19/06/2026
🇮🇹 ইতালির ভেনিসে রেস্টুরেন্ট থেকে ফেরার পথে প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যা: চিকিৎসাধীন অবস্থায় নড়িয়ার রাকিবের বিদায় 💔
🔴 কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ওত পেতে থাকা ৪-৫ জন দুষ্কৃতিকারীর নির্মম হামলা; আনজেলো থেকে পাদোভা হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন শরীয়তপুরের শান্ত যুবক রাকিব। 🔴
📍 ভেনিস, ইতালি —
ইতালির ভেনিসের মাটিতে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে আসা শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাটি গ্রামের তরুণ প্রবাসী রফিকুল ইসলাম রাকিবের জীবনপ্রদীপ চিরতরে নিভে গেছে। গত রোববার কাজ থেকে ফেরার পথে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত ও নির্মম পিটুনির শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ১৮ জুন ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকার রেস্তোরাঁ থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন নির্মম মৃত্যুতে ভেনিসের প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি এবং তার গ্রামের বাড়ি নড়িয়াতে এখন শোকের মাতম ও তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
✈️ নির্মম হামলা, নিখোঁজ রহস্য এবং মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঘটনাপ্রবাহ:
নিহত রাকিবের পারিবারিক সূত্র এবং ভেনিসের স্থানীয় বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য ও যাচাইকৃত তথ্য অনুযায়ী নির্মম এই ঘটনার বিবরণ নিচে ক্রমানুসারে দেওয়া হলো:
* ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীদের হামলা: গত রোববার (১৪ জুন ২০২৬) রাতে ভেনিসের একটি রেস্টুরেন্টে নিজের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন রাকিব। পথিমধ্যে ৪ থেকে ৫ জনের একটি অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারী দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং লাঠিসোঁটা বা ভারী বস্তু দিয়ে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন করে রাস্তায় ফেলে যায়।
* নিখোঁজ ও মা-বাবার আকুতি: ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে উদ্ধার করে কে বা কাহারা ভেনিসের ওসপেদালে দেল আনজেলো (Ospedale dell'Angelo) হাসপাতালে নিয়ে যায়, তা প্রথমে পরিবার জানতে পারেনি। রোববার রাত থেকে সোমবার পুরো দিন রাকিবের মা-বাবা ভেনিসের বিভিন্ন স্থানে ও পরিচিতদের কাছে হন্যে হয়ে খুঁজলেও ছেলের কোনো সন্ধান পাননি।
* জ্ঞান ফিরে মায়ের কাছে ফোন: গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় রাকিব নিজেই তার মায়ের ফোনে কল দেন। তিনি শুধু বলেন, "মা, আমাকে মেরেছে, আমি আনজেলো হাসপাতালে আছি।" খবর পেয়েই তার বৃদ্ধ মা-বাবা পাগলের মতো হাসপাতালে ছুটে যান।
* হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে রহস্য: হাসপাতালের বিছানায় ব্যান্ডেজ ও রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে থাকা রাকিবকে তার মা-বাবা বারবার জিজ্ঞেস করেন—তাকে কারা মেরেছে? কিন্তু রাকিব শুধু বলেন, "আমাকে ৪-৫ জন মিলে মেরেছে। আমি একটু সুস্থ হয়ে নিই, তারপর সব বলব।" তবে সেই রহস্য আর উদঘাটন করার সুযোগ দেননি হামলাকারীরা
* পাদোভা হাসপাতালে স্থানান্তর ও মৃত্যু: আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাকিবের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হতে শুরু করে। আনজেলো হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে পাদোভা (Padova) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
> ⚠️ আসল রহস্য: নড়িয়ার কলুকাটি গ্রামের কাসেম মিয়ার ছোট ছেলে রাকিবের পুরো পরিবার ইতালিতে অত্যন্ত ভদ্র ও মার্জিত হিসেবে পরিচিত। তার বাবা কিংবা বড় ভাইয়ের সাথে কখনো কারও কোনো ঝামেলা বা শত্রুতা ছিল না। কোনো পূর্বশত্রুতা নাকি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে ভেনিস ও পাদোভা পুলিশ ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে।
>
👮 সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ:
বাংলাদেশী প্রবাসীর এই অকাল ও নির্মম মৃত্যুর পর ভেনিসের বাংলাদেশ কনস্যুলেট এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইতালির বাংলাদেশী কমিউনিটি। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনা হলে প্রবাসীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় প্রবাসীরা।
📅 সংবাদের সময়কাল ও সূত্র:
ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশী যুবক রাকিবকে পিটিয়ে হত্যার এই নির্ভরযোগ্য ও হৃদয়বিদারক খবরটি ১৮ জুন, ২০২৬ তারিখে ভেনিস ও পাদোভা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং স্থানীয় প্রতিনিধি আক্তার বেপারীর পাঠানো ভেরিফাইড অন-গ্রাউন্ড তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
📂 Verified Information Sources: 🌐
📍 ১. Ospedale dell'Angelo (Venezia) & Azienda Ospedaliera di Padova - Medical and Mortality Notification Records (June 18, 2026).
📍 ২. ভেনিস ও মেস্ত্রে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন - অপরাধ অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত সেল ডাটাবেজ।
📍 ৩. জাহিদ নিউজ আন্তর্জাতিক অপরাধ, ইমিগ্রেশন ও ইউরোপ ব্যুরো।
আপনার আস্থার নাম—জাহিদ নিউজ। 🥀🤝🌍 প্রবাস কন্ঠ GAZI SUMON