23/02/2026
#ডার্ক_রোমান্টিক
#লিখিকা_সাদিয়া_সুলতানা
#পর্ব_7
[কপি করা নিষিদ্ধ]
💥শাওয়ার শেষ করে রুমের মধ্যে পা রাখতেই যেন গা গুলিয়ে এলো অরিনের ।
রুমের প্রতিটা দেয়াল ফার্নিচার যেন তাকে বলছে কালকে রাতে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনা ।
সবাই যেন তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে সে তার ভার্জিনিটি হারিয়েছে । হঠাৎ করেই চোখ পড়ল টেবিলে রেখে যাওয়া চেক বই এর ওপর । হুট করেই যেন অরিনের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটলো ।
ইচ্ছা করছিল চেক বইয়ের সাথে সাথে আয়ান কেউ টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলি ।
নিজের রাগ কে যথা সম্ভব নিয়ন্ত্রনে রেখে , চেক বইয়ের পাতা টা নির্দ্ধারিত স্থানে রেখে নিজের ব্যাগ টা হতে নিয়ে সে রুমের মধ্যে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না । আয়ানের ফেলে যাওয়া চেকটা না নিয়েই আলিশান রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল অরিন ।
বিষয়টা কাউকে বলার সাহস না । সে ভাবল হয়তো তাকে কেউ বিশ্বাস করবে না।
তাই নিজের মধ্যেই বিষয়টা লুকিয়ে রাখলো । পুরোপুরি বিষয়টা চেপে গেল কারণ একথা পাঁচ কান হলে তারই ক্ষতি হবে।
অরিন ভাবলো হোস্টেল রুমে গিয়ে সে প্রভাব আর নিকি কে জিজ্ঞেস করবে তারা কাল রাতে তাকে ফেলে কেন চলে এসেছিল ।
তবে ঘটলো তার ঠিক বিপরীত হোস্টেল রুমে পা রাখতে না রাখতেই প্রভা জিজ্ঞেস করল কাল তুই কোথায় চলে গিয়েছিলিস ..??
আমি আর নিকি তোমায় খুঁজেই পাচ্ছিলাম না । তারপরে মনে করলাম তুই হোস্টেল রুমে ফেরত এসেছিস ।
তাই আমরা রুমে চলে আসলাম । এসে দেখি তুমি হোস্টেল রুমেও নেই ।
এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে অরিন থতমত খেয়ে গেল ।
কি হলো বল কোথায় ছিলি..???
কথাটা এড়ানোর জন্য অরিন বলল এক ফ্রেন্ডের সাথে
ছিল । প্রভার কিছু তাকে জিজ্ঞেস করো না ।
এমন কি অরিনো আর কিছু বলল না ।
অরিন যথাসম্ভব নিজেকে এবং তার ক্ষতগুলোকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছে।
যেন সেগুলো প্রভা আর নীকির চোখে না পড়ে। তারপরেও নিকি বলে উঠলো তোমার ঠোঁটে কি হয়েছে? কেটে গেল কি করে..??
দেখো কেমন জখম হয়ে আছে । একটু তো নিজের খেয়াল রাখবে ..!!
