15/09/2026
কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্না ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ১৯৭১ সালে—অর্থাৎ তাঁর মৃত্যুর প্রায় ২৩ বছর পর।
তাই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে জিন্নার অবস্থান ছিল—এভাবে বিচার করার সুযোগই নেই। তিনি মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, মুক্তিযুদ্ধের সময় কোনো রাজনৈতিক অবস্থানও নেননি।
তাহলে প্রশ্ন হলো—আজ কেন জিন্নাকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে দাঁড় করিয়ে এত বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে?
ইতিহাসকে ইতিহাসের সময়কাল ও প্রেক্ষাপটের মধ্যে বিচার করা উচিত।
জিন্নার রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময়কার রাজনীতিতে। আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল তার বহু বছর পরের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
সুতরাং আমার কথা খুব সহজ—
জিন্না বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন না, বিপক্ষেও ছিলেন না। কারণ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জীবিতই ছিলেন না।
কাউকে ইতিহাসের বাস্তবতার বাইরে নিয়ে গিয়ে মহিমান্বিত করা বা ঘৃণার প্রতীক বানানো—দুটিই ইতিহাসকে নিজের মতো করে ব্যবহার করার চেষ্টা।
আমাদের উচিত আবেগের চেয়ে তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ইতিহাসকে তার নিজস্ব সময় ও প্রেক্ষাপটে দেখা।