12/11/2025
উহু, মির্জা ফখরুলের মামলা তোলার আলাপে আমার ভয় লাগে না।
কারণ, আমি জানি, মির্জা ফখরুল আমাদের আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচায় নাই।
ফখরুলরা আওয়ামী লীগ তাড়ায় নাই।
ফখরুলদের কথায় মানুষ নামলে ২৪ এর জুলাই লাগত না, ২৩ এর ২৮ অক্টোবরেই হাসিনাকে পালাইতে হইত।
হাসিনার ১৭ বছরে হাসিনার কেশ যারা ছিড়তে পারে নাই, আমার নেত্রী, আমার মা, জেলে যেতে দেব না বলে যারা নিজেদের নেত্রীকে কাপুরুষের মত জেলে দিয়ে আসছে, তাদের উপর আমার কোন চাওয়া পাওয়া নাই।
নিজের নেত্রীকেই যে আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি, আমাকে আপনাকে কেমনে বাঁচাবে?
বরং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির যে ছেলেটা উত্তরার মাটি কামড়ে পড়ে ছিল বন্ধুর লাশের বদলা নেবে বলে, সেই ছেলেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
৫ আগস্ট ভাইকে হারিয়ে যে দুই বোন ভাইয়ের লাশ কাঁধে তুলে নিয়ে গণভবনের দিকে রওনা হইলো, সেই বোন দুটোর কথা আমাদের শুনতে হবে।
একটা গুলি করি, একটা মরে, একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না বলে যে প্রজন্ম গলায় সার্টিফিকেট ঝুলিয়ে মরতে নেমেছিল রাস্তায়, সেই প্রজন্ম কি আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করেছে?
বন্ধুর লাশ ছুয়ে যে ছেলেটা আর মেয়েটা হাসিনার মুখে থুতু দিয়ে বলেছিল, হাসিনা তোর অনেক গুণ, পুলিশ দিয়ে করলি খুন, সেই ছেলেটার চোখের আগুন কি একটুও কমেছে?
যদি না কমে, তাহলে আমাদের ভয় নাই।
এই দেশ মির্জা ফখরুল বা তার বাপের দেশ না।
বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপির বাপের দেশ এইটা না যে যারে খুশি আসতে দিলাম, যারে খুশি আসতে দিলাম না।
এই দেশে বাসা থেকে পালিয়ে আন্দোলন করতে যাইয়া গুলি খাওয়া প্রজন্ম এখনও বেঁচে আছে। আওয়ামী লীগ বা হাসিনাকে কেউ যদি পুনর্বাসন করতে চান, তাকে এই পুরো প্রজন্মের বুকের উপর দিয়ে আসতে হবে।
এরপরও যদি আওয়ামী লীগের প্রতি সদয় হয়ে এই প্রজন্মের বিরুদ্ধেই দাঁড়ান, জাস্ট ঐ লাইনটাই মনে রাইখেন, একটা গুলি করি, একটা মরে, একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না।