প্রশ্ন শুনে অরিন কেমন জানি হক চকিয়ে গিয়ে উঠলো ।
তেমন কিছু না ।
অরিন কোন মত কিছু একটা বুঝিয়ে সে যাত্রায় বেঁচে গেল ।
এভাবে সেই দিনটা কেটে গেলো । অরিন বেশি একটা বের হয় না রুম থেকে । হোস্টেল রুমেই দিন পার করতে লাগলো ।
অন্যদিকে আয়ান কে হোটেল কর্তৃপক্ষ কল করে জানালো যে আয়ান সেই হোটেল রুমে একটা চেক
রেখে গেছে ।
রুমে চেক রেখে যাওয়া কথা শুনে মুচকি হেসে ফোন রেখে দিল ।
অরিন কে আবার দরকার আয়ানের । তাকে আবার খুব করে কাছে চাই আয়ানের।
এদিকে অরিনের তো কোন খবরই পাওয়া যাচ্ছে না । দুই দিন পার হয়ে গেলো ভার্সিটি তে এসে নি । ওই দিন এর পর থেকে অরিন কে দেখে নি আয়ান ।
আয়ান যে কোনো ভাবে অরিনের সাথে দেখা করতে চায়। এভাবে এর ভালো লাগছে না আয়ানের । আয়ান সাফরান কে অরিনের সাথে যোগাযোগ করার কথা
বলে ।
সাফরান অরিনকে বারবার মেসেজ করছে বিষয়টা অরিনের একটুও ভালো লাগছে না কিন্তু কিছু বলতে পারছে না সিনিয়র বলে কথা ।
আয়ান অস্থির হয়ে পড়ছে অরিনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য । কোন একটা কাহিনী ঘটিয়ে হলেও অরিনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে ।
অরিনকে তার যেকোনো মূল্যে কাছে চাই । এর জন্য তাকে যা করতে হয় তা সে করতে প্রস্তুত ।
এবার আর সাফারান নয় বরং আয়ান নিয়ে কাল করে
অরিন কে ।অনেক টা সময় নিয়ে অরিন কল রিসিভ করে ।
আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই অরিন ।
(ফোনের ওপারে থাকা লোকটা কে চিনতে বেশি সময় লাগে না অরিনের )
আমি চাই না ।
আমার বিপরীতে কথা বলা আমার একদম পছন্দ না । যা বলতেছি চুপ চাপ তাই করো ।
আপনি বলেছেন আমাদের পথ আলাদা ।
ওটা ভুলে বলে ফেলছি ।
আমি সব ভুলে যাবো আপনি আমার সাথে আর যোগাযোগ করবেন না ।
তা কি করে হয় ..??
কেনো হয় না ..??কি চাই আপনার ..??
তোমাকে কিছু দেখা তে চাই আমি , কাল সকালে যেন তোমাকে ভার্সিটি তে দেখতে পাই না হলে বিষয় টা তোমার জন্য খুব খারাপ হবে ।
অরিন কে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিলো আয়ান ।
✨ একেক টা দিন যাচ্ছে অরিন যেন আয়ান কে আরো বেশি করে উপেক্ষা করতে শুরু করছে।
অরিন আর কোনো দিনও আয়ানের মুখোমুখি হতে
চায় না ।
তবে আয়ান কি দেখাতে চায় অরিনকে, এটা দেখার জন্য হলেও তাকে কাল ভার্সিটি তে যেতে হবে ।
সারা রাত এটা ওটা ভাবতে ভাবতে পার হয়ে গেলো । চোখে ঘুম নেই । জীবনের সব সুখ যেন শেষ হয়ে গেছে ।
আয়ান এই দুনিয়ার বুকেই অরিনকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ উপহার দিচ্ছে।
✨সকাল বেলা ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও রেডি হয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হলো । এক রাশ হতাশা আর কৌতহল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করল অরিন ।
ক্যাম্পাসে পা রাখে না রাখতেই অরিনের কাছে একটা এসএমএস আসলো ।
লাইব্রেরীতে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। বেশি নিজের ছোট্টো মাথা টা কে না খাটিয়ে আমার কাছে চলে এসো।
আস্তে তোমাকে হবেই খালি খালি নিজের মাথাকে প্রেশার দিয়ে লাভ নাই।
অরিন এসএমএস টা পড়ে এক রাশ বিরক্তি আর ভয় নিয়ে লাইব্রেরির দিকে যেতে শুরু করল ।
অরিন অবাক হলো লাইব্রেরির এই দিকটা তে কোনো মানুষ নাই । এখানে তো এমন পরিবেশ থাকে না কোনো কালেই ।
একটু ভয় ভয় লাগলো অরিনের ।
আয়ানের কথা মত লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে আয়ান বলে উঠলো ;
Welcome janaaa
আয়ানের মুখে কিঞ্চিৎ বাকা হাসি । তবে অরিন তা লক্ষ্য করল না । বেশ খানিক টা কাছে এসে অরিন জিজ্ঞাসা করলো,
কি দেখাতে চান আপনি ..???
অত তারা কিসের তোমার ..??
আপনাকে দেখলে আমার অস্বস্থি লাগে ..!!
ইস! ভাবছিলাম তারা তারি যেতে দেবো তোমায় কিন্তু সরি তা আর হলো না ।
কেনো ..??
মুড চেঞ্জ হয়ে গেছে ।
অরিন অসহায়ের মতো করে তাকিয়ে আছে ।
আয়ানের ভালোই লাগছে অরিনের এভাবে দেখতে । এভাবে আরেটু সময় দেখার সুযোগ পেলে ক্ষতি কি..??
