ABP media

ABP media I am a professional

প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুর: উত্তপ্ত আমতার কাশমলি, রাজনৈতিক তরজায় তৃণমূল-বিজেপি। নিজস্ব প্রতিনিধি: হাওড়া: ১০০ দিনের কাজের টা...
17/05/2026

প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুর: উত্তপ্ত আমতার কাশমলি, রাজনৈতিক তরজায় তৃণমূল-বিজেপি।

নিজস্ব প্রতিনিধি: হাওড়া: ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ এবং আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল আমতার কাশমলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। রবিবার দুপুরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূল প্রধানের বাড়িতে। ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বাড়ির গ্রিলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে আমতা থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
স্থানীয় ও জয়পুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর নাগাদ কাশমলি পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ১০০ জন বাসিন্দা একজোট হয়ে প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই সময় বাড়িতে প্রধান বা তাঁর পরিবারের কেউ ছিলেন না। প্রধানকে না পেয়ে আচমকাই উত্তেজিত জনতা বাড়ির ওপর চড়াও হয়। বাইরে থেকে শুরু হয় অবাধে ইটবৃষ্টি। বাড়ির জানলার কাঁচ এবং এসি মেশিন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর ক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির মূল গ্রিলে তালা মেরে দেয়।
বিক্ষোভকারীদের পক্ষে মালতি দাস নামে এক গ্রামবাসী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, "আমাদের ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড জোর করে কেড়ে নিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন প্রধান। টাকা ঢুকলে নিজের ইচ্ছেমতো আমাদের যৎসামান্য দিয়ে বাকিটা আত্মসাৎ করেন। এখানেই শেষ নয়, আবাস যোজনার ঘরের জন্য গরিব মানুষের থেকে আগে ১৫ হাজার টাকা কাটমানি নেওয়া হয়েছে। এরপর সেই ঘরের ছাদ ঢালাই বা বাড়তি কাজ করতে গেলে প্রধানের অনুগামীরা এসে আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করত। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতেই আমরা আজ একজোট হয়েছি"।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তৃণমূল প্রধান বেপাত্তা। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে।| স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, "তৃণমূলের দুর্নীতি এখন পঞ্চায়েত স্তর থেকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছে। কাটমানি আর গরিবের হকের টাকা চুরি করাই এদের একমাত্র কাজ। কাশমলি পঞ্চায়েতের প্রধান যা করেছেন, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। গ্রামবাসীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ প্রমাণ করে যে মানুষ আর এই অত্যাচার সহ্য করবেন না। আমরা অবিলম্বে এই চোর প্রধানের গ্রেফতারি এবং চুরির টাকা ফেরতের দাবি জ

উলুবেড়িয়া পূর্বে কংগ্রেসের একলা চলো নীতি: তৃণমূল-বিজেপিকে টেক্কা দিতে কতটা শক্তিশালী?পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে উলু...
01/05/2026

