16/03/2026
যখন আমেরিকা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই চীন তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলেছে। চীন খুব প্ল্যান করে কাজটা করে ফেলেছে।
গতকাল তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী একসঙ্গে ২৬ টা চাইনিজ যুদ্ধবিমান শনাক্ত করেছে। সঙ্গে ছিল চীনা নৌবাহিনীর ৭টি যুদ্ধজাহাজ। সবগুলো মিলে পুরো দ্বীপটিকে ঘিরে টহল দিচ্ছিল।
সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। আর ঘটনাটি ঘটেছে ঠিক সেই দিনই, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে।
- গতকালই তাইওয়ান ৯ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তিতে সই করেছে, ১৫ মার্চের সময়সীমার আগে তড়িঘড়ি করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- ওই অস্ত্র প্যাকেজগুলোর একটি, ৮২টি HIMARS সিস্টেমের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২৬ মার্চ।
- ইরান পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ কোরিয়া নীরবে তাদের THAAD ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে।
- যদি চীন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে একই সময়ে উত্তর কোরিয়াও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে হুমকি তৈরি করতে পারে।
এখন একটা দিকে এক্সপার্টেরা মনোযোগ দিচ্ছে আর সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর। সেটা হলো, চীন টানা ১৬ দিন তাইওয়ানের কাছে চুপচাপ অবস্থান করেছে মহড়ার অজুহাতে। তারপর হঠাৎ গতকাল আবার ২৬ টা যুদ্ধবিমান ঘুরে গেলো। এটা কি রেকি ছিল চীনের জন্য?
এদিকে আমেরিকা এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে জড়িত। আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র মজুতও কমে গেছে। মার্কিন মেরিন বাহিনীর বড় অংশ এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন। আর ঠিক সেই সময়েই বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ উন্নতমানের চিপ তৈরি করা কোম্পানি TSMC রয়েছে সেই দ্বীপেই।
- যদি তাইওয়ান চীনের হাতে পড়ে, তাহলে বিশ্বের প্রায় সব AI কোম্পানি, সব মোবাইল নির্মাতা, এমনকি গাড়ি নির্মাতারাও চিপ সরবরাহ হারাবে।
- এক বিশ্লেষক এটিকে বলেছেন, “S&P 500 সূচক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি।”
- নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, এতে মার্কিন অর্থনীতি কার্যত পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা ভাবছে, যদি এই সপ্তাহেই চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে হাতে প্রায় কোনো ফাঁকা সামরিক ইউনিট না থাকা অবস্থায় এবং তেলের দাম ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই অবস্থায়, আমেরিকা ঠিক কী করবে?
আপনি কি ভাবছেন?