07/12/2025
আসসালামু আলাইকুম। আজকে এয়ারপোর্টের একটি ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
আমি আমার দোকানে বসে আছি, হঠাৎ করে এই ভদ্রলোক এসে আমাকে মালেশিয়ান ভাষায় জিজ্ঞেস করলো, (মাচা মানা নাই এটাস) আমিও মালয়েশিয়ান ভাষায় বললাম,( দেপ্পান আডা লিফ্টিপ বলে নাই এটাস)
পুনরায় উনি রিপিট করে বলল, (মিনতা তোলং)
আমিও কৌতুহল বসতে জিজ্ঞেস করলাম, মাও পিগি মানা, উত্তরে তিনি বললেন বাংলাদেশ।
পরে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি বাংলাদেশী।
উনি বলল জি, আমি বাংলাদেশে যাচ্ছি, আমি স্টকের রোগী, দয়া করে আমাকে সহযোগিতা করুন।
উনার চেহারায় কষ্টের ছাপ এবং বিছিলিত চেহারা দেখে আমিও বললাম আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি।
পরবর্তীতে কাউন্টারে নিয়ে উনার হাতের একটা ব্যাগ ছিল ওটাসহ বোর্ডিং পাস নিয়ে দিয়েছি, উনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না, আমি বললাম আমার হাত শক্ত করে ধরুন।
তখন উনি আমাকে আরেকটা কথা বলল আমি অবাক হয়ে গেলাম।
বলল আমার ক্যান্সারও আছে, আমি আর তিন মাস বাচবো।
তখন আমি আমার হাত ওনার হাতের উপরে রেখে ওনাকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করলাম, যে আল্লাহ ভরসা চিন্তা করবেন না, আমরা কেউই দুনিয়াতে চিরস্থায়ী নয় সবাইকে যেতে হবে একদিন।
তখন তিনি আমাকে বলে উঠলো মালয়েশিয়াতে আমি আপনাকে শেষ দোয়া করে যাচ্ছি, আপনি সবসময় ভালো থাকেন আমার জন্য দোয়া করবেন।
এবং আজকের এই সহযোগিতার কথা আমি ভুলবো না যতদিন বেঁচে থাকব আপনাকে দোয়া করব।
টলমলে অশ্রু শিখত চেহারা দেখে আমিও আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলাম।
পরে আমাকে বলল আপনার নাম্বারটি দেন বেঁচে থাকলে আপনার সাথে কথা হবে।
আমিও আমার ফোন নম্বরটি তাকে দিলাম, তখন উনি বলে উঠলো একটা ছবি তুলে স্মৃতি হিসেবে আমার মোবাইলে থাকবে, উনার মোবাইল থেকে আমার সহ একটা সেলফি তুললাম দুজনের।
পরে ওনাকে ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে পর্যন্ত নিয়ে দিয়ে আসলাম।
উনানার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানা।
মালয়েশিয়া উনি বৈধভাবে ছিল, অসুস্থতার কারণে ভিসা করতে পারে নাই, দীর্ঘদিন হসপিটালে ছিল, এখন স্পেশাল পাস নিয়ে একবারে চলে যাচ্ছে।
দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে সুস্থতা এবং নেক হায়াত দান করুক।
#মালয়েশিয়ান_প্রবাসী_বাংলাদেশী