উলুবেড়িয়া পূর্বে কংগ্রেসের একলা চলো নীতি: তৃণমূল-বিজেপিকে টেক্কা দিতে কতটা শক্তিশালী?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রের গুরুত্ব কম নয়। গত কয়েকটি নির্বাচনে উলুবেড়িয়া পূর্ব ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ২০২১ সালে বিদেশ রঞ্জন বসু এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের হয়ে। এবার তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর অনেক জল্পনা কল্পনার পর উলবেরিয়া পূর্বে দ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় কে প্রার্থী করে বিজেপি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা আলম দাইয়ান। কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
কংগ্রেস প্রার্থী আলম দাইয়ান বলেন, কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি মূলত নিজেদের রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে এককভাবে লড়াই করার ওপর জোর দিয়েছে। এই নীতি কংগ্রেসকে স্বাধীনভাবে ভোটের ময়দানে নামার সুযোগ করে দেবে। ২০১১ সালে তৈরি হওয়া উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে প্রথমে তৃণমূল তারপর বামেদের সাথে জোট থাকায় আসন সমঝোতার ফলে কংগ্রেস এই কেন্দ্রে ২০২১ পর্যন্ত কোনও প্রার্থী দেয়নি, তাই সমর্থকরা এই কেন্দ্রে কোনোদিনই তাঁদের নিজস্ব চিহ্ন হাতে ভোট দিতে পারেননি। এইবার কংগ্রেস সমর্থকেরা নতুন উদ্যম পাবেন তাঁদের নিজস্ব চিহ্নতে ভোট দিয়ে।
তবে মিরাজ, সাহাবুল, প্রণব দাসের মত বেশকিছু যুব তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা মনে করেন, উলুবেড়িয়া পূর্বের মতো তৃণমূলের গড়ে, যেখানে সংগঠিত কর্মীশক্তি ও জনসমর্থন রয়েছে, সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে সরাসরি তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব নয়।
তবে কংগ্রেস প্রার্থী আলম দাইয়ানের মতে, স্থানীয় স্তরে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে, তাঁরা তৃণমূল ও বিজেপির ভোট ভাগাভাগি করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারবেন। বিশেষ করে, ভোট বিভাজনের মাধ্যমে কংগ্রেস জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে।
তৃণমূল ইতিমধ্যেই উলুবেড়িয়া পূর্বে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে এবং কেন্দ্রে তাদের সংগঠন সুদৃঢ়। তৃণমূলের এক নেতা বলেন, "আমরা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিরলস কাজ করছি। কংগ্রেসের বিচ্ছিন্ন লড়াই আমাদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ এতে ভোট বিভক্ত হবে এবং আমরা সহজে জয়ী হতে পারব।" তৃণমূলের মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের বিচ্ছিন্নতা তাদের জয়কে সহজ করবে।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব কংগ্রেসের একলা চলো নীতিকে রাজনৈতিক দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। তারা মনে করছে, কংগ্রেসের বিভাজন তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিজেপির প্রার্থী রুদ্রপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কংগ্রেসের একলা চলো নীতিতে প্রার্থী দিলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ আছে। তাদের ভেতরের এই ঐক্যহীনতা আমাদের জন্য বড় সুযোগ। আমরা আমাদের ভোটব্যাঙ্ক বাড়াতে সক্ষম হব। তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই"। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে চাইছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে কংগ্রেসের শেষ জোট সঙ্গী সিপিআইএম, উলুবেড়িয়া পূর্বে তৃণমূল-বিজেপির দ্বৈরথে নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। তারা মনে করে, কংগ্রেসের একলা চলো নীতি রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আরও জটিল করে তুলেছে। সিপিআইএমের এক মুখপাত্র বলেন, "আমরা সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। কংগ্রেসের বিচ্ছিন্নতা আমাদের জন্য সুযোগ হতে পারে, তবে আমরা আমাদের নিজস্ব শক্তি দিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাই।"
উলুবেড়িয়া পূর্বের এই লড়াই শুধু এই কেন্দ্রের জন্য নয়, বরং রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের ‘একলা চলো’ নীতি কতটা সফল হবে, তা অবশ্য এর একদিন পর নির্বাচনের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

