23/08/2026
রাত তখন ২টা…
আমরা সবাই গভীর ঘুমে। হঠাৎ মোবাইলে ভূমিকম্পের এলার্ম বেজে উঠল। যারা এই এলার্ম কখনও শোনেননি, তাদের শব্দটা বোঝানো কঠিন। একটা অদ্ভুত আতঙ্ক যেন মুহূর্তেই গ্রাস করে নেয়।
আমার মাথায় প্রথম যে কথাটা এলো—“এত রাতে…!” আর ঠিক পরক্ষণেই শুরু হলো ভূমিকম্প।
এলার্মের শব্দে আমার ছোট্ট মেয়ের ঘুম ভাঙে... আমি ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরি। বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু কী হচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছে না।
৫ তলার বিল্ডিংটা এমনভাবে দুলছিল, জীবনে কখনও এমন অনুভব করিনি। ঘরের প্রতিটি জিনিস কাঁপছে, বাইরে একের পর এক গাড়ির এলার্ম বেজে উঠছিল। কয়েক সেকেন্ডের সেই সময়টুকু আমার কাছে অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, “এবার বুঝি বিল্ডিংটা একদিকে হেলে পড়বে।”
সত্যি বলতে, সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল—আমি আর জাপানে থাকতে চাই না।
ভূমিকম্প থামার পর মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম, “ভয় পেয়েছ?” ও শুধু মাথা নেড়ে জানিয়ে দিল, তারপর আবার অন্যপাশ ফিরে ঘুমিয়ে গেল। ছোট্ট মানুষগুলো হয়তো আমাদের চেয়ে অনেক দ্রুত ভয় ভুলে যেতে পারে। 😢
এরপর তাড়াতাড়ি করে বোনকে মেসেজ দিলাম। বুঝতে পারছিলাম না ওদের দিকেও ভূমিকম্প হয়েছে কি না, তাই এত রাতে আগে কল দিইনি। ওর রিপ্লাই ছিল মাত্র এক লাইন—“আমি জাপান থাকবো না।”
তারপর ফোন করলাম। ভয়ে ওর কণ্ঠ কাঁপছিল। ওকে এমন ভয় পেতে শুনে আমারও খুব খারাপ লাগছিল।
আমাদের তিন বোনের মধ্যে ও সবসময়ই সবচেয়ে ভীতু। ছোটবেলায় বাসার কিচেনের পাশেই ছিল ওয়াশরুম। রাতে একা যেতে ভয় পেত। আমাদের কাউকে না কাউকে ডাকত। আমরা বিরক্ত হয়ে বলতাম, “দরজাটা খুলে রাখ, আমরা রুম থেকেই দেখছি।” এখনো সে এমন ভীতু আছে
জাপানে থাকলে ভূমিকম্পের কথা সবাই জানে। তবু যখন মাঝরাতে নিজের চোখের সামনে সবকিছু কাঁপতে থাকে, তখন বইয়ের তথ্য আর বাস্তবের অনুভূতির মধ্যে যে কত বড় পার্থক্য, সেটা শুধু সেই মুহূর্তে থাকা মানুষই বুঝতে পারে।
আল্লাহর কাছে শুধু একটাই দোয়া—আমাদের সবাইকে নিরাপদে রাখুন। প্রকৃতির সামনে মানুষ কতটা অসহায়, সেটা এমন কয়েক সেকেন্ডই মনে করিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি শান্ত সকাল, প্রতিটি স্বাভাবিক রাত—আসলে কত বড় একটি নিয়ামত, সেটা হয়তো আমরা শুধু এমন মুহূর্তের পরেই বুঝতে পারি।
Wabi-Sabi Days
Tokyo, Japan🌸