25/05/2026
২৬ বছরের জাপান অভিজ্ঞতা: আবার প্রথম থেকে শুরু করলে যেসব বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতাম
৫-৬ মাস আগে এই টাইটেল এর উপর একটা ভিডিও বানিয়েছিলাম। প্রচুর সারা পেয়েছিলাম। বিশ্বাস করবেন না একটা ভিডিও থেকেই প্রায় ২৫০০ নতুন ফলোয়ার এসেছিলো। তার মানে অথেন্টিক ইনফরমেশন পেলে মানুষ সেটা দেখে কিংবা আমলে নেয়।
আজকে সেই বিষয়টিই লিখিত ভাবে দিলাম।
আপনারা জানেন আমি ২৬ বছর হলো জাপানে আছি, এইখানে পড়াশোনা করেছি, আমার বাচ্চাদের জন্ম ও এখানে, বড় মেয়ে এখন ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, সুতরাং জাপান সম্পর্কে কিন্তু আমাদের অনেক ধারনা এবং real experience আছে।
জাপানে ২৬ বছর কাটানোর পর একটা জিনিস খুব ভালোভাবে বুঝেছি। জীবনে অনেক কিছু সময়মতো বুঝলে পথটা সহজ হয়। আর অনেক কিছু দেরিতে বুঝলে, পথটা একই থাকে, কিন্তু খরচটা বেড়ে যায়। শুধু টাকার খরচ না, সময়ের খরচ, মানসিক খরচ, সুযোগ হারানোর খরচ।
আমি যেহেতে একজন মানুষ, আমি তো পারফেক্ট না, আমার ও ভুল ছিলো, সঠিক জায়গা ও ছিল, কি করলে আরো ভালো হতো সেই জায়গা ও আছে।
চলেন দেখি এই ২৬ বছরের experience নিয়ে আমি যদি বাংলাদেশ থেকে আবার জাপানে নতুন ভাবে আসতাম আমি কি কি করতাম? কোন জায়গা গুলো সাবধান হতাম। লিখতে চাইলে হাজার টা পয়েন্ট নিয়ে লেখা যাবে, তার মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু পয়েন্ট তুলে ধরলাম।
1. Japanese language skill
জাপানে ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম না। ভাষা হলো স্বাধীনতা। ভাষা হলো সম্মান। ভাষা হলো নিজের পক্ষে দাঁড়ানোর শক্তি। আপনি যদি ভাষা না জানেন, তাহলে অনেক সময় আপনার যোগ্যতা থাকলেও সেটা মানুষ বুঝতে পারবে না। অফিসে ভালো আইডিয়া থাকলেও বলতে পারবেন না। সিটি অফিসে নিজের সমস্যা বোঝাতে পারবেন না। সন্তানের স্কুলে শিক্ষক কি বলছেন ঠিকমতো বুঝতে পারবেন না। হাসপাতালে নিজের ব্যথাটাও পরিষ্কার করে বলতে কষ্ট হবে।
আমি যখন জাপানে আসি তখন আমি জাপানিজ এ "ধন্যবাদ" বলাটাও জানতাম না। কারণ ১৯৯৯ সালে আমাদের দেশে জাপানিজ ভাষা শিখার তেমন কোন প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সি খুব বেশি ছিলোনা। আমরাও জানতাম না। Google, Facebook, Youtube, Chatgpt কিছুই ছিলো না। ভাষা শিখেছি অনেক কষ্ট করে বই পড়ে পড়ে।
যদি আবার দেশ থেকে নতুন করে শুরু করি, তাহলে N3 কমপ্লিট না করে কোন মতেই আমি জাপানে আসতাম না। এবং জাপানে এসে খুব অল্প সময়ের মধ্যে N2, N1 করে ফেলতাম। শুধু পাস করার জন্য না, আমি ভাষা শিখবো সত্যিকারের জীবন চালানোর জন্য।
2. Personal research and skill up
আমাদের অনেকের একটা দুর্বলতা আছে। আমরা কারো কথা খুব সহজে বিশ্বাস করি। বিশেষ করে এজেন্সির কথা। এজেন্সি দরকার হতে পারে, কিন্তু নিজের জীবন পুরোপুরি অন্যের হাতে দিয়ে দেওয়া ঠিক না।
যেমন, কোন ভিসায় আসবো, এই ভিসার ভবিষ্যৎ কি, এই স্কুলের রেকর্ড কেমন, এই কাজ থেকে পরের ধাপে যাওয়া যাবে কি না, খরচ কত, ঝুঁকি কি? এসব নিজে না বুঝলে পরে আফসোস হবে।
এই Google, ChatGPT, Claude এর যুগে আপনাকে কেউ ইনফরমেশন সার্চ করতে বাধা দিবে না।
এইভাবে চিন্তা করেন,