01/05/2026

এবারের ভোট প্রচারে রজনীগন্ধার মালার ক্রেজ: এক নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোট শেষ, এখন গণনার দিনের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আপামর জনসাধারণ। তবে এইবার ভোটের মরশুমে রাজনীতির মাঠে চোখে পড়ল এক বিশেষ দৃশ্য। প্রত্যেক প্রার্থীর গলায় মোটা মোটা রজনীগন্ধার মালা। বিভিন্ন দলের পতাকা, ব্যাজ ও পোশাকের রঙ আলাদা হলেও, মালার রঙ যেন একটাই।
ভোটের দিন যত কাছে আসছিল প্রচারের তাপমাত্রাও তত বাড়ছিল। এর সঙ্গে সঙ্গে ফুলের মালার চাহিদাও বেড়েই চলেছিল। বাগনানের এক চাষী বাবলু বাগ বলেন, আগে বিয়ের মরশুমে রজনীগন্ধার মালার চাহিদা থাকলেও, এবার ভোট ঘোষণার পর থেকে সেই চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রার্থীরা মালা ছাড়া প্রচারেই যাচ্ছেনা বলেই জানাচ্ছেন দলের কর্মীরা। এই প্রবণতায় ফুল ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছেন।
হাওড়ার বাগনানের ফুলচাষি বিস্টু দোলুই জানালেন, ‘রজনীগন্ধা ও গোলাপ দিয়ে তৈরি ‘বেস মালা’ ভোটের সময় বিক্রি বেড়েছে। মালার দামও বেড়ে ১১৫ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে।’ আরেক ফুলচাষি গৌতম ধাড়া বললেন, ‘গাঁদা ফুলের দামও বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও কেজি প্রতি ১৫ টাকা বিক্রি হত, এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার।’
গণমাধ্যমেও এই মালাপ্রেম নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রার্থীরা এই সব কথায় তেমন মনোযোগ দিচ্ছেন না। তাদের কাছে প্রচারে মালা পরা এই নির্বাচনে ছিল ‘অতি আবশ্যক’।
একদিন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিজেপি প্রার্থী রূদ্রপ্রসাদ বন্দোপাধ্যায় প্রচারের আগে মালার ব্যবস্থা করতে দুইজন কর্মী বাজারে ছুটলেন। ঝান্ডা, ফেস্টুনের সঙ্গে সঙ্গে রজনীগন্ধার মোটা মালা পরিয়ে প্রচার শুরু হল। শুধু গ্রামীণ হাওড়ায় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেই এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফুল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘চৈত্র মাসে এত মালা বিক্রি হবে ভাবিনি।’
উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মানুষ যদি মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তা গ্রহণ করতেই হয়। এটা আমাদের প্রতি তাদের ভালোবাসার প্রকাশ”। কংগ্রেস প্রার্থী আলম দাইয়ান জানান, কর্মী ও সমর্থকদের থেকে প্রার্থীকে আলাদা করে চিনতে মালা পরানো হয়।
এবার ভোটের ময়দানে রজনীগন্ধার মালা শুধু ফুল ছিলনা, বরং এটি প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর এক শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছেছিল। যা ফুল ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি এক নতুন সুযোগের দ্বার খুলে দিয়েছিল।

ঘরের মাঠে ব্রাত্য মহীরুহ। তবুও দলের স্বার্থে হাসিমুখে বুথে গেলেন অসিত মিত্র।আমতায় বুধবার ছিল মেঘলা দিন। কিন্তু এই মেঘের...
30/04/2026