নীরবতা ভেঙে অরিন বলে উঠলো আপনি কিছু একটা দেখাতে চেয়েছিলেন ।
তো.??
যদি কিছু না দেখানোর থাকে তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।
কি দেখতে চাও বলো ..??
আপনি কি দেখিতে চেয়েছিলেন ..??
আয়ান একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলল যা দেখতে চাও তাই দেখাবো ..!!!
অরিন বিরক্ত হয়ে চলে যেতে লাগলো ।
আচ্ছা দাড়াও দেখাইতেছি ।
ফোন টা এগিয়ে দিলো, সেখানে ওই দিন রাতে তোলা কিছু ছবি আর ভিডিও , দুজনেই অনেক লজ্জা জনক অবস্থায় ।
ছবি গুলো দেখে যেন অরিনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল । সে যেন নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না ।
আয়ানের দিকে অবাক হয়ে তাকালো অরিন ।
সাথে সাথে হাত থেকে ফোন টা নিয়ে নিলো আয়ান ।
অরিন যেন কিছু বলতে ভুলে গেল ।
কি চান আপনি ...???
তোমাকে ..!!
আপনি এভাবে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেন না ।
আমি সব পারি ।
অরিন কান্না করে ফেলে ।
আয়ান অরিন কে বলল কান্না করো কেনো ..??
কেনো করছেন এই রকম...??
বলতেছি শোনো,,,
অরিন আয়ানের দিকে তাকাতেই আয়ান এক মুহূর্ত দেরি না করে , অরিনকে খুব হার্ডলি কিস করতে থাকে ।
আচমকিক এমন অবস্থা অরিন বুঝে উঠতে পারে না ।
কয়েক মুহূর্ত এভাবেই কেটে যায় ।
খানিক বাদে অরিন আয়ান কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে । আয়ানের হাতে থাকা ফোন টা কেড়ে নিয়ে সজোরে ছুঁড়ে অনেক টা দূরে ফেলে দেয় ।
অরিন ভাবে ছিল আয়ান এমন ব্যবহার দেখে রেগে যাবে তবে ঘটলো ঠিক তার উল্টো টা ।
আয়ান বলল ফোন ছুঁড়ে ফেলতে তোমার খুব বেশি ভালো লাগে নাকি ..??
শুধু ফোন না সাথে আপনাকে আমার জীবন থেকে ছুঁড়ে ফেলতে পারলে ভালো লাগতো ।
ইস janaaa
এটা যে সম্ভব না ..!! তুমি আমায় তুলতে পারবে না । আমি কিন্তু তোমায় তুলতে পারব ,তবে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সাধ্য আমার নাই ।
আর এখন থেকে তোমার জন্য ডর্জন খানেক ফোন কিনে রাখা লাগবে কখন আবার ফোন ছুঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করবে কে জানে ।
তোমার ইচ্ছা গুলা কে তো আর আমি অপূর্ব রাখতে
পারিনা । আগাম প্রস্তুতি রাখতে হবে ।
অরিন কিছু বলতেই যাবে তখন আয়ান অরিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে ওঠে ,
Janaa
এখানে কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরা আছে । এতক্ষণে হয়তো পুরো ক্যাম্পাসের মানুষ আমাদের এভাবে দেখে ফেলেছে
অরিন চোখ বড় বড় করে তাকায় আয়ানের দিকে ।
অরিন কি বলবে বা কি করবে তা কিছুই বুঝতে না ।
তবে অরিনের চোখে আতঙ্ক আর ভয় দুটো স্পষ্ট ।
এই সুযোগটাই যেন হাত ছাড়া করছে না আয়ান ।
কেনো এমন করতেছেন..??
আমার তোমাকে চাই । একা একা থাকতে পারতেসি না ।তোমাকে যখন ইচ্ছা তখন কাছে পাইতেছি না ।
আপনি তো এমন ছিলেন না ...??
আমি এমন ই তুমি জানো না তাই । আমার সাথে থাকতে শুরু করো অনেক কিছু জানতে পারবে।
আর যায় হোক আমি আপনার নিয়ে অন্তত আর কিছু জানতে চাই না ।
আয়ান একটা শয়তানি হাসি দিয়ে অরিনের অনেকটা কাছে এসে তার দিকে ঝুঁকে বলল ,
নতুন কাউকে চাই..??
