20/06/2026
একজন ডাক্তার মেয়ে একটা ডাক্তার পরিবারের থেকেও কতটা অবহেলা, অযত্নে শারীরিক মানসিক
নি র্যা তনের শিকার হলে জীবনের কাছে হার মানে বলতে পারেন?
ধীপ্রা তাবাসসুম।
একজন ডাক্তার।
একজন মেধাবী নারী।
একজন মা।
নিজের মেধা, পরিশ্রম আর অসংখ্য ত্যাগের বিনিময়ে এমবিবিএস শেষ করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল আরও বড় হওয়ার। FCPS করবেন, নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হবেন, চিকিৎসা জগতে নিজের জায়গা তৈরি করবেন।
তারপর বিয়ে হলো দেশের অত্যন্ত শিক্ষিত ও প্রভাবশালী এক পরিবারে।
স্বামী ডাক্তার।
শ্বশুর খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
শাশুড়ি শিক্ষিকা।
ননদ বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
বাইরে থেকে দেখলে—একটি "পারফেক্ট" পরিবার।
যে পরিবার দেখে সবাই বলে,
"মেয়ের জীবন তো সেট!"
কিন্তু জীবনের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো—
সবচেয়ে সুন্দর ছবির ফ্রেমের ভেতরেও কখনো কখনো সবচেয়ে ভয়ংকর অন্ধকার লুকিয়ে থাকে।
মৃত্যুর আগে ধীপ্রা একটি চিকিৎসক গ্রুপে পরিচয় গোপন রেখে লিখেছিলেন নিজের কষ্টের কথা।
তিনি লিখেছিলেন—
"আমার ২ বছরের সন্তান আছে। তাকে নিয়েই সারাদিন থাকি। সামনে FCPS ফাইনাল পরীক্ষা, কিন্তু পড়তে পারি না। কেউ সাহায্য করে না।"
তিনি লিখেছিলেন—
"আমার শাশুড়ি আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ মানুষগুলোর একজন।"
আমার সন্তান জন্মের পরের সময়টা (পোস্টপার্টাম পিরিয়ড) খুব কঠিন ছিল। এখনও ডিপ্রেশন থেকে বের হতে পারিনি। থেরাপি নিচ্ছি। খুব ব্যয়বহুল। আমার নিজের আয় না থাকায় নিয়মিত নিতে পারি না।
তিনি আরও লিখেছিলেন—
"স্বামী আমাকে বলেছিল, 'ফকিন্নির বাচ্চা, দেখ তোর আশেপাশে কেউ নেই।'"
আর তারপর লিখেছিলেন সেই ভয়ংকর বাক্যটি—
"সত্যিই তো, আমার কেউ নেই।"
শাশুড়ি,স্বামী অত্যাচার করলে বাবা-মা আমায় সাপোর্ট করে না। সবাই বলে, “এসব তো হয়ই। মেনে নাও।”
আমি আর বাঁচতে চাই না। রাগ করে অনেক ওষুধ খেয়ে ফেলেছি। প্রাণঘাতী কিছু নয়, হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই খেয়েছি। কোনো প্রভাবও হচ্ছে না।
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি কি ১০ মিনিটও নিজের জন্য পাব না? আল্লাহ আমাকে এমন ভাগ্য কেন দিলেন?"
মানে একজন ডাক্তার।
একজন শিক্ষিত নারী।
একজন মা হয়েও একজন মানুষ কতটা ভেতর থেকে ভেঙে গেলে এমন কথা লিখতে পারে!
অভিযোগ উঠেছে—
তাঁকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।
খাবার দেওয়া হয়নি।
নিজের ছোট্ট সন্তানকেও দেখতে দেওয়া হয়নি।
আর যখন তাঁর মা সেখানে পৌঁছান, তখন নাকি মেয়েটি মাকে জড়িয়ে ধরে শুধু একটাই কথা বলেছিল
"মা, আমি ভাত খাব..."
কিন্তু, ধীপ্রার আর ভাত খাওয়া হয়নি। এর আগেই হার্ট অ্যাটাক করেন।
এই একটি বাক্য পড়ার পর বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে।
কারণ একজন মানুষের শেষ আকুতি যদি হয়—
"মা, আমি ভাত খাব"
তাহলে সে শুধু খাবারের জন্য ক্ষুধার্ত ছিল না।
সে হয়তো ভালোবাসার জন্য ক্ষুধার্ত ছিল।
সম্মানের জন্য ক্ষুধার্ত ছিল।
একটু মমতার জন্য ক্ষুধার্ত ছিল।
অবশ্যই, এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে।
কারণ আমরা শরীরের ক্ষত দেখি।
মানসিক ক্ষত দেখি না।
তাই খুব সহজে বলে ফেলি—
"সংসারে এসব হয়।"
"মেনে নাও।"
"সব মেয়েকেই সহ্য করতে হয়।"
কিন্তু কেউ যদি প্রতিদিন একটু একটু করে ভেতর থেকে মরে যেতে থাকে?
তাহলে সেই মৃত্যুর দায় কি শুধু তার?
নাকি পরিবার, সমাজ আর নীরব দর্শক হিসেবে আমাদেরও কিছু দায় আছে?
ধীপ্রার গল্প শুধু একজন নারীর গল্প নয়।
এটা আমাদের সমাজের আয়না।
যেখানে ডিগ্রি আছে।
টাকা আছে।
ক্ষমতা আছে।
প্রতিষ্ঠা আছে।
কিন্তু অনেক সময় একজন মানুষের জন্য একমুঠো মমতা থাকে না।
আর পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ক্ষুধা হয়তো ভাতের ক্ষুধা নয়—
ভালোবাসা, সম্মান আর পাশে একজন মানুষ পাওয়ার ক্ষুধা। 💔
Collected