেস্ক,, শিলিগুড়ি, ২ জুন:
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের খবর সামনে আসার মধ্যেই এবার শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। সূত্রের দাবি, শিলিগুড়ি পুরনিগমের একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলার কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সুযোগ বুঝে দলবদলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব প্রকাশ্যে এই সম্ভাবনা নস্যাৎ করেছে, তবু রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
বর্তমানে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূলের কাউন্সিলার সংখ্যা ৩৭। সংখ্যার বিচারে পুরবোর্ডের স্থায়িত্ব নিয়ে তাত্ক্ষণিক কোনও সংকট না থাকলেও, অন্তত ১০ জন কাউন্সিলার দল ছাড়তে পারেন বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে, যাঁদের মধ্যে একসময় কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বা যারা বাম ও কংগ্রেস শিবির থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
জেলা কংগ্রেস সভাপতি সুবিন ভৌমিক দাবি করেছেন, তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে দলীয় নীতির প্রশ্নে কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনই কাউকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, “যাঁরা যোগাযোগ করছেন, তাঁদের বিষয়টি জেলা ও টাউন ব্লক নেতৃত্বের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংগঠনের স্বার্থে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি সঞ্জয় টিব্রয়াল এই জল্পনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “কেউ দল ছাড়ছেন বলে আমাদের কাছে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে। তৃণমূল সংগঠন শিলিগুড়িতে আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি কমেছে। সেই সুযোগে কংগ্রেস ও বাম শিবিরের বহু নেতা-কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় কিছু জনপ্রতিনিধি আবার পুরনো রাজনৈতিক শিবিরে ফেরার কথা ভাবছেন বলেই খবর।
এদিকে বিজেপির দরজা অনেক ক্ষেত্রেই কার্যত বন্ধ থাকায়, তৃণমূল ছাড়তে ইচ্ছুকদের কাছে কংগ্রেসই এখন সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে উঠে আসছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব প্রকাশ্যে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং দলবদল প্রসঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে।
শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ এলাকাতেও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত মিলছে। স্থানীয় স্তরে নেতৃত্বের ভূমিকা, সংগঠনের ভবিষ্যৎ এবং জনপ্রতিনিধিদের অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে শিলিগুড়ির রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ।
এক তৃণমূল কাউন্সিলারের দাবি, “দলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেকের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না। ফলে কিছু জনপ্রতিনিধি বিকল্প রাজনৈতিক পথের কথা ভাবছেন।” যদিও এই বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে তৃণমূলেরই আর এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “দলবদলের কোনও প্রশ্নই নেই। নির্বাচনের আগে এবং পরে এই ধরনের গুজব ছড়ানো নতুন কিছু নয়। শিলিগুড়িতে তৃণমূল ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করছে।”
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে কংগ্রেসে সম্ভাব্য যোগদান ও তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা এখন চর্চার কেন্দ্রে। বাস্তবে কতজন কাউন্সিলার দল ছাড়েন বা আদৌ কোনও বড় পরিবর্তন ঘটে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। বর্তমানে পরিস্থিতি জল্পনার পর্যায়ে থাকলেও, আগামী দিনে এই ইস্যু উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।