এত নিচ মন মানসিকতা কেন আপনার..??
আমি মানুষটাই খারাপ ।
ওয়েট আরেকটা জিনিস দেখ....
অরিন কে একটা আইডি বের করে দেখায় আয়ান
দেখো তো অরিন এটা কে..??
ইভান ভাইয়া ...!!!
আমাদের video গুলো তোমার ভাইকে দিলে কেমন হয় বলো তো ...??
আপনি এমন করতে পারেন না ..!
আমি সব পারি ,তাই আমি যা বলি তাই করো । না হলে তোমার জাপানের থাকার স্বপ্ন দুর্শ্বপ্ন করে দেবো ।
আমি যদি জাপান থেকে চলে যাই তাইলে কি আপনি আমার পিছু ছেড়ে দিবেন ..??
জীবনেও না ..!!
শুধু জাপান কেনো । মরার পরেও আমি তোমায় একা ছাড়বো না । তাই আমাকে লুকিয়ে নিজের ছোটো মাথা টা শুধু শুধু খাটিয়ে উল্টা পাল্টা সিদ্ধান্ত নিও না ।
এর জন্য তোমাকেই suffer করতে হবে । তোমার গতিবিধির কথা না হয় বাদ ই দিলাম । তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাস এর ওপর ও আমি নজর রাখি ।
তাই যা বলি তাই করো ,নিজেকে গুছিয়ে নাও তুমি আমার সাথেই থাকবে আর আমার ব্যাপারই জানবে ।
সোজা হোস্টেলে গিয়ে তৈরী হয়ে নাও । বিকেলে দেখা হচ্ছে ওকে।
অরিন যেন কোনো কিছু ভেবে পাচ্ছে না । কি ঘটে যাচ্ছে তার সাথে । জীবন ও কোন ধরনের পরীক্ষা নিচ্ছে।
এ কোন আয়ান কে দেখছে অরিন ।
আমি সবাই কে কি বলব ...??
ওটা পুরোপুরি তোমার ব্যাপার। যা ইচ্ছা বলো আমার কেনো সমস্যা নাই । আমার শুধু তোমাকে চাই । এক ভাবে আসলেই হয়।
হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন এ অরিনকে দার করিয়ে আয়ান নিজের মতো বেরিয়ে গেলো ।
💥অরিন চলল আয়ানের সাথে নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে জানেনা তার জন্য সামনে আরো কত কি অপেক্ষা করছে।
আয়ান তার সাথে কি করতে চলেছে । সে কি নিরাপদ ...??
যাওয়ার পথে অরিনকে একটা ক্যাফেতে বসিয়ে আয়ান বলল আমি কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসছি তুমি এখানেই বসো ।
অরিন একা একা বসে আছে । ভাবছে তার সাথে এর পর কি কি হতে পারে । সে যেন এই পৃথিবীতে নাই । মনের মধ্যে এক নাম না জানা ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
১০ মিনিটের মধ্যে আয়ান ফিরে আসলো তার হাতে একটা পেপার ।
অরিনকে বলল এখানে সাইন করে দাও , তাছাড়া তোমাকে আমি আমার সাথে নিতে পারবো না ।
আমি যেতেও চাই না।
তুমি ভেবে দেখ এখন কিন্তু আর হোস্টেলে ফিরে যেতে পারবে না । রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রাত কাটাতে হবে । রাস্তায় পড়ে থাকা মাতালে রা তোমায় ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে ।
আমি আবার আমার খাবার অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করতে পছন্দ করি না ।
যা আমার তা কেবল মাত্র আমার ই। আমার না হলে আর কারো না ।
তাই চুপ চাপ সাইন করে দেও jannna,
কেনো ..??
কারণ আছে ,
অরিন বলতে লাগলো এটা কিসের পেপার ...???
আয়ান বলল তোমাকে আমার সাথে আমার অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যাব এখন তুমি যদি গিয়ে আবার পুলিশকে বলো আমি তোমাকে জোর করে নিয়ে গিয়েছি তখন তো আমি উল্টো ঝামেলায় পড়বো ।
এই পেপারে লেখা আছে তুমি নিজ ইচ্ছায় আমার সাথে যাচ্ছ তোমাকে আমি কোনরকম জোরাজোরি করিনি।
বিশ্বাস না হলে পেপার তে পড়ে দেখতে পারো ।
অরিনার কথা বাড়ায় না পেপারটি সাইন করতে শুরু করে ।
আয়ান বলে আরে দাড়াও ভিডিও করে নেই আবার তুমি বলতে পারো আমায় দিয়ে জোর করে সাইন করিয়ে নিয়েছে ।
আয়ানের কান্ড দেখে অরিন সত্যি সত্যি ভয় পেতে লাগলো ।
আয়ান দুষ্টু হেসে বলল নিজের সেফটি সবার আগে । আমি তোমাদের মত মেয়েদের বিশ্বাস করিনা ।
আপনার বিশ্বাসী হতেও চাইনা..