আমি জাপান থেকে google এ সার্চ দিয়ে যা দেখি, আপনি ও কিন্তু বাংলাদেশ থেকে একই জিনিস দেখেন। আপনাকে Google, ChatGPTতে প্রচুর সময় দিতে হবে। নিজেকে এমন ভাবে গড়তে হবে যেন, ইনফরমেশন এর জন্য কারোর উপর নির্ভর করতে না হয়। এই যুগে এসে ও যদি আপনি ইনফরমেশন সার্চ না করেন, তাহলে আপনাকে দিয়ে হবে না।
আপনি যখন নিজে থেকে অনেক কিছু জানবেন / বুঝবেন, তখন কিন্তু আপনাকে প্রতারণা করা অনেক কঠিন হবে এবং আপনি এগিয়ে যাবেন।
Skill up এর ক্ষেত্রে,
জাপানে শুধু পরিশ্রম করলেই সব সময় উন্নতি করতে পারবেন না।পরিশ্রমের সাথে সাথে স্কিল না বাড়ালে মানুষ একই জায়গায় আটকে যায়। আমি আবার শুরু করলে প্রথম থেকেই নিজের skill map বানাতাম।
ভাষা, কমিউনিকেশন, IT, finance, presentation, problem solving যেটাই হোক, প্রতি বছর অন্তত একটা জিনিস শেখার চেষ্টা করতাম। জাপানে যারা দীর্ঘমেয়াদে ভালো করে, তারা শুধু কাজ করে না। তারা নিজেকে আপডেট করে বর্তমান পৃথিবীর সাথে মিল রেখে।
3. Don’t blindly believe/Depends on agency
কোন সময় এজেন্সি বা কারোর উপর অন্ধ বিশ্বাস করে আগানো যাবে না। আমি প্রত্যেকটা ইনফরমেশন নিজে google এ যাচাই করতাম এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিতাম।
4. Study hard & Study in Govrnment university
জাপানে প্রথম দুই-তিন বছর খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় টাই আপনার Base তৈরী করবে।
আমি যদি আবার প্রথম থেকে শুরু করতাম তাহলে আমি জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ স্কুল কিংবা ইউনিভার্সিটিতে আসতাম।
আমি জানি ল্যাংগুয়েজ স্কুলে আসলে প্রথমে লাইফটা অনেক কঠিন হয়, কিন্তু জীবনে কিছু পেতে গেলে তো কিছু দিতে হবে তাই না?
এবং N1 কমপ্লিট না করা পর্যন্ত থামতাম না।
ভাষা স্কুলে attendance, JLPT, EJU, admission preparation এসব যদি শুরু থেকেই সিরিয়াসলি নেওয়া যায়, তাহলে সুযোগের দরজা গুলো খুলে যায়। আমি আবার শুরু করলে government university বা ভালো university এর দিকে লক্ষ্য রাখতাম।
কারণ ভালো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দিবে না, ভালো পরিবেশ দেয়, ভালো network দেয়, ভবিষ্যৎ চিন্তার মান বাড়িয়ে দেয় এবং জাপানের প্রথম শ্রেণীর কোম্পানিতে কাজের সুযোগ করে দেয়।
আমি যথা সম্ভব চেষ্টা করতাম government university পড়ার। কারণ government university থেকে পাশ করলে, খুব সহজেই Toyota, Nissan, sony র মতো ভালো কোম্পানিতে ফুল টাইম জব পাওয়া সম্ভব। এবং নিজের জীবনটা ১৮০ ডিগ্রি চেঞ্জ করতাম।
5. Make my wife independent from all aspects
এটা আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পয়েন্ট মনে করি। জাপানে পরিবার নিয়ে থাকলে শুধু স্বামী কাজ করলে বা জানলেই হবে না। স্ত্রী যদি ভাষা না জানে, সিস্টেম না বোঝে, একা হাসপাতালে যেতে না পারে, ব্যাংক বা সিটি অফিসের কাজ করতে না পারে, তাহলে পরিবারটা ভিতর থেকে দুর্বল হয়ে যাবে।
আমি আবার শুরু করলে শুরু থেকেই আমার স্ত্রীকে ভাষা, সিস্টেম, টাকা-পয়সা, ডকুমেন্ট, সন্তানের স্কুল সব বিষয়ে independent করার চেষ্টা করতাম। স্ত্রীকে ভাষা N2 কমপ্লিট না করা পর্যন্ত মিশন চালিয়ে যেতাম। কারণ পরিবারে একজন শক্ত হলেই পরিবার শক্ত হয় না। দুজন মানুষ যদি সচেতন হয়, তাহলে পরিবারটা সত্যিকারে নিরাপদ হবে এবং এগিয়ে যাবে।
তাকে জাপানে আসার পর আমি দুইটা কাজ ধরিয়ে দিবো
