15/10/2026
সমাজের চোখে যে বাড়ি প্রাসাদের মতো সুন্দর, সেই বাড়ির ভিতরে কী ঘটে, তা বাইরের মানুষ সবসময় জানতে পারে না। হাসিমুখের ছবির পিছনে কত কান্না লুকিয়ে থাকে, সুন্দর সংসারের গল্পের পিছনে কত না বলা কথা থেকে যায়, তা শুধু সেই মানুষগুলোই জানে, যারা সেই জীবনটা প্রতিদিন বাঁচে।
তাই কোনো মেয়ের মৃত্যুকে তাড়াহুড়ো করে আত্মহত্যা বলে মেনে নেওয়াও ঠিক নয় !
প্রয়োজন সত্যের অনুসন্ধান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণের সঠিক পরীক্ষা। কারণ বিচার যেন মানুষের পরিচয় দেখে না হয়, বাড়ির আকার দেখে না হয়, টাকার জোরে না হয়—বিচার হোক সত্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে।
একটা মেয়ের জীবনের মূল্য কোনো সম্পত্তির চেয়ে কম নয়, কোনো সামাজিক মর্যাদার চেয়ে ছোট নয়। তার মৃত্যুর পিছনে যদি অপরাধ থাকে, তবে সেই অপরাধের বিচার হতেই হবে। আর যদি অন্য কোনো সত্য থাকে, সেটাও সামনে আসতে হবে।
মেয়েটা তো শুধু একটা বাড়িতে বিয়ে করতে গিয়েছিল, নিজের জীবনটা হারিয়ে ফেলতে নয়। সে-ও হয়তো স্বপ্ন দেখেছিল—একটা সুন্দর সংসার হবে, পাশে একজন আপন মানুষ থাকবে, সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার মতো একটা পরিবার থাকবে।
কিন্তু আজ সেই মানুষটাই নেই। রয়ে গেছে কিছু স্মৃতি, কিছু কান্না, আর অসংখ্য প্রশ্ন।
যদি সে আত্মহত্যা করে থাকে, তাহলে জানতে হবে কী তাকে সেই অসহায় অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। আর যদি তার মৃত্যুর পিছনে অন্য কারও অপরাধ থেকে থাকে, তাহলে সেই সত্যও প্রকাশ্যে আসতে হবে।
আমরা প্রতিশোধ চাই না, আমরা মিথ্যা অপবাদ চাই না, আমরা চাই না নিরপরাধ কেউ শাস্তি পাক। আমরা চাই এমন একটা বিচার, যেখানে মৃত মেয়েটির নীরবতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে, তার পরিবারের কান্নাকেও মর্যাদা দেওয়া হবে, আর সত্যকে কোনোভাবেই চাপা দেওয়া হবে না।
আজ সে নিজের হয়ে কথা বলতে পারবে না। তাই তার মৃত্যুর সত্য খুঁজে বের করা, তার পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি শোনা এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটতে না দেওয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
না, দামি পোশাক আর সাজগোজের মাধ্যমে আধুনিক হওয়া যায়না। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা বোধ আর চেতনা।
খবরের চ্যানেল থেকে জানলাম এই সুন্দর নিষ্পাপ মেয়েটি যাকে ৮ বছর সম্পর্কে থাকার পর বিয়ে করেছিলো সে নাকি বিয়েতে যৌতুক দিয়েছে। মানে তোমাকে বিয়ে করার জন্য তোমার বাবার থেকে আমি টাকা নেব।
তারপরেও আধুনিক মেয়েটি হাসতে হাসতে বিয়ে করেছে, জন্মদিনের রকমারি আলোকসজ্জার নিচে দাঁড়িয়ে ওই লোভী মানুষটা কে নিজের মানুষ বলেছে। 📌পোস্টে নিজের সিঁদুর দানের ছবি আটকে রেখেছে। বারবার গর্ব করে নিজের ভালোবাসা জাহির করেছে। আর অদ্ভুত ভাবে মেয়েটির বাবা লাল বাজারের পুলিশ। তিনিও হাসতে হাসতে পণ দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়ে মেয়েকে সুখী দেখতে চেয়েছিলেন।
খুব স্পষ্ট করে প্রশ্ন করুন দোষটা কার? ছেলেটি?
আমি বলব না দোষটা আমাদের, আমরা যে মেয়েরা এখনো বুঝিনা ভালোবাসার চেয়ে আত্ম সম্মান বড়। টাকার চেয়ে মর্যাদা বড়। দেখনদারির চেয়ে ভালো মানুষটা জরুরি।
শুধু টাকার অংকে পণ না। মেয়েরা বিয়ের সময় হাসতে হাসতে বাবার বাড়ি থেকে সেগুন কাঠের খাট। দামি ফ্রিজ , সোকেশ , আলমারি, এসি , সোফা সহ লক্ষ লক্ষ টাকার সোনার গয়না শ্বশুর বাড়ি নিয়ে যায়। তাদের একবারও মনেহয় না ঠিক কোন কারণে তাকে বিয়ে করার সঙ্গে সঙ্গে এই দামি আসবাব গুলো নেওয়া জরুরি। এই অসম্মান টুকু তাদের কাছে গর্ব বলে মনে হয়।
এখনো তারা বুক ফুলিয়ে জানায় তার বর বা শ্বশুর পছন্দ করে না তাই সে চাকরি করে না। অন্তত তাদের কে এটা বলার অধিকার সে দেয়।
না ! আমার ক্লান্ত লাগে। চারদিকে আত্মসম্মান হীন এই লাশের ভিড়ে। স্নেহারা অনেকদিন আগেই মারা গেছে শুধু শরীর টা ছিল। ওটাও গেলো।
মা বাবারা আপনারা যদি মেয়েকে ভালো দেখতে চান তাদের নামে অর্থ রাখুন , হাসতে হাসতে আসবাবের দোকানে গিয়ে যৌতুক দেবেন না। ওটা আমার সন্তান, কোন পচে যাওয়া কাঁচা মাল না।