29/03/2020
ভয়ংকর ভূত পিচ্চি হান্নু (১ম পর্ব)
অনেক অনেক বছর আগের কথা, একদেশে এক গ্রাম ছিলো সেই গ্রামে অনেক মানুষ থাকতো। বড়রা হাটে মাঠে কাজ করতো আর ছোটরা স্কুলে যেত। সেই গ্রামের এক প্রান্তে অনেকগুলো বাঁশঝাড় ছিলো সেই বাঁশঝাড়গুলোর ভেতর অনেক পুরনো এক তেঁতুল গাছ ছিলো, তেঁতুল গাছটা এতই প্রকান্ড ছিলো যে দিনের বেলাতেও জায়গা অন্ধকার করে রাখতো। এই তেঁতুল গাছটা নিয়ে গ্রামে অনেক ভয়ংকর ভয়ংকর সব গল্প ছিলো, গ্রামের সবার ধারনা তেঁতুল গাছটাতে ভূত আছে তাই গ্রামের লোকেরা সেই দিকটা দিনের বেলাতেও যেতে সাহস পেত না।
সেই গ্রামে পল্টু নামের এক ছেলে থাকতো, পল্টু ক্লাস ফাইভ এ পড়ে, তার গায়ের রং শ্যামলা, হাত-পাগুলো লিকলিকে এবং চুলগুলো ছিলো পাখির বাসার মত। পল্টুর মা ছিলো না এমনকি পল্টুর কোন ভাই বোনও ছিলো না, ওর বাবা ছিলো কৃষক তারা একটা মাটির বাড়িতে থাকতো। পল্টু রোজ হেঁটে স্কুলে যেত, স্কুলে যাবার পথে দুরে তেঁতুল গাছটা দেখা যেত, গাছটা প্রায়ই বাতাসে অদ্ভুত রকম দুলতো। সেই দুলুনি দেখে পল্টুর অতদুর থেকেই ভয় ভয় লাগতো। অনেক বাচ্চাই ভয়ে সেদিকে তাকাতোও না। পল্টুকে সেদিক থেকে সাহসী বলা যেতে পারে।
একদিন পল্টু স্কুলে হোমওয়ার্ক করেনি বলে তার টিচার পুরোটা ক্লাস বেঞ্চের উপর দাড় করিয়ে রেখেছিলো। পল্টুর কি দোষ! সে তো সকালে হোমওয়ার্ক করতে বসেছিলো, তখন তার বাবা বললো - যা চুলগুলো কামারুর সেলুন থেকে কাটিয়ে আয়। কামারু নাপিতের পুরো নাম কামারুজ্জামান, এই ব্যাটা নাপিত না হয়ে কামার হলে মনে হয় নামকরন সার্থক হতো, কামার-উজ্জামান থেকে কামার। কামারু দেখতে খুবই নোংরা, মুখ থেকে সারাক্ষন ভকভক করে বিড়ির গন্ধ বের হয়, দাঁতগুলো হলুদ। বেটার দোকানে বাচ্চারা কখনো চুল কাটাতে চায় না, কারন সে বাচ্চাদের পেলে চুলগুলো এতই ছোট করে দেয় যে দুর থেকে মনে হয় মাথা টাক বেল। খুব কাছে আসলে তখন বোঝা যায় যে মাথায় ছোট ছোট চুল আছে। যে সব বাচ্চারা কামারুর দোকানে চুল কাটায় তাদেরকে অন্যান্য বাচ্চারা কয়েকদিন ধরে 'নাইড়া মাথা চাইড় আনা, চাবি দিলে ঘুরে না' বলে খেপায়। তার উপর কামারুর দোকানের চিরুনিগুলোও বেশ ময়লা দেখলেই গা ঘিনঘিন করে। তবে তার সেলুনের নামটা বেশ বাহারী 'গুলবাহার হেয়ার ড্রেসার'। সেই গুলবাহার হেয়ার ড্রেসারে চুল কাটাতে হবে শুনে পল্টু হোমওয়ার্ক না করেই তাড়াতাড়ি বাসা থেকে বের হয়েছিলো আজ। যদিও বেঞ্চের উপর দাড়িয়ে থাকতে তার খুব একটা খারাপ লাগছিলো না।
...... চলবে