a ) N2 কমপ্লিট করা
b ) ড্রাইভিং লাইসেন্স তোলা জাপানীজে (ইংলিশ এ না )
6. Decision about staying in Japan
জাপানে থাকব কি না এই সিদ্ধান্তটা আগে নেওয়া। আপনি দুই তিন বছর জাপানে থাকলেই বুঝতে পারবেন এই দেশটা আপনার জন্য ভালো হবে কিনা। অনেক মানুষ ১০ বছর জাপানে থেকেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। থাকব, না ফিরব? না অন্য দেশে যাবো? জাপানে asset বানাব? সন্তানকে কোন education path এ দেব? PR বা citizenship চিন্তা করব? না শুধু কাজ করব? এই অনিশ্চয়তা জীবনকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলে।
আমি চেষ্টা করবো এই সিদ্ধান্তটা খুব তাড়াতাড়ি নিতে। যখনই আমি সিদ্ধান্ত নিবো যে জাপানে থাকবো, তখন থেকে আমার সব প্ল্যান এবং সিদ্ধান্ত হবে জাপান কেন্দ্রীক।
যেমন ; বাচ্চাদের জাপানিজ স্কুলে দিবো, জাপানে বাড়িঘর কিনবো, জাপানে অ্যাসেট বাড়াবো। আপনার যদি জাপানে long-term থাকার ইচ্ছা থাকে, তাহলে জীবনকে সেইভাবে সাজাতে হবে। Tax, pension, insurance, language, career, kids’ education সব কিছু long-term plan দিয়ে দেখতে হবে।
আমি পার্সোনাললি এই জায়গায় কিছু সময় নষ্ঠ করে ফেলেছিলাম। প্রথমে আমেরিকা চলে যাবো মনে করে বাচ্চাকে ইংলিশ মিডিয়ামে দিয়েছিলাম। সেটা অনেক এক্সপেন্সিভ ছিল। কিন্তু যেই দিন সিদ্ধান্ত নিলাম যে জাপানেই থাকবো, সাথে সাথে বাচ্চাকে জাপানিজ মিডিয়াম এ নিয়ে আসলাম।
7. Money management
জাপানে আয় করাটা এক বিষয়, টাকা ধরে রাখাটা আরেক বিষয়। অনেকে ভালো বেতন পায়, কিন্তু মাস শেষে কিছু থাকে না। কারণ খরচের হিসাব নেই, saving system নেই, future plan নেই। আমি আবার শুরু করলে প্রথম দিন থেকেই income, expense, emergency fund, remittance সব লিখে রাখতাম।
আর একটা কাজ খুব গুরুত্ব দিতাম সেটা হলো, দেশ থেকে জাপান আসার সময় দুইটা ব্যাঙ্ক একাউন্ট খুলে আসতাম। একটা একাউন্ট ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য টাকা পাঠাতাম। যেটা আমার বাবা মা কিংবা ভাই বোন অপারেট করতে পারবে।
আর একটা একাউন্ট খুলতাম নিজের জন্য। যেই একাউন্ট টা অন্য কেউ অপারেট করতে পারবে না। কারণ প্রবাসীরা বাইরের দেশে গরু খাটুনি খাটে, কিন্তু যখন দেশে ফিরে যায় যেয়ে দেখে তার জন্য আর কিছুই নেই। সব খরচ করে ফেলেছে সবাই মিলে।
দেশ থেকে আসার সময় অবশ্য FC Account (Foreign Currency Account ) খুলে আসবেন।
8. Investment
জাপান শুধু কাজ করার জায়গা না। এখানে বিনিয়োগ করার সুযোগও আছে। NISA, iDeCo, index fund, US stock market এসব আগে বুঝতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। তবে investment মানে দ্রুত ধনী হওয়া না। Investment মানে ধীরে ধীরে নিজের future security তৈরি করা। যে টাকা শুধু ব্যাংকে পড়ে থাকে, সেটা সব সময় নিরাপদ না। Inflation, future cost, retirement এসব চিন্তা করলে বুঝবেন, টাকা শুধু জমালেই হয় না, টাকাকে কাজেও লাগাতে হয়।
আমি Investment এর ক্ষেত্রে একটা ভুল করে ফেলেছি, সেটা হলো দেশে বাড়ি - জমি কিনেছি। কিন্তু এখন আমার মনে হয়, এটা আমি ভুল করে ফেলেছি। আমি যেহেতে জাপানে থাকবো ইনশাল্লাহ, সেহেতু আমার সম্পদ গুলো আমার কাছে থাকলে ভালো করে ম্যানেজ করতে পারতাম।