ঘরের মাঠে ব্রাত্য মহীরুহ। তবুও দলের স্বার্থে হাসিমুখে বুথে গেলেন অসিত মিত্র।

আমতায় বুধবার ছিল মেঘলা দিন। কিন্তু এই মেঘের চেয়েও ভারী আবহাওয়া যেন ছিল প্রবীণ নেতা অসিত মিত্রের বসতবাড়িতে। গত ৫০-৬০ বছর ধরে যাঁর অঙ্গুলিহেলনে আমতার অলিগলিতে কংগ্রেসের ভোটযন্ত্র সচল হতো, আজ সেই মানুষটিই নিজের ঘরের চৌকিতে বসে টিভির পর্দায় চোখ রাখলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথমবার ভোটের দিন কাজ ছিলনা তাঁর।
প্রতি বছর ভোটের দিন ভোরে স্নান সেরে যখন পাজামা পাঞ্জাবিতে তৈরি হতেন অসিত বাবু, তখন বাড়ির সামনে ভিড় জমাতেন শত শত কর্মী। ফোনের ঘনঘন আওয়াজ, বুথ থেকে আসা রিপোর্ট আর দাদার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকা উত্তেজনার পারদ, এই ছিল চেনা ছবি। আজ সেই ফোনগুলো আছে, কিন্তু সেগুলোতে আর রণকৌশল সাজানোর তাড়া নেই।
সকাল থেকে বাড়ির একফালি বারান্দায় চুপচাপ বসে থাকতে দেখা গেল আমতার এই প্রবীণ মহীরুহকে। মাঝেমধ্যে টিভির স্ক্রিনে ভেসে ওঠা খবরের দিকে তাকালেন, তো পরক্ষণেই উদাসীনভাবে তাকালেন বাইরের রাস্তার দিকে। হয়তো চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই দিনগুলো, যখন তাঁর এক ডাকেই থমকে যেত দামোদর পাড়।
সকাল গড়িয়ে ১১টা। রোদ চড়লেও আমতার মেজাজ আজ কিছুটা থমথমে। এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক শান্ত পায়ে বাড়ি থেকে বেরোলেন ভোট দিতে। কোনো বিশাল বাইক বাহিনী নেই, নেই স্লোগানের গর্জন। পাড়ার মোড়ে এক বৃদ্ধ ভোটারের সঙ্গে দেখা হতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "দাদা, আজ আর আপনাকে সেই মেজাজে দেখলাম না"। অসিত বাবু স্মিত হেসে উত্তর দিলেন, "সময় বদলায়, দল নতুনদের জায়গা দেয়। তবে এখনও আমি অবসর নিইনি, আমি আর একবার ফিরবই, অবশ্য দলকেও তো ঠিকঠাক প্রার্থী চয়ন করতে হবে”। হেঁসে বলেন তিনি। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কোথাও একটা গভীর অভিমান আর বিষণ্ণতা ঢাকা পড়ে রইল। নিজের বুথে গিয়ে ভোটটি দেওয়ার সময় তাঁর হাতটা একবারের জন্য কি কেঁপে উঠেছিল? দীর্ঘ কয়েক দশক যে হাত দলের হাল ধরেছে, আজ সেই হাত নিজের প্রার্থীর বদলে অন্যের নাম খুঁজে নিতে অভ্যস্ত নয়।
ভোট দিয়ে টোটোতে করে কয়েকটি বুথ ঘুরে কল্যাণপুর পার্টি অফিসে বেশকিছুক্ষণ কাটিয়ে দুপুর ৩ টে নাগাদ বাড়ি ফিরলেন তিনি। ফেরার পর দিনের বাকিটা সময় আরও নিঃসঙ্গ হয়ে উঠলেন তিনি।
বিকাল নামতেই অন্ধকার ঘনালো তাঁর বৈঠকখানায়। কর্মীদের হুড়োহুড়ি নেই, চায়ের কাপের টুংটাং শব্দে ভোটের গাণিতিক সমীকরণ মেলাবার ভিড় নেই। অসিত মিত্রের জবানিতে,
"দীর্ঘ ৫-৬ দশক এই দিনের জন্য নাওয়া-খাওয়া ভুলেছি। আজ শরীরটা বাড়িতে থাকলেও মনটা পড়ে আছে যেন প্রতিটা বুথে, যেখানে হাত চিহ্নের কর্মীরা লড়াই করছে। কংগ্রেস আমার রক্তে, প্রার্থী কে, সেটা বড় কথা নয়, ঝাণ্ডাটা তো সেই পুরনোই আছে"। এবং এই চিহ্নের হয়ে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব আমি”।
২০১৬তে এই আমতাই তাঁকে জয়মাল্য দিয়েছিল। ২০২১এ পরাজয়ও দেখেছেন বুক চিতিয়ে। কিন্তু ২০২৬এর এই নির্বাচনে লড়াইয়ের বাইরে থাকা যেন পরাজয়ের চেয়েও বেশি যন্ত্রণার।

30/04/2026

Address

Kolkata Howrah Uluberia
Uluberia
711316

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ABP media posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share