11/03/2026
প্রধান বিচারপতি কাল নাকি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সমালোচনা হতে পারে শুনেই খুব বকে দিয়েছেন। সত্যিই তো, দিন-রাত এক করে কাজ করছেন যাঁরা, ৬০ লাখ ঝুলন্ত মানুষের মধ্যে ১০ লাখের নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন, তাঁদের আবার সমালোচনা কী। বিএলও বা ইআরওরাও দিন-রাত এক করে কাজ করেছিলেন, সব কেসেরই নিষ্পত্তি করে দিয়েছিলেন, তাঁদের সমালোচনায় অবশ্য বারণ নেই। বিচারবিভাগীয় লোক নন তো। দিল্লির ওই কথাকথিত এআই এর কৃতিত্বে যে ৬০ বা ৭০ বা ৮০ লাখ লোক ঝুলন্ত, কেন তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে, সে নিয়েও নির্ঘাত প্রশ্ন করা যাবেনা। কারণ নির্বাচন কমিশনও দিন-রাত এক করে এই এআই নামক অপকম্মোটি বানিয়েছেন, তাঁরা বিচার বিভাগেরই কাছাকাছি- কেন বানিয়েছেন সে নিযে কারো কাছে জবাবদিহিতে বাধ্য নন।
নির্বাচন কমিশন এই মহান কাজের জন্য মাইনে পান। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরাও পাবেন - কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ আছে। তারপর আছে ট্রাইব্যুনাল। সেখানে উকিলরা দিন-রাত এক করে ওকালতি করবেন - পারিশ্রমিক গুণে নেবেন। খালি পয়সা যাদের পকেট থেকে যাবে, সেই ঝুলন্ত লোকেদের সময়, শ্রম, অর্থ সবই ফালতু। ভারত যারা স্বাধীন করল, তাদের উত্তরপুরুষ নিজেকে নাগরিক প্রমাণে ফর্ম ফিলাপ করবে, লাইনে দাঁড়াবে, রোদে পুড়বে, জলে ভিজবে, পয়সা খরচ করবে, খালি কোনো প্রশ্ন করতে পারবেনা। কারণ কমিশন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিক, উকিল সব্বাই দিন-রাত এক করে কাজ করে চলেছেন। এত পরিশ্রম করে এই মহান মস্তিষ্করা এরকম একটা সিস্টেম বানালেন কীকরে, সে প্রশ্নের উত্তরও তাই পাওয়া যাবেনা।