14/08/2026
🇮🇳 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে উলুবেড়িয়ার অবদান ও ভূমিকা কী ছিল?👇
উলুবেড়িয়া শুধু হাওড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও মহকুমা নয়—ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলও স্বদেশি আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রভাব অনুভব করেছিল।
১. বঙ্গভঙ্গ ও স্বদেশি আন্দোলন :-
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ ঘোষণা করার পর কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও উলুবেড়িয়া অঞ্চলেও স্বদেশি চেতনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ পণ্য বর্জন এবং দেশীয় পণ্য ব্যবহারের আহ্বান সাধারণ মানুষের মধ্যেও জাতীয়তাবাদী ভাবনা তৈরি করেছিল।
২. উলুবেড়িয়া ছিল গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের অঞ্চল :-
হাওড়া থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার দিকে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল উলুবেড়িয়া। ফলে কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রভাব দ্রুত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছাতে পারত। উলুবেড়িয়া, শ্যামপুর এবং আশপাশের গ্রামগুলির মানুষও বিভিন্ন পর্যায়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
৩. শ্যামপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস :-
উলুবেড়িয়া মহকুমার শ্যামপুর অঞ্চলের সঙ্গে স্বাধীনতা সংগ্রামের উল্লেখযোগ্য যোগ রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামী শ্রীকান্ত মোহন অধিকারী ছাত্রজীবন থেকেই স্বদেশি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪০ সালে তিনি শ্যামপুরে ফরওয়ার্ড ব্লক সংগঠিত করার কাজে যুক্ত হন। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তিনি ব্রিটিশবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডেও অংশ নেন এবং কারাবরণ করেন।
৪. শুধু শহর নয়, গ্রামের মানুষও যুক্ত ছিলেন :-
উলুবেড়িয়ার গুরুত্বের একটি বিশেষ দিক হলো—আন্দোলন শুধুমাত্র শহরের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আশপাশের গ্রামাঞ্চলের ছাত্র, কৃষক, শ্রমজীবী এবং সাধারণ মানুষও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।
অর্থাৎ, স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু কলকাতা, দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরের ইতিহাস নয়—উলুবেড়িয়ার মতো মহকুমা এবং তার আশপাশের গ্রামের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।