15/05/2026
আমরা প্রায়ই দেখি সন্তান হওয়ার পর একজন মা খিটখিটে হয়ে যান, কথায় কথায় কাঁদেন কিংবা ভীষণ মন খারাপ করে থাকেন। আমাদের সমাজ এটাকে 'নাটক' বা 'আ আদিখ্যেতা' বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে এই সময়টা একজন মায়ের জীবনের সবচেয়ে কঠিন শারীরিক ও মানসিক লড়াইয়ের সময়।
১০০০% হরমোনাল ক্রাশ: একটি ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন
গবেষণা বলছে, সন্তান প্রসবের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একজন মায়ের শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা প্রায় ১০০০ শতাংশের বেশি কমে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানবদেহের অন্যতম তীব্র একটি জৈবিক বিপর্যয়। ঠিক যেন একটি বহুতল ভবন মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ার মতো।
কেন এই সময়টা মায়েদের জন্য 'ক্রাইসিস মোড'?
হরমোনের এই ভয়াবহ পতনের পাশাপাশি একজন মাকে আরও অনেক কিছু সামলাতে হয়:
• শারীরিক রিকভারি: প্রসবের অসহ্য যন্ত্রণা এবং শারীরিক ক্ষত সারিয়ে তোলা।
• নির্ঘুম রাত: টানা ঘুমের অভাব এবং নবজাতকের ২৪ ঘণ্টার দেখভাল।
• দুধ তৈরি: শরীরে নতুন করে দুধ তৈরির প্রাকৃতিক চাপের সাথে মানিয়ে নেওয়া।
বিপজ্জনক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
আমরা যখন বলি— "সব মায়েদেরই তো এমন হয়," বা "একটু ধৈর্য ধরো," তখন আমরা আসলে একজন মায়ের সংগ্রামকে অস্বীকার করি। এই অবহেলার কারণে অনেক মা নিজের কষ্টের কথা বলা বন্ধ করে দেন এবং ভেতরে ভেতরে একা হয়ে যান। মনে রাখবেন, পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন বা এনজাইটি কোনো চারিত্রিক দুর্বলতা নয়, এটি একটি সিরিয়াস বায়োলজিক্যাল কন্ডিশন।
আমাদের করণীয় কী?
প্রসব পরবর্তী সময়টা কেবল কয়েক দিনের কোনো পরিবর্তন নয়, এটি একটি দীর্ঘ রিকভারি প্রসেস। এই সময়ে মায়ের প্রয়োজন:
• পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন: ঘরের কাজে সাহায্য করা এবং তার কথা মন দিয়ে শোনা।
• বিশ্রাম: তাকে পর্যাপ্ত ঘুমের সুযোগ করে দেওয়া।
• সহমর্মিতা: তাকে বিচার না করে তার মানসিক অবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
একজন সুস্থ মা-ই পারেন একটি সুস্থ সন্তান বড় করতে। আসুন, মায়েদের এই নীরব সংগ্রামের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের প্রাপ্য সম্মান ও যত্ন দিই।