দেশে বাড়ি এবং জমির installment দিতে গিয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রতি মাসে দেশে অনেক বড়ো অংকের টাকা পাঠাতে হতো, যার ফলে আমার কাছে ক্যাশ ছিলোনা, সেই জন্য আমি আমেরিকান স্টক মার্কেটে বেশি ইনভেস্ট করতে পারিনি।
২০১৫ সালের পর থেকে আমি দেশে আর কোন সম্পদ করিনি, বড় টাকাও পাঠাইনি।
এখন আমার মনে হয় দেশে বাড়ি না কিনে ঐ টাকা যদি আমি আমেরিকান স্টক মার্কেট এ খাটাতাম, তাহলে হয়তো রিটান টা অনেক বড় হতো এবং টাকাটাও আমার কন্ট্রোল এ থাকতো।
9. Asset accumulation in Japan
Asset মানে শুধু বাড়ি না। Asset হতে পারে investment portfolio, pension, education fund, emergency fund, skill, network যা ভবিষ্যতে আপনাকে support করবে।
জাপানে ২০ বছর কাজ করার পর ও যদি কোনো asset না থাকে, তাহলে জীবনটা আবার শুরু করার মতো লাগবে। তাই শুরু থেকেই ভাবা দরকার, আমি কি তৈরি করছি? শুধু মাস কাটাচ্ছি, নাকি ভবিষ্যতের ভিত্তি বানাচ্ছি?
10. Kids’ education
জাপানে সন্তান থাকলে education planning খুব জরুরি। শুধু স্কুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ না। ভাষা, math, English, reading habit, Kumon, Eiken, Suken, entrance exam এসব ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চা ছোট থাকতেই তার Base তৈরি করতে হয়। যে পরিবার আগে থেকে planning করে, তাদের সন্তান পরে অনেক বেশি confidence নিয়ে এগিয়ে যায়।
11. Insurance enrolment
আমরা অনেক সময় insurance কে খরচ মনে করি। কিন্তু জাপানে পরিবার নিয়ে থাকলে insurance হলো risk management. Health insurance তো আছেই, কিন্তু life insurance, accident coverage, kids’ support, income protection এসব ও বুঝতে হবে। কারণ জীবন সব সময় plan অনুযায়ী চলে না। ভালো সময়েই খারাপ সময়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।
এই ২৬ বছরে আমি একটা জিনিস শিখেছি। জাপান আপনাকে সুযোগ দেবে, কিন্তু জাপান আপনার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে না। এখানে system আছে, কিন্তু system ব্যবহার করতে হলে mindset দরকার।
ভাষা শেখা, নিজে রিসার্চ করা, স্কিল বাড়ানো, পড়াশোনা করা, পরিবারকে independent করা, long-term decision নেওয়া, টাকা manage করা, investment করা, asset বানানো, সন্তানের ভবিষ্যৎ ভাবা, insurance বোঝা, এসব আলাদা আলাদা বিষয় মনে হলেও, আসলে এগুলো মিলেই একটা জীবন তৈরি হয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে,
"জীবন একদিনে নষ্ট হয় না।" " আবার একদিনে তৈরি হয় না।"
ছোট ছোট সিদ্ধান্ত, ছোট ছোট অভ্যাস, ছোট ছোট প্রস্তুতি এসবই একসময় বড় পার্থক্য তৈরি করে। যারা এখন জাপানে নতুন আছেন, বা আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের একটা কথাই বলব।
জাপানে আসাকে "লক্ষ্য" ভাববেন না। জাপানে এসে নিজেকে তৈরি করাকে "লক্ষ্য" বানান। কারণ দেশ বদলালেই "জীবন" বদলাবে না।
মানসিকতা, সিদ্ধান্ত, প্রস্তুতি এসব বদলালেই "জীবন" বদলাবে।
সুন্দর দিনের কামনায়। ...
Note:
অনেক দিন বাইরের দেশে থাকায় আমার বাংলা বানান ভুল হয়, sentence ও সঠিক হয় না। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
সুমন জায়েদী
25th May 2026
11:30 AM Japan standard time
©2026 RealJapanExperience. All rights reserved.