11/06/2026
আপনি ভালোবেসে রান্না করে ভর দুপুরের রোদের মধ্যে ৪.৫ কিলোমিটার যাতায়াত করে , যার জন্য গরম গরম লাঞ্চ পৌঁছে দেন, সে কখনো একটা ফোন করে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজনও মনে করে না—“আপনি খেয়েছেন কিনা?”
কারণ আপনি বাসায় থাকেন, ক্ষুধা লাগলে খেয়েই নিবেন। কিন্তু সবসময় এই ধারণা তো কাজ করে না। কখনো কখনো বাচ্চা সামলে, অসুস্থ শরীরে রান্না করতেও কষ্ট হয়, ঘরে বসে সারাদিন না খেয়ে থেকে কারো কারো অপর মানুষ টিকে বুঝাতে হয় যে, the girl needs help 🙂
অবশ্য তাতে মেয়েটার কিছুই হয় না। সে এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত। কারণ বাপের ঘরেও তার খাবারের খোঁজ খুব একটা কেউ নেয়নি। সারাদিন বাইরে বাইরে খেয়ে বা না খেয়ে থাকলেও কারো মনে হয়নি—“আমরা তো দুপুরে পেট ভরে ভাত খেলাম, মেয়েটা বাইরে কী খেল?” যে মেয়েটা দুপুরে শিঙাড়া, আলুর চপ খেয়ে দিন পার করত, তার খাবারের খোজ নিয়ে ভালোবাসা দেখানোর প্রয়োজন যেন কখনো পড়েনি। অথচ একই পরিবারে ছেলে সন্তান কোন বেলা কয় দানা ভাত কম খেলো, সেটা সবার জানা থাকে। আর মেয়ে? মেয়েরা তো ক্ষুধা লাগলে খেয়েই নেয়।
আবার যে মানুষের জন্য ৪.৫ কিলোমিটার হেঁটে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়, তার মা ফোন করে প্রথমেই জিজ্ঞেস করেন, “বাবা খাইছিস?” 🙂
আহারে বাবা! না খেতে খেতে যার ওজন ৭০ কেজি থেকে ১০০ কেজি হয়েছে।
আর যে মেয়েটা ৪.৫ কিলোমিটার হেঁটে খাবার দিয়ে আসে, যে নাকি ক্ষুধা লাগলে খেয়ে নেয়। খেতে খেতে তার শরীর থেকে ১০ কেজি ওজন কমে গেছে 🙂।
মাঝে মাঝে মনে হয়, এই পৃথিবীতে মেয়েদের অনেক অনুভূতি, অনেক প্রয়োজন, অনেক ক্লান্তি যেন অদৃশ্য থেকে যায়। শুধু মেয়ে হয়ে জন্মানোর কারণেই তারা অনেক আদর, যত্ন আর খোঁজখবরের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
তবুও একটা সান্ত্বনা আছে—দুনিয়ার মানুষ যতই দূরে ঠেলে দিক, আল্লাহ যেন কখনো দূরে না ঠেলেন। তাঁর কাছে সব হিসাবই আছে, আর তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন কার হৃদয়ে কতটা নীরব কষ্ট জমে আছে।