তাই নাকি ..??
হ্যাঁ...
অরিন আর কিছু চিন্তা ভাবনা না করে পেপারটি তে সাইন করে দেয় একবার পড়েও দেখেনা ।
সাইন করা হয়ে গেলে সাথে সাথে এ পেপার টা অরিনের থেকে নিয়ে নেয় আয়ান ।
আয়ান মনে মনে বলে তুমি তো নিজে থেকেই আমার কাছে ধরা দিলে । আমাকে আজ অফিসিয়ালি তোমার ওপর সকল অধিকার খাটানোর অনুমতি দিয়ে দিলে নিজের অজান্তেই ।
তুমি নিজেও জানো না তুমি তোমাকে নিজ হাতে আমার কাছে সমর্পণ করলে ।
কথাটা ততদিন পর্যন্ত লুকানো থাক যতদিন পর্যন্ত না আমি সবকিছু নিজের মতো করে সাজিয়ে নিতে পারি
সময় হলে এই বিষয়ে তোমাকে অবশ্যই জানাবো।
আগে তুমি আমায় অনুভব করতে শেখো তারপরে আমি তোমার কাছে ধরা দেব তার আগে নয়।
তারপরে ক্যাফে থেকে বেরিয়ে অরিনকে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল আয়ান ।
বাসায় ঢুকেই বলল তুমি একটু রেস্ট নাও আমি কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসছি ।
ঠিক আছে।
চিন্তা নেই বেশি অপেক্ষা করাবো না ।
জান তো ...
এত তাড়াতাড়ি জান বলে ডাকা শুরু করলে..???
কি..??
একটু তো লজ্জা শরম রাখো ...
নিজের রাগে নিজের চুল টেনে ছিড়তে ইচ্ছা করছে অরিনের ।
অরিনকে বাসায় রেখে আয়ান বেরিয়ে গেল । সাফরান তাকে বলল বিষয় টা কি তুই ঠিক করলি ।
এত কাহিনী করার কি ছিল ।
আয়ান দুষ্টু হেসে বলল অরিন কে আমার যে কোন মূল্যে লাগতো। যদি এর থেকেও বেশি কাহিনী করতে হতো তাহলে আমি তাই করতাম ।
তুই ওকে বলতে পারতি..
তোর কি মনে হয় আমি বললে অরিন আমার কাছে নাচতে নাচতে চলে আসতো..??
তাও ঠিক ।
এভাবে অসহায়তার সুযোগ নিলি । আসলে তুই চাস কি..??
আয়ান হেসে বলল এত আর কি...
যদি আরও কিছু করতে হতো অরিনকে আমার কাছে আনতে আমি তাই করতাম ।
তাকে জাপান পর্যন্ত আনতে কতটা বেগ পেতে হয়েছে তুই তো তা ভালো করেই জানিস ।
আড়ালে তো অরিনের জন্য ঠিকই পাগলামি করিস অথচ সামনে গেলে এরকম নাটক করিস কেন যেন তুই ওকে লক্ষ্য করিস না ।
শাফরানের প্রশ্নে আয়ান কোন উত্তর দিল না শুধু মুচকি হাসলো ।
আজ থেকে অরিনকে আমার সামনে ভাবি বলবি ঠিক আছে ..??
কি সত্যি..??
নয়তো কি । তোর তো ভাবি লাগে ,
আচ্ছা ..???
কবে থেকে অরিন আমার ভাবি হল বল..???
এখন থেকে প্রায় 30 মিনিট আগে ।
তুই কি সিরিয়াসলি বলতেছিস নাকি মজা করতেছি আমার সাথে..???
আয়ান মুচকি হাসল । এ যেন কেবল মাত্র হাসি নয় । এ যেন সাফরানের করা প্রশ্নের এক নীরব উত্তর।